১২ জুলাই ২০২০

রেকর্ড শনাক্তের দিনে অর্ধ লাখ ছাড়াল আক্রান্ত

এক দিনে ৩৭ সহ মোট মৃত্যু ৭০৬; নতুন আক্রান্ত ২,৯১১, মোট ৫২,৪৪৫; উখিয়ায় করোনা আক্রান্ত প্রথম রোহিঙ্গার মৃত্যু
-

করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৯১১ জন। এখন পর্যন্ত এক দিনে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৪৪৫ জনে। এ সময়ে মারা গেছেন ৩৭ জন। এ যাবৎকালের দিনের হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সারা দেশে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন আরো ৫২৩ জন। সব মিলে এ পর্যন্ত মোট ১১ হাজার ১২০ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
অনলাইনে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত বুলেটিনে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা: নাসিমা সুলতানা গতকাল মঙ্গলবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এ সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। তাদের মধ্যে হাসপাতালে মারা গেছেন ২৮ জন, আর ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে। মৃতদের মধ্যে ১০ জন ঢাকা বিভাগের, ১৫ জন চট্টগ্রামের, তিনজন বরিশালের, চারজন সিলেট, দুইজন রাজশাহী, দুইজন রংপুর এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।
তাদের মধ্যে দুইজনের বয়স ছিল ৮০ বছরের বেশি। এ ছাড়া ১০ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৯ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছর, ১০ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছর, একজনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছর, চারজন ৩১ থেকে ৪০ বছর এবং একজনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।
অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা জানান, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের ৫২টি পরীক্ষাগারে ১২ হাজার ৭০৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ শতাংশ, মৃত্যুর হার এক দশমিক ৩৫ শতাংশ।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেয়া হয়েছে ৩৮৮ জনকে। বর্তমানে সারা দেশে আইসোলেশনে রয়েছেন ছয় হাজার ২৪০ জন রোগী। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৬৯ জন। এখন পর্যন্ত মোট ছাড়পত্র পেয়েছেন তিন হাজার ৪০৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে দুই হাজার ৫০৬ জনকে। এখন পর্যন্ত দুই লাখ ৯০ হাজার ৩৮৫ জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টিন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় তিন হাজার ৯৭ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৩১ হাজার ৮৪০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫৮ হাজার ৫৪৫ জন।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ। তার ১০ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। শুরুতে কেবল আইইডিসিআরে পরীক্ষা করার সুযোগ ছিল। রোগী বাড়তে থাকায় এপ্রিলের শুরুতে পরীক্ষার আওতাও বাড়ানো হয়। এরপর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে আক্রান্তের সংখ্যা।
গত ১৪ এপ্রিল ২০৯ জন নতুন রোগী শনাক্তের তথ্য দেয়া হয় স্বাস্থ্য অধিদফতরের বুলেটিনে, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ১২ জন। আর আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছায় ৪ মে। সেদিন ৬৮৮ জনের সংক্রমণ ধরা পড়ায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১০ হাজার ১৪৩ জন হয়। অর্থাৎ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পর ৫৭ দিনের মাথায় শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা ১০ হাজারের ঘরে পৌঁছায়।
এরপর ১১ দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার, তার পরের সাত দিনে ৩০ হাজার এবং তার ছয় দিনের মাথায় ২৮ মে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ হাজার ছাড়ায়। পরের দশ হাজার রোগী শনাক্ত হতে সময় লাগল আরো কম, চার দিন। গতকাল মঙ্গলবার দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার পেরিয়ে গেল। এ পর্যন্ত দেশে মোট তিন লাখ ৩৩ হাজার ৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
উখিয়ায় করোনা আক্রান্ত রোহিঙ্গার মৃত্যু
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরের ৭১ বছরের এক বৃদ্ধ রোহিঙ্গা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মত্যুবরণ করেছেন। এ প্রথম করোনায় আক্রান্ত কোনো রোহিঙ্গার মৃত্যু হলো। গত ৩০ মে রাতে কক্সবাজারের উখিয়া ‘এমএসএফ’ হাসপাতালে ওই রোহিঙ্গা মারা যান। গতকাল তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রেশন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরো ৯ জন রোহিঙ্গাকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা: আবু তোহা এম আর এইচ ভূঁইয়া জানান, উখিয়ার কুতুপালং রেজিস্ট্রেশন ক্যাম্পের একটি ব্লকে করোনা উপসর্গ নিয়ে ৭১ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা অসুস্থ হন। পরে ৩০ মে ওই রোহিঙ্গা মারা যান। এরপর তার নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তিনি আরো জানান, ওই রোহিঙ্গা বৃদ্ধ করোনা উপসর্গ নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলে পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করে কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ ল্যাবে পাঠানো হয়। তার করোনা পজিটিভ আসে। এ কারণে মৃত রোহিঙ্গার সংস্পর্শে আসা ৯ জন রোহিঙ্গাকে চিহ্নিত করে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তবে তাদের সবার শারীরিক অবস্থা ভালো আছে এখন পর্যন্ত।
মুন্সীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে সোমবার রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার আব্দুল হান্নান মাদবর (৪৫) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান। তাকে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মারা যান টঙ্গীবাড়ি উপজেলার কামারখাড়ার বাসিন্দা আলহাজ মতিউর রহমান শিকদার (৮০)। তাকেও মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ জানান, পরে এ দুইজনেরই করোনা পরীক্ষার জন্য সোয়াব সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের ডব্লিউএইচও’র পরামর্শ মোতাবেক দাফন করার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
কুলাউড়ায় উপসর্গ নিয়ে যুবকের মৃত্যু
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, কুলাউড়ায় জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথা ও ডায়রিয়া নিয়ে শামীম নামে ২০ বছরের এক যুবকের মৃতু্যু হয়েছে। শামীম উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের লালপুর এলাকার বাসিন্দা। গত সোমবার বিকেলে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজারে স্থানীয় একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এসে বাজারেই তার মৃত্যু ঘটে। রাউৎগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জামাল জানান, প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানিয়ে সোমবার রাতেই শামীমের লাশ তার পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। মৃতের পরিবারের সব সদস্যের করোনা টেস্টের স্যাম্পল সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানান কুলাউড়া স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোহাম্মদ নুরুল হক।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চার পুলিশ সদস্যসহ ৩৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আক্রান্তদের রিপোর্ট আসে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ। এ নিয়ে জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১৭১ জন। তিনি আরো জানান, মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ৩৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসে। এর মধ্যে ৩৯ জনের রিপোর্টে কোভিড ১৯ পজিটিভ আসে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় করোনা আক্রান্ত ১৭১ জনের মধ্যে দুইজন মারা গেছেন। আর আইসোলেশন সেন্টার থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬১ জন। বর্তমানে আইসোলেশন সেন্টারে আছেন ৬৯ জন।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের দুইজনের বাড়িই টাঙ্গাইল সদর উপজেলায়। এ নিয়ে টাঙ্গাইল সদরে আক্রান্ত হলেন ১৬ জন। আর মঙ্গলবার পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮৩ জনে। জেলায় এ পর্যন্ত মৃতু্যু হয়েছে চারজনের। সুস্থ হয়েছেন ৫২ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১২৭ জন। নতুন আক্রান্ত দুইজনের মধ্যে একজনের বাড়ি টাঙ্গাইল পৌর এলাকার কচুুয়াডাঙায়। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট। অন্যজনের বাড়ি কাতুলী ইউনিয়নে। তিনি গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন।
চট্টগ্রামে আইনজীবী, পুলিশসহ তিনজনের মৃতু্যু, নতুন আক্রান্ত ২০৮
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক নির্বাচিত সদস্য প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট কবির চৌধুরী, পুলিশের এক এএসআই এবং আরো এক ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া গত এক দিনে নতুন করে চট্টগ্রামে করোনার জীবাণু মিলেছে ২০৮ জনের শরীরে। এ নিয়ে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল তিন হাজার ১৫১ জন।
করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপির) সদরঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো: মর্তুজা কাইয়ুমের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (জনসংযোগ) আবু বকর সিদ্দিক জানান, সদরঘাট থানায় কর্মরত এএসআই কাইয়ুম ১৯ মে থেকে বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালের চিকিৎসাধীন ছিলেন। প্রথম দফা করোনা পরীক্ষায় তার রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এর মধ্যে উন্নতি না হওয়ায় ২৭ মে তাকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর পর আবার করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এএসআই কাইয়ুমের গ্রামের বাড়ি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার রাজেশপুরে।
এ দিকে জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে করোনা উপসর্গে করিম উল্লাহ নামের ৫৩ বছরের একজন মারা গেছেন গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টায়। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা: আব্দুর রব নয়া দিগন্তকে বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে সকাল ৬টায় আইসিইউতে একজন মারা গেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগেও ভুগছিলেন। গত সোমবার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি হন তিনি। গত এক দিনে চট্টগ্রামের তিনটি ল্যাবে মোট ৬৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত ২০৮ জনের। এর মধ্যে ১৪২ জন মহানগর ও ৬৩ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। অন্য তিন রোগীর ঠিকানা জানা যায়নি। চট্টগ্রামে নতুন করে আরো ছয়জন চিকিৎসক আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একই পরিবারেই রয়েছেন দুইজন। তাদের একজন বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অন্যদিকে নগরীর কোতোয়ালি থানায় আক্রান্ত হয়েছেন আরো চার পুলিশ সদস্য। পাঁচলাইশ থানায়ও মিলেছে এক নারীর নাম। অন্যদিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ৩৮ বছর বয়সী মাসুদুর রহমানও করোনায় আক্রান্ত হলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রথম কেউ করোনায় আক্রান্ত হলেন। নতুন করে করোনায় আক্রান্ত চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন পশ্চিম খুলশীর বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী এক পুরুষ চিকিৎসক, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের বাসিন্দা দুই চিকিৎসক ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষ ও ২৯ বছর বয়সী এক নারী? এই পরিবারে আরো আক্রান্ত হয়েছেন ১৫ বছরের এক কিশোরও। এ ছাড়া করোনায় আক্রান্ত হলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ৪৭ ও ৩৫ বছর বয়সী দুই পুরুষ চিকিৎসক ও ৪৮ বছর বয়সী এক নারী চিকিৎসকও।
খুলনায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ ২৫ জন আক্রান্ত
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে সাংবাদিক ও পুলিশসহ ২৫ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। গত সোমবার রাতে টেস্টের এ রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। খুমেকের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ডা: মেহেদী নেওয়াজ জানান, সোমবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর মেশিনে মোট ১৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। যার মধ্যে খুলনা জেলার নমুনা ছিল ৮০টি। এদের মধ্য ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তার মধ্যে ১৮ জন খুলনা জেলার এবং তাদের আটজনের ফলোআপ রিপোর্ট আসেনি। বাকি ১০ জন নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন বলে তিনি জানান।
পাইকগাছা (খুলনা) সংবাদদাতা জানান, পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন সাংবাদিক তপন কুমার পাল। তিনি খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমির কপিলমুনি প্রতিনিধি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তপন পালের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, নীলফামারী জেলায় নতুন করে আরো ১৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। সোমবার রাতে জেলা সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মন নতুন আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৪৭ জনে। নতুন ১৭ জনের মধ্যে জলঢাকা উপজেলায় সাতজন, ডোমার উপজেলায় চারজন, সৈয়দপুর উপজেলায় পাঁচজন ও কিশোরগঞ্জ উপজেলায় একজন রয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫১ জন। আর মারা গেছেন তিনজন।
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় শিশুসহ আরো চারজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে। উপজেলা প্রশাসন মঙ্গলবার নতুন শনাক্ত রোগীদের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছেন।
জলঢাকা (নীলফামারী) সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর জলঢাকায় একই পরিবারের সাতজনসহ এ পর্যন্ত ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলার গোলমু-া ইউনিয়নে জেলা পরিষদের সদস্য মোশারফ হোসেনের বাবা-মাসহ তার পরিবারের সাতজন রয়েছেন। ওই ইউনিয়নে করোনা আক্রান্ত দুইজন মৃত্যুবরণ করেছেন।
চিতলমারী (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, বাগেরহাটের চিতলমারীতে ঢাকাফেরত দুই যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। তারা দুইজনই ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করতেন। আক্রান্তরা হলেন- উপজেলার চর-কচুরিয়া এলাকার শফিকুল হাওলাদার ও নালুয়া এলাকার হাবিবুর রহমান মোল্লা। এ ঘটনায় নালুয়া বাজারের আটটি বাড়ি ও চরকচুড়িয়া গ্রামের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে একই পরিবারের তিনজনসহ আরো ছয়জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর ফলে কোম্পানীগঞ্জে আক্রান্ত ৯ জনের সাতজনই করোনামুক্ত হয়েছেন। বাড়ি ফেরা ব্যক্তিরা হলেন- প্রথম শনাক্তকৃত আব্দুল মান্নানের পরিবারের তিন সদস্য, উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের এক যুবক, চরপার্বতী ইউনিয়নের এক যুবক এবং মুছাপুর ইউনিয়নের এক যুবক।
মোল্লাহাট (বাগেরহাট) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা থেকে আসা মোল্লাহাটে আরো একজনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ঢাকা থেকে আসা দুইজনের করোনা শনাক্ত হলো। আক্রান্ত ব্যক্তি পঁয়তাল্লিশ বছরের একজন পুরুষ। তার বাড়ি উপজেলার দারিয়ালা গ্রামে।
ঝালকাঠিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মত্যু
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠির নলছিটিতে জামাল উদ্দিন হাওলাদার নামে (৬০) এক ব্যক্তির করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এক সপ্তাহ ধরে তার শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও সর্দি ছিল। এক সপ্তাহ আগে তিনি জ্বর ও সর্দিতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানোর পরে মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এ দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে সোমবার দুপুরে শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা (৫০) নামে এক স্কুলশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। শহরের পৌরসভা খেয়াঘাট এলাকার বাসায় বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি মারা যান। করোনা উপসর্গ থাকায় মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা: শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার। তিনি সদর উপজেলার নুরুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও নুরুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার বলেন, মারা যাওয়ার পর ওই শিক্ষককে হাসপাতালে আনা হয়। তার করোনা পজিটিভ ছিল কি-না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এ দিকে জেলাজুড়ে করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। ঝালকাঠি জেলার চারটি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় ১৯ জন, নলছিটি উপজেলায় ১৫ জন, রাজাপুর উপজেলায় ১১ জন ও কাঁঠালিয়া উপজেলায় সাতজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
খুলনায় করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীসহ তিনজনের মৃত্যু
খুলনা ব্যুরো আরো জানায়, খুলনায় করোনার উপসর্গ নিয়ে এক নারীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের মুখপাত্র ডা: শৈলেন্দ্রনাথ বিশ^াস জানান, সর্দি, জ¦রসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নজরুল ইসলাম (৩৯) নামে একজন খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হয়ে সকাল পৌনে ১০টার দিকে মারা যান। তিনি তিন দিন ধরে সর্দি ও জ¦রে ভুগছিলেন। মৃত নজরুল ইসলাম খুলনা মহানগরীর শেখপাড়া বাগানবাড়ী এলাকার বাসিন্দা।
এ দিকে গত সোমবার দুপুরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার গাংরা গ্রামের মুজিবুর রহমানের স্ত্রী তহমিনা বেগম (৩৬) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে তিনি মারা যান। এ ছাড়া সোমবার বিকেলে সর্দি ও জ্বরসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার বেতখানা গ্রামের ফারুক হোসেন (৫২) খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেক্টেড আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ডা: শৈলেন্দ্রনাথ জানান, তিনজনেরই করোনা পরীক্ষার জন্য তাদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬৩ জনের করোনা শনাক্ত
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, এক দিনে সর্বোচ্চসংখ্যক ৬৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে ময়মনসিংহে। গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ সদরের দুই চিকিৎসকসহ ৪৯ জন, ঈশ্বরগঞ্জে পাঁচজন, ত্রিশালে পাঁচজন, নান্দাইলে চারজনের করোনা শনাক্ত হয়। এ নিয়ে জেলায় ৫৬৪ জন করোনায় আক্রান্ত হলেন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৮৮ জন।
মুন্সীগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৬৯ জন
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে নতুুন করে ৬৯ জনের করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় ৮০২ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো। সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মুন্সীগঞ্জে করোনায় নতুুন আক্রান্তের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩১ জন, লৌহজং উপজেলায় ১১ জন, টংগীবাড়ি উপজেলায় ৯ জন, সিরাজদিখান উপজেলায় ৯ জন, শ্রীনগর উপজেলায় পাঁচজন এবং গজারিয়া উপজেলায় চারজনসহ সর্বমোট ৬৯ জন।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর গানম্যান আক্রান্ত
টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, গাজীপুর-২ (টঙ্গী-সদর) আসনের সংসদ সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জাহিদ আহসান রাসেলের গানম্যান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এতে ঘাবড়াননি প্রতিমন্ত্রী জাহিদ। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত অফিস করছেন। এমনকি নিজের নির্বাচনী এলাকায় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন এবং সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ব্যাপারে নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল সবার দোয়া কামনা করে জানান, তিনি পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুস্থ আছেন এবং তার গানম্যান ১০ দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
রাজশাহীতে এএসপি-ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ আটজনের করোনা পজিটিভ
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহীতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আটজন। এর মধ্যে রয়েছেন শিক্ষানবিশ এক সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)। আর রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকায় থাকা একজন ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও জেলার গোদাগাড়ীর দুইজন এবং তানোরের দুইজনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া নাটোরের এক শিশু ও পাবনার এক বৃদ্ধের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস সোমবার রাতে সাংবাদিকদের এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রামেক হাসপাতালের আইসিইউতে করোনা রোগীর মৃত্যু : রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন শফিউর রহমান (৫৫) নামে এক করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলায়। তিনি গত শনিবার করোনার উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়। দুপুরে রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা: সাইফুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার সাভারে নতুন করে আরো ২২ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে সাভার উপজেলায় মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়াল ৪৯৬ জন। মোট মৃত্যুবরণ করেছেন সাতজন। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৭ জন। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সাভার নামের ফেসবুকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সাভারের প্রাণিস¤পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ল্যাবে ৯০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তাদের মধ্যে ২২ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।
নাঙ্গলকোটে করোনা উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে করোনা উপসর্গ নিয়ে আফসার উদ্দিন (৪০) নামক এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি সোমবার রাত ৩টার দিকে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের চৌকুড়ি নিজ বাড়িতে মারা যান। আফসার উদ্দিন চৌকুড়ি গ্রামের মৃত সোলেমানের ছেলে। তনি চট্টগ্রামের কুমিরা এলাকার কেডিএস কোম্পানিতে ইলেক্ট্রেশিয়ান হিসেবে চাকরি করতেন। তিনি গত ২৭ মে করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে আসেন।
নোয়াখালীতে আরো ৮১ জন আক্রান্ত
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে এক দিনে আরো ৮১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৬৯ জন। মোট মৃতু্যু হয়েছে ১৭ জনের। নতুুন আক্রান্তদের মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলায় ৩১ জন, সুবর্ণচরে একজন, বেগমগঞ্জে ৪৩ জন, চাটখিলে একজন ও সেনবাগে পাঁচজন রয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৯ জনকে মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে স্থাপিত অস্থায়ী করোনাভাইরাস হাসপাতালের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। বেগমগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় চৌমুহনীতে ৭ জুন পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন।
মুলাদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের মুলাদী উপজেলায় আরো দুইজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি হলেন- মাউলতলা মাদরাসার বাংলা প্রভাষক মোহাম্মদ মামুন। মুলাদী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় তার বাসা। মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাইয়েদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গাজীপুরে আরো ৯৩ জন আক্রান্ত
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরে আরো ৯৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলায় মোট এক হাজার ৩৪২ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও এ ভাইরাসে জেলায় এ পর্যন্ত ছয়জন মারা গেছেন। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গাজীপুর সদরে ৬৪ জন, শ্রীপুর উপজেলায় ১৩ জন, কালিয়াকৈর উপজেলায় সাতজন, কালীগঞ্জ উপজেলায় চারজন ও কাপসিয়া উপজেলায় পাঁচজন। মোট আক্রান্তদের মধ্যে ২৮০ জন সুস্থ হয়েছেন।
রাঙ্গামাটিতে জ্বর ও কাশি নিয়ে প্রকৌশলীর মৃত্যু
ইউএনবি জানায়, রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় জ্বর ও কাশি নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী শাহ আনোয়ারুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ চৌধুরী জানান, প্রকৌশলী শাহ আনোয়ারুল ইসলাম গত কয়েকদিন ধরে কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। গত রোববার তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এরপর রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে তাকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে সোমবার সকালে তিনি মারা যান। করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
কুমিল্লায় পৌর কাউন্সিলর, স্বাস্থ্যকর্মীসহ নতুন আক্রান্ত ৭৬
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভা কাউন্সিলর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার, অ্যাম্বুলেন্স চালকসহ কুমিল্লা জেলায় ৭৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৯৬ জন। এ দিন কুমিল্লা নগরীতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪ জন। কুমিল্লা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সমন্বয়ক ডা: নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার কুমিল্লা নগরীতে ১৪ জন, চৌদ্দগ্রামে ১৬ জন, দেবিদ্বারে ১৪ জন, লাকসামে সাতজন, বরুড়ায় চারজন, আদর্শ সদরে একজন, বুড়িচংয়ে ৯ জন, মুরাদনগরে দুইজন এবং ব্রাক্ষণপাড়ায় ৯ জন আক্রান্ত হন।
ফরিদপুরে শনাক্ত তিন শ’ ছাড়িয়েছে
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরে করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা ৩০০ অতিক্রম করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরো ১৭ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে ফরিদপুর জেলায় করোনাভাইরাস শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৩০৫ জন। ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজের পিসিআর ল্যাব সূত্রে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে ফরিদপুর ও বোযালমারীতে পাঁচজন করে, চরভদ্রাসন, সদরপুর ও সালথায় দুইজন করে এবং আলফাডাঙ্গা উপজেলায় একজন রয়েছেন। আক্রান্তের মধ্যে আটজন নারী ও ৯ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে একজন নারীসহ দুইজন চিকিৎসক ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তারা ফরিদপুর সদরে বসবাস করেন।

 


আরো সংবাদ

বেসরকারি ব্যাংকে আতঙ্ক (২০৯৩৫)যুবলীগ নেত্রীর টর্চার সেল নিয়ে টঙ্গীতে তোলপাড় (১৩২৬১)আয়া সোফিয়া নিয়ে এবার খ্রিষ্টানদের উদ্দেশ্যে যা বলল তুরস্ক (৯০০২)স্ত্রীর সামনেই আত্মহত্যা করলেন আফগান ফেরত মার্কিন সৈন্য (৭৮৬৫)৮ হাজারের বেশি মুসলিম গণহত্যার যে বিচার ২৫ বছরেও হয়নি (৭৮৬১)যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চীনের হঠাৎ ‘আপস বার্তা’র নেপথ্যে (৬৯৫৮)শিক্ষকের যৌন হয়রানির ভিডিও ভাইরাল, সর্বত্র তোলপাড় (৬৩১৩)বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা বাংলাদেশের সামনে? (৬০৯৬)বাংলাদেশীদের জন্য দরজা কেন বন্ধ করল ইতালি? (৫৯৯২)‘আয়া সুফিয়া’কে মসজিদ ঘোষণা এরদোগানের, আজান-তাকবিরে মুখরিত ইস্তাম্বুল (ভিডিও) (৫৯৬৪)