২৫ অক্টোবর ২০২০

ঈদের পর করোনায় এক দিনে ৫০ জনের মৃত্যু

-

পবিত্র ঈদুল আজহার পর গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরো ৫০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে করোনায় এ পর্যন্ত মোট মারা গেলেন ৩ হাজার ২৩৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ৯৫৫ জন সুস্থ হয়েছেন। এ ছাড়া করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এক লাখ ৩৯ হাজার ৮৬০ জন সুস্থ হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ হাজার ১১২টি নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১৮ জন। গতকাল মঙ্গলবার কোভিড-১৯ সম্পর্কিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।
বুলেটিনে অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৩টি পরীক্ষাগারে আট হাজার ১২৩টি নমুনা সংগ্রহ এবং সাত হাজার ৭১২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১২ লাখ এক হাজার ২৫৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১৮ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন দুই লাখ ৪৪ হাজার ২০ জন। শনাক্তের হার গত ২৪ ঘণ্টায় ২৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত ২০ দশমিক ৩১ শতাংশ। সুস্থতার হার ৫৭ দশমিক ৩১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুহার এক দশমিক ৩৩ শতাংশ।
তিনি আরো জানান, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের মধ্যে পুরুষ ৪৪ জন এবং নারী ছয়জন। তাদের মধ্যে ৪৫ জন হাসপাতালে এবং পাঁচজন বাড়িতে মারা গেছেন। এখন পর্যন্ত মোট দুই হাজার ৫৪৯ জন পুরুষ এবং ৬৮৫ জন নারী মারা গেছেন। ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়াদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিন জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ছয় জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৭ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে পাঁচজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে একজন রয়েছেন।
এ পর্যন্ত বয়সভিত্তিক মৃত্যুর সংখ্যা এবং শতকরা হার : শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে ১৮ জন, দশমিক ৫৬ শতাংশ; ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ৩২ জন, দশমিক ৯৯ শতাংশ; ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৮৭ জন, ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ; ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২১২ জন, ছয় দশমিক ৫৬ শতাংশ; ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ৪৪৮ জন, ১৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ; ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৯৩০ জন, ২৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ৬০ বছরের বেশি এক হাজার ৫০৭ জন, ৪৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। ২৪ ঘণ্টায় বিভাগ ভিত্তিক মৃত্যু হয়েছে: ঢাকায় ২৯ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে পাঁচজন করে, খুলনা ও রংপুরে চার জন করে এবং বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহে একজন করে।
চট্টগ্রামে করোনা শনাক্ত কমেছে
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে করোনায় শনাক্তের হার কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪০ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১৭ জন। শতকরা হিসেবে যা ১২.১৪ শতাংশ। গত সোমবার রাতে সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দু’টি ল্যাবে ১৪০টি নমুনা পরীক্ষার কথা বলা হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) ল্যাবে ৮৮টি এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ল্যাবে ৪৮টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। বিআইটিআইডিতে ৯ জনের এবং চমেক ল্যাবে ৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। এছাড়া কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের ৪টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। আক্রান্ত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জন নগরের এবং ৩ জন উপজেলার। এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১১২ জন।
এদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ল্যাব, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) ল্যাব, বেসরকারি শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি এবং ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে পরীক্ষা বন্ধ ছিল। চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫০৬ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় একজনসহ এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৩৪ জন। বাসায় চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন আরো প্রায় সাত হাজার। মোট সুস্থ ৯৮২৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১১২ জন সুস্থ হয়েছেন। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট ২ হাজার ৫১৭ জন করোনা রোগী।
রাজশাহী বিভাগে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী বিভাগে একদিনে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার বিভাগের রাজশাহী ও বগুড়া জেলায় দুইজন করে এবং চাঁপাইনবাগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিভাগে এখন মোট মৃতের সংখ্যা ১৮৩ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ ১০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ২৭ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আটজন, নওগাঁয় ১৪ জন, নাটোরে একজন, জয়পুরহাটে চারজন, সিরাজগঞ্জে ১১ জন এবং পাবনায় ৯ জন মারা গেছেন।
সোমবার বিভাগে নতুন ৬৭ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৩১, বগুড়ায় ৩২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ এবং জয়পুরহাটে ১ জন শনাক্ত হয়েছেন। গোটা বিভাগে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৯৫৮ জন শনাক্ত হয়েছেন বগুড়ায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ৩ হাজার ৩২৩ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৪৮৭, নওগাঁয় ৯৫৮, নাটোরে ৫৪৪, জয়পুরহাটে ৭৬২, সিরাজগঞ্জে ১ হাজার ৪৭২ জন এবং পাবনায় ৮৫২ জন শনাক্ত হয়েছেন।
সোমবার বিভাগের ২৫৮ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে ৯৩ জনই রাজশাহীর বাসিন্দা। এ দিন নওগাঁর ৪৯ জন, বগুড়ার ৩৯ জন, সিরাজগঞ্জের ৫২ জন এবং পাবনার ২৫ জন সুস্থ হয়েছেন। বিভাগে এ পর্যন্ত করোনা জয় করেছেন ৭ হাজার ৪০২ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ১ হাজার ৫১২ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২২৮ জন, নওগাঁর ৭৮৩ জন, নাটোরের ২২৬ জন, জয়পুরহাটের ২০৮ জন, বগুড়ার ৩ হাজার ৪৮৭ জন, সিরাজগঞ্জের ৫২১ জন এবং পাবনার ৪৩৭ জন করোনামুক্ত হয়েছেন।
বগুড়ায় করোনায় আরো ৫ জনের মৃত্যু
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৪ দিনে (৩১ জুলাই থেকে ৩ আগষ্ট) আরো ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বগুড়া সিভিল সার্জন অফিস। তবে মৃতদের পরিচয় জানায়নি সিভিল সার্জন অফিস। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ৩২ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা এখন ৪ হাজার ৯৫৮ জন। আর নতুন ৩৯ জনের সুস্থতা নিয়ে জেলায় মোট সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ৪৮৭ জন। বগুড়া সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ডা: ফরজানুল হক মঙ্গলবার জানান, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ৯৪ টি নমুনা পরীক্ষায় ২৩ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ এবং বেসরকারি টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ২২টি নমুনা পরীক্ষায় ৯ জন পজিটিভ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার ৩২ জনের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন, মহিলা ১১ জন এবং শিশু ৪ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ জনের মৃত্যু হওয়ায় এ নিয়ে জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ১০৯ জন।
কুমেক হাসপাতালে চারজনের মৃত্যু
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো চারজনের। মঙ্গলবার কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: সাজেদা খাতুন এসব তথ্য জানান। উপসর্গ নিয়ে মৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার হাজী খায়েরের ছেলে হারুনুর রশিদ, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আশরাফুল ইসলামের মেয়ে হালিমা বেগম, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসার হাজী আবদুল মাজিদের মেয়ে তানজিবেন্নেছা এবং কুমিল্লা নগরীর কাপ্তান বাজারের তাজ উদ্দিনের ছেলে গোলাম রহমান। এই হাসপাতালে করোনা ইউনিটে পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ২৯৭ জন।
কুমিল্লায় মঙ্গলবার নতুন করে আরো ৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে পাঁচ হাজার ৬২৪ জনের। জেলায় এদিনে দুইজনসহ এ পর্যন্ত মোট মারা গেছেন ১৪৮ জন। এদিনে ৮৪ জনসহ সর্বমোট সুস্থ হয়েছে চার হাজার ৮১জন। মঙ্গলবার সিভিল সার্জন অফিস এই তথ্য জানায়। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার শনাক্তদের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২ জন, বগুড়ায় তিনজন, লাকসাম, মনোহরগঞ্জে ও দেবিদ্বারে একজন করে, নাঙ্গলকোটে দুইজন আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় ২৬ হাজার ৫৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনার ফল এসেছে ২৫ হাজার ৫৯৭টির।
তেঁতুলিয়ায় একজনের মৃত্যু
তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) সংবাদদাতা জানায়, তেঁতুলিয়া উপজেলায় কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত আরো ৮ জন রোগী হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায় গত রোববার (২ আগস্ট/২০২০) সকাল ৭টায় কোভিড-১৯ ভাইরাস আক্রান্ত হোম আইসোলেশনের থাকা দেবনগর ইউনিয়নের সুরিগছ গ্রামের মমতাজ (৭০) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রশাসনিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ব্যক্তিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের করোনা টিম লিডার মেডিক্যাল অফিসার ডা: আবু সিনাহ মুহাম্মদ মুশফিকুর রহমান বলেন, জনগণের চরম স্বাস্থ্য অসচেতনতার পাশাপাশি বাজার ও খাবার হোটেলে সামাজিক দূরত্ব না মেনে মাস্ক ছাড়া উন্মুক্ত চলাচল করছে। এ ছাড়া হাসপাতালে আসা অনেকের মাঝে এরকম উপসর্গ দেখা মিললেও কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য আগের মতো উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। যে কারণে তেঁতুলিয়ায় করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
রৌমারীতে করোনা উপসর্গ নিয়ে পুলিশ সদস্যের মৃত্যু
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানায়, করোনা উপসর্গ নিয়ে আলতাফ হোসেন (৫৫) নামে এক পুলিশ সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ৩ আগস্ট (সোমবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রৌমারী হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানায় কর্মরত ছিলেন। রৌমারী থানার ওসি আবু মোহাম্মদ দিলওয়ার হাসান ইনাম জানান, ১৮ মার্চ ২০২০ইং তারিখে পুলিশ সদস্য আলতাফ হোসেন রৌমারী থানায় যোগদান করেন। গত কয়েকদিন থেকে তিনি সর্দি,কাশি, জ¦র ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যু আলতাফ হোসেন গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ৫ মেয়ে রেখে যান।
সাতক্ষীরায় ৪৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পাঁচজনের মৃত্যু
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানায়, সাতক্ষীরায় জ¦র, সর্দি, কাশি ও শ^াসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ৪৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক নারীসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ৩১ জুলাই শুক্রবার রাত ৯ থেকে ২ আগস্ট বিকেল ৫টার মধ্যে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ (সামেক) হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি তারা মারা যান। মৃত ব্যক্তিরা হলেন, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার শারসা গ্রামের অনিলকৃষ্ণ দাসের ছেলে রাধাপদ দাস (৫৫), একই উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের ওজিহার সরদারের স্ত্রী আরিফা খাতুন (৩৫), মাগুরা বারুইপুর গ্রামের মৃত হাতেম আলীর ছেলে ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক (৫০), মুড়াকলিয়া গ্রামের মৃত জেকের সরদারের ছেলে আব্দুল লতিফ সরদার (৬৫) এবং কালিগঞ্জ উপজেলার ভদ্রখালী ওবায়দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত মাদার আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৬৫)। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা: মানস কুমার মণ্ডল জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে ৩১ জুলাই শুক্রবার দুপুরে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন তালার শারসা গ্রামের রাধাপদ দাস। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান। একইভাবে করোনার উপসর্গ নিয়ে একই উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের আরিফা খাতুন শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সামেক হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টার দিকে তিনিও মারা যান। মৃত দুই ব্যক্তিরই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
বালিয়াকান্দিতে ১৬ জন করোনা আক্রান্ত
বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, রাজবাড়ীতে নতুন করে আরো ৪৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে রাজবাড়ীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৩২৫ জন। সোমবার দুপুরে রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডা: মো: নুরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নতুন করে ১০১টি স্যাম্পলের মধ্যে করোনা পজিটিভ হয়েছে ৪৮ জন। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ২৪ জন, পাংশা উপজেলার ৪ জন, বালিয়াকান্দি উপজেলার ১৬ জন, কালুখালি উপজেলার ৪ জন। করোনায় আকান্ত হয়ে জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১০ জন। সুস্থ হয়েছেন ৭৭২ জন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে ২৪ জন, বাকি সবাই বাড়িতে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।


আরো সংবাদ