২৮ অক্টোবর ২০২০

অতি মুনাফাখোর পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা নজরদারিতে

-

গোয়েন্দা নজরদারিতে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা। বাজার যতক্ষণ পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে না আসবে ততক্ষণ পর্যন্ত আড়তদার ও মুনাফাখোরদের নজরদারির মধ্যে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরসহ কয়েকটি সংস্থা বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এ দিকে, খুচরা বাজারে কমে আসতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। তবে পাইকারি বাজারে গত শনিবারের চেয়ে আবারো ৫-৭ টাকা বেড়েছে প্রতি কেজিতে।
পেঁয়াজের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে না এমন খবরে গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকেই এই অস্থিরতা শুরু হয়। এমনকি, যে পেঁয়াজের জন্য অনুমতিপত্র রয়েছে সেই পেঁয়াজের ট্রাকও আটকে দেয়া হয়েছে ভারতের বন্দরে। এই খবরে দেশে যে পেঁয়াজের দাম ছিল ৫০ টাকা, সেই পেঁয়াজের দাম রাতারাতি ১২০ থেকে ১৩০ টাকা পর্যন্ত উঠে যায়। কিছু আড়তদার অতিমুনাফাখোর হঠাৎই পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেয়। যদিও ওই পেঁয়াজের আমদানিমূল্য ছিল অনেক কম।
এ দিকে পেঁয়াজের দাম হঠাৎই বেড়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে অস্থিরতা শুরু হয়, যা এখনো অব্যাহত আছে। দেশের পাইকারি বাজারগুলোর প্রতি তখন থেকেই শুরু হয় গোয়েন্দা নজরদারি, যা এখনো অব্যাহত আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর জন্য পাইকারি বাজারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। কাওরানবাজারের মোস্তফার নেতৃত্বে সারা দেশেই তারা পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এরাই দাম উঠায় নামায়। শুরু থেকে এই মোস্তফা ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোস্তফার মতো আরো অন্তত ১০ জন মাফিয়া রয়েছে যারা পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত। এই অভিযোগের ব্যাপারে জানার জন্য কয়েক দিন ধরে মোস্তফার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
এ দিকে অনুমতিপ্রাপ্ত পেঁয়াজের ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এমন খবরে গত শনিবার পেঁয়াজের বাজার কিছুটা কমে যায়। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬৮-৭০ টাকায়। আবার গতকাল যখন পাইকারি বিক্রেতারা জানতে পারে ভারত থেকে আসা পেঁয়াজের সবই পচা তখন আবারো মার্কেট চড়ে যায়। গতকাল সেই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫ টাকায়। টঙ্গির ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন গতকাল বলেন, মাঝে দাম কমে ছিল আবার তা বেড়ে কেজি ৭৫ টাকায় উঠেছে। এ দিকে গতকাল রাজধানীর কয়েকটি বাজারে দেখা গেছে খুচরা ৮০-৯০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। ৮০ টাকায় যে পেঁয়াজ তা অপেক্ষাকৃত খারাপ। কোনো কোনো দোকানে এখনো ১০০ টাকায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোয়েন্দাদের তথ্য অনুযায়ী বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করে আসছে। এসব প্রতিষ্ঠানের যারা মালিক রয়েছেন তাদের অনেকেই পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত। এ দিকে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিকাশচন্দ্র দাস নয়া দিগন্তকে বলেন, তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকালও ভোক্তা অধিকার রাজধানীর কাওরানবাজার, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, রায়েরবাজার, হাতিরপুল বাজার, নিউমার্কেট ও পলাশী বাজারে অভিযান চালিয়েছে। এসব বাজারে মোট ১১ টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান ক্রয় মূল্যের চেয়ে মাত্রাতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছিল।


আরো সংবাদ