১৪ আগস্ট ২০২০

পরামর্শক, কর্তারা ঢাকায় গতি নেই প্রকল্পের চাকায়

উন্নয়ন প্রকল্পের হালচাল (৫)
-
24tkt

মাঠ পর্যায়ের কাজে সরেজমিনে খোঁজ ও তদারকি না থাকার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সমাপ্ত হচ্ছে না। শ্লথ গতিতে চলছে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পও। প্রকল্প পরিচালকরা মাঠে অবস্থান না করার কারণে বিভিন্ন সময়ে একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু তাতে বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কোনো কর্ণপাত নেই। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক উন্নতিকরণ প্রকল্পে (বাংলাদেশ) চার বছরে বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ১৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪১.৭১ শতাংশ কম। আইএমইডি বলছে, সময়মতো জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন না করা, প্রকল্প পরিচালককে ঘন ঘন বদলি, নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন না করা, পরামর্শকের ঢাকায় অবস্থানের কারণে সঠিক তদারকির অভাবে প্রকল্পটি এগোতে পারেনি।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) তথ্য এবং প্রকল্পের প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, এশিয়ান হাইওয়ে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক নীতিমালার উদারীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে উচ্চ সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক জোন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়। আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধমে নির্বিঘেœ ও নিরাপদ আন্তঃদেশীয় সড়ক যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং এশিয়ান হাইওয়ে করিডোর এএইচ-১ ও এএইচ-৪১ এ অবস্থিত। এশিয়ান হাইওয়ের বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নের জন্য ১৭টি সেতু এবং সাতটি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের মাধ্যমে। এ ছাড়া দু’টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা বা বাণিজ্যের সম্প্রসারণ করে আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জাইকার ঋণ সহায়তায় এই ক্রসবর্ডার রোড নেটওয়ার্ক উন্নতকরণ প্রকল্পটি নেয়া হয়। এর মধ্যে এশিয়ান হাইওয়ে-১ (ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা-কালনা-যশোর-বেনাপল) মহাসড়কে পাঁচটি সেতু, একটি টোলপ্লাজা ও একটি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন, এশিয়ান হাইওয়ে-৪১ (ঢাকা-কক্সবাজার) মহাসড়কে চারটি সেতু এবং এশিয়ান হাইওয়ে-৪১-এর সংযোগ (বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড়) মহাসড়কে আটটি সেতু, সাতটি কালভার্ট ও একটি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ করার কথা। ২০২২ সালের জুনে প্রকল্পটি সমাপ্ত হওয়ার কথা। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ২৬ এপ্রিল ২ হাজার ৪৮৬ কোটি ১১ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে ছ’বছরে বাস্তবায়নের জন্য একনেক থেকে অনুমোদন দেয়া হয়। এই প্রকল্পে জাইকা এক হাজার ৮৫১ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ঋণ প্রদান করে। জমি অধিগ্রহণে জটিলতার কারণে পরে প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়। এতে খরচ এক হাজার ১৯৮ কোটি ৪৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় তিন হাজার ৬৮৪ কোটি ৫৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেক থেকে অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম ও তার ব্যয় : প্রধান বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ৫৪ দশমিক ৭৮ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, ১৭টি সেতু নির্মাণ, সাতটি কালভার্ট নির্মাণ, ১৪.৪৪ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ, দু’টি পূর্ণাঙ্গ এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন, কালনা ব্রিজ টোলপ্লাজা নির্মাণ এবং অন্যান্য আনুষাঙ্গিক কিছু কাজ। প্রথমে ৩০.৩০ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ ছিল ১৭২ কোটি সাত লাখ টাকা। ছয় লেন করার কারণে অধিগ্রহণের পরিমাণ ৫৪.৭৬ হেক্টর করা হয়। এতে খরচ ৩০২ কোটি ২৩ লাখ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪৭৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রজেক্ট কোর অফিসের জন্য ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরে সেটা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১১ কোটি ৩৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। চার লেনের সেতু, সংযোগ সড়ক খাতে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৩০৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পরে এটি বেড়েছে ৮১৮ কোটি ২০ লাখ ১১ হাজার টাকা। সেতু নির্মাণ খরচ এক হাজার ৩৬০ কোটি ৯০ লাখ ৪৮ হাজার টাকা এবং সড়ক খাতে ৭৬৬ কোটি ৮৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। কালভার্ট নির্মাণে ৭১ কোটি ১৭ লাখ ৫৪ হাজার টাকা থেকে খরচ হ্রাস পেয়ে হয় ২৪ কোটি ১৬ লাখ ৯ হাজার টাকা। টোল গেট নির্মাণে ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ধরা হলেও পরে তা কমে ১৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৪ হাজার টাকায় নির্ধারণ করা হয়। আর এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ছিল ১৪ কোটি চার লাখ ২৮ হাজার টাকা। পরে এই খরচ বৃদ্ধি পেয়ে ১৭ কোটি ৬৩ হাজার টাকায় উন্নীত হয়। নিরাপত্তা সেবার জন্য ব্যয় ৮ কোটি ২৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪১ কোটি ৪৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় আনা হয়।
মে ২০২০ পর্যন্ত অগ্রগতি : মোট চারটি প্যাকেজে এই প্রকল্পটির কাজ ভাগ করে দেয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ প্যাকেজ-১ (পিডব্লিউ-১) এর আওতায় ঢাকা-মাওয়া পদ্মা সেতু-ভাঙ্গা-কালনা-যশোর-বেনাপোল জাতীয় মহাসড়কে ৬৯০ মিটার দীর্ঘ কালনা ব্রিজ, একটি টোলপ্লাজা, ৮টি আন্ডারপাস এবং অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণ করা। যার জন্য ব্যয় ৯৫৯ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এজন্য টেককেন-এএমএল-ওয়াইবিসি জেভির সাথে চুক্তি হয়। ২০২০ সারের মে পর্যন্ত এই প্যাকেজে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৩০ দশমিক ৪০ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। এখানে ২৫ দশমিক ১০ শতাংশ কম অগ্রগতি। প্রকল্পের প্যাকেজ-২ (পিডব্লিউ-২) এর আওতায় ছোট ও মাঝারি চারটি ব্রিজ ও একটি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এতে খরচ ধরা হয় ৩২৯ কোটি ৭৭ লাখ ১২ হাজার টাকা। ২০২১ সালে ৫ আগস্টে কাজ শেষ করার কথা। মসনিকো-ডাইকনো জেভির সাথে চুক্তি করা হয়। মে পর্যন্ত কাজের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ১৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ। যেখানে চুক্তি অনুযায়ী কাজের লক্ষ্যমাত্রা হলো ৫৪.৫৪ শতাংশ। এখানেও কাজ ৩৬ দশমিক ৯১ শতাংশ পিছিয়ে আছে।
কাজের অসঙ্গতিগুলো : প্রকল্পের কাজের অসঙ্গতি সম্পর্কে আইএমইডি বলছে, কাজের ক্ষেত্রে পরামর্শক বা উপ-আবাসিক প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারের প্রকৌশলীদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। আবাসিক ইঞ্জিনিয়ারকে প্রকল্প সাইটে পাওয়া যায়নি। তিনি প্রকল্পে অনিয়মিত পরিদর্শন করেন। টোলপ্লাজার কাজের কোনো অগ্রগতি পরিলক্ষিত হয়নি। বালি ফেলার কাজ এখনো শুরু করা হয়নি। রড ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী খোলা আকাশের নিচে মাটির সংস্পর্শে রাখার কারণে মরিচা ধরে গেছে। মরিচা পরিষ্কার না করেই ওই রড দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে। ব্রিজের কোনো অনুমোদিত ডিজাইন পাওয়া যায়নি।
আইএমইডি বলছে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং দ্রুততর সময়ের মধ্যে প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে টোলপ্লাজা ও এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন কার্যক্রম আরম্ভ করতে হবে। যেসব প্রকল্প গ্রহণের সময় ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা আগে থেকেই গ্রহণ করতে হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে। বাস্তব অগ্রগতি অর্জনে প্রকল্পের জন্য যন্ত্রপাতি ও জনবল মোবিলাইজেশন বাড়াতে হবে। প্রকল্পের সাথে যুক্ত কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের মাঠে থাকতে হবে।

 


আরো সংবাদ

বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় ৩৫৯০ পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ : শিশির মনিরের ধন্যবাদ শব্দসৈনিক মোতাহার হোসেন আর নেই স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি সব নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে যুক্তরাষ্ট্র শোক দিবসে পথ চলতে যে নিয়মগুলো মানতে হবে ফরিদপুরে যুবলীগের বৃক্ষরোপণ ও বন্যার্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান সিনহা হত্যা : ৪ পুলিশ সদস্য ও ৩ সাক্ষীকে রিমান্ডে নিল র‌্যাব শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৯ কর্মকর্তাকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ খুলনায় হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে যুবক হত্যা সরকার সংবিধানের পবিত্রতাকে লঙ্ঘন করছে : ফখরুল ওজন কমানো ও ব্রণ সমস্যা এক ফলে দুই উপকার!

সকল