১০ জুলাই ২০২০

ভ্যাকসিন উন্মুক্ত রাখার আহ্বান হুর

যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যঘাটতির মুখে ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ; করোনার তীব্র সামাজিক সংক্রমণ ভারতে; এক সপ্তাহের জন্য আবুধাবি লকডাউন; চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে মালয়েশিয়াবাসী
-

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণাটি দেয়ার পর ৩৭ দেশকে নিয়ে সংস্থাটি আহ্বান জানিয়েছে, যেন কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক, ওষুধ বা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণকারী কিছু আবিষ্কার হলে তা কোনো একটি দেশের কুক্ষিগত না হয়ে এর মালিকানা অনেক দেশের হাতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জার্মানি, চীনসহ একাধিক দেশে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ও ওষুধের সন্ধানে গবেষণা চলছে। বিশ্বে এমন গবেষণার সংখ্যা ১২৫টিরও বেশি। দরিদ্র, উন্নয়নশীল কিংবা ছোট দেশগুলোর চিন্তা, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পর তা হাতে পেতে এসব দেশ পেশির জোর দেখানো শুরু করবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসাস এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘কোনো আবিষ্কারের ক্ষেত্রে পেটেন্টের (মালিকানাস্বত্ব) ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু মহামারীর এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কথা সবার আগে মাথায় রাখা উচিত।’ খবর বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান, স্কাই নিউজ, রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, স্ট্রেইটস টাইমস, কিওডো নিউজ, ব্যাংকক পোস্ট, আরব নিউজ, আল-আরাবিয়াহ, দ্য ন্যাশনাল ও ওয়ার্ল্ডোমিটারসের।
নতুন করোনাভাইরাসের ৫টি জিন : নতুন করে করোনাভাইরাসের নমুনায় শক্তিশালী জিনের প্রাধান্য দেখা যাচ্ছে। ফলে করোনাভাইরাস আরো বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এটি মানবদেহে আরো বেশি সংক্রমণ ঘটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। এতে করোনা আক্রান্তদের মৃত্যু হার আরো বাড়বে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা জানান, এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের যে পাঁচটি জিন পাওয়া গেছে সেগুলো হলোÑ এন জিন, এস জিন, ই জিন, আরডিআরএফ জিন এবং ওআরএফ১এবি জিন। এ পাঁচ ধরনের জিনের মধ্যে ওআরএফ১এবি জিন ভাইরাসটির ভিরুলেন্স (রোগ উৎপাদন করার সক্ষমতা) প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।
ভারতে করোনার তীব্র সামাজিক সংক্রমণ: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সরকারের নীতির কঠোর সমালোচনা করেছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসদের তিনটি পেশাদার সংগঠন ইন্ডিয়ান পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন, ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন এবং ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব এপিডেমিওলজিস্টস। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছে, ভারতে যে লকডাউন জারি করা হয়েছে তা রীতিমতো ড্রাকোনিয়ান এবং যাবতীয় চেষ্টাকে ব্যর্থ করে ইতোমধ্যে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়ে গেছে পুরোদমে। ভারতে এ পর্যায়ে করোনাভাইরাস মহামারী নির্মূল করা যাবে এটা আশা করাটাই ভুল। কারণ সামাজিক সংক্রমণ বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর মধ্যেই ভারতে পাকাপোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছে এবং একটা বিরাট জনসংখ্যার মধ্যে তা ছড়িয়েও পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্যঘাটতির মুখে ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ খাদ্যঘাটতিতে পড়তে পারেন। লাখো মানুষ তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার কিনতে ব্যর্থ হবেন। দেশটির জাতীয় ফুড ব্যাংক নেটওয়ার্ক ফিডিং আমেরিকার তথ্যানুসারে, প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ফুড ব্যাংক, ফুড স্ট্যাম্পস ও অন্যান্য সহযোগিতা না পেলে ক্ষুধার্ত অবস্থায় পড়বেন। ৪ কোটির বেশি মানুষ বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, দেশটির প্রতি চারটি শিশুর একজনের এ বছর খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন হবে। ২০১৮ সালের তুলনায় এ হার ৬৩ শতাংশ বেশি।
মৃত্যুর সংখ্যায় বিশ্বে চতুর্থ স্থানে ব্রাজিল : বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসের মহামারীতে মৃত্যুর সংখ্যায় ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ব্রাজিল। কোভিড-১৯ সংক্রমণের নতুন কেন্দ্র হয়ে ওঠা লাতিন আমেরিকার দেশটিতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৯ হাজার ৩১৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাত্ত জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইতালির পরই এখন ব্রাজিলেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। শনাক্ত হওয়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৮৪৯ জন কোভিড-১৯ রোগী নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় শীর্ষস্থানে থাকা ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো ধারাবাহিকভাবে এ সঙ্কটকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
করোনাভ্যাকের ৯৯ শতাংশ সাফল্যের নিশ্চয়তা : ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে চীন। ভ্যাকসিন তৈরির কাজে ব্যস্ত চীনা বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত যে তাদের তৈরি ভ্যাকসিন কার্যকর হবে। বেইজিংভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের গবেষকরা এ নিশ্চয়তা দেন। বেইজিং-ভিত্তিক বায়োটেক সংস্থাটি ১০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে একটি বাণিজ্যিক প্ল্যান্ট তৈরি করছে। বর্তমানে সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। এটি নিরাপদ কি না, তা যাচাই করতে এক হাজার স্বেচ্ছাসেবীকে ভ্যাকসিনটি দেয়া হচ্ছে।
লকডাউন লঙ্ঘন করায় মেয়রের পদত্যাগ : লকডাউন আইন লঙ্ঘন করে নিজের বাগানে জন্মদিনের পার্টির একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর পদত্যাগ করেছেন লিভারপুলের লেবার দলীয় ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর লিনি হানিগান। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে তার বাড়ির বাগানে অন্তত ১২ জন মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি চেয়ার। এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে কাউন্সিল লিনি বলেছেন, এই পার্টির বিষয়ে তিনি পূর্ব থেকে কিছুই জানতেন না। মেয়ের পক্ষ থেকে এ সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। তবে অতিথির সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপহার সামগ্রী রেখে শুভেচ্ছা জানিয়ে চলে যান। স্থানীয় লেবার পার্টির পক্ষ থেকে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
অক্সফোর্ড অভিধানে নতুন শব্দ ‘কোভিডিয়ট’ : বিশ্ববিখ্যাত দ্য অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারিতে যুক্ত হয়েছে নতুন শব্দ ‘কোভিডিয়ট’। এর ইংরেজি বানান পড়ারফরড়ঃ। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে যারা সামাজিক দূরত্ব মানছেন না, বরং অন্য ব্যক্তিদের বিরক্তির কারণ হয়, তাকে ‘কোভিডিয়ট’ বলা হয়। গত ১৬০ বছরে অক্সফোর্ড অভিধানে শব্দসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৭৬টিতে। আবার এ সময়ে বাদ গেছে ৪৭ হাজার ১৫৬টি শব্দ।
লকডাউন বাড়াচ্ছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী : নোভেল করোনাভাইরাসজনিত ‘বৈশ্বিক মহামারীকে চিরতরে শেষ করার জন্য’ আরো ১৫ দিনের লকডাউন জারি করতে চান স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়টি পার্লামেন্টকে অনুমোদন দেয়ার আহ্বান জানাবেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে রোববার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কী করতে যাচ্ছি, তা প্রায় ঠিক করে ফেলেছি।’ আগামী ২১ জুনের পর থেকে স্পেনে জরুরি অবস্থাসহ লকডাউন তুলে নেয়া হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে দেশটির জনগণ এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে স্পেন অন্যতম।
করোনায় মৃত্যুঝুঁকি বেশি যাদের : ডায়াবেটিস করোনায় মৃত্যু হার বাড়াচ্ছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ক্রমশ ত্রাস হয়ে উঠছে এ কোভিড-১৯। আন্তর্জাতিক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, হাসপাতালে ভর্তির সাত দিন পর প্রতি ১০ করোনারোগীর মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে এ ডায়াবেটিসের কারণেই। আর প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনকে ইনটিবেটেড অ্যান্ড মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশনে দিতে হচ্ছে। এর ওপর যদি মাইক্রো ভাসকুলার জটিলতা থাকে তাহলে মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। নানতেস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, করোনা আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগীর মধ্যে তারা টাইপ ২ ডায়াবেটিস খুঁজে পেয়েছেন। আরো তিন শতাংশ রোগীর দেহে মিলেছে টাইপ ১ ডায়াবেটিস। ডায়াবেটোলোজিয়া জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে আরো বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দুই-তৃতীয়াংশই পুরুষ। তাদের গড় আয়ু ৭০ বছরের মধ্যে।
সিঙ্গাপুরে ভিডিওকলে বিয়ের অনুমতি : সিঙ্গাপুরে মুসলমানদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে মুসলিম সম্প্রদায়ের বর-কনের বিয়েতে সর্বোচ্চ ১০ জন অতিথি উপস্থিত থাকতে পারবেন। তবে ভিডিওকলে উপস্থিত থেকে আত্মীয়-স্বজনরা যেন সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান, সে ব্যাপারে উৎসাহ দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে যেকোনো ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ হওয়ার পর এ প্রথম মঙ্গলবার থেকে মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রি চালু হচ্ছে। পরে ১৩ জুন থেকে সিঙ্গাপুরের ইসলামিক রিলিজিয়াস কাউন্সিলের নির্ধারণ করে দেয়া মসজিদগুলোতে বিয়ে পড়ানো হবে। সিঙ্গাপুরের যুব ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এ নির্দেশনা দিয়েছে।
আক্রান্তে ফ্রান্স ও জার্মানিকে টপকে গেল ভারত : ভারতে শনিবার যে পরিমাণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছিল রোববার তা টপকে যায়। তবে সোমবার রোববারের চেয়েও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তের এমন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলার মধ্য দিয়ে জার্মানি ও ফ্রান্সকে টপকে বিশ্বে সর্বাধিক করোনা সংক্রমিত দেশগুলোর মধ্যে সপ্তম স্থানে উঠে এলো ভারত। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৩৯২ জন। সব মিলিয়ে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৯০ হাজার ৫৩৫ জনে। মোট মৃত্যুর সংখ্যার দিক দিয়ে ভারত আগেই পেছনে ফেলেছিল চীন ও ইরানকে। এবার মৃত্যু সংখ্যায় রাশিয়াকেও পেছনে ফেলল ভারত।
করোনার টিকা আবিষ্কারে রাশিয়া-সৌদির যৌথ উদ্যোগ : করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কারে রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের সাথে কাজ করছেন সৌদি আরবের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও। দেশ দু’টির যৌথ অর্থায়ন ও উদ্যোগে এফিভাভির নামে করোনা মোকাবেলায় একটি নতুন টিকা খুব শিগগির মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। টিকা তৈরিতে রাশিয়ান ডাইরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের (আরডিআইএফ) সাথে সৌদি আরবের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। আরডিআইএফ জানিয়েছে, করোনা চিকিৎসায় পরীক্ষামূলক এ টিকা খুবই কার্যকর সাফল্য দেখিয়েছে। মানবদেহে প্রয়োগের পরীক্ষায়ও এটি অভাবনীয় ফল দেখাবে। সোমবার মস্কোতে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষামূলক টিকাটির ব্যাপারে বিস্তারিত জানানোর কথা রয়েছে।
চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞায় ফিরতে পারে সৌদি : চিকিৎসার সক্ষমতা হারালে চূড়ান্ত সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞায় ফিরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সৌদি আরবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক আল-রাবিয়া। তিনি বলেন, যদি করোনারোগীর সংখ্যা চিকিৎসার সক্ষমতা ছাড়িয়ে যায় তবে সৌদি আরব চূড়ান্ত সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞায় ফিরে আসতে পারে। বিধিনিষেধের স্বাচ্ছন্দ্য অব্যাহত রাখতে জনসচেতনতা ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। সব নিয়ম পালন করতে না পারলে আমাদের আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে। কিছু পাবলিক প্লেসে ঈদ উদযাপনে অতিরিক্ত জনসমাগম নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেন সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশুরাও কোনো রকম উপসর্গ ছাড়াই ভাইরাসটি অন্যের শরীরে বাহক হিসেবে সংক্রমিত করছে। এসব শিশুর কাছ থেকে তাদের পরিবারের বয়স্ক লোকদের নিরাপদে রাখারও পরামর্শ দেন তিনি।
এক সপ্তাহের জন্য ‘লকডাউন’ আবুধাবি : করোনা মহামারী ঠেকাতে এবার এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি। এ রাজ্যের নাগরিকরা আগামী এক সপ্তাহের জন্য দেশের অন্যান্য রাজ্যে যেতে পারবেন না, আবার এখানে কেউ প্রবেশও করতে পারবেন না। এ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে মঙ্গলবার থেকে। আবুধাবি ইমার্জেন্সি অ্যান্ড ক্রাইসিস কমিটির পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়, আবুধাবি, আল আইন এবং আল ধাফরার বাসিন্দারা নিজেদের শহরের মধ্যে ভ্রমণ করতে পারবেন কিন্তু এ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও যেতে পারবেন না। এবং এ এলাকাগুলোতে অন্যরাও ঢুকতে পারবেন না। বাসা থেকে রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত বের হওয়া যাবে না।
চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে মালয়েশিয়াবাসী : গ্লোবাল পলস্টার ইপসোসের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, মালয়েশিয়ার শতকরা ৫১ ভাগ মানুষ বেকারত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিন মাসের হিসাবে দেখা যায় মার্চে শতকরা ৪২ ভাগ মানুষ, এপ্রিলে শতকরা ৪৩ ভাগ মানুষ এবং মে মাসে ৩৯ শতাংশ মানুষ বেকারত্ব নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। যেখানে করোনা নিয়ে এপ্রিলে মানুষ উদ্বিগ্ন ছিলেন শতকরা ৮৫ ভাগ যা মে মাসে কমে দাঁড়ায় ৭৪ ভাগ। স্বাস্থ্য নিয়ে মানুষের উদ্বেগ যা মার্চে ছিল ১৫ শতাংশ, এপ্রিলে ১৬ শতাংশ মে মাসে একবারে কমে দাঁড়ায় ১১ শতাংশ। করোনার কারণে আত্মনির্ভরশীল কর্মীরা ৫০ শতাংশ কাজের বাইরে রয়েছেন। গবেষণায় দেখা যায় শতকরা ৪৬.৬ ভাগ কাজ থেকে দূরে রয়েছেন।
কানাডায় করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়াল : কানাডায় করোনাভাইরাস অর্থাৎ কোভিড-১৯ এ মৃত্যুর সংখ্যা সাত হাজার ছাড়িয়ে এখন দাঁড়ালা ৭,২৯৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা নব্বই হাজার নয় শ’ সাতচল্লিশ জন। কানাডায় দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। প্রতিদিনই মারা গেছে দুই শ’র ওপরে। এখনো মৃত্যুর হার ১৩ শতাংশ। এ মৃত্যুর পরিমাণ কুইবেকের মন্ট্রিয়ল এবং অন্টারিওর টরন্টো শহরেই বেশি। তবে অর্ধেকের চেয়ে বেশি কুইবেক প্রদেশে। অর্থাৎ ৪,৪৬১ জন।


আরো সংবাদ