২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

বৈরুতে বিস্ফোরণে নিহত শতাধিক, আহত ৪০০০

ধূলিসাৎ অর্ধেক শহর, ঘরহারা ৩ লাখ
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর চেনার কোনো উপায় নেই বিশাল এই ভবনটির : এএফপি -

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে ১০০ জনের বেশি নিহত এবং ৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। আহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। গতকাল বুধবার লেবাননের রেড ক্রসের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মারাত্মক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে বৈরুত। ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় গোটা শহরের আকাশ। বিস্ফোরণের কারণ এখনো স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্দরের একটি গুদামে গত ছয় বছর ধরে মজুদ করে রাখা ২ হাজার ৭০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন এবং দুই সপ্তাহব্যাপী জরুরি অবস্থা জারির ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। আলজাজিরা এ তথ্য জানায়।
বিস্ফোরণে ধূলিসাৎ বৈরুতের অর্ধেক, ঘরহারা ৩ লাখ : লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণে শহরটির অর্ধেকই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর মারওয়ান আবৌদ। এ দুর্ঘটনায় বৈরুতের অন্তত তিন লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিধ্বস্ত বন্দর এলাকায় এখনো কিছু কিছু জায়গায় ধোয়া উড়তে দেখা গেছে। নিখোঁজ প্রিয়জনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ। বৈরুতের হাসপাতালগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। স্থান সঙ্কটের কারণে হাসপাতালের বাইরেও আহতদের সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
লেবাননের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ফাহমি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই গোডাউনে ২০১৪ সালে বাজেয়াপ্ত করা অন্তত ২ হাজার ৭০০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুদ ছিল। সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। লেবানন বা অন্য কোনো দেশ বৈরুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় হামলার যোগসূত্র থাকার সম্ভাবনা স্বীকার না করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ভয়াবহ হামলা বলে দাবি করেছেন।
৬ বছর ধরে ‘বিপদের’ কথা জানত লেবানিজ প্রশাসন : ভয়াবহ বিস্ফোরণে শতাধিক প্রাণহানির পরেই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দরে বিপুল পরিমাণ বিপজ্জনক রাসায়নিক মজুদের বিষয়টি আলোচনায় উঠে এসেছে। বন্দরটিতে ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট রাখা ছিল বলে জানা গেছে। এটি মূলত বোমা ও সার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, এ রাসায়নিক থেকে বিস্ফোরণেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে বৈরুতের অর্ধেকটা। দুর্ঘটনার পর থেকেই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ, কে দায়ী, কার দোষে ঘটল এমন মর্মান্তিক ঘটনা? অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সরকারি নথির ছবি থেকে জানা গেছে, অন্তত ছয় বছর ধরে লেবানিজ কর্মকর্তারা বন্দরে এমন বিপদের আশঙ্কার কথা জানতেন।
কোথা থেকে এলো এ বিস্ফোরক?
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে লেবানন পৌঁছায় অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ভর্তি একটি জাহাজ। রাশিয়ার মালিকানাধীন জাহাজটি ওই সময় মলডোভার পতাকা বহন করছিল। জাহাজের গতিবিধি শনাক্তকারী ওয়েবসাইট ফ্লিটমোনের তথ্য মতে, জাহাজটি তখন জর্জিয়া থেকে মোজাম্বিক যাচ্ছিল।
জাহাজের ক্রুদের পক্ষের আইনজীবীর ভাষ্যমতে, যাত্রাপথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বৈরুত বন্দরে নোঙর করতে বাধ্য হয় জাহাজটি। কিন্তু লেবানিজ কর্মকর্তারা সেটিকে ফের যাত্রা করতে বাধা দেন এবং ঘটনাক্রমে জাহাজটি মালিক ও ক্রু উভয়ের কাছেই পরিত্যক্ত হয়। এরপর জাহাজটির বিপজ্জনক মালামাল বৈরুত বন্দরের ১২ নম্বর হ্যাঙ্গারের একটি ভবনে নামিয়ে রাখা হয়। এর কয়েক মাস পর ২০১৪ সালের ২৭ জুন একজন বেনামি ‘জরুরি ঘটনাবিষয়ক বিচারক’-এর কাছে কার্গো সমস্যার সমাধান চেয়ে চিঠি পাঠান তৎকালীন লেবানিজ কাস্টমসের পরিচালক শফিক মেরহি। পরের তিন বছরে আরো পাঁচবার চিঠি পাঠিয়েছেন কাস্টমস কর্মকর্তারাÑ ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ সালের ৬ মে, ২০১৬ সালের ২০ মে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর ও ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর।
২০১৬ সালের একটি চিঠিতে আগের অনুরোধগুলোতে বিচারকরা কোনো সাড়া দেননি বলে উল্লেখ ছিল। চিঠিতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তিনটি উপায় জানিয়েছিলÑ বাজেয়াপ্ত অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট রফতানি করা, লেবানিজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা অথবা লেবাননের বেসরকারি বিস্ফোরক কোম্পানিগুলোর কাছে তা বিক্রি করা। কিন্তু এরপরও কোনো জবাব আসেনি। এর এক বছর পর নতুন লেবানিজ কাস্টমস পরিচালক বাদ্রি দাহির বিচারকদের কাছে আবার চিঠি লেখেন। ২০১৭ সালের ওই চিঠিতে বিচারকদের কাছে মালামালগুলো যেখানে রাখা হয়েছে সেই জায়গা ও সেখানকার কর্মীদের বিপদের কথা চিন্তা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন কাস্টমস পরিচালক। অথচ এরও প্রায় তিন বছর পর বিপজ্জনক অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বন্দরের ওই হ্যাঙ্গারেই রাখা ছিল।
মঙ্গলবার লেবানিজ প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব বন্দরে বিস্ফোরণের ঘটনাকে জাতীয় বিপর্যয় বলে ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রতিজ্ঞা করেছেন, দায়ী ব্যক্তিদের অবশ্যই মূল্য চুকাতে হবে। লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন এবং এতে দোষীদের কঠোর শাস্তির ওয়াদা করেছেন। ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যেই একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


আরো সংবাদ

সীমান্তে মাইন, মুংডুতে ৩৪ ট্যাংক (৯৭২২)কেন বন্ধু প্রতিবেশীরা ভারতকে ছেড়ে যাচ্ছে? (৭৫৯৮)সৌদি রাজতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জ করে সৌদি আরবে বিরোধী দল গঠন (৭১১২)৫৪,০০০ রোহিঙ্গাকে পাসপোর্ট দিতে সৌদি চাপ : কী করবে বাংলাদেশ (৪৮৪৪)কাশ্মিরিরা নিজেদের ভারতীয় বলে মনে করে না : ফারুক আবদুল্লাহ (৪২২০)শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া ১৫ দিন পর এইচএসসি পরীক্ষা (৩৭৩৭)দেশের জন্য আমি জীবন উৎসর্গ করলেও আমার বাবার আরো দুটি ছেলে থাকবে : ভিপি নূর (৩৪৭৬)বিরাট-অনুস্কাকে নিয়ে কুৎসিত মন্তব্য গাভাস্কারের, ভারত জুড়ে তোলপাড় (৩৩৭২)আ’লীগ দলীয় প্রার্থী যোগ দিলেন স্বতন্ত্র এমপির সাথে (৩৩৩১)কক্সবাজারের প্রায় ১৪০০ পুলিশ সদস্যকে একযোগে বদলি (৩২৫৫)