১২ আগস্ট ২০২০

মৃত্যু দুই হাজার ছুঁই ছুঁই

এক দিনে মৃত্যু ২৯, শনাক্ত ৩,২৮৮; প্রথম এক হাজার মৃত্যু তিন মাসে; দ্বিতীয় এক হাজার মৃত্যু মাত্র ২৪ দিনে; ৩২ দিন পর করোনায় ৩০-এর নিচে মৃত্যু
-
24tkt

টানা ৩২ দিন পর করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০-এর নিচে নেমে এসেছে। এর আগে গত ১ জুন ২২ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এরপর আর মৃত্যুর সংখ্যা ৩০-এর নিচে নামেনি। এর মধ্যে গত ৩০ জুন সর্বোচ্চ ৬৪ জনের মৃত্যু রেকর্ড হয়। এ ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে প্রথম এক হাজার জনের মৃত্যু হতে লেগেছিল প্রায় তিন মাস। এরপর মাত্র ২৪ দিনের মধ্যে তা দুই হাজার ছুঁইছুঁই অবস্থায় পৌঁছেছে। ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৯ জনের মৃত্যুতে দেশে মৃতের সংখ্যা শনিবার দুই হাজারের কাছে পৌঁছে গেছে। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে কোভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা এখন এক হাজার ৯৯৭ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। প্রায় এক মাস পর মৃতের সংখ্যা ২০ এপ্রিল ১০০ ছাড়িয়েছিল। মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়ায় গত ২৫ মে। গত ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়ায়। দেড় হাজার ছাড়িয়েছিল ২২ জুন। প্রথম মৃত্যুর ৮৪ দিন পর ৪ জুলাই মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের কাছে পৌঁছে গেল।
এই হিসাবে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াতে সময় লেগেছিল দুই মাস সাত দিন। পরের ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে ১৬ দিনের মধ্যে। তার পরের ৫০০ জনের মৃত্যু হয়েছে ১২ দিনে। মৃতের তালিকায় আরো ৪৯৭ জন যোগ হতে সময় লাগল ১৩ দিন।
গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ২১ জন পুরুষ এবং আটজন নারী বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে জানানো হয়। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। মৃতদের মধ্যে ২৫ জন হাসপাতালে এবং একজন বাড়িতে মারা গিয়েছিলেন। তিনজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
মৃতদের মধ্যে ৯ জন ঢাকা বিভাগের, চারজন চট্টগ্রাম বিভাগের, তিনজন খুলনা বিভাগের, সাতজন রাজশাহী বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের, তিনজন সিলেট বিভাগের এবং দুইজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে দুইজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এ ছাড়া একজনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ১১ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, চারজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, একজনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং একজনের বয়স ছিল ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
মোট মৃত এক হাজার ৯৯৭ জনের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা জানান, ষাটোর্ধ্ব রোগীদের মৃত্যুর হার ৪৩ দশমিক ৫২ শতাংশ, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ২৯ দশমিক শূন্য চার শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার ১৪ দশমিক ৭২ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার সাত দশমিক ৪১ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার তিন দশমিক ৫৮ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী রোগীদের মৃত্যুর হার এক দশমিক ২০ শতাংশ, ১০ বছরের নিচে রোগীদের মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ।
সারা দেশে মোট মৃত রোগীদের এলাকাভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগের এক হাজার ৪১ জন, চট্টগ্রামের ৫২১ জন, রাজশাহীর ১০১ জন, খুলনার ৮২ জন, বরিশালের ৬৭ জন, সিলেটের ৮৪ জন, ময়মনসিংহের ৪৮ জন, রংপুর বিভাগের ৫৩ জন।
বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো তিন হাজার ২৮৮ রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে শনিবারের বুলেটিনে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৫৯ হাজার ৬৭৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
নাসিমা সুলতানা জানান, সারা দেশে ৭১টি পরীক্ষাগার চালু হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সাতটি পরীক্ষাগার থেকে নমুনা সংগ্রহের তথ্য আসেনি। গত ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে ৬৪টি ল্যাবে ১৪ হাজার ৭২৭টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এ পর্যন্ত দেশে পরীক্ষা হয়েছে আট লাখ ৩২ হাজার ৭৪টি নমুনা।
আইডিসিআরের হিসাবে বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরো দুই হাজার ৬৭৩ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৭০ হাজার ৭২১ জনে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৪ দশমিক ২৯ শতাংশ।
চট্টগ্রামে এক দিনে ২৬৩ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে এক হাজার ২৩৬ নমুনায় আরো ২৬৩ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১৯৬ জন নগরের ও ৬৭ জন বিভিন্ন উপজেলার। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: সেখ ফজলে রাব্বি নয়া দিগন্তকে এসব তথ্য জানান।
গত শুক্রবার ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডিতে ২৬১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৭ জনের দেহে করোনার জীবাণু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২ জন নগরের এবং পাঁচজন উপজেলা পর্যায়ের বাসিন্দা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২১৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নগরের ২৪ জন ও বিভিন্ন উপজেলার ৩৯ জনের করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে ৩৬৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নগরের ৮২ ও উপজেলার পাঁচজনের করোনা মিলেছে। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ইউনিভার্সিটির ল্যাবে ১৩৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামের সাতজনের করোনা মিলেছে। কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে চট্টগ্রামের একজনের নমুনা পরীক্ষার করে তার দেহে করোনার জীবাণু মিলেছে। বেসরকারি ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল ল্যাবে ১৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নগরের ৩১ জন ও উপজেলার তিনজনের করোনা পাওয়া গেছে। শেভরণ ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪৫ জন নগরের এবং ৯ জন উপজেলার বাসিন্দা। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে সাতকানিয়ার এক, বাঁশখালীর সাত, চন্দনাইশের পাঁচ, পটিয়ার তিন, রাঙ্গুনিয়ার তিন, রাউজানের ১১, ফটিকছড়ির ১৭, হাটহাজারীর ১৮ এবং সীতাকু-ের দুইজন রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত ৯ হাজার ৬৬৮ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছেন মোট ১৮৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১৫৬ জন করোনা রোগী।
চট্টগ্রামে করোনার উপসর্গ নিয়ে সিনিয়র আইনজীবীর মৃত্যু
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন চট্টগ্রামের আদালতের সিনিয়র আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। গত শুক্রবার রাত ১২টার দিকে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে প্রবীণ এই আইনজীবী মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।
আবুল কালাম আজাদের বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার জোয়ারা গ্রামে। গতকাল শনিবার দুপুরে নিজ গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
তার পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের করোনা পরীক্ষার নমুনা নেয়া হয়। তার ফলাফল এখনো মেলেনি। তবে শ্বাসকষ্টসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ ছিল তার মধ্যে।
জানা গেছে আগে থেকেই মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছিলেন আবুল কালাম আজাদ। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৩ জুন তাকে আগ্রাবাদের মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অসুস্থতার মাত্রা আরো বেড়ে গেলে ২৫ জুন তাকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে। অক্সিজেন স্যাচুরেশনের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে গেলে পরে তাকে ভর্তি করা হয় আইসিইউ ওয়ার্ডে। সেখানেই তিনি মৃতু্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ১৪ দিনের লকডাউন শুরু
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ১৪ দিনের জন্য লকডাউন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে এই লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এস এম মনিরুল হাসান জানান, ক্যাম্পাসে করোনাভাইরাসের দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কায় ৪ জুলাই থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১৪ দিন চবি ক্যাম্পাস সর্বাত্মক লকডাউন করা হয়েছে। এ সময়ে চবির জরুরি প্রশাসনিক কার্যক্রম নগরের চারুকলা ইনস্টিটিউট অফিস থেকে পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে জরুরি আলোচনা শেষে ভিসি অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
জানা যায়, গত সপ্তাহে ভিসি দফতরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর করোনা আক্রান্ত হন। এরপর গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। গত শুক্রবার তার ফলাফল ফলাফল নেগেটিভ আসে। এ ছাড়া এরই মধ্যে কয়েকজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায়। এর পরপরই ক্যাম্পাস এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
করোনা : রাজশাহী বিভাগে এক দিনেই সাতজনের মৃত্যু: রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে এক দিনেই প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার তারা মারা যান। এ দিন বিভাগে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন ২১৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১৭ জন। গতকাল শনিবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মারা যাওয়া সাতজনের মধ্যে ছয়জনেরই বাড়ি বগুড়া। আর একজনের বাড়ি রাজশাহী। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী- বগুড়ায় এ নিয়ে ৬০ জনের মৃত্যু হলো করোনায়। আর পুরো বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৯৪ জন। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে রাজশাহীতে ১০, নওগাঁয় সাত, নাটোরে এক, সিরাজগঞ্জে আট এবং পাবনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসে।
শুক্রবার নতুন শনাক্ত ২১৬ জনের মধ্যে ৭৯ জনই রাজশাহীর বাসিন্দা। এ ছাড়া এ দিন নওগাঁয় দুই, জয়পুরহাটের ২২, বগুড়ার ৪৭ এবং সিরাজগঞ্জের ৬৬ জনের নমুনায় করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত পুরো বিভাগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছয় হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে বগুড়ায় সর্বোচ্চ তিন হাজার ২৪৬ জন শনাক্ত হয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা রাজশাহীতে ৯৮৯ জন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০১ জন, নওগাঁয় ৫৪২ জন, নাটোরে ২১৫ জন, জয়পুরহাটে ৪৫১ জন, সিরাজগঞ্জে ৫৯৭ জন ও পাবনায় ৪৪৮ জন শনাক্ত হয়েছেন। বিভাগে সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ৭৯৬ জন। এর মধ্যে শুক্রবার করোনামুক্ত হয়েছেন ১৭ জন। এদের মধ্যে ১৫ জন বগুড়ার বাসিন্দা। বাকি দুইজন পাবনা ও সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা। বিভাগের মধ্যে এ পর্যন্ত রাজশাহীতে ১৪৫, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১, নওগাঁয় ৩০৫, নাটোরে ৬৬, জয়পুরহাটে ১৫১, বগুড়ায় ৮৬০, সিরাজগঞ্জে ৬৬ ও পাবনায় ১৪২ জন করোনা জয় করেছেন। পুরো বিভাগে এখনো হাসপাতালে আছেন ৫৯৭ জন। আর বাকি রোগীরা হোম আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রাজশাহীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু : করোনার উপসর্গ নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে তারা মারা যান। তারা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।
মৃত দুইজন হলেন- রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানা এলাকার মেহের উদ্দিনের ছেলে গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও বোয়ালিয়া থানা এলাকার মামুন-অর-রশীদের ছেলে আবদুল ওয়াহেদ ৫৭)। রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, দুইজনেরই করোনার উপসর্গ ছিল। তাই মৃত্যুর পর লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তারা করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নমুনা পরীক্ষার পরই বলা যাবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা এ দুইজনের লাশ দাফন করেছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহীতে এক দিনে বাড়ল ৭৮ করোনা রোগী : রাজশাহীতে এক দিনে বাড়ল ৭৮ জন করোনা রোগী। শুক্রবার রাজশাহীর দু’টি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় তারা শনাক্ত হয়েছেন।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের জানান, শুক্রবার তাদের ল্যাবে ১৫৩টি নমুনার রিপোর্ট হয়েছে। এতে ৩৮ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এর মধ্যে সাতজন রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশ সদস্য। বাকি ৩১ জন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রোগী, চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য কর্মী। তারা সবাই রাজশাহীতেই আছেন।
অন্যদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা: বুলবুল হাসান জানান, শুক্রবার তাদের ল্যাবে ৯৩টি নমুনার রিপোর্ট হয়েছে। এতে ৪০ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। এদের মধ্যে একজনের বাড়ি রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায়। বাকি ৩৯ জনের বাড়ি রাজশাহী নগরীতে।
করোনা ও উপসর্গ নিয়ে কুমেক হাসপাতালে ৭ জনের মৃত্যু: কুমিল্লা সংবাদদাতা জানায়, কুমিল্লায় করোনা পজিটিভ ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস ও করোনা উপসর্গ নিয়ে আরো সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা পজিটিভ নিয়ে একজন পুরুষ এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়। উপসর্গে মৃতদের মধ্যে দুইজন মহিলা। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা: সাজেদা খাতুন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, জেলায় এই পর্যন্ত করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১০ জন। বর্তমানে করোনা পজিটিভ ও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি আছেন ১১৬ জন। এদের মধ্যে করোনা পজিটিভ ৬২ জন ও করোনা উপসর্গ ৫৪ জন।
নোয়াখালীতে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত চারজন: নোয়াখালী সংবাদদাতা জানায়, নোয়াখালীতে এক দিনে নতুন করে করোনা আক্রান্ত চারজন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৩৯ জন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলায় তিনজন ও সোনাইমুড়ীতে একজন। জেলায় মোট মৃত্যু ৪৬ জন।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার।
তিনি বলেন, গত ১ ও ২ জুলাই তাদের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা জন্য আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজে ও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ল্যাবে পাঠানো হয়। পরে ৩ জুলাই রাতে তাদের রিপোর্ট এলে তাতে করোনা পজিটিভ আসে।
আক্রান্তদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী করোনাভাইরাস হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় একজনসহ জেলায় মোট সুস্থ রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৬৯ জন। ৪৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে নোয়াখালী সদর ৬৮৩ জন, সুবর্ণচর ১৩৯, হাতিয়া ৩৭, বেগমগঞ্জ ৬৬৫, সোনাইমুড়ী ১১৯, চাটখিল ১৪১, সেনবাগ ১০২, কোম্পানীগঞ্জ ১১৭ ও কবিরহাট ২৩৬ জন।
কেরানীগঞ্জে এগার শ’ ছাড়াল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা: ঢাকা জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছে, ঢাকার কেরানীগঞ্জে গতকাল শনিবার নতুন ২৯ জনের করোনা টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে কেরানীগঞ্জে মোট কোভিড-১৯ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১১০৯ জন। শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন দিগন্ত।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে জিনজিরা ইউনিয়নের পাঁচজন, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পাঁচজন, কালিন্দী ইউনিয়নে একজন, শাক্তা ইউনিয়নের ৯ জন, কলাতিয়া ইউনিয়নের দুইজন, কোন্ডা ইউনিয়নের একজন, বাস্তা ইউনিয়নে একজন, তারানগর একজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের একজন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪১০ জন সুস্থ হয়েছে, ২৫ জন মৃত্যুবরণ করেছে এবং ৫৭৮ জন বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, কেরানীগঞ্জের জনগণের মধ্যে করোনা সচেতনতা কম তাই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সবাই বাসা থেকে বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরবেন, সামাজিক দূরুত্ব মেনে চলবেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল কেরানীগঞ্জে প্রথম করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়। এরপর ১০০ অতিক্রম করে গত ২৮ এপ্রিল। ২ জুন আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০ দাঁড়ায়। এবং সংখ্যাটা এক হাজার ছাড়ায় ৩০ জুন।
ঘোড়াঘাটে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ: ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানায়, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় আশঙ্কজনকা হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণের রোগী। এ উপজেলায় করোনায় মৃত্যুবরণ করেছে চারজন। তারা হলেন ওসমানপুরের মহাসিনের বড় ছেলে রতন মিয়া (৪২), বুলাকীপুর ইউপির প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক মোস্তফিজুর রহমান (৫৫), শ্যামপুর গ্রামের ময়েনুল ইসলাম (৬৫) ও লালবাগ গ্রামের মৃত বয়েজ উদ্দিনের বড় ছেলে সাইদার আলী (৫৫) করোনা সংক্রমণ উপসর্গ নিয়ে মারাযায়।
এ ছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে অবস্থান করছেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি আমিরুল ইসলাম ও কনেস্টবল তারেক আহম্মেদ। করোনা সংক্রমণ নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন এসআই মোজাফ্ফর হোসেন।
করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ায় ব্যাংক ম্যানেজার ও কর্মচারী লগডাউনে আছেন, ওসমানপুর সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এ উপজেলায় মোট ৫৯ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ দেখা দিলেও তার মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে এ উপজেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা কমে যাওয়ায় করোনা সংক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাছে।
গলাচিপায় প্রথম পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত: গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানায়, গলাচিপা থানার কনস্টেবল আশিষ শিকদার (৪৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়া গলাচিপা থানায় প্রথম পুলিশ। এ নিয়ে উপজেলায় মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ জনে। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে আটজন। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মনিরুল ইসলাম।
এ ব্যাপারে গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মনিরুল ইসলাম জানান, আক্রান্ত কনস্টেবল বর্তমানে গলাচিপায় একটি আলাদা কক্ষে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ।
ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু: ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানিয়েছে, ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রবের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশাল নেয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তাঁর নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্যবিভাগ। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঝালকাঠি মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার দুলাল সাহা জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃতদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসার পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান করা হয়। পরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার লাশ দাফন করা হয়।
ঝিনাইদহে নতুন করোনা শনাক্ত ১৫ জন: ঝিনাইদহ জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আজ নতুন করে ১৫ জনের দেহে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে আসা ৬৩ জনের আজকের ফলাফলের মধ্যে ১৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ । এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৪ জনে। নতুন আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে সদরে-চারজন, কালীগঞ্জে সাতজন, শেলকুপায় দুইজন, মহেশপুরে দুইজন রয়েছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
সিভিল সার্জন অফিসের করোনা সেলের মুখপাত্র ডাঃ প্রসেনজিত বিশ^াস জানান, আক্রান্তরা ঝিনাইদহ সদরের পশ্চিম আরাপপুর চাকলাপাড়া, গোবিন্দপুর এলাকার, শৈলকুপার কবিরপুর, উমেদপুর, এলাকার, কালিগঞ্জের নলডাঙ্গ, আড়পাড়া এলাকার এবং মহেশপুরের দাড়িয়াপুর এলাকার বাসিন্দা।
ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী ব্যাংকের আরো দুইজন করোনা আক্রান্ত: ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানায়, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী ব্যাংকের একজন মাঠ কর্মকর্তা ও একজন নিরাপত্তাকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার ৩ জুলাই রাত ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে ইসলামী ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখার চারজন করোনা আক্রান্ত হলেন। আর উপজেলায় মোট করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৪ জন। যার মধ্যে ৯ সুস্থ হয়েছেন। দুইজন হোম আইসোলেশনে রযেছেন। একজন রংপুর কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। করোনায় আক্রান্ত ইসলামী ব্যাংকের দুই জন হলেন মাঠ কর্মকর্তা আশরাফুল আলম (৩০)। তার বাড়ি ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামে। অপরজন ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী জাহাঙ্গীর আলম (৩৫)। তার বাড়ী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঘুঘুর হাট গ্রামে। গত ১৮ জুন উভয় ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকা পাঠায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। নমুনা প্রেরণের ১৬তম দিনে ঢাকা থেকে প্রাপ্ত ই-মেইলে করোনা পজিটিভ সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু সাজ্জাদ মোহাম্মদ সায়েম জানান, ওই দুই ব্যক্তি নমুনা দেয়ার পর থেকে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে ছিলেন। নমুনা পাঠানোর ১৬তম দিনে তাদের দুই জনের ফলাফল পজিটিভ আসে। তাদের কোন উপসর্গ নেই। দুইজনই সুস্থ আছেন।
মোট আক্রান্ত ২৮, সুস্থ ৮: চিতলমারীতে এবার উপজেলা প্রশাসনে করোনার হানা: চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানায়, বাগেরহাটের চিতলমারীতে এবার উপজেলা প্রশাসনে করোনা ভাইরাস হানা দিয়েছে। এখানে নতুন করে উপজেলা প্রশাসনের দুই স্টাফসহ এক শিক্ষকের ৩ শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন নারী ও দুইজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের মধ্যে অবস্থিত দু’টি স্টাফ কোয়ার্টার ও একটি বাড়ি উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে। সেই সাথে আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে চিতলমারীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এ পর্যন্ত ২৮ জন। এদের মধ্যে আট জন সুস্থ হয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মারুফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চিতলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: মামুন হাসান জানান, করোনা উপসর্গ দেখা দেয়ায় গত ২৭ জুন ২২ জনের নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআসর ল্যাবে পাঠান হয়। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষা শেষে ৪ জুলাই (শনিবার) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস স্টাফ মো: জাকারিয়া (২৫), পল্লী দারিদ্র্যবিমোচন ফাউন্ডেশন (পিবিডিএফ) কর্মকর্তা (এডিবিও) রেহানা খানম (৪২) ও শ্যামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো: আইয়ুব আলী শেখসহ (৫৬) তিনজনের রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে আক্রান্তদের উপজেলা পরিষদের মধ্যে দু’টি স্টাফ কোয়ার্টার ও শিক্ষকের শ্যামপাড়া গ্রামের বাড়ি উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে। সেই সাথে আক্রান্তদের হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, এ নিয়ে চিতলমারীতে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এ পর্যন্ত ২৮ জন। এদের মধ্যে ২২ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। এই প্রথমবার এখানে উপজেলা প্রশাসনের স্টাফদের মধ্যে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেল। আক্রান্তদের মধ্যে আটজন সুস্থ হয়েছেন।
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে এক দিনে নতুন করে চারজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ২৩৯ জন। নতুন করে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে নোয়াখালী সদর উপজেলায় তিনজন ও সোনাইমুড়ীতে একজন। জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ৪৬ জন। গতকাল শনিবার সকালে জেলা সিভিল সার্জন মাসুম ইফতেখার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কেরানীগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল এগার শ’
ঢাকা জেলা সংবাদদাতা জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জে গতকাল শনিবার নতুন ২৯ জনের করোনা টেস্টের রেজাল্ট পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে কেরানীগঞ্জে মোট কোভিড-১৯ শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক হাজার ১০৯ জন। গতকাল শনিবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন দিগন্ত। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছে জিনজিরা ইউনিয়নের পাঁচজন, শুভাঢ্যা ইউনিয়নের পাঁচজন, কালিন্দী ইউনিয়নে একজন, শাক্তা ইউনিয়নে ৯ জন, কলাতিয়া ইউনিয়নে দুইজন, কোন্ডা ইউনিয়নে একজন, বাস্তা ইউনিয়নে একজন, তারানগরে একজন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের একজন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৪১০ জন সুস্থ হয়েছেন। মারা গেছেন ২৫ জন। বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫৭৮ জন।
ঝালকাঠিতে উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রবের (৭২) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বাড়ি থেকে বরিশাল নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি এক সপ্তাহ ধরে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহ জেলায় গতকাল নতুন করে আরো ১৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সকালে কুষ্টিয়া ল্যাব থেকে আসা ৬৩ জনের ফলাফলের মধ্যে ১৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৬৪ জনে। নতুন আক্রান্ত ১৫ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় চারজন, কালিগঞ্জে সাতজন, শৈলকুপায় দুইজন, মহেমপুর দুইজন রয়েছেন। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডা: সেলিনা বেগম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইসলামী ব্যাংকের একজন মাঠ কর্মকর্তা ও একজন নিরাপত্তাকর্মী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত শুক্রবার রাত ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে ইসলামী ব্যাংক ভূরুঙ্গামারী শাখার চারজন করোনায় আক্রান্ত হলেন। আর উপজেলায় মোট করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ১৪ জন। যার মধ্যে ৯ জন সুস্থ হয়েছেন। দুইজন হোম আইসোলেশনে রযেছেন। একজন রংপুর কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের চিতলমারীতে এবার উপজেলা প্রশাসনে করোনাভাইরাস হানা দিয়েছে। এখানে নতুন করে উপজেলা প্রশাসনের দুই স্টাফসহ এক শিক্ষকের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের একজন নারী ও দুইজন পুরুষ। এ ঘটনায় উপজেলা পরিষদের মধ্যে অবস্থিত দু’টি স্টাফ কোয়ার্টার ও একটি বাড়ি উপজেলা প্রশাসন লকডাউন ঘোষণা করেছে।
গলাচিপা (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা থানার কনস্টেবল আশিষ শিকদার (৪৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি করোনায় আক্রান্ত হওয়া গলাচিপা থানায় প্রথম পুলিশ সদস্য। এ নিয়ে উপজেলায় মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭ জনে। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন আটজন। গতকাল শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মনিরুল ইসলাম।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে সাত শ’ ছাড়াল করোনা রোগীর সংখ্যা। জেলায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ জন। এ নিয়ে শনিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৭৩০ জনে। এ দিন আরো ৭৭ জনের নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৩১৮ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৯৯ জন। এখনো করোনা রিপোর্ট পেন্ডিং আছে ২২১ জনের। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, শনিবার নতুন আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ১০ জন, মির্জাপুরে সর্বোচ্চ ১০ জন, ভূঞাপুরে সাতজন, ধনবাড়িতে তিনজন, সখিপুরে দুইজন ও গোপালপুরে একজন। এ পর্যন্ত টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ভূূঞাপুরে ৩৭ জন, মির্জাপুরে সর্বোচ্চ ২৪৫ জন, ঘাটাইলে ২৮ জন, নাগরপুরে ৩৮ জন, মধুপুরে ৪১ জন, সখীপুরে ২৫ জন, গোপালপুরে ৩৬ জন, দেলদুয়ারে ৪৩ জন, ধনবাড়িতে ৩১ জন, কালিহাতীতে ৪২ জন, টাঙ্গাইল সদরে ১৫০ জন এবং বাসাইলে ১৪ জন।
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় গতকাল শনিবার করোনায় পাঁচজনের রিপোর্টে পজিটিভ এসেছে। নবীগঞ্জ উপজেলা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে মোট ৮৮৬ জনের। নবীগঞ্জ উপজেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন ৪০ জন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আব্দুস সামাদ।


আরো সংবাদ