০২ অক্টোবর ২০২০

করোনার প্রভাব পশুহাটে

শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা
-

রাজধানীর কোরবানির পশুহাটে করোনার প্রভাব পড়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে অনেকে অনলাইনে পশু কিনছেন। আর হাটে শেষ মুহূর্তে ক্রেতা বাড়লেও তা প্রত্যাশার তুলনায় কম। তবে উৎসব আমেজে পরিবারসহ হাটে এসে গরু কেনাকে যারা রেওয়াজে পরিণত করেছেন তারা ঠিকই ভয়কে জয় করে উপস্থিত হচ্ছেন। অবশ্য চাকরি-ব্যবসায় মন্দার কারণে অর্থসঙ্কটে ভুগতে থাকা নগরবাসী কেনার বাজেট কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ জন্য হাটে প্রচুর গরু থাকলেও সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় করেই কিনছেন তারা। তাই হাটে মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। বাজেট কিছু কমিয়ে গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ। তবে গরু বিক্রি করেও তেমন খুশি নন ব্যাপারীরা। আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না বলে তাদের দাবি।
মোহাম্মদপুর থেকে কাপড় ব্যবসায়ী কাশেম গাবতলী হাটে এসেছেন কোরবানির গরু কিনতে। সকাল হতে বাজারের এ-মাথা থেকে ও-মাথা ঘুরছেন। কিন্তু পছন্দসই গরু মেলাতে পারছেন না। ব্যাপারীরা দাম বেশি চাচ্ছেন। একটু ভালোমানের গরু লাখের নিচে যেন নামছেই না। গত বছর তিনি দুটি গরু কোরবানি দিয়েছেন। কিন্তু এবার ব্যবসায় মন্দা। কর্মচারীদের বেতনেই কাটছাঁট করতে হয়েছে। প্রতিবারই কোরবানি দিয়ে থাকেন। ছেলেমেয়েরাও গরু কেনার জন্য তাড়া দিচ্ছে। তাই মনের আকুতি ও প্রয়োজন বিবেচনায় হাটে এসেছেন তিনি। কিন্তু পকেটে যে টাকা আছে তা দিয়ে ভালোমানের গরু মিলছে না। তাই একটি মাঝারি মানের গরু ৭৫ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
হাটে আসা মেহেরপুরের গাংনীর ব্যাপারী আব্দুল খালেক বলেন, ক্রেতারা মনে করছেন দাম বেশি চাচ্ছি। কিন্তু এখন একটি গরু পালন করতেই অনেক টাকা খরচ হয়। আমি তিনটি গরু নিয়ে এসেছি। এর একটি বিক্রি হয়েছে যৎসামান্য লাভে। বাকি দুটি বড় গরু চাচ্ছি দেড় লাখ টাকা করে। কিন্তু ক্রেতারা ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা করে বলছেন। তিনি বলেন, ছয় মাস আগে গরু দুটির প্রতিটি এক লাখ টাকা করে কিনেছি। এ ছয় মাস প্রতিপালন করতে আরো ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরপর হাটে আনাসহ আনুষঙ্গিক অনেক খরচ রয়েছে। দেড় লাখ টাকার নিচে বিক্রি করলে ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু ক্রেতারা সেভাবে দাম বলছেন না।
আফতাবনগর হাটে দেখা যায়, প্রচুর গরু রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা সে তুলনায় কম। তবে আগের থেকে বেড়েছে। কিছুক্ষণ পরপরই ক্রেতারা গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। হাসিল ঘরের সামনেও ভিড়। হাসিল আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, সকাল থেকে গরু বিক্রি বেড়েছে। বিকেলের পর ক্রেতা আরো বেড়েছে। ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা দামের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। ওয়াসিম নামে এক বিক্রেতা বলেন, আগের দিন যে মানের গরু ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে আজ তা ১০ হাজার টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে। সিরাজগঞ্জ থেকে ১৫টি গরু নিয়ে এসেছেন আমিরুল ইসলাম। গতকাল বিকেল পর্যন্ত তার ১২টি বিক্রি হয়ে গেছে। গরুপ্রতি লাভ কম হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্রেতারা দাম বলেই চলে যেতে চান। এ জন্য পুঁজি বাঁচাতে কম লাভে হলেও আগেভাগেই বিক্রি করে দিলাম। শেষ দিনের জন্য আর অপেক্ষা করিনি। শেষের দিন কী হয় বোঝা যাচ্ছে না। তবে পোস্তাগোলা হাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এ হাটে ক্রেতার সমাগম যেমন বেড়েছে সাথে সাথে গরুর দামও বেড়েছে। গত দিনের তুলনায় বিক্রেতারা একটু শক্ত মনের পরিচয় দিচ্ছেন। আর প্রয়োজন বিবেচনায় দামদর করে একটু বেশি হলেও গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা।
এ দিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাটে গরুর ক্রেতা থাকলেও ছাগলের বাজারে ক্রেতা নেই বললেই চলে। গুটিকয়েক ক্রেতা এলেও দামে না মেলায় বিক্রি হচ্ছে কম। কমলাপুর টিটিপাড়ার রেলগেট সংলগ্ন হাটে দেখা যায়, প্রচুর ছাগল রয়েছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, ন্যায্যমূল্য চাওয়া হলেও ক্রেতাদের কাছ থেকে আশানুরূপ দাম পাচ্ছেন না তারা। অপর দিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, গরুর ক্রেতা কম থাকায় ছাগলের বিক্রেতারা দাম বেশি চাচ্ছেন। হাটে বেশির ভাগ ছাগলের দাম ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা করে চাচ্ছেন বিক্রেতারা।

 


আরো সংবাদ