২৭ অক্টোবর ২০২০

৩ কাশ্মিরিকে বেআইনি হত্যার কথা স্বীকার ভারতীয় সেনাবাহিনীর

-

ভারতশাসিত কাশ্মিরে দেশটির সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে স্থানীয় অধিবাসীদের ওপর অন্যায় নির্যাতন ও বেআইনি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। তবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বা বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে নিরীহ কাশ্মিরিদের হত্যার কথা স্বীকারের ঘটনা বেশ বিরল। তবে গত জুলাইয়ে করোনাভাইরাসের কারণে চলা লকডাউনের মধ্যে তিন কাশ্মিরি শ্রমিককে হত্যার সময় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়েছে বলে স্বীকার করেছে ভারতীয় বাহিনী।
গত শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ১৮ জুলাই সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা শোপিয়ানের আমশিপোরা গ্রামে অজ্ঞাত তিন ‘বিদ্রোহীকে’ হত্যা করেছে। এখন তদন্তে দেখা গেছে, তারা রাজৌরি জেলার বাসিন্দা ছিলেন, যাদের সাজানো বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল তাদের পরিবার।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘সেনা কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুসারে আমশিপোরা অভিযানের বিষয়ে তদন্ত শেষ হয়েছে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু প্রমাণ মিলেছে যাতে মনে হয়েছে, অভিযানের সময় সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইনের (এএফএসপিএ) অধীনে প্রয়োগ করা ক্ষমতা মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘তদন্তে সংগৃহীত প্রাথমিক প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে, আমশিপোরা অভিযানে নিহত তিন অপ্রমাণিত সন্ত্রাসী হলেন ইমতিয়াজ আহমেদ, আবরার আহমেদ ও মোহাম্মদ ইবরার। তারা রাজৌরি থেকে ফিরছিলেন। তাদের ডিএনএ প্রতিবেদন আসার অপেক্ষায় রয়েছে। সন্ত্রাস বা এ সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডে তাদের যোগসূত্রের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।’
এর আগে পুলিশের বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছিল, ওই অভিযানে সেনা কর্মকর্তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এ ঘটনার কিছু দিন পরে নিহত তিন ব্যক্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে। সেখান থেকেই তাদের শনাক্ত করেন স্বজনরা এবং বেআইনি হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ করেন। গত শুক্রবার ভারতীয় সেনাবাহিনী বেআইনি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকারের পর নিহত ইবরারের চাচাতো ভাই নসিব খাতানা জানান, নিহতরা সবাই একে অপরের চাচাতো ভাই ছিলেন। তারা কাজের উদ্দেশ্যে রাজৌরি থেকে শোপিয়ান গিয়েছিলেন।
নসিব বলেন, ‘তারা ১৭ জুলাই শোপিয়ান পৌঁছায় এবং ওই রাতেই শেষবার তাদের সাথে কথা হয়েছিল আমাদের। এটি লকডাউনের সময় ছিল, তাই আমরা ভেবেছিলাম তাদের হয়তো কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছিলাম, তবে কোনো খবর ছিল না।’ তিনি বলেন, ‘আমরা ছবি দেখার পর স্বজনদের চিহ্নিত করে অভিযোগ দায়ের করি। তাদের সন্ত্রাসী বলে দাবি করেছিল সেনাবাহিনী। নিরপরাধ মানুষের সাথে তারা আর কত অন্যায় করতে পারে!’ ভুক্তভোগী আরেক পরিবারের এক সদস্য জানান, স্বজনদের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে ঘুরেও তা এখনো পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, ‘গত ৩ আগস্ট নমুনা নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; কিন্তু এখনো ফলাফল আসেনি। আজ প্রতিটি পরিবারের একজনকে ডেকে তারা স্বীকার করেছে, তিনজনকে একটি মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করা হয়েছে। আমরা চাই তাদের হত্যাকারীদের প্রকাশ্যে এনে সাজা দেয়া হোক। আমরা পরিবারের সদস্যদের লাশ চাই।’ জুলাইয়ের ওই মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধে নিহতদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ ছিলেন ইবরার। তিনি পড়াশোনার জন্য দিনমজুরের কাজ করে অর্থ জমাচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, কাশ্মিরে ভারতীয় সেনারা আর্থিক সুবিধা ও মেডেলের জন্য বেসামরিক লোকদের হত্যা করে অনেক সময় ‘বিদ্রোহী’ বলে চালিয়ে দেন। আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১০ সালের মে মাসে মাচিল এলাকায় নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে ভারতীয় সেনারা সাজানো বন্দুকযুদ্ধে তিন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছেন, কাশ্মির পুলিশের তদন্তে এ তথ্য বেরিয়ে আসার পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে উপত্যকায়। সেনারা পুরস্কারের লোভে ওই তিন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী’র ট্যাগ লাগিয়ে দিয়েছিলেন।

 


আরো সংবাদ

রিফাত হত্যা মামলা : অপ্রাপ্তবয়স্ক ১১ আসামির বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্যারিসের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ ধানের শীষের প্রোগ্রাম বানচালের ষড়যন্ত্র করা হলে ঘরে বসে থাকব না : জাহাঙ্গীর ৬ দাবিতে সোচ্চার অর্গানাইজেশন ফর দ্যা ডিজেবল অ্যান্ড অটিস্টিক রাইটস মহানবীর (সা.) ব্যঙ্গচিত্র নিয়ে আসিফ নজরুলের আবেগঘন স্ট্যাটাস রিফাত হত্যা মামলা : অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের রায় পড়া শুরু ৩ কার্যদিবসে মামলার রায় ৭ মাসে দেশে ফিরেছেন সোয়া ২ লাখ প্রবাসী ‘এই সরকার ও অনুগত নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠ নির্বাচন অসম্ভব’ ভারতীয় জেলেদের উপর শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনীর আক্রমণ ২০০৬ সালে লগি-বৈঠার নির্মম ঘটনার স্মরণে জামায়াতের ‘আলোচনা ও দোয়া’র আহ্বান

সকল