২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
ঢাকাসহ ১২ জেলায় কিছুটা উন্নতি

গোপালগঞ্জে বন্যার পানি বাড়ছে : ভাঙনে নিঃস্ব মানুষ

-

গোপালগঞ্জে বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারিতে নদী ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে দেড়শতাধিক বসতবাড়ি ও শতশত বিঘা ফসলি জমি। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল, মসজিদ, মাদরাসা ও আশ্রয়কেন্দ্র। এ দিকে সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকাসহ ১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
গোপালগঞ্জে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত
গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের প্রধান দু’টি নদী মধুমতি ও এমবিআর ক্যানেলের পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তারপরও জেলার ১০০টিরও বেশি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রতিদিন নদীর পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টির ফলে নতুন নতুন এলকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে নি¤œাঞ্চলে তলিয়েছে মাছের ঘের, মুরগির খামার, আউস ও আমন ধান। নষ্ট হয়েছে রোপা আমনের বীজতলা। তলিয়ে গেছে বিভিন্ন গ্রামের রাস্তা ঘাটও।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে মধুমতি নদীর পানি বৃদ্ধি অপরিবর্তীত থাকলেও এমবিআর ক্যানেলের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্লাবিত হয়েছে গোপালগঞ্জ সদর, মুকুসুদপুর, কাশিয়ানী ও কোটালীপাড়া উপজেলা নি¤œাঞ্চল। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
এ পর্যন্ত জেলার অর্ধশত গ্রামের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাট, ঘর-বাড়ি ডুবে সৃষ্টি হয়েছে জন দুর্ভোগ। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে সহ¯্রাধিক মাছের ঘের। নষ্ট হয়েছে সবজি ক্ষেত। এ ছাড়াও পানি বৃদ্ধির ফলে অধিকাংশ কৃষকই পাট কাটতে পারছেন না। ফলে পাট চাষীরা রয়েছেন ক্ষতির আশঙ্কায়। বন্যাকবলিত এলাকার কয়েক শ’ পরিবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউপি পরিষদ ভবন, রাস্থার পাশসহ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। পরিবার পরিজন ও গবাদিপশু দিয়ে অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন তারা।
অপর দিকে মধুমতি নদী ও বিলরুট ক্যানেলের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকদহ, উরফি, হরিদাসপুর, ইছাখালি, চর ঘাঘা ও ধলইতলায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মাকিদাহ এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পশ্চিম গোপালগঞ্জ ও নিকটবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। করোনার মধ্যে গ্রাম প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙন শুরু হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
ভুরুঙ্গামারীতে ভাঙছে দুধকুমার
ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে নদী ভাঙ্গনে দু’টি গ্রামের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি, শতশত বিঘা ফসলি জমি ও ৩টি মসজিদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো চার শতাধিক পরিবার, তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি আশ্রয়কেন্দ্রসহ বিস্তীর্ণ জনপদ ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই গ্রাম দু’টি পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে। ভাঙন রোধে নিয়মিত নদী খনন ও বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে ৭১৪ কোটি টাকার প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।
উপজেলার দুধকুমার, ফুলকুমার, কালজানী, সংকোশ, গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। দুধকুমার ও কালজানী নদীর ভাঙনে শিলখুড়ী ইউনিয়নের উত্তর তিলাই, উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি, দক্ষিণ ছাট গোপালপুর, শালমারা, নলেয়া, ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া, চর ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা গ্রামে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরের মানুষজন।
দুধকুমার নদের ভাঙনে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও চর ভুরুঙ্গামারীর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রাম ভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে। গ্রাম দু’টির দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি, কয়েক শ’ বিঘা ফসলি জমি, গাছ ও বাঁশ বাগান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সড়িয়ে নিচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে দক্ষিণ চর ভুরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল করিম ১৫০০ নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ‘ভাঙন রোধ ও নদী শাসনের জন্য প্রায় ৭১৪ কোটি টাকার ‘দুধকুমার নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি একনেকে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে নদী তীরবর্তী মানুষ ভাঙনের কবল থেকে মুক্তি পাবে।’
১২ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি
বাসস জানায়, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ দেশের ১২টি জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। গতকাল বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী,শরিয়তপুর, ঢাকা ও নারায়নগঞ্জ জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।
ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। পরবর্তী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত এই হ্রাস পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। গঙ্গা, পদ্মা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তরপূর্বাঞ্চলের আপার মেঘনা অববাহিকার প্রধান নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজধানী ঢাকার আশেপাশের নদীসমূহের পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে, যা আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এ দিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা সিটি করপোরেশন সংলগ্ন নি¤œাঞ্চলেরর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। দেশের ১০১টি পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে বৃদ্ধি ১৬টি এবং হ্রাস ৮০টির এবং অপরিবর্তিত ৩টি, বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১২, বিপদসীমার উপরে নদীর সংখ্যা ০৮, বিপদসীমার ওপর স্টেশনের সংখ্যা ১১টি। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, মহেশখোলা ৭৯ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জ ৪২ মিলিমিটার।


আরো সংবাদ