১০ জুলাই ২০২০

সাধারণ ছুটি ২ সপ্তাহ বাড়ানোর সুপারিশ নাগরিক ফোরামের

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সমন্বয়হীন
-

প্রয়োজনে সাধারণ ছুটি আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে এসডিজি বাস্তবায়নে গঠিত নাগরিক ফোরাম। তারা বলেছে, দেশে বর্তমান সময়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দিন দিন মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জনগণের মধ্যে করোনা মহামারীর ঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। একই সাথে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য-উপকরণও সহজে পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে, সাধারণ ছুটি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেয়া হলে জনগণের মধ্যে রোগের বিস্তার বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন হলে আরো দুই সপ্তাহ সাধারণ ছুটি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে সরকার। সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণের মাত্রা কমে এলে ধাপে ধাপে স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরে আসা যেতে পারে।
গতকাল সোমবার ‘সাধারণ ছুটি-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সংলাপে দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা এ মতামত প্রদান করেন। নাগরিক ফোরাম, বাংলাদেশ এ ভার্চুয়াল সংলাপের আয়োজন করে।
নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংলাপে সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, চলমান মহামারীতে নানামুখী অর্থনৈতিক সঙ্কট সৃষ্টি হলেও জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন সময়ে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বয়ের অভাব দেখা গেছে। তবে, সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি; নাগরিকসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে জনমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে এ সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হবে। এ ক্ষেত্রে, সাধারণ ছুটি পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বিবেচনা করা যেতে পারে।
সংসদ সদস্য অ্যারোমা দত্ত বলেন, সরকারের ত্রাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমের আওতা আরো বৃদ্ধি করা জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীতে দেশের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী খুবই ঝুঁঁকির মধ্যে পড়েছে। তাদের কথা মাথায় রেখে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে।
ওয়াটারএইড দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ড. মো: খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় সংলাপে সম্মানিত বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফোরামের কোর গ্রুপ সদস্য এবং ব্র্যাক জেমস পি গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের উপদেষ্টা ড. মুশতাক রাজা চৌধুরী, সরকারের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা: রওশন আরা বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা (সিলেট বিভাগ) ডা: আবু জামিল ফয়সাল, আইসিডিডিআরবির মিউকোসাল ইমিউনোলজি এবং ভ্যাকসিনোলজি ইউনিটের প্রধান ডা: ফেরদৌসী কাদরি, দুস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের (ডিএসকে) নির্বাহী পরিচালক ড. দিবালোক সিংহ, ব্র্যাকের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক ডা: মোরশেদা চৌধুরী, হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা: এম এইচ চৌধুরী লেলিন এবং ডেভরেজোন্যান্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ নাজমি সাবিনা। এ ছাড়া ফোরামের অন্যান্য কোর গ্রুপ সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান এবং নিউ এজ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম।
সংলাপে আলোচকরা সরকারের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে মহামারী মোকাবেলায় বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেন। সেই সাথে, মাস্ক ও স্যানিটাইজারের মতো স্বাস্থ্য-উপকরণ বিনামূল্যে জনগণের মধ্যে বিতরণের প্রস্তাবও উঠে আসে আলোচনায়। তারা বলেন এ ক্ষেত্রে, বেসরকারি খাত সরকারকে সহায়তা করতে পারে। আলোচকরা মনে করেন জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে আরো কঠোর ও কার্যকর পদ্ধতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে, সচেতনতা বৃদ্ধি ও ত্রাণকার্যক্রমের বিস্তৃতি বাড়াতে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করা জরুরি। সংলাপে বরগুনা, গাইবান্ধা, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্বাস্থ্যকর্মী, উন্নয়নকর্মী, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।


আরো সংবাদ