২২ সেপ্টেম্বর ২০২০

সুরকার আলাউদ্দিন আলী আর নেই

-

বরেণ্য গীতিকার, সুরকার ও সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী আর নেই। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি মহাখালীর আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আলাউদ্দিন আলীর মেয়ে আলিফ আলাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত আলাউদ্দিন আলীর শারীরিক অবস্থা খারাপের দিকে গেলে শনিবার ভোরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসা চলাকালে অবস্থায় সব চেষ্টা ব্যর্থ করে রোববার বিকেলে তিনি ইন্তেকাল করেন।
শনিবার আলাউদ্দিন আলীর শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে আয়েশা মেমোরিয়াল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা: আশীষ কুমার চক্রবর্তী গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে উনার শারীরিক অবস্থা ভালো না। রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন অস্বাভাবিক। ফুসফুসের একটা অংশ পুরোপুরি নিমোনিক। আগামী ২৪ ঘণ্টা তার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আমার ধারণা, উনি বমি করার সময় ফুসফুসে বমি ঢুকে গেছে; যে কারণে রোগী এসপিরেশন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন।’
গীতিকার ও সুরকার আলাউদ্দিন আলী দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। ২০১৫ সালের ৩ জুলাই তাকে ব্যাংকক নেয়া হলে সেখানে পরীক্ষার পর জানা যায়, তার ফুসফুসে একটি টিউমার রয়েছে। এরপর তার অন্যান্য শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি ক্যান্সারের চিকিৎসাও চলছিল।
১৯৫২ সালের ২৪ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বাঁশবাড়ি গ্রামে জন্ম হয় আলাউদ্দিন আলীর। তার বাবা ওস্তাদ জাদব আলী ও মা জোহরা খাতুন।
আলাউদ্দিন আলী শ্রেষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে ১৯৭৯ সালে ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ১৯৮০ সালে ‘সুন্দরী’ এবং ১৯৮৮ সালে ‘কসাই’ ও ‘যোগাযোগ’ ছবির জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এ ছাড়াও ১৯৮৫ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
আলাউদ্দিন আলী বাংলা গান, বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরি করেছেন। তিনি একই সাথে সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক, বেহালাবাদক ও গীতিকার। গান লিখে তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।
দেড় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকা চলে আসেন আলাউদ্দিন আলী। তিন ভাই ও দুই বোনের সঙ্গে সেই কলোনিতেই বড় হন এই গুণী শিল্পী। সঙ্গীতে প্রথম হাতেখড়ি ছোট চাচা সাদেক আলীর কাছে। পরে ১৯৬৮ সালে বাদ্যযন্ত্রশিল্পী হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। শুরুটা শহীদ আলতাফ মাহমুদের সহযোগী হিসেবে, পরে প্রখ্যাত সুরকার আনোয়ার পারভেজের সঙ্গে কাজ করেন দীর্ঘ দিন।
লোকজ ও ধ্রুপদি গানের সংমিশ্রণে গড়ে ওঠা আলাউদ্দিন আলীর সুরের নিজস্ব ধরন বাংলা সঙ্গীতে এক আলাদা ঢং হয়ে উঠেছে প্রায় চার দশক ধরে। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বহু স্বনামধন্য শিল্পী তার সুরে গান করেছেন।


আরো সংবাদ