১২ আগস্ট ২০২০

করোনার প্রকোপ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে

করোনায় বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি ১২ ট্রিলিয়ন ডলার; করোনায় দরিদ্রদের মৃত্যুহার বেশি; ব্রিটেনের ‘রেড-লিস্টে’ যুক্তরাষ্ট্র; ১৩ ফুট দূরেও ছড়াতে পারে করোনা
-
24tkt

করোনাভাইরাসকে সামাজিকভাবে প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য আক্রান্ত প্রায় সব দেশই লকডাউনের মধ্য দিয়ে চলছে। এতে করে ভয়াবহ ধস নেমেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে ক্ষতি হবে, এর আর্থিক জের ১২ ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে দাঁড়াবে বলে আভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। সংস্থাটির মতে, বৈশ্বিক এই সঙ্কটের কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪.৯ শতাংশ সঙ্কুচিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে; বাণিজ্য ঘাটতি ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে। গালফ উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতেও ব্যাপক ধস নেমেছে। আইএমএফের মতে, এ বছর এই দেশগুলোর অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ হারে সঙ্কুচিত হবে। এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি গত জুনে চরমে পৌঁছেছে, যা গত ২০ বছরে সর্বনিম্ন।
ব্যাংক অব গ্রিস জানিয়েছে, ২০২০ সালে গ্রিসের অর্থনীতি ৫.৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটেনের অর্থনীতির যে পতন দেখা যায়, তা দেশটির ৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভিয়েতনামের জিডিপি ছিল মাত্র ১.৮১ শতাংশ, যা ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন। অস্ট্রেলিয়ায় এরই মধ্যে গত ৩০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে; করোনাকালে বেকারত্বের হার বেড়েছে ৭.১ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
এদিকে করোনার প্রকোপ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান, বাহরাইন এবং কুয়েতে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। খবর দ্য ইকোনমিস্ট, হিন্দুস্তান টাইমস, এএফপি, আল জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি, ডন, ফক্স নিউজ, বিবিসি বাংলা, সিএনএন, ওয়ার্ল্ডোমিটারস, এনডিটিভি, গালফ নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি ও ওয়াশিংটন পোস্টের।
করোনার প্রকোপ বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান, বাহরাইন এবং কুয়েতে নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ওমানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৭৪ জন এবং মারা গেছেন ৮৫১ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৩ হাজার ৯২৯, মারা গেছেন ১৯৩ জন, সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৬ হাজার ১৬৮ জন। বাহরাইনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৩ জন, মারা গেছেন দু’জন, সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৩৫ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ হাজার ৮৩৭, মারা গেছেন ৯৪ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২২ হাজার ৫৮৩ জন। কুয়েতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ৮১৩, মারা গেছেন একজন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৮৮৬ জন। দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৮ হাজার ৬২৭, মারা গেছেন ৩৬০ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৯ হাজার ২৭৬ জন। ইরানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪২৯, মারা গেছেন ১১ হাজার ২৬০ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৪৪৬ জন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ১৪১, মারা গেছেন ৩১৮ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩৯ হাজার ১৫৩ জন। সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা ২ লাখ ১ হাজার ৮০১। এর মধ্যে মারা গেছেন ১ হাজার ৮০২ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৬১৪ জন।
করোনায় দরিদ্রদের মৃত্যুহার বেশি : ইতালীয়দের মধ্যে করোনাভাইরাসে উচ্চ-আয়ের মানুষদের চেয়ে দরিদ্রদের মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। দেশটিতে করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এর সামাজিক প্রভাব সংক্রান্ত প্রথম এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো আইএসটিএটি বলেছে, সুবিধাবঞ্চিত আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থার ফলে মানুষের ছোট অথবা অত্যন্ত জনাকীর্ণ বাসা-বাড়িতে বসবাস করার ঝুঁকি বেড়ে যায়। একই সাথে তাদের সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করার সম্ভাবনা হ্রাস পায়। এমনকি লকডাউনের সময় নিম্ন-আয়ের জনগোষ্ঠী কৃষি, গণপরিবহন এবং প্রবীণদের সহায়তা করার মতো বিভিন্ন খাতে কাজ করতে বাধ্য হয়। করোনাভাইরাস সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যব্যবস্থা উন্মোচন করেছে।
ব্রিটেনের ‘রেড-লিস্টে’ যুক্তরাষ্ট্র : কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিলের নতুন নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় রাখছে যুক্তরাজ্য সরকার। যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী শুক্রবার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছিল। সে কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’ রেড লিস্টে থাকা দেশগুলোর ক্ষেত্রে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের নিয়ম প্রযোজ্য। আগামী ১০ জুলাই থেকে ৫৯ দেশের ভ্রমণকারীদেরকে ইংল্যান্ডে ঢুকলে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনের নিয়ম মানতে হবে না। কিন্তু চীন, যুক্তরাষ্ট্র, সুইডেন এবং পর্তুগালের ভ্রমণকারীরা এ নিয়ম থেকে রেহাই পাবেন না।
করোনা থাকছে, মানুষকেই মানিয়ে নিতে হবে : বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ এখনো শুরু হয়নি, কারণ প্রথম ধাক্কাই এখনো কাটেনি! আরো ভয়াবহ দিন সামনে। ৮৪টি দেশের ওপর গবেষণা চালিয়ে সম্প্রতি ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি জানিয়েছে, প্রতিটি নতুন রোগী শনাক্তের বিপরীতে আক্রান্ত ১২ জন অশনাক্তই থেকে যাচ্ছে, আর করোনায় প্রতি দুই মৃত্যুর বিপরীতে তৃতীয়টিকে অন্য রোগের ফলাফল বলে মনে করা হচ্ছে। উপযুক্ত চিকিৎসাপদ্ধতি না এলে ২০২১ সালের মাঝামাঝি করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২০-৬০ কোটিতে। এ সময়ের মধ্যে মারা যেতে পারেন ১৪-৩৭ লাখ মানুষ। ওই সময়ও বিশ্বের ৯০ শতাংশ মানুষ প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবেন। মহামারীর কারণে বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা বেশ নাজুক। জে পি মর্গান ব্যাংকের মতে, চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৩৯টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প উপায়ে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নিয়েছে। দেশব্যাপী লকডাউন এখন আর নেই বললেই চলে। করোনাভাইরাস এত শিগগিরই যাচ্ছে না। আরো বহু মানুষ এতে আক্রান্ত হবেন, মারাও যাবেন অনেকে। মনে রাখতে হবে, আপনার হয়তো করোনাভাইরাস মহামারীর ওপর আগ্রহ কমে গেছে, কিন্তু আপনার ওপর করোনার আগ্রহ মোটেও কমেনি।
টানা তৃতীয় দিন ৫০ হাজারের বেশি আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে : যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে নতুন করে আরো ৫৭ হাজার ৬৮৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটিতে এক দিনে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির এটি নতুন রেকর্ড। এ নিয়ে দেশটিতে টানা তৃতীয় দিন ৫০ হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মহামারীর শুরু থেকে দেশটিতে কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে মোট ২৭ লাখ ৯৩ হাজার ২২ জনে দাঁড়াল। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে ৫৩ হাজার ৬৯ জন কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় নতুন করে আরো ৭২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে মোট ১ লাখ ২৯ হাজার ৪০৫ জনে দাঁড়াল। এ মহামারী করোনাভাইরাসে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পরপর তৃতীয় দিন রেকর্ড সংখ্যক মানুষ কোভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হলো।
রাশিয়াকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে ভারত : ভারতে করোনারোগী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ছাড়িয়েছে, এক দিনে আক্রান্ত ২২ হাজারের বেশি। বৃহস্পতিবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৯০৩ জন। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তা এক লাফে হয়ে গেল ২২ হাজার ৭৭১ জন। মোট আক্রান্ত ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৩১৫ জন। একই সময়ে আরো ৪৪২ জনের মৃত্যুতে তা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫৫ জন। এক দিনে সুস্থ হয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি মানুষ, মোট ৩ লাখ ৯৪ হাজার ২২৭ জন। সুস্থতার হার বেড়ে হয়েছে ৬০.৮০ শতাংশ। এখনো সক্রিয় করোনারোগী ২ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩৩ জন। সংক্রমণের চলমান প্রবণতায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, আর দুই-এক দিনের মধ্যেই বৈশ্বিক তালিকায় রাশিয়াকে পেছনে ফেলে তৃতীয় অবস্থানে চলে যাবে ভারত। এখন রাশিয়া থেকে মাত্র ১৭ হাজার পেছনে রয়েছে ভারত। দেশটিতে প্রতিদিন আক্রান্ত হচ্ছেন ২০ থেকে ২২ হাজার মানুষ, অন্য দিকে রাশিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে ছয়-সাত হাজার করে।
রেমডেসিভির ব্যবহার অনুমোদন ইইউয়ের : শর্তসাপেক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। দেশগুলোতে করোনার চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অনুমোদনকৃত প্রথম থেরাপি এটি। অনুমোদনের শর্তে ইইউ বলেছে, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী কিংবা যাদের ওজন ৪০ কিলোগ্রামের বেশি তাদের কোভিড-১৯ চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা যাবে। এর আগে গত সপ্তাহে ইউরোপিয়ান মেডিসিনস এজেন্সি (ইএমএ) জানায়, এই ওষুধটি নিউমোনিয়ায় ভোগা ও অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা ১২ বছরের বেশি বয়সী করোনারোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে। গিলিয়াড সায়েন্সেসের তৈরি এ ওষুধটি যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি প্রয়োজনে করোনারোগীদের প্রদানের অনুমতি দেয়া আছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আক্রান্ত : পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার টুইটারে দেয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। টুইটারে দেয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিকেলে হালকা জ্বর অনুভবের পর দ্রুত হোম কোয়ারেন্টিনে চলে যাই। কোভিড-১৯ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। আল্লাহর রহমতে শরীরে কোনো দুর্বলতা নেই। বেশ চাঙ্গা বোধ করছি। বাসা থেকেই আমার যাবতীয় কাজ চালিয়ে যাবো। দয়া করে আপনাদের দোয়ায় আমাকে শামিল করবেন।’ পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঠিক কার মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছেন সেটি জানা যায়নি। তবে গত কিছু দিন তিনি বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। নিজ শহরে গেছেন এবং স্থানীয়দের সাথে দেখা করেছেন।
আক্রান্তে ইতালিকে ছাড়াল মেক্সিকো : শুক্রবার মেক্সিকোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সে দেশে নতুন করে আরো ৬ হাজার ৭৪০ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৫১ জনে, যা ইতালির আক্রান্তের সংখ্যার চেয়ে বেশি। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের শীর্ষ আক্রান্ত দেশগুলোর তালিকায় নবম স্থানে উঠে এলো মেক্সিকো। বৃহস্পতিবারই এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিল মেক্সিকো। এর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় যত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে তা রেকর্ড সংখ্যার চেয়ে মাত্র একজন কম। শুক্রবার সে দেশে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৮৪৩ জনে।
বার-রেস্টুরেন্ট খুলল ব্রাজিলে : বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের তালিকায় ব্রাজিল রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে। তাদের চেয়ে একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেই বেশি মানুষ আক্রান্ত ও মারা গেছেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনিরোসহ বেশ কয়েকটি শহরে খুলে দেয়া হয়েছে বার, রেস্টুরেন্ট, জিমগুলো। এ ছাড়া, জনসম্মুখে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত বিধিনিষেধও শিথিল করে দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান প্রেসিডেন্ট জেইর বোলসোনারো। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বর্তমান বিশ্বে করোনাভাইরাস সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে লাতিন আমেরিকা। এর মধ্যে ব্রাজিলের অবস্থাই সবচেয়ে ভয়াবহ। আগামী দিনগুলোতে সেখানকার পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন ঝুঁকিতে অস্ট্রেলিয়া : অস্ট্রেলিয়ায় হঠাৎ করে বাড়তে শুরু করেছে করোনার সংক্রমণ। নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন অনেকে। নতুন সংক্রমণের দুইটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে। বহু মানুষ দেশের বাইরে থেকে অস্ট্রেলিয়া আসছেন, তাদের সবাই বাধ্যতামূলকভাবে হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। কিন্তু কোয়ারেন্টিনের নিয়ম যথাযথ মেনে চলছেন না তারা। মে মাসের শেষে থেকে হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়ার সংক্রমণ। এর কারণ হিসেবে কিছু বিষয় সামনে এসেছে। প্রথমত হোটেলগুলো সঠিক নিয়ম মেনে চলেনি। অনেকেই ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন মানেননি। মেলবোর্নের একটি খ্যাতনামা হোটেল থেকে এক দিনে ৩১ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে। সেই সাথে আরো দুইটি হোটেল থেকে বেশ কয়েকজন পজিটিভ এসেছে। মেলবোর্নে নতুন করে আবার লকডাউন শুরু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে ৭৩০ জন করোনা আক্রান্ত। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য বাইরের দেশ থেকে কেউ অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করতে পারবেন না।
১৩ ফুট দূরেও ছড়াতে পারে করোনা : বাতাসের মাধ্যমে করোনাভাইরাস আট থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত দূরে ছড়িয়ে যেতে পারে। সে জন্য মাস্ক ব্যবহার অপরিহার্য ঘোষণা করলেন ভারতের বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সেসের গবেষকরা। করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে যাওয়ার শুরু থেকেই জানা গেছে, হাঁচি কিংবা কাশি দেয়ার ফলে ড্রপলেট বাতাসে ভেসে গিয়ে অন্যদের সংক্রমণ ঘটায়। হাঁচি-কাশি কিংব কথা বলার সময়ও বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। বেঙ্গালুরুর গবেষকরা জানিয়েছেন, ড্রপলেট টিকে থাকা এবং সফর সময় অনেকটাই নির্ভর করে বাতাসের গতি, কম্পন ইত্যাদি বেশ কিছু বিষয়ের ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী অভিষেক সাহা জানান, বাতাসের গতি না থাকলে সাধারণ অবস্থায় প্রতিটি ড্রপলেট বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগে ৮ থেকে ১৩ ফিট পর্যন্ত অতিক্রম করতে পারে।
দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর : মৃত্যু উপেক্ষা করেই, লকডাউনের ১০৬ দিন পর শনিবার থেকে সরব হয়ে উঠছে ব্রিটেন। পানশালা, রেস্টুরেন্টসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবার চালু হচ্ছে। প্রাণ ফিরে পেতে যাচ্ছে ব্যস্ত নগরী লন্ডনসহ পুরো ব্রিটেন। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ব্যাপক আকারে লকডাউন শিথিলের ফলে করোনার গাইডলাইন উপেক্ষার আশঙ্কা করছে সরকার। এর ফলে গত সপ্তাহের মতো সমুদ্রসৈকতে অনাকাক্সিক্ষত ভিড় বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে লাইভ প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশবাসীকে দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে নিরাপদে বসন্ত উপভোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্যে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তবে প্রদত্ত গাইডলাইন না মানলে সরকার আবার লকডাউন আরোপ বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য, এর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের জীবিকা ও পরিশেষে পুরো দেশের আর্থিক সুস্বাস্থ্য নির্ভর করছে প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর।
সবাই জেগে ওঠো, করোনা থামাও : গুরুতর করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শিকার দেশগুলোকে দ্বন্দ্বের পরিবর্তে বাস্তবতার নিরিখে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব দেশকে জেগে ওঠার কথা বলেছে। জেনেভায় জাতিসঙ্ঘের সংবাদদাতাদের সমিতি দ্বারা আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএইচওর জরুরি অবস্থার পরিচালক মাইকেল রায়ান সাংবাদিকদের বলেন, ‘মানুষকে জেগে উঠতে হবে। তথ্য মিথ্যা নয়। বর্তমান মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি মিথ্যা নয়।’
৬ দিনেই বিশ্বজুড়ে রোগী মিলল আরো ১০ লাখ : সাত মাসের ব্যবধানে সোয়া ৫ লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়া কোভিড-১৯ এ বিশ্বজুড়ে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে শেষ ১০ লাখ শনাক্ত হয়েছেন মাত্র ৬ দিনে। আক্রান্তের সংখ্যা শনিবার সকাল পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১১ লাখ ৯৭ হাজার ২৮১ জনে। শুক্রবার আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি আট লাখের কিছু বেশি থাকলেও একদিনের ব্যবধানে তা বেড়েছে দুই লাখের বেশি। শনিবার সকাল পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ২৯ হাজার ১৯৭ জনে এবং প্রাণঘাতী এ রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬৩ লাখের বেশি মানুষ। ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্গরাজ্যেও শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় বিশ্বজুড়ে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ১০ লাখ নতুন রোগী মিলল। প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর চার মাসের মাথায় ১ এপ্রিল বিশ্বে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। এর পরের সাত সপ্তাহে আরো ৪০ লাখ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় ২১ মে আক্রান্তের সংখ্যা অর্ধ কোটি ছাড়িয়ে যায়। পরের ৫০ লাখ রোগী শনাক্ত হয় আরো কম সময়ে, মাত্র পাঁচ সপ্তাহে।
ট্রাম্পপুত্রের বান্ধবী করোনায় আক্রান্ত : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের বান্ধবী কিম্বার্লি গিলফয়েলে (৫১) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে ট্রাম্পের ছেলের দেহে করোনা শনাক্ত হয়নি। দু’জনই স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সাউথ ডাকোটায় অবস্থান করছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উৎসব ও ভাষণ দিতে সাউথ ডাকোটায় অবস্থান করছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্টলেডি মেলানিয়া। মাউন্ট রাশমোরে ওই উৎসবে যোগ দিতে দু’দিন আগেই সেখানে যান ট্রাম্প জুনিয়র ও তার বান্ধবী কিম্বার্লি। তবে ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় যোগ দিতে পারেননি কিম্বার্লি। এ নিয়ে ট্রাম্প পরিবারের ঘনিষ্ঠ তৃতীয়জন করোনায় আক্রান্ত হলেন।

 


আরো সংবাদ