০৪ আগস্ট ২০২০

করোনায় এক দিনে রেকর্ড পাঁচ সহস্রাধিক সুস্থ

এক দিনে মৃত্যু ৪৭, শনাক্ত ২,৬৬৬; মোট মৃত্যু ২,৩৫২, শনাক্ত ১,৮৩,৭৯৫; ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ ৫,৫৮০, মোট সুস্থ ৯৩,৬১৪
-
24tkt

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে সুস্থতার হারও। গত ২৪ ঘণ্টায় সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি রোগী সুস্থতা লাভ করেছেন, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এ সময়ে দেশে আরও ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে; এ নিয়ে দেশে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩৫২ জনে। এক দিনে আরও দুই হাজার ৬৬৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন হয়েছে।
করোনাভাইরাস বিষয়ে গতকাল রোববার দুপুরে অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও পাঁচ হাজার ৫৮০ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩ হাজার ৬১৪ জনে। রোগী শনাক্ত বিবেচনায় যার হার ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৬ জন রোগী, ফলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪৭ জন। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ জনের।
এর আগে এক দিনে সর্বোচ্চ সুস্থ রোগীর সংখ্যা ছিল চার হাজার ৩৩২। সেটা জানানো হয় ২ জুলাইয়ের বুলেটিনে। আর গতকাল ১১ জুলাই দেয়া হয়েছিল এক হাজার ৬২৮ জনের সুস্থতার তথ্য।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন চার হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ। আর ১৮ মার্চ বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে প্রথম মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৫ জুলাই তা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।
নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী। তাদের মধ্যে ৪৩ জন হাসপাতালে এবং চারজন বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন ঢাকা বিভাগের, ছয়জন চট্টগ্রাম বিভাগের, চারজন রাজশাহী বিভাগের, ছয়জন খুলনা বিভাগের, দুইজন বরিশাল বিভাগের, দুইজন রংপুর বিভাগের এবং চারজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
এই ৪৭ জনের মধ্যে দুইজনের বয়স ৮০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ছয়জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১৪ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৫ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, তিনজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, দুইজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
এ পর্যন্ত যারা মারা গেছেন, তাদের ৪৩ দশমিক ৬৬ শতাংশের বয়স ৬০ বছরের বেশি। শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশের বয়স ১০ বছরের নিচে। এ ছাড়া ২৯ দশমিক ৮০ শতাংশের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, সাত দশমিক ০৬ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, তিন দশমিক ২৩ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, এক দশমিক ১৫ শতাংশের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে ছিল।
এই দুই হাজার ৩৫২ জনের মধ্যে ৫০ শতাংশই ঢাকা বিভাগের। এ ছাড়া ২৬ দশমিক ২৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বিভাগের, পাঁচ দশমিক ১৪ শতাংশ রাজশাহী বিভাগের, পাঁচ দশমিক ১৪ শতাংশ খুলনা বিভাগের, দুই দশমিক ৩৪ শতাংশ ময়মনসিংহ বিভাগের, তিন দশমিক ১০ শতাংশ রংপুর বিভাগের, চার দশমিক ৩৮ শতাংশ সিলেট বিভাগের এবং তিন দশমিক ৬১ শতাংশ বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭টি ল্যাবে ১১ হাজার ৫৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এই সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে দুই হাজার ২৯৫টি কম। নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ায় দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কম হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের অনেকে মত জানিয়ে আসছেন। রোববারের বুলেটিনে এ পর্যন্ত দেশে ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২৪টি নমুনা পরীক্ষার কথা জানানো হয়।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ১১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৫০ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মৃত্যু হার এক দশমিক ২১ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৩৭ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩১৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৯০৯ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ১৯ হাজার ১৮৬ জন। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশন করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫০৫ জনকে।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৫৩১ জনকে। এখন পর্যন্ত তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৫৪ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়া পেয়েছেন দুই হাজার ৯০০ জন, এখন পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন তিন লাখ ৩০ হাজার ৭৭১ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৮৩ জন।
চট্টগ্রামে নমুনা পরীক্ষা দেয়া প্রতি চারজনে একজন করোনা আক্রান্ত
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে গত এক দিনে মাত্র ৪২৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১০৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে, যা নমুনা পরীক্ষা দেয়া প্রতি চারজনে আক্রান্ত একজন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ জন নগরের ও ৪৪ জন বিভিন্ন উপজেলার। এ নিয়ে চট্টগ্রামে ১১ হাজার ৪৯০ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে আট হাজার ১৪ জন নগরের ও তিন হাজার ৪৭৬ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। গতকাল রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বি নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১০২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়। এর মধ্যে নগরের ১৮ জন ও বিভিন্ন উপজেলার ২৫ জন আছেন। ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২০ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ জন নগরের ও সাতজন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে শনিবার ৭৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জনের করোনা মিলেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটির (সিভাসু) ল্যাব, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাব ও বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে চট্টগ্রামের কারো নমুনা পরীক্ষা হয়েছে- এমন তথ্য পায়নি সিভিল সার্জন অফিস।
এ দিকে শেভরণ ল্যাবে ১২৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ২০ জন নগরের ও আটজন উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলা পর্যায়ে নতুন শনাক্ত ৪৪ জনের মধ্যে সাতকানিয়ার এক, আনোয়ারার এক, পটিয়ার এক, বোয়ালখালীর এক, রাঙ্গুনিয়ার এক, রাউজানের এক, ফটিকছড়ির এক, হাটহাজারীর ২৫, সন্দ্বীপে তিন, মিরসরাইয়ের ছয় ও সীতাকুণ্ডের তিনজন আছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৭ জন সুস্থ হয়েছেন। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন মোট এক হাজার ৩৫৫ জন করোনা রোগী।
রাজশাহী বিভাগে আক্রান্ত রোগী সাড়ে আট হাজার, মৃত্যু ১১৪
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট হাজার ব্যক্তির শরীরে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৭১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১১৪ জনের। গতকাল রোববার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিভাগের আটটি জেলায় এখন পর্যন্ত আট হাজার ৪২৯ জন ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তিন হাজার ৭১১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন বগুড়া জেলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা রাজশাহীতে এক হাজার ৬০১ জন। এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৭৭, নওগাঁয় ৬৭৪, নাটোরে ২৯৪, জয়পুরহাটে ৫৫০, সিরাজগঞ্জে ৮২৩ এবং পাবনায় ৫৯৯ জন শনাক্ত হয়েছেন।
শনিবার নতুন ১৯২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৮৯, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন, নাটোরে ১৩, বগুড়ায় ৫৫ এবং সিরাজগঞ্জে ৩২ জন শনাক্ত হয়েছেন। এ দিন বিভাগে নতুন চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের বাড়ি বগুড়া। আর একজনের বাড়ি রাজশাহী জেলায়।
বিভাগে এখন মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১১৪ জন। এর মধ্যে ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়ায়। এ ছাড়া রাজশাহীতে ১৫, নওগাঁয় ১০, নাটোরে এক এবং সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় ৯ জন করে মারা গেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটে এখনো কারও মৃত্যু হয়নি। শনিবার বিভাগে সুস্থ হয়েছেন ১২৪ জন। এদের মধ্যে ৭৮ জনেরই বাড়ি বগুড়া। এ দিন নওগাঁর ২৫, জয়পুরহাটের পাঁচ, সিরাজগঞ্জের ১২ এবং পাবনার চারজন সুস্থ হয়েছেন। পুরো বিভাগে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন তিন হাজার ২৭১ জন। এর মধ্যে রাজশাহীর ৩২১ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৯৩ জন, নওগাঁর ৪৮০ জন, নাটোরের ৯৭ জন, জয়পুরহাটের ১৬৯ জন, বগুড়ার এক হাজার ৭৭৭ জন, সিরাজগঞ্জের ১২৬ জন এবং পাবনার ২০৮ জন করোনামুক্ত হয়েছেন।
হোম কোয়ারেন্টিনে ট্রাফিক পুলিশের মৃত্যু : রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মোজাফফর হোসেন (৫৫)। তিনি রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগে কনস্টেবল পদে কর্মরত ছিলেন। মোজাফফর হোসেনের বাড়ি নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত জাবান আলী। তার পরিবার গ্রামের বাড়িতে এবং তিনি পুলিশ লাইন্স ব্যারাকে থাকতেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় নগরীর অভয়ার মোড় এলাকায় মেয়ের বাসায় তার মৃত্যু হয়। তিনি হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। মহানগর পুলিশ জানায়, গত ৭ জুলাই মোজাফফর হোসেনের শরীরে জ¦র আসে। তাই তিনি বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। এরপর মেয়ের বাসায় হোম কোয়ারেন্টিনে ছিলেন। সেখানে তিনি রোববার সকালে মারা যান। তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
খুলনায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা ৩ হাজার ছাড়িয়েছে
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা তিন হাজার অতিক্রম করেছে। আক্রান্তদের মৃত্যু হার এক শতাংশের মতো। এ দিকে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মহানগরীসহ জেলায় নতুন করে ৯৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে খুলনায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৯১১ জন ও মারা গেছেন ৪৪ জন। খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা: শেখ সাদিয়া মনোয়ারা ঊষা জানান, খুলনায় আক্রান্তের মধ্যে এক হাজার ৯২৭ জন পুরুষ, ৮৫৬ জন মহিলা ও ১৫৪ জন শিশু। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৬৬ শতাংশ পুরুষ, ২৯ শতাংশ নারী ও ৫ শতাংশ শিশু। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে সর্বাধিক দুই হাজার ৩৭০ জন রোগী খুলনা মহানগরীর। এ ছাড়া দাকোপ উপজেলায় ৫৯ জন, বটিয়াঘাটা উপজেলায় ২৯ জন, রূপসা উপজেলায় ১১৭ জন, তেরখাদা উপজেলায় ৩৪ জন, দিঘলিয়া উপজেলায় ৭০ জন, ফুলতলা উপজেলায় ১৩৩ জন, ডুমুরিয়া উপজেলায় ৬৩ জন, পাইকগাছা উপজেলায় ৪৬ জন ও কয়রা উপজেলায় ১৬ জন রোগী রয়েছেন।
খুলনায় যুবদল নেতার মৃত্যু : করোনায় গতকাল রোববার খুলনা মহানগর শাখা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত মাসুম (৩৪) মারা গেছেন। মাসুম মহানগরীর আইজ্জার মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং খুলনা সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। গতকাল ভোর ৪টায় নগরীর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে তিনি মারা যান। খুলনা মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর জানান, করোনায় শনাক্ত হওয়ার পর মাসুমকে শনিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোর ৪টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় নতুন আক্রান্ত ১১০
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লায় গতকাল রোববার করোনা শনাক্ত হয়েছে ১১০ জনের। জেলায় এ পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৪৭৪ জন। সিটি করপোরেশন এলাকায় ৩৬ জনসহ রোববার সুস্থ হয়েছেন ৫৪ জন। জেলায় এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন দুই হাজার ৪২৭ জন। কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৯৪ জনের। ফল এসেছে ২১ হাজার ৪৫৩ জনের। রোববার আদর্শ সদর উপজেলায় মারা গেছেন একজন। জেলায় মোট মারা যান ১২২ জন। নতুন শনাক্তদের মধ্যে রয়েছে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকায় ২০ জন, ব্রাহ্মণপাড়া ও দাউদকান্দিতে দুইজন করে, বরুড়ায় আটজন, লাকসামে ২৩ জন, চৌদ্দগ্রামে ১৮ জন, আদর্শ সদর, মেঘনা, তিতাস ও মুরাদনগরে পাঁচজন করে, সদর দক্ষিণে সাতজন, বুড়িচংয়ে একজন ও লালমাইয়ে ছয়জন।
উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বৃদ্ধার মৃত্যু
সাতক্ষীরা সংবাদদাতা জানান, করোনার উপসর্গ নিয়ে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার ভোর ৫টার দিকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত ওই বৃদ্ধা নারীর নাম হোসনে আরা খাতুন (৬০)। তিনি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সদরের আবুল হোসেনের স্ত্রী। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: রফিকুল ইসলাম জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে শনিবার রাত ১২টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশনে ভর্তি হন ওই বৃদ্ধা নারী। এরপর রোববার ভোর ৫টার দিকে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ দিকে সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎস্যক, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও স্বাস্থ্যর্কমীসহ নতুন করে ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৮২ জনে।
গাইবান্ধা সংবাদদাতা জানান, গাইবান্ধায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছে বলে রোববার সিভিল সার্জন সূত্রে জানা গেছে। এ নিয়ে গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসের আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা হলো ৪৬৫ জন এবং এ পর্যন্ত মৃত ১০ জন। এদিকে জেলার সাতটি উপজেলায় হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ১৯৫ জন।
নোয়াখালীতে একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৭
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় গতকাল রোববার করোনায় আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া এক দিনে আরও ২৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং সুস্থ হয়েছে ১৮ জন। এ নিয়ে নোয়াখালী জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৫১৪ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫৪ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৪৮০ জন। এ জেলা থেকে এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পাঠানো হয়েছে ১২ হাজার ৬৩৭ জনের, তাদের মধ্যে ফলাফল পাওয়া গেছে ১২ হাজার ৪৩৬ জনের। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা: মাসুম ইফতেখার।
গোপালগঞ্জে আক্রান্ত হাজার ছাড়াল
গোপালগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৫ জনসহ জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার একজনে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। গতকাল গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: নিয়াজ মোহাম্মদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদরে ৯ জন, কোটালীপাড়ায় তিনজন ও মুকসুদপুর উপজেলায় তিনজন রয়েছেন।
জামালপুর সংবাদদাতা জানান, ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার, সরকারি হাসপাতাল কমপ্লেক্স মসজিদের ইমাম ও নৈশপ্রহরী, ১৩ বছর বয়সের শিশু, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, ট্রাকচালকসহ জামালপুরে নতুন করে আরও ১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সরিষাবাড়ী উপজেলায় চারজন, ইসলামপুর উপজেলায় দুইজন, মেলান্দহ উপজেলায় দুইজন, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় একজন ও সদর উপজেলায় একজন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৭১২ জন। অন্যদিকে মোট সুস্থ হয়েছে ৪৪১ জন এবং করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১১ জনের। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে জামালপুর স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঝালকাঠিতে উপসর্গ নিয়ে এক নারী ও আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে সুফিয়া বেগম (৬০) নামে এক নারী ও নলছিটি উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে লুৎফর রহমান (৬৫) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তাদের মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার বিকেলে জ্বর, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় রাজাপুরের সুফিয়া বেগমকে। রোববার তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যান। এ দিকে জ্বর, বুকে ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ২৮ জুন একই হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় নলছিটির লুৎফর রহমানকে। তার করোনা ধরা পড়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনিও মারা যান।
বগুড়ায় তিনজনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৫৫ জন
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজন মারা গেছেন এবং ৫৫ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত তিনজন হলেন- টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া গোয়ালগাড়ীর বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবু হানিফ (৭০), শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন সদর উপজেলার কাবঘরিয়ো গ্রামের বাসিন্দা ও আনসার বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কমান্ডার আবু বকর সিদ্দিকী (৬৫) ও জেলার কাহালু উপজেলার বাসিন্দা জিল্লার রহমান (৫৫)। তারা তিনজনই শনিবার রাত থেকে রোববার সকালের মধ্যে মারা গেছেন বলে জানান শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি আরও জানান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন বগুড়া শাখার সদস্যরা লাশ তিনটি জীবাণুুমুক্ত করে নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ নিয়ে জেলায় করোনায় মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসাবে ৭০ জন এবং মোট আক্রান্ত তিন হাজার ৭১১ জন।
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একই পরিবারের ৯ জনসহ ২৭ জন করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়েছেন। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বাজিতপুরে করোনা মুক্তের সংখ্যা ১২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দিকে কটিয়াদিতে নতুন করে আরও একজন নার্সসহ দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট উপজেলায় আক্রান্ত হলেন ১৪৮ জন। তাদের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে মঠবাড়িয়া পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নে সাতজন, দাউদখালী ইউনিয়নে একজন, বড় মাছুয়া ইউনিয়নে দুইজন, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নে একজন ও ধানীসাফা ইউনিয়নে তিনজন রয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১২৩ জনে দাঁড়াল। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৩ জন।
আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার আমতলীতে নতুন করে পুলিশের এক এএসআই, স্বাস্থ্য সহকারীসহ পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্ত সবাই হোম আইসোলেশনে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্তের বাড়িগুলো লকডাউন করে দেয়া হয়েছে।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায় আরও তিনজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে এ উপজেলায় ৪৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হলো। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের শরণখোলায় গত দুই দিনে করোনায় পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে শরণখোলা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৭ জনে। তবে তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২২ জন। আক্রান্তরা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন।
মোল্লাহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় নতুন করে হাসপাতালের দুই স্টাফ ও এক ওষুধ বিক্রেতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোল্লাহাটে মোট ২১ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হলো। এর মধ্যে পুরুষ ১৯ জন এবং নারী দুইজন। তাদের মধ্যে ১৪ জন এরই মধ্যে সুস্থ হয়েছেন।


আরো সংবাদ

হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (২২৭১২)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (১৪৭৬৭)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৮৩২০)মরুভূমির ‘এয়ারলাইনের গোরস্তানে’ ফেলা হচ্ছে বহু বিমান (৮২৯৮)সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (৬৬৬৯)নেপালের সমর্থনে এবার লিপুলেখ পাসে সৈন্য বৃদ্ধি চীনের (৬৩০৬)তল্লাশি চৌকিতে সেনা কর্মকর্তার মৃত্যু দেশবাসীকে ক্ষুব্ধ করেছে: মির্জা ফখরুল (৫৮৯৯)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৫৬৯৭)আবারো তাইওয়ান দখলের ঘোষণা দিল চীন (৫৬২০)করোনায় আক্রান্ত এমপিকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়েছে (৪৯৯৯)