০৮ আগস্ট ২০২০
প্রতারণার জগতে সাহেদ আইডল : র্যাব

সীমান্ত এলাকায় অভিযান মৌলভীবাজারে তোলপাড়

-
24tkt

প্রতারণার জগতে সাহেদ একজন আইডল। সে প্রতারণাকে এমনপর্যায়ে নিয়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের ভাবনার অতীত। প্রতারণাকে ব্যবহার করে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঠগবাজি করে কিভাবে এমন একটিপর্যায়ে চলে গেছে, যা একটি অনন্য খারাপ দৃষ্টান্ত। করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী অন্যতম জালিয়াত রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদ সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এদিকে রিজেন্ট মালিক সাহেদকে গ্রেফতারে সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলছে। যেখানেই সাহেদের সন্ধানের খবর আসছে, সেখানেই অভিযান চালাচ্ছে র্যাব-পুলিশ। মৌলভীবাজারের কমলঞ্জ ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলের পর সোমবার ও গতকাল সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে র্যাব সদর দফতরে সাহেদ সম্পর্কে অগ্রগতি জানাতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র্যাব। এ সময় রাজনীতিক, আমলাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সাহেদের ছবি থাকার বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যাম শাখার পরিচালক লে. ক. আশিক বিল্লাহ বলেন, সাহেদের ছবির বিষয়ে আমাদের ধারণা থাকা দরকার। কারো সঙ্গে কারো ছবি থাকা মানে এই নয় যে, তিনি তার পৃষ্ঠপোষক। যে কারো সঙ্গে বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মানুষ ছবি তুলতে চাইবেই। এটা খুবই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তার মানে এই নয় যে, ওই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি সাহেদকে একজন প্রতারক জেনেও তার সঙ্গে ছবি তুলেছেন। রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি যখন কারো সঙ্গে ছবি তোলেন সেটি নেহাত সৌজন্যবশত। এর পেছনে যদি কারো পৃষ্ঠপোষকতা থাকে, সেটি নিশ্চয়ই তদন্তকারী কর্মকর্তা তদন্ত করে খতিয়ে দেখবেন।
সাহেদকে গ্রেফতারের বিষয় র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত ছিল, যাতে সে কোনোভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারে, তাই সে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেনি। যেকোনো সময়, যেকোনো মুহূর্তে সাহেদকে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশসহ সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে সারা দেশের পাশাপাশি সীমান্তেও নজরদারি বৃদ্ধি করেছে। যাতে কোনোভাবেই সাহেদ দেশ ত্যাগ না করতে পারে। র্যাব কর্মকর্তা আশিক বিল্লাহ বলেন, একটি বিষয় স্পষ্ট করে সবাইকে জানাতে চাই, সাহেদের পাসপোর্ট আমাদের কাছে। আমরা জব্দ করেছি। সে যদি দেশ ত্যাগ করতে চায়, তাহলে সেটা তার জন্য অবৈধ পন্থা হবে। সে যাতে কোনোভাবেই দেশত্যাগ না করতে পারে, সে জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেফতার না করতে পারার কারণ সে প্রতারক। এর চেয়ে বড় অপরাধীদের গ্রেফতার করেছে র্যাব। সাহেদকেও গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় সাহেদ ছাড়াও অন্য আসামিদের গ্রেফতারের জন্য র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে। মূল তদন্তকারী কর্মকর্তা সব অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। মূল আসামি সাহেদকে গ্রেফতারে র্যাবের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলেও জানান তিনি। এ মামলার অন্যান্য আসামিও এই মুহূর্তে পলাতক রয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা।
আশিক বিল্লাহ বলেন, সাহেদ গানম্যান নিয়ে চলাফেরা করত। আমরা তার গানম্যান ও তাদের অস্ত্রের বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছি। তার পাঁচ থেকে সাতজনের গানম্যানের দল ছিল। তাদের সম্পর্কে অভিযোগ পেয়েছি। তাদের অস্ত্রের উৎস ও অস্ত্রের বৈধতা খতিয়ে দেখছি।
সাহেদ বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে চেক নিয়েও প্রতারণা করেছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সাহেদ পাওনাদারদের যে চেক দিত, তাতে একেক চেকে একেক স্বাক্ষর করত। সত্যিকারের স্বাক্ষর সে দিত না যা ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিস্মিত করেছে। এসব চেক ব্যাংক থেকে বাউন্স হয়েছে। এই জালিয়াতির ঘটনায় অভিজ্ঞ ব্যাংকারোাও অবাক হয়েছেন। সাহেদ তার বৈধ চেকে অবৈধ স্বাক্ষর করেছে। অর্থাৎ ব্যাংকে তার যে স্বাক্ষর রক্ষিত আছে, সেই স্বাক্ষর না দিয়ে ভিন্ন স্বাক্ষর দিত। তাই পাওনাদাররা ব্যাংক থেকে ওই চেক দিয়ে টাকা তুলতে পারেনি। সব চেক ব্যাংকে ডিসঅনার হয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, সারা দেশে সাহেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত র্যাব অর্ধশতেরও বেশি মামলার খবর পেয়েছে, যার বেশির ভাগই প্রতারণার মামলা। তার বিষয়ে র্যাব আরো খোঁজ খবর নিচ্ছে। যদি কারো অভিযোগ থাকে তাহলে র্যাবকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।
মৌলভীবাজারজুড়ে তোলপাড়
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক করোনা নমুনা পরীক্ষায় জালিয়াতি মামলার প্রধান আসামি শাহেদ ওরফে শাহেদ করিম মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে পালানোর গুঞ্জনে কমলগঞ্জ উপজেলাসহ পুরো মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে তোলপাড় চলছে। শাহেদের সন্ধানে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মৌলভীবাজারের সীমান্ত দিয়ে ভারত পালিয়ে যেতে পারেন এমন খবরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোয় বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। গত সোমবার রাতভর ঢাকা থেকে আসা র্যাবের একটি টিমসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা শেষে গতকাল মঙ্গলবার এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শাহেদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আত্মগোপনে থাকা ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক শাহেদ কমলগঞ্জে অবস্থান করার গুঞ্জনে কমলগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় চষে বেড়িয়েছেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশ কয়েকজন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার কর্মী। এর মধ্যে ছিল কমলগঞ্জের কুরমা সীমান্ত থেকে ধলাই সীমান্তসহ কমলগঞ্জের অন্য সীমান্ত এলাকা। সর্বশেষ মঙ্গলবার সকাল থেকে অবস্থান ছিল ধলই সীমান্তে। গত সোমবার রাত ১টা ৩৮ মিনিটে কালো রংয়ের দুটি গাড়ি কমলগঞ্জের শমশের নগর দিয়ে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা আর মঙ্গলবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি গাড়ি ধলই সীমান্ত থেকে বেরিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে ভালো কোনো বার্তা না পেলেও জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদকর্মী সবার চোখ ছিল কমলগঞ্জের ওপর।
সারা মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে খবর ছড়িয়ে পড়ে শাহেদ মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী দুই উপজেলা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের কোথাও লুকিয়ে রয়েছে। এমন খবর পেয়ে মাঠে নামে র্যাব-পুলিশ। পুলিশ বিভিন্ন সড়কে এলাকায় যানবাহনে তল্লাশি চালিয়েছে। শমশের নগরেও আকস্মিক পুলিশি তৎপরতা শুরু হয়। শমশের নগর চৌমুহনা থেকে ভারতের ত্রিপুরাগামী চাতলাপুর চেকপোস্ট সড়কের মুখে শমশের নগর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের দাঁড়িয়ে যানবাহন তল্লাশি করতে দেখা গেছে।
এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, মো: শাহেদ মৌলভীবাজারের চাতলাপুর, কুরমা বা ধলই সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে এ খবরে ঢাকা থেকে র্যাবের একটি টিম শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালায়। র্যাবের টিম শ্রীমঙ্গল লেমন গার্ডেন, লাউয়াছড়া, কুরমা, ধলই ও চাতলাপুর সীমান্ত রোডেও তৎপরতা চালায়। তারা শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গেস্ট হাউজেও তল্লাশি চালায়। সোমবার সন্ধ্যায় খবর আসে ঢাকা হেড কোয়ার্টার থেকে র্যাবের একটি দল শাহেদকে ধরতে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। তবে র্যাব-৯ এর শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর আহমেদ নোমান বলেন, এই রকম কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই এবং তারা নিজেও অভিযানে নেই। তবে র্যাবের হেড কোয়ার্টারের মাধ্যমে বা অন্যকোনো ইউনিটের মাধ্যমে অভিযান চালানো হতে পারে বলে জানান তিনি। সোমবার বিকাল থেকে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।
পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগের সাথে ভারতের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ফলে সব জায়গায় সতর্ক অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে কোন জায়গায় শাহেদ আছে এ রকম নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
শমশের নগর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক (তদন্ত) অরূপকুমার চৌধুরী বলেন, শাহেদ এই দিকে আছে এমন কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। যেহেতু সীমান্ত এলাকা তাই সে পালানোর চেষ্টা করতে পারে এটা সন্দেহ অতিরিক্ত সতর্কতা গ্রহণ করেছি।
মৌলভীবাজারের গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয়ভূষণ রায় বলেন, শাহেদ সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে, এমন খবর সর্বত্র ছড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত সীমান্ত এলাকাগুলো নজরদারিতে রয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ জানান, শাহেদ এখানে আছে এই রকম সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে আমরা সব সময় সতর্ক আছি। এই সতর্কতার নির্দেশ সব জায়গায় দেয়া আছে।

 


আরো সংবাদ

প্রদীপের অপকর্ম জেনে যাওয়ায় জীবন দিতে হয়েছে সিনহাকে? (২৬৬১১)পাকিস্তানের বোলিং তোপে লন্ডভন্ড ইংল্যান্ড (৬৫০৩)এসএসসির স্কোরের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা (৪৫২৮)কানাডায়ও ঘাতক বাহিনী পাঠিয়েছিলেন মোহাম্মাদ বিন সালমান! (৪৪৮৪)বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিথানল উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন করল ইরান (৪০৯৯)অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে কড়া বিবৃতি পাকিস্তানের, যা বলছে ভারত (৪০৪৫)মেজর সিনহা হত্যা : ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৭ পুলিশ বরখাস্ত (৩৬৫২)কক্সবাজারে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ টহল চলবে : আইএসপিআর (৩৩৩২)যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচন ২০২০ : কে এগিয়ে- ট্রাম্প না বাইডেন? (৩১০৫)প্রদীপসহ ৩ পুলিশ সদস্যের ৭ দিনের রিমান্ড (৩০৮৮)