২৩ অক্টোবর ২০২০

না’গঞ্জে নিহত স্কুলছাত্রী ফিরে আসার ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

-

নারায়ণগঞ্জে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনা বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারায়ণগঞ্জের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে ওই ঘটনার তদন্ত করে, এফআইআর, জবানবন্দী, ভিকটিম, আসামি সবার বক্তব্য দিয়ে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দায়ের করা রিভিশন মামলার শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন।
আদালত আদেশে বলেছেন, ভিকটিম, আসামিপক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষ চাইলে এ তদন্তে নিজেদের পক্ষে আইনজীবী রাখতে পারবেন।
আদালতে রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো: সারওয়ার হোসেন বাপ্পী।
আদেশের পর আইনজীবী শিশির মনির বলেন, নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি তদন্ত করতে বলেছেন হাইকোর্ট। তদন্তের সময় তিনি এ মামলার এফআইআর ও জবানবন্দী পর্যালোচনা করবেন এবং ভিকটিম, আসামি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর হাইকোর্ট ৫ নভেম্বর পরবর্তী আদেশ দেবেন। তিনি বলেন, আদালত বলেছেন, আসামিরা যদি মনে করেন তদন্তে তাদের বক্তব্য দেয়ার সময় তারা তাদের আইনজীবীকে সাথে রাখবেন, তাহলে তারা সেটি পারবেন। সে সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীও সেখানে থাকতে পারবেন।
শিশির মনির বলেন, আমি মনে করি এটি একটি যুগান্তকারী আদেশ। সাধারণত বক্তব্য বা জবানবন্দী নেয়ার সময় আইনজীবীদের রাখা হয় না। এর আগে গত ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে গণধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় তার বাবার করা অপহরণ মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায় সংক্রান্ত মামলার সব নথি ও দুই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন হাইকোর্ট।
গত ৪ জুলাই ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। তাকে না পেয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় জিডি ও মামলা করে তার পরিবার। ওই মামলায় পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব ও খলিলুর রহমান নামে তিনজনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ৯ আগস্ট তারা আদালতে জবানবন্দী দেন। সেখানে তারা ‘অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার’ দায় স্বীকার করেন। ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই শামীম আল মামুন।
এ দিকে ঘটনার ৫১ দিন পর ২৩ আগস্ট ওই কিশোরী মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে তাকে ফিরিয়ে এনে পুলিশে সোপর্দ করে পরিবারের লোকজন। আদালতের নির্দেশে মেয়েটি এখন পরিবারের জিম্মাতেই আছে।
গত ২৫ আগস্ট জীবিত থাকার পরও নারায়ণগঞ্জের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আসামিদের স্বীকারোক্তি আদায় সংক্রান্ত সদর থানার কার্যক্রমের শুদ্ধতা, বৈধতা ও যৌক্তিকতার প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন পাঁচজন আইনজীবী। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ওই পাঁচ আইনজীবীর পক্ষে আবেদন করেন। পাঁচ আইনজীবী হলেনÑ আইনজীবী মো: আসাদ উদ্দিন, মো: জোবায়েদুর রহমান, মো: আশরাফুল ইসলাম, মো: আল রেজা আমির এবং মো: মিসবাহ উদ্দিন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে হত্যার শিকার স্কুলছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় দায়ের করা রিভিশন মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট বলেছেন, আসামি গ্রেফতারের সাথে সাথে বিচার শেষ হওয়ার আগেই ব্রিফিং করে আসামিদের মিডিয়ার সামনে আনা বিচারকে প্রভাবিত করার সমান। একইসাথে তদন্ত চলার সময় মামলা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিডিয়াতে টকশো করে, যা অনুচিত। ওই দিন সব নথি নিয়ে এ মামলার দুই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেন। এ সময় আদালত মামলার তদন্তের সময় আসামির দোষ স্বীকার করা স্বাভাবিক কি না এমন প্রশ্ন করেন।


আরো সংবাদ