০৮ আগস্ট ২০২০

করোনা আক্রান্ত নগরজীবনে নতুন ভোগান্তি দ্রব্যমূল্য

বাজার দর
-
24tkt

করোনার আঘাতে জর্জরিত নগরবাসীর সামনে নতুন করে দেখা দিয়েছে দ্রব্যমূল্যজনিত ভোগান্তি। করোনার আঘাতে গত কয়েক মাস ধরে এমনিতেই আয়রোজগার নেই। তার ওপর শাকসবজিসহ অধিকাংশ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় তাদের পক্ষে জীবনযাপন অনেকটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। অনেক সাধারণ পরিবারের পক্ষে শাকসবজি জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি বছরের মাসওয়ারী হিসাবে জুন মাসে সাধারণ ও খাদ্য খাতে বেড়েছে মূল্যস্ফীতির হার। মে মাসে সাধারণ খাতে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় বন্যার প্রাদুর্ভাবের কারণে অধিকাংশ সবজির দাম বেড়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল শুক্রবার রাজধানী ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এক কেজি টমেটো কিনতে লাগছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। গাজরের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে। ১০০ টাকার কাছাকাছি বেগুন, বরবটি। দুই থেকে একটি বাদে বেশির ভাগ সবজির কেজি ৫০ টাকার ওপরে। কাঁচামরিচের কেজি ২০০ টাকা ছুঁই ছুঁই। বাজারভেদে বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। চিচিংগা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পটোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কচুর লতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
সবজির পাশাপাশি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। বাজারভেদে ২৫০ গ্রাম কাঁচামরিচের দাম পড়ছে ৩০ থেকে ৪৫ টাকা। চড়া ডিম-মুরগির দামও। ডিমের ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা। বয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। লাল লেয়ার মুরগি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাকিস্তানি সোনালি মুরগি ২৭০ থেকে ২৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গরু ও খাসির গোশত নিম্ন আয়ের মানুষের কপাল থেকে উঠে গেছে অনেক আগেই। গরুর গোশত ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খাসির গোশত বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজি।
স্বস্তি নেই মাছের বাজারেও। এক কেজি সাইজের ইলিশ ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ থেকে ৭৫০ গ্রামের ইলিশ ৭৫০ থেকে ৮০০ এবং ছোট ইলিশ আকারভেদে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের কেজি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। পাবদা ৫০০ থেকে ৬০০, কাঁচকি ২৫০ থেকে ৩৫০, সরপুঁটি (চায়না পুঁটি) ১৬০ থেকে ২৫০, দেশী পুঁটি ৫০০ থেকে ৭০০, টেংরা ৬০০ থেকে ৭৫০, শিং ৩০০ থেকে ৫০০ এবং চিংড়ি ৪০০ থেকে ৯০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়া। এর মধ্যে পাঙ্গাশ ১২০ থেকে ১৭০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকেই মসলার দামে বেশ অস্থিরতা বিরাজ করছে। ঈদুল আজহার দিন ঘনিয়ে আসায় নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে লবঙ্গ, এলাচ ও দারুচিনির দাম। একদিনের ব্যবধানে এলাচের দাম কেজিতে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। লবঙ্গের দাম কেজিতে ২০০ টাকা এবং দারুচিনির দাম বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। ধীরে ধীরে অন্যান্য মসলার দামও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা। এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩২০০ থেকে ৩৬০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৯০০ থেকে ৩২০০ টাকার মধ্যে। লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। অবশ্য রোজার ঈদের আগে লবঙ্গের কেজি ১২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, মে মাসের তুলনায় জুনে মাছ, শাক থেকে সবজি বিশেষ করে আলু, বেগুন, শিম, কুমড়া, গাজর, শসা, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লালশাক ও মুলার দাম বেড়েছে। ফলজাতীয় পণ্যের মূল্যও বাড়তি। মসলাজাতীয় পণ্য পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও মাসওয়ারী বেড়েছে বলে দাবি করে বিবিএস। ফলে জুন মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, অথচ মে মাসে এ হার ছিল মাত্র ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিবিএসের তথ্যে জানানো হয়, ২০২০ সালের জুনে পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৬ দশমিক ০২ শতাংশ, যা মে মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৫ শতাংশ। বিবিএসের তথ্যানুযায়ী, বছরওয়ারি পয়েন্ট টু পয়েন্টের ভিত্তিতে মে থেকে তেল, ডাল, চিনি, মুড়ি, মাছ থেকে মাংস, ব্রয়লার মুরগি, ফল, তামাক, দুধজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর দাম বাড়তি। এ ছাড়া মাসওয়ারি ডিম, শাক থেকে সবজি ও মসলাজাতীয় পণ্যের দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।


আরো সংবাদ

প্রদীপের অপকর্ম জেনে যাওয়ায় জীবন দিতে হয়েছে সিনহাকে? (২৯৮২৮)মেজর সিনহা হত্যা : ওসি প্রদীপ, ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলীসহ ৭ পুলিশ বরখাস্ত (৮৪৬৩)পাকিস্তানের বোলিং তোপে লন্ডভন্ড ইংল্যান্ড (৬৬৫৪)জাহাজ ভর্তি ভয়াবহ বিস্ফোরক বৈরুতে পৌঁছল যেভাবে (৫৮২৮)অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ নিয়ে কড়া বিবৃতি পাকিস্তানের, যা বলছে ভারত (৫৭৬৬)আয়া সোফিয়ায় জুমার নমাজ শেষে যা বললেন এরদোগান (৫৭১৩)নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিলেন মাহাথির (৫৪৫৩)এসএসসির স্কোরের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি হবে শিক্ষার্থীরা (৫০৯৯)কানাডায়ও ঘাতক বাহিনী পাঠিয়েছিলেন মোহাম্মাদ বিন সালমান! (৫০৭৩)সাগরের ইলিশে সয়লাব খুলনার বাজার (৪৯৮৫)