১১ জুলাই ২০২০
একনেকে করোনাসহ ১০ প্রকল্প অনুমোদন

চিংড়ি ঘেরের জন্য বাঁধকাটা বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে একনেক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বাসস -

দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ি ঘেড়ের জন্য বাঁধের জায়গায় জায়গায় কেটে লবণাক্ত পানি আনা হচ্ছে। এতে বাঁধ হুমকির মুখে পড়ছে। স্থানে স্থানে যেন বাঁধ কাটা না হয় সেজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বাঁধ কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। মন্ত্রী জানান, একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, চিংড়িচাষি সবাইকে একত্রে করে একটি পয়েন্ট দিয়ে পানি নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। আর এতে যে খরচ হবে তা চাষিদের দিতে হবে।
দীর্ঘ আড়াই মাস পর গতকাল শেরেবাংলানগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে অনুমোদিত প্রকল্প এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো সাংবাদিকদের জানান। এ সময় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: নূরুল আমীন এবং কমিশনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী জানান, সভায় কোভিড-১৯ মোকাবেলার জন্য ২টি প্রকল্পসহ মোট ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এই দশ প্রকল্পে মোট ব্যয় ১৬ হাজার ২৭ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ১৪ হাজার ৪০১ কোটি ৫২ লাখ টাকা। আর বিদেশী ঋণ এক হাজার ৮৮১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংশ্লিষ্ট দু’টি প্রকল্প আগেই প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন। এখন শুধু একনেককে অবহিত করা হলো।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে চারটি বিশেষভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সেগুলো হলোÑ এক হাজার ১২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ের কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপারেডনেস প্রকল্প, এবং এক হাজার ৩৬৪ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয়ের কোভিড-১৯ রেসপন্স ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রকল্প। এ ছাড়া ৬ হাজার ৮৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প (তৃতীয় পর্যায়, দ্বিতীয় সংশোধিত) এবং ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম (সপ্তম পর্যায়) প্রকল্প।
অনুমোদিত বাকি ৬ প্রকল্প হলো, বর্ধিত ব্যয় ৮ হাজার ৩৬৪ কোটি ৯১ লাখ টাকায় শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগ) সংশোধিত প্রকল্প, বর্ধিত ব্যয় ৮ হাজার ৩৭০ কোটি টাকায় শতভাগ পল্লী বিদ্যুতায়নের জন্য বিতরণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ (ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) সংশোধিত প্রকল্প, ৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কৃষি যন্ত্রপাতি ও লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে ফসল উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরো লাভজনক করা, ৬০ কোটি কোটি ৫০ লাখ টাকায় মানসম্মত মসলা বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ, ৪৭৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা জেলার পোল্ডার ১, ২, ৬-৮ এবং ৬-৮-এর (এক্সটেনশন) নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, বর্ধিত ব্যয় তিন হাজার ৭১২ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত)।
পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, একনেকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি আর প্রকল্পে থাকবে না। এটাকে বাজেটে রাজস্ব খাতে নিয়ে যেতে হবে। দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পটি অনেক দিন ধরে চলছে। এটাকে তাড়াতাড়ি শেষ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে আমরা যথেষ্ট ব্যয় করছি। কিন্তু অনেকেই বলেন, এই ব্যয় অন্য দেশের তুলনায় কম। মনে রাখতে হবে, উন্নত দেশগুলোর জিডিপির আকার বড় হলেও জনসংখ্যা কম। বিপরীতে আমাদের জিডিপির আকার অত বড় না হলেও জনসংখ্যা অনেক বেশি। তারপরও আমরা সবাই স্বীকার করি, স্বাস্থ্য খাতে অনেক ঘাটতি আছে। সেই ঘাটতি মেটাতে স্বাস্থ্য খাতে প্রচুর বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। আমি মনে করি, এই সরকারের শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হচ্ছে করোনা মোকাবেলায় স্বাস্থ্য খাতের বিনিয়োগ। তিনি বলেন, আমরা সবাই স্বীকার করছি এখাতে এখনো দুর্বলতা আছে।
১৩টি মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান : প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের অংশ হিসেবে গতকাল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের ১৩টি মসজিদকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান করোনা পরিস্থিতিতে সারা দেশের সব মসজিদ ১২২ কোটিরও বেশি টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন।
আগানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ মো: জাহাঙ্গীর শাহ মসজিদ কমিটির কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা বলা হয়।
মসজিদগুলো হলোÑ গোলাম বাজার জামে মসজিদ, কদমতলী জামে মসজিদ, চরকুতুব উত্তরপাড় জামে মসজিদ, ইসলাম প্লাজা জামে মসজিদ, পশ্চিম আগানগর জামে মসজিদ, আলমনগর খাজা মার্কেট জামে মসজিদ, বাঘাবাড়ি জামে মসজিদ, জিলা পরিষদ মার্কেট জামে মসজিদ, ছোট মসজিদ, আগানগর জামে বড় মসজিদ, ইনসাফ মার্কেট জামে মসজিদ এবং আম বাগিচা জামে মসজিদ।


আরো সংবাদ