২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

১৪৮ কোটি টাকার শত কোটিই বরাদ্দ পরামর্শকে

বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণ
-

উন্নয়ন প্রকল্পগুলো এখন পরামর্শকনির্ভর হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য কারিগরি প্রকল্প নেয়া হলেও দাতাদের ঋণের কারণে তা পুরোটাই পরামর্শক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। ১৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকার বেশির ভাগই পরামর্শকদের পেছনে যাবে। বিশ্বব্যাংক দেবে ১২৭ কোটি টাকা, যেখানে ১০০ কোটি টাকাই খরচ করতে হবে পরামর্শক খাতে। প্রকল্পে আটটি যানবাহন কেনার পরও গাড়ি ভাড়া ও পরিবহন খাতে খরচ ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা। কম্পিউটার কিনতে ৯ লাখ টাকা, কিন্তু সাড়ে চার বছরে এসব মেরামতে যাবে সাড়ে ৮ লাখ টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের বিদ্যুৎ উইং বলছে, এটি পরামর্শক বা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নির্ভর প্রকল্প বলে মনে হচ্ছে। ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে তাদেরই পেছনে। ২০টি প্যাকেজের মাধ্যমে পরামর্শক নিয়োগের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
বিদ্যুৎ বিভাগের দেয়া প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতকে শক্তিশালী ও টেকসই উন্নয়ন করার জন্যই এই কারিগরি প্রকল্পটি। পাঁচ বছরের এই প্রকল্পটিতে যে খরচ ধরা হয়েছে তার বেশির ভাগ বা ১২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা অর্থই ঋণ হিসেবে দেবে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু ওই ঋণের ১০০ কোটি টাকাই যাবে পরামর্শকদের পেছনে। প্রকল্পের মাধ্যমে ৩১টি বিভিন্ন ধরনের সমীক্ষা করা হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার ও পুনর্গঠন, এই খাতের সংস্থা বা কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে প্রবেশে সহায়তা প্রদানে সমীক্ষা, সঞ্চালন টাওয়ার নির্মাণে ভূমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে কারিগরি সমীক্ষা পরিচালন, বাংলাদেশের গ্রিড নেটওয়ার্কের সাথে আঞ্চলিক গ্রিড ব্যবহারের সমীক্ষা, আঞ্চলিক পাওয়ার মার্কেট এবং ক্রস বর্ডার ট্রেডিংবিষয়ক সমীক্ষা, বিকল্প জ্বালানি নির্ভর পাইলট প্রকল্প প্রণয়ন, পিপিপির অধীনে ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ও সাবস্টেশনগুলোর জন্য স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট প্রস্তুত করা, আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্পর্কিত সমীক্ষা, প্রি-পেইড বা স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নে কারিগরি সমস্যা দূর করতে সমীক্ষা ইত্যাদি। প্রকল্পের ব্যয় বিভাজন থেকে দেখা যায়, পাঁচ বছরের প্রকল্পের জন্য মোট ২ হাজার ২০০ জন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হবে। গড়ে প্রতি মাসে ৩৬ জন পরামর্শক। তাদের জন্য মোট ব্যয় হবে ১০০ কোটি টাকা। এখানে প্রতি মাসে পরামর্শক খাতে খরচই গড়ে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অন্য দিকে সাড়ে চার বছরে আপ্যায়নেই খরচ হবে ৩৮ লাখ টাকা। এখানে মাসে খাওয়া দাওয়াতেই ৭২ হাজার টাকা হবে। প্রকল্পের জন্য চার কোটি টাকা ব্যয়ে আটটি যানবাহন কেনা হবে। যার মধ্যে রয়েছে চারটি কার, একটি জিপ ও তিনটি মাইক্রোবাস। আটটি গাড়ি কেনার পরও পাঁচটি গাড়ি ভাড়া করা হবে। ২৭০ মাসের জন্য। এতে ব্যয় হবে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতি মাসে এক লাখ টাকা করে গাড়ি ভাড়া দিতে হবে। এ ছাড়াও পরিবহন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ মাসের জন্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৫৪ মাসে গাড়ির তিন ধরনের জ্বালানি খাতে ব্যয় হবে ১ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে খরচ হবে ৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
প্রকল্পে ৯টি লটে কম্পিউটার কিনতে খরচ হবে ৯ লাখ টাকা। আর কম্পিউটার মেরামতে ব্যয় হবে সাড়ে চার বছরে সাড় ৮ লাখ টাকা। আবার মূলধন খাতে কম্পিউটার কেনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ লাখ টাকা। এক হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। তাতে খরচ ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা। জনপ্রতি খরচ এক লাখ টাকা। এই প্রশিক্ষণের মধ্যে ৬০০ জন স্থানীয় প্রশিক্ষণ এবং ৪০০ জন বিদেশে প্রশিক্ষণ পাবেন।
পরামর্শকের ব্যাপারে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এটি পরামর্শক নির্ভর প্রকল্প বলে মনে হয়। কিন্তু পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নামগুলো সুনির্দিষ্টও করা হয়নি প্রস্তাবনায়। সে আলোকে টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) পুনর্নির্ধারণ হওয়া দরকার। এ ছাড়া পরামর্শক নিয়োগের জন্য ২০টি সার্ভিস প্যাকেজ করা হয়েছে। প্রতিজন পরামর্শকের জন্য একটি প্যাকেজ করা হয়েছে, যা যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন।
পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের বিদ্যুৎ উইংয়ের যুগ্ম-প্রধান মো: সিদ্দিকুর রহমান মতামতে বলছেন, পাওয়ার সেল সৃষ্টির পর থেকেই একের পর এক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একই ধরনের তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বাস্তবায়িত প্রকল্পের কোনো তথ্য বা মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তাবিত প্রকল্পে সংযুক্ত করা হয়নি। পাওয়ার সেলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ বারবার প্রকল্প গ্রহণ না করে এটিকে রাজস্ব বাজেটে স্থানান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে।
প্রস্তাবনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে বিদ্যুৎ উইং বলছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হলেও বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কোনো পরিসংখ্যান নেই। প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের ধরনটি স্পষ্ট নয়। এখানে ঋণ বা অনুদান দুটোই বলা হয়েছে। কিন্তু এটি স্পষ্ট হওয়া দরকার। আটটি গাড়ি কেনার পরও কেন গাড়ি ভাড়া করতে হবে এটা কমিশনের বিদ্যুৎ উইংয়ের প্রশ্ন।

 


আরো সংবাদ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের (১২৯৩৮)ড. কামাল ও আসিফ নজরুল ঢাবি এলাকায় অবা‌ঞ্ছিত : সন‌জিত (১১৭২৪)‘সনজিতকে ক্যাম্পাসে দেখতে চায় না ঢাবি শিক্ষার্থীরা’ (১০৩১৩)এমসি কলেজে গণধর্ষণ : সাইফুরের যত অপকর্ম (৯০১২)আজারবাইজান ৬টি গ্রাম আর্মেনিয়ার দখল মুক্ত করেছে (৮৩৪১)নতুন বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সামনে আনলো ইরান (৫৭০৯)যে কারণে এই শীতেই ভারত-চীন মারাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা রয়েছে (৫৬৫০)অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের জানাজা অনুষ্ঠিত (৫২২৮)আজারবাইজান-আর্মেনিয়ার মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ (৫১৬০)ছাত্রলীগের ঢাবি সভাপতি বক্তব্য স্পষ্টত সন্ত্রাসবাদের বহিঃপ্রকাশ (৫১৫০)