১০ জুলাই ২০২০

করোনায় ২২ জনের মৃত্যু, সুস্থ ৮১৬ জন

মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৭২ জনে; মোট শনাক্ত ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন; মোট সুস্থ ১০ হাজার ৫৯৭ জন
-

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরো ২২ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৭২ জনে। একই সাথে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো দুই হাজার ৩৮১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ৫৩৪ জন করোনা শনাক্ত হলেন। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৮১৬ জন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ হাজার ৫৯৭ জন।
গতকাল সোমবার বেলা আড়াইটায় কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সার্বিক পরিস্থিতি জানাতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আয়োজিত নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।
তিনি জানান, মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে পুরুষ ১৯ জন ও নারী তিনজন। বয়স বিশ্লেষণে ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আটজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে চারজন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে সাতজন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে রয়েছেন দুইজন।
আর অঞ্চল বিবেচনায় ঢাকা বিভাগে ১১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে আটজন, সিলেট বিভাগে দুইজন এবং বরিশাল বিভাগে একজন রয়েছেন।
মারা যাওয়া ২২ জনের মধ্যে হাসপাতালে ১৫ জন, বাড়িতে ছয়জন মারা গেছেন এবং মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে একজনকে।
নাসিমা সুলতানা আরো জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১৩ হাজার ১০৪টি, পরীক্ষা করা হয়েছে ১১ হাজার ৪৩৯টি নমুনা। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে তিন লাখ ২০ হাজার ৩৬৯টি।
তিনি জানান, এ ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ২০ দশমিক ৮১ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অন্যদিকে শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যু হার এক দশমিক ৩৯ শতাংশ।
নাসিমা সুলতানা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে এসেছেন ৪৪৯ জন। মোট আইসোলেশনে আছেন ছয় হাজার ২১ জন।
সোনাগাজীতে পরিবারের অমানবিকতায় উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা জানান, ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে করোনা উপসর্গ নিয়ে শাহাব উদ্দিন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তুমৃত্যুর আগে ও পরে ওই ব্যক্তির সাথে তার পরিবারের অমানবিক আচরণ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
করোনা উপসর্গ থাকায় চট্টগ্রামের একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার শাহাবউদ্দিন কয়েকদিন আগে বাড়ি ফিরে আসেন। গত রোববার করোনা পরীক্ষার জন্য তিনি নমুনা দিয়ে আসেন। এরপর থেকেই তাকে বাড়িতে তালাবদ্ধ করে রাখে তার পরিবারের সদস্যরা। এমনকি সে সময় তিনি খাবার ও পানি চেয়ে চিৎকার করলেও তার পরিবারের কেউই তাকে খাবার বা পানি দেয়নি। এ অবস্থায় গত রোববার রাতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পরে খবর পেয়ে রাত ১১টায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামানের উদ্যোগে পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শায়েস্তাগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে প্রথম মৃত্যু
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় করোনাভাইরাসের উপসর্গে আক্রান্ত সুমন মোহন্ত (২৯) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। সুমন মোহন্ত আরএফএল কোম্পানির ইটালিয়ানো গ্রুপে শায়েস্তাগঞ্জ, চুনারুঘাট ও বাহুবল এরিয়ায় সেল্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, সুমন কয়েকদিন ধরে করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রামে উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৮
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম নগরে চারজন মারা গেছেন। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে এ তিনজন মারা যান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৪০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে আরো ১১৮ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। ফলে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া মোট করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ৯৪৩ জনে।
করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ২৮ বছর বয়সী এক সদস্য মারা গেছেন। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। ওই পুলিশ সদস্য সিএমপির পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও জনসংযোগ কমকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান, মৃত্যুবরণকারী পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন নগরীর বায়েজিদ থানার ২ নম্বর জালালাবাদ ওয়ার্ডের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক ডা: মন্টু কুমার শীল (৬০)। গতকাল সকাল ৮টায় নগরীর বাকলিয়ায় নিজ বাসায় মারা যান তিনি। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে করোনা ইউনিটের আয়া হাসিনা বেগমের (৬০) মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টার দিকে জেনারেল হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন তার মৃত্যু হয়। এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদল সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তির বাবা হাবিবুর রহমান (৭৯) মারা যান। গতকাল সোমবার সকালে নিজ বাসভবনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কক্সবাজারে তিনজনের মৃত্যু
কক্সবাজার সংবাদদাতা জানান, কক্সবাজারে গতকাল সোমবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনজন মারা গেছেন। অন্যদিকে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের পাহাড়তলীর বাসিন্দা এছরুল হক করোনায় আক্রান্ত হয়ে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় করোনা উপসর্গের সাথে তীব্র শ্বাসকষ্টে মারা যান শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক নুনিয়াছড়ার বাসিন্দা মাহমুদুল করিম (৩৫)। অন্যদিকে বেলা ১১টায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান টেকনাফের ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ কবিরের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫০)।
চাঁদপুরে উপসর্গ নিয়ে তিনজনের মৃত্যু
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন মতলব দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জফেরত এক গার্মেন্টকর্মী, এক ব্যবসায়ী এবং চাঁদপুর সদরের বাবুরহাটের এক পল্লীচিকিৎসক। এদিকে চাঁদপুরে নতুন করে আরো ১৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুইজন মৃত। মৃতরা হলেন কচুয়া উপজেলায় বৃদ্ধ মজিবুর রহমান সরকার ও তার স্ত্রী ফজিলতেন্নেছা। তাদের সন্তান মানিক সরকারও করোনায় মারা গেছেন। এ নিয়ে ওই পরিবারের তিনজন করোনা পজিটিভ অবস্থায় মারা গেলেন।
বরিশালে উপসর্গ নিয়ে দুইজনের মৃত্যু : আক্রান্ত ৪০
বরিশাল ব্যুরো জানায়, করোনার উপসর্গ নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রোববার রাতে বরিশাল জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন সন্ধ্যায় করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের (৬০) এক বৃদ্ধ এবং একই দিন বিকেলে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা (৬৫) আরেক বৃদ্ধ মারা যায়।
সূত্রে আরো জানা গেছে, রোববার বরিশালে করোনায় ৯ জন, সাতজন পুলিশ সদস্যসহ নতুন করে আরো ৪০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বরিশাল জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৯ জনে।
সোনারগাঁওয়ে করোনায় বিএনপি নেতার মৃত্যু
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে করোনা আক্রান্ত হয়ে সাদিপুর নয়াপুর এলাকার বিএনপি নেতা খন্দকার ছাইদুল ইসলাম শিমুলের (৪৫) মৃত্যু হয়েছে। গত রোববার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। শিমুল উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন। তিনি সাদিপুর ইউনিয়নের নয়াপুর এলাকার মৃত খন্দকার শহিদুল্লাহ ইসলামের ছেলে।
তার মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর ও সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান গভীর শোক প্রকাশ করেন।
উপসর্গ নিয়ে ঝালকাঠিতে শিক্ষকের মৃত্যু
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠি শহরের শহীদ সরণী এলাকার একজন স্কুলশিক্ষক করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। গত সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের নুরুল্লাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং নুরুল্লাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন মোল্লা (৫০) বুকে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা তাকে হাসপাতাল নিয়ে যায়। তবে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডাক্তার শ্যামল কৃষ্ণ হাওলাদার জানান, মারা যাওয়ার পর ওই শিক্ষককে হাসপাতালে আনা হয়। তার করোনা পজিটিভ ছিল কি না তা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
ফরিদপুরে করোনায় কৃষকের মৃত্যু
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন রুবেল আকন্দ (৩০) নামের এক কৃষক। গতকাল সোমবার রাত ৪টার দিকে নিজ বাড়িতেই মারা যান তিনি। রুবেল ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের শৈলডুবি গ্রামের আবুল কালাম আকন্দের ছেলে। তিনি প্রায় চার বছর ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন। শরীরে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে গত শনিবার তিনি ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা দেন। গত রোববার তার করোনা শনাক্ত হয়। তিনি বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এ নিয়ে ফরিদপুরে সাতজনের মৃত্যু হলো করোনায়।
নোয়াখালীতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মুয়াজ্জিনের মৃত্যু
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মসজিদের এক মুয়াজ্জিনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর সাহাপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত মোজাম্মেল হোসেন (৪৪) জেলার সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত শনিবার তার করোনা শনাক্ত হয়। এরপর থেকে তিনি নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে ছিলেন। সেনবাগ উপজেলায় এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
নীলফামারীতে করোনায় বৃদ্ধের মৃত্যু
নীলফামারী ও জলঢাকা সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমু-া ইউনিয়নের তিলাই গোলমু-া গ্রামে করোনা আক্রান্ত আলহাজ মজিবার রহমান (৭৫) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান। এ নিয়ে নীলফামারীতে তিনজন করোনা রোগীর মৃত্যু হলো।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, প্রথমে মজিবার রহমানের স্ত্রী করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর গত শনিবার তিনি ও তার নাতনীর করোনা শনাক্ত হয়। তারপর থেকে তারা নিজ বাড়িতে আইসোলেশন ছিলেন। জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: আবু হাসান মো: রেজওয়ানুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৃত ব্যক্তির দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়।
হবিগঞ্জে উপসর্গ নিয়ে একজনের মৃত্যু
হবিগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, হবিগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ওই ব্যক্তি হবিগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারী ছিলেন। কয়েক মাস আগে তিনি বদলি সূত্রে নেত্রকোনা জেলায় যান। সেখানেই তিনি করোনা আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনা উপসর্গ নিয়ে কিছুদিন অসুস্থ থাকার পর গত রোববার তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া জেলায় নতুন করে আরো ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত রোববার রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাক্তার মুখলেছুর রহমান উজ্জ্বল। এ নিয়ে হবিগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১৯২ জন। এর মধ্যে ৮৭ জন করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ইতিপূর্বে চুনারুঘাট বাগানের একটি শিশু করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।
ভূঞাপুরে উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, উপজেলার বিলচাপড়া গ্রামের চান মাহমুদের ছেলে খাজা নাজিম উদ্দিন তালুকদার (৬৫) ঢাকায় শ্যামলী পিসি কালচারে নিরাপত্তা প্রহরী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় সর্দি কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হন। এ অবস্থায় তিনি বাড়িতে আসতে চাইলে তার স্বজনরা ঢাকায় ডাক্তার দেখাতে পরামর্শ দেয় এবং বাড়ি আসতে নিষেধ করে। কিন্তু বেশি অসুস্থতা বোধ করায় করলে রোববার রাতে তিনি বাড়ি ফিরেন। পরদিন ভোরেই তিনি মারা যান। তার দাফনে স্থানীয়রা বাধা দিলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় সোমবার দুপুরে বিলচাপড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ছাতকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু
ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের ছাতকে করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুল হক (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গত ২৯ মে আব্দুল হক ও তার এক ছেলের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। ছাতক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: কবির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাতক উপজেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে এটিই প্রথম মৃত্যু। এখন পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসকসহ ২৬ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
মানিকগঞ্জে আরো ২৪ জন আক্রান্ত
মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মানিকগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ২৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা হলো ১৭৩ জন। গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: আনোয়ারুল আমিন আখন্দ।
নতুন আক্রান্ত ২৪ জনের মধ্যে সিংগাইর উপজেলার ১১ জন, মানিকগঞ্জ সদর ও ঘিওর উপজেলার চারজন করে, সাটুরিয়া উপজেলায় তিনজন এবং শিবালয় উপজেলার রয়েছেন দুইজন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন দুইজন। একজন হরিরামপুরে এবং অন্যজন সিংগাইর উপজেলায়।
শ্রীমঙ্গলে আরো ১৮ জন শনাক্ত
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নতুন করে আরো ১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ডাক্তার, কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, ওয়ার্ড বয়, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ সাধারণ জনগণ রয়েছেন। বিষয়টি নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করেছেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী। এ নিয়ে এ উপজেলায় মোট ৩০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হলো। এর মধ্যে একজন মুক্তিযোদ্ধা করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ২৭ মে মারা যান। এর আগে করোনায় পৌরসভার একজন কাউন্সিলর মারা যান।
টাঙ্গাইলে আরো ১৬ জন আক্রান্ত
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে আরো ১৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে সোমবার পর্যন্ত জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮১ জনে। এ দিন আরো ১৪৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে চারজনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৪৬ জন। জেলায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ১৩১ জন।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সোমবার ১৬ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তাদের মধ্যে নাগরপুরে তিনজন, মধুপুরে দুইজন, ধনবাড়িতে তিনজন, বাসাইলে একজন, ঘাটাইলে চারজন, কালিহাতীতে দুইজন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় দুইজন। আক্রান্তদের বসবাসের জায়গা লকডাউন করাসহ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে তাদের।
বাজিতপুরে এক পরিবারের ৩ জনসহ ৬ জন আক্রান্ত
কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় নতুন করে একই পরিবারের তিনজনসহ ছয়জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত ২৬ মে পাঠানো ১৯ জনের নমুনা রিপোর্টের ফলাফলে এ তথ্য রোববার রাতে পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ২৬ বছরের এক কিশোরী, ৪০ বছরের এক নারী এবং ২৫, ২৬, ২৮ ও ৪১ বছরের চার যুবক রয়েছেন। আক্রান্ত একই পরিবারের তিনজনের বাড়ি উপজেলার পৌরসভার আলিয়াপাড়া গ্রামে। এ নিয়ে উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২৯ জনে। এদের মধ্যে একজন মারা গেছেন।
মাগুরায় নতুন ৫ জন আক্রান্ত
মাগুরা সংবাদদাতা জানান, গত ২৪ ঘণ্টার প্রাপ্ত রিপোর্টে মাগুরায় পুলিশ সুপারের পরিবারের এক সদস্যসহ পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৬ জন। মাগুরা সিভিল সার্জন ডা: প্রদীপ কুমার সাহা গতকাল সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন মহহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর, বালিদিয়া, দিঘা ও সদর উপজেলার, পুলিশ সুপারের বাসভবনের একজন ও আঠারখাদা ইউনিয়নের একজন।
নাগরপুরে ম্যাজিস্ট্রেটসহ তিনজন শনাক্ত
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নতুন করে উপজেলার এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারিন মসরুরসহ তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। করোনা শনাক্ত ব্যক্তিরা উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের সুদামপাড়ায় আগে করোনা আক্রান্ত রোগীর বাবা এবং মোকনা ইউনিয়নে নাটাং এলাকায় চট্টগ্রাম থেকে আসা মাদরাসাছাত্র (২৫)। গত রোববার রাতে পাওয়া নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে তাদের করোনা পজিটিভ এসেছে। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা আক্রান্ত ২৪ জনে দাঁড়াল এবং সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন। তথ্যটি সোমবার সকালে নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
নন্দীগ্রামে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার নন্দীগ্রামে পোশাককর্মীসহ তিনজন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ওই দু’টি বাড়ি লকডাউন করেছে। গত সোমবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: তোফাজ্জল হোসেন ম-ল এ তথ্য নিশ্চিত করেন। এ নিয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলায় পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হলেন। তাদের মধ্যে দুইজন সুস্থ হয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা: তোফাজ্জল হোসেন ম-ল বলেন, ঢাকাফেরত তিনজনই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জে আরো ২৮ জন শনাক্ত
মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, মুন্সীগঞ্জে সোমবার আরো ২৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্ত হলো ৭৩৭ জনের। করোনায় শনাক্ত হওয়া মধ্যে সদর উপজেলায় পাঁচজন, লৌহজং উপজেলায় পাঁচজন, সিরাজদিখানে পাঁচজন (এক শিশু ও চার নারী), শ্রীনগর ৯ জন এবং গজারিয়া চারজন। মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা: আবুল কালাম আজাদ জানান, নতুন পজিটিভ আসা ২৮ জন নিয়ে মুন্সীগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বমোট ৭৩৭ জনে পৌঁছল।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: কাবিরুল ইসলাম খান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি উপজেলার সরকারি বাসভবনে আইসোলেশনে আছেন। গত রোববার রাত ১০টার দিকে লৌহজংয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাসেদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা জানান, বরগুনার পাথরঘাটায় আরেক করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। বরগুনা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক মো: খান সালামাতুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা পৌরশহরের এক জুতা ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে আসার পরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তিনি তার শ্বশুরবাড়ি গিয়ে আত্মগোপন করেন। পরে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে। পরে তার তার শাশুড়িরও করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তার নমুনা পাঠালে গতকাল সোমবার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এ নিয়ে পাথরঘাটা উপজেলায় মোট সাতজন করোনা পজিটিভ হয়েছেন।
কুমিল্লায় নতুন আক্রান্ত ৪৯
কুমিল্লা সংবাদদাতা জানান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমানসহ সোমবার কুমিল্লায় করোনাভাইরাসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৯ জন। এর মধ্যে কুমিল্লা মহানগরীতেই রয়েছেন ১২ জন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক হাজার ২০ জনে। কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ও করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লার ফোকাল পারসন ডা: মো: শাহাদাত হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত জেলায় মোট মৃত্যু হয়েছে ২৮ জনের।
বগুড়ায় নতুন ৩৫ জন আক্রান্ত
বগুড়া অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়ায় নতুন করে আরো ৩৫ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৫ জন, মহিলা ৯ জন এবং শিশু একজন। আক্রান্তরা হলেন- বগুড়া সদরে ১২ জন, শেরপুরে সাতজন, গাবতলীতে চারজন, ধুনটে তিনজন, সারিয়াকান্দিতে তিনজন, নন্দীগ্রামে তিনজন, দুপচাঁচিয়া, শাজাহানপুর ও শিবগঞ্জে একজন করে। এই নিয়ে বগুড়ায় মোট আক্রান্ত ৩৫৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২০ এবং মারা গেছেন একজন। বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মোস্তাফিজুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
চুয়াডাঙ্গায় এক পুলিশসহ ৬ জন শনাক্ত
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় এক পুলিশ সদস্যসহ নতুন ছয়জন করোনা শনাক্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন অফিস এ তথ্য জানায়। শনাক্তদের মধ্যে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় তিনজন, দামুড়হুদা উপজেলায় একজন পুলিশ সদস্যসহ দুইজন ও আলমডাঙ্গায় উপজেলায় একজনসহ মোট ছয়জনের রিপোর্র্ট পজেটিভ এবং অন্য ৩৬টি নেগেটিভ রিপোর্ট আসে। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৯৬ জন।
সাভারে ৩১ ব্যক্তি করোনা শনাক্ত
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারে নতুন করে আরো ৩১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্ত সংখ্যা দাঁড়াল ৪৭৪ জন। মোট মারা গেছেন সাতজন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হোম আইসোলেশনে আছেন ২৭৫ জন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ও ডিজিজ কন্ট্রোল (এমওডিসি) ডা: ফেরদৌসি আক্তার গতকাল সোমবার বিকেলে এসব তথ্য জানান।
নোয়াখালীতে ২৩ জনের করোনা শনাক্ত
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীতে এক দিনে ২৩ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮৮ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা সিভিল সার্জন মোমিনুর রহমান। এ পর্যন্ত জেলায় ১৪ জন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। নোয়াখালীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় জেলাজুড়ে দ্বিতীয় দফায় লকডাউন চলছে।
সুনামগঞ্জে ১৬ র্যাব সদস্যসহ ২১ জন আক্রান্ত
সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জ জেলায় দায়িত্বরত ১৬ জন র্যাব সদস্যসহ মোট ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোববার রাতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাব সুনামগঞ্জ জেলা থেকে ১২৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলে এর মধ্যে ২১ জনের কোভিড-১৯ পজিটিভ হয়েছে। এদের মধ্যে ১৬ জনই সুনামগঞ্জ র্যাব ক্যাম্পের সদস্য। বাকি সাতজন হলেন- সুনাসগঞ্জ সদর উপজেলায় একজন, দোয়ারাবাজারে একজন, জগন্নাথপুরে একজন, ছাতকে দুইজন আক্রান্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা: শামস উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাজশাহী বিভাগে নতুন শনাক্ত ৪৩ জন
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী বিভাগে আরো ৪৩ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। রোববার বিভাগের আট জেলায় তারা শনাক্ত হন। এর আগে শনিবার শনাক্ত হয়েছিলেন ৬৮ জন। বিভাগে এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯১৭ জন। গতকাল সোমবার বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: গোপেন্দ্রনাথ আচার্য্য সাংবাদিকদের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আক্রান্তদের মধ্যে ২৩০ জন সুস্থ হয়েছেন। হাসপাতালে আছেন ২৫৩ জন। আর পাঁচ জেলায় মারা গেছেন ছয়জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী বিভাগে সর্বোচ্চ ৩৫৭ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন বগুড়া জেলায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮৯ জন শনাক্ত হয়েছেন জয়পুরহাটে। নওগাঁয় শনাক্ত হয়েছেন ১৩২ জন। নাটোরে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৫ জন।
নলছিটিতে লাশ দাফন করছে শাবাব ফাউন্ডেশন
ঝালকাঠি সংবাদদাতা
করোনা কিংবা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলে লাশের গোসল, জানাজা ও দাফন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন পরিবার। প্রতিবেশীদের চাপের মধ্যে গৃহবন্দী হয়েছেন মৃত ব্যক্তির স্বজনরাও। লাশ নিয়ে দুর্বিষহ রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। এমনকি লাশ বহনের খাট নিয়েও শুরু হয় হয়রানি। এ অবস্থায় রোদ, বৃষ্টি, ঝড়সহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে ঝালকাঠির নলছিটিতে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তিন মুফতির নেতৃত্বে সঠিত শাবাব ফাউন্ডেশন নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এ সংগঠনের ১৩ জন সদস্য এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মৃত পাঁচজনের লাশ দাফন করেছেন। তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছেন উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা। পিপিই দিয়ে তাদের কাজ করার উৎসাহ দিচ্ছেন অনেকেই। দুরোনা দুঃসময়ে লাশ দাফন করে ইতোমধ্যেই সংগঠনটি মানবতার ফেরিওয়ালা উপাধি পেয়েছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। সংগঠনের সদস্যরা হলেন- শাবাব ফাউন্ডেশনের মুফতি জায়নুল আবেদীন জানায়, তিনজন মুফতির নেতৃত্বে শাবাব ফাউন্ডেশন গঠন করা হয়। এরা হলেন মুফতি জায়নুল আবেদীন, মুফতি হানযালা নোমানী, মুফতি সাইফুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জামাল আব্দুন নাসের, নাসিম সরদার, হাসিবুল হাসান সবুজ, শাহাদাত ফকির, শিক্ষক মর্তুজা আলী মামুন, মাহাদি হাসান, মো: জুয়েল, মো: আসাদুজ্জামান, মো: নয়ন ও মো: রিভান।
শাবাব ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক মুফতি জায়নুল আবেদীন বলেন, আমরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। যেখানে মানুষ লাশ দাফন করতে পারছে না, অনেকে ভয়ে জানাজায় আসছেন না; আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। উপজেলার যেখানেই আমাদের খবর দেয়া হবে, আমরা সেখানে গিয়েই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করে আসব। সংগঠনের সদস্য সচিব মুফতি হানযালা নোমানী বলেন, করোনা ছাড়াও আমাদের এ ধরনের সেবামূলক কাজ সব সময়ই চলবে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার বলেন, লাশ দাফনের জন্য আমরা শাবাব ফাউন্ডেশনকে অনুমতি দিয়েছি। তাদের পিপিই দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে এ সংগঠনকে। কারণ তারা মানবতার ফেরিওয়ালা, তাদের সাহস দেখে আমি মুগ্ধ।


আরো সংবাদ

সকল