১৫ জুলাই ২০২০

করোনা-পরবর্তী বিশ্ব হবে ক্ষুধাময়

খাদ্যাভাবের মুখোমুখি সাড়ে ২৬ কোটি মানুষ; দারিদ্র্যের মুখে ৮ কোটি ৬০ লাখ শিশু; করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা; মার্কিন প্রভাব পতনকে ত্বরান্বিত করছে করোনা
-

আক্রান্ত : ৫৯,৪৫,২৪৫ মৃত্যু : ৩,৬২,৯২১
দেশ আক্রান্ত মৃত্যু
যুক্তরাষ্ট্র ১৭,৭১,৬৩১ ১,০৩,৪১৮
ব্রাজিল ৪,৩৮,৮১২ ২৬,৭৬৪
রাশিয়া ৩,৮৭,৬২৩ ৪,৩৭৪
স্পেন ২,৮৪,৯৮৬ ২৭,১১৯
ব্রিটেন ২,৬৯,১২৭ ৩৭,৮৩৭
ইতালি ২,৩১,৭৩২ ৩৩,১৪২
ফ্রান্স ১,৮৬,২৩৮ ২৮,৬৬২
জার্মানি ১,৮২,৭১০ ৮,৫৭৭
ভারত ১,৬৯,০১১ ৪,৮২০
তুরস্ক ১,৬০,৯৭৯ ৪,৪৬১
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে ২৬ কোটি মানুষ মারাত্মক খাদ্যাভাবের মুখোমুখি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত বছর বলা হয়েছিল যে, বিশ্বে ১৩ কোটি মানুষ খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হবে আজকের হিসাব তার দ্বিগুণ। এখন যে প্রতি ৯ জনের মধ্যে ১ জনের পর্যাপ্ত খাবার নেই, তার মানে ৮২ কোটি মানুষ ক্ষুধার মধ্যে টিকে আছে, এ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে। নিউ ইয়র্কভিত্তিক হাঙ্গার প্রজেক্টের উদ্যোগে পালিত বিশ্ব ক্ষুধা দিবসের প্রাক্কালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির এ বিশ্লেষণটি পাওয়া গেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলছেন, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে আমরা অনুমান করছি প্রায় ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ হতে পারে এবং এর মধ্যে ১০টি এমন দেশ রয়েছে যেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষ অনাহারের কাছাকাছি রয়েছে।
এ দিকে বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে ব্যবসায়ী নেতাদের সাথে আলাপকালে করোনার জেরে বিশ্বের ভঙ্গুর অবস্থার কথা বলতে গিয়ে জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস করোনাপরবর্তী বিশ্ব ক্ষুধাময় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে অগ্রগতির পরও বর্তমানে সারা বিশ্ব করোনাভাইরাসের কারণে অত্যন্ত সঙ্কটের মধ্যে আছে। এখনই যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না গেলে করোনাভাইরাস মহামারীটি বিশ্বজুড়ে অকল্পনীয় ধ্বংসযজ্ঞ এবং যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অত্যাসন্ন হবে ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষ। ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যের নিম্নসীমায় চলে যাবে। বিশ্বের অর্ধেক মানুষ কাজ হারিয়ে ফেলতে পারে। এক দশমিক ছয় বিলিয়ন মানুষ জীবিকা হারিয়ে ফেলতে যাচ্ছে। সারা বিশ্বে আট দশমিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে। ১৯৩০ সালের পর সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব।’ খবর ব্লুমবার্গ, বিজনেস ইনসাইডার, পার্স টুডে, বিবিসি বাংলা, আল-জাজিরা, সিএনএন, রয়টার্স, বিবিসি, ইয়ানি সাফাক, এনডিটিভি, ফক্স নিউজ, গার্ডিয়ান, ইভনিং স্ট্যান্ডার্ড, সিনহুয়া, এএফপি, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও ওয়ার্ল্ডোমিটারসের।
দারিদ্র্যের মুখে ৮ কোটি ৬০ লাখ শিশু : করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশে দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয় ঘটছে। এ কারণে চলতি বছরের শেষের দিকে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৮৬ মিলিয়ন শিশু দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। জাতিসঙ্ঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের যৌথ সমীক্ষায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে এ মুহূর্তে ৬৭২ মিলিয়ন শিশু দারিদ্রের কশাঘাতে জর্জরিত। গত বছরের তুলনায় শিশুদের দারিদ্র্যের এ হার এ বছর ১৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। করোনার কারণে বছরের শেষের দিকে গিয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে যাবে ৮৬ মিলিয়ন।
করোনার দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রাদুর্ভাবের শঙ্কা : যেসব দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই কমে যাওয়ায় লকডাউন শিথিল বা কড়াকড়ি তুলে নেয়া হয়েছে, সেসব দেশে শিগগিরই দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। ডব্লিউএইচওর জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা: মাইক রায়ান বলেছেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা বিশ্বজুড়ে প্রথম প্রাদুর্ভাবের মাঝামাঝি পর্যায়ে রয়েছি। আমরা এখনো এমন পর্যায়ে রয়েছি যেখান থেকে রোগটি আরো বাড়তে পারে। আমাদের এ সত্যও স্বীকার করতে হবে যে যেকোনো মুহূর্তে সংক্রমণ বিস্তৃত হতে পারে। রোগটি খানিক কমতে শুরু করেছে ঠিকই, তবে সেখান থেকে আমরা এখনই কোনো অনুমান দাঁড় করাতে পারি না। আর যেভাবে এটি কমছে তাতে কয়েক মাসের মধ্যে প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। এ বছরের শেষের দিকেই করোনার প্রকোপ দ্বিতীয়বার শুরু হতে পারে। এমনকি যেসব দেশে করোনার প্রকোপ কমে গেছে, সেসব দেশেও দ্বিতীয়বার প্রকোপ শুরু হতে পারে যে কোনো সময়। প্রকোপ কমে যাচ্ছে দেখে ভাবলে চলবে না যে, এটি এখন কমেই যাবে। দ্বিতীয় ঝড়ের জন্য বেশ কয়েক মাসের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
মার্কিন আধিপত্যের পতন ঘটাচ্ছে করোনা! করোনার কারণে মার্কিন সরকার আর্থ-রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্য খাতে নজিরবিহীন সঙ্কটে পড়েছে। এ কারণে করোনার প্রাদুর্ভাব প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের শক্তির ভারসাম্যে বিরাট পরিবর্তন এনে দেবে উল্লেখ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোন দিকে যাবে তা স্পষ্ট করার জন্য চাপ ক্রমেই বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন- বিরোধী শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে, যা কি না ভেতরে ও বাইরে মার্কিন আধিপত্যের পতন ডেকে আনবে। বিশেষজ্ঞরা বহু আগে থেকেই মার্কিন আধিপত্যের দিন শেষ হয়ে আসার কথা বলে আসছিলেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি মার্কিন পতনকে আরো ত্বরান্বিত করছে।
টিকা না আসা পর্যন্ত স্কুল খুলবে না ফিলিপাইনে : ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তে বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা না পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার কথা বলব না। এমনকি স্বল্পসংখ্যক শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার পথেও হাঁটবেন না তিনি। তিনি মনে করেন, টিকা ছাড়া বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোর বিষয়টি বড় ধরনের বিপর্যয়ে ফেলে দেয়ার সমান। টেলিভিশনে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা একে অন্যের কাছাকাছি যাওয়ার শঙ্কা থাকবে, সেই পরিস্থিতিতে টিকা ছাড়াই আমি বিদ্যালয় খুলে দেবো না।
করোনার যেসব উপসর্গে অবাক চিকিৎসকরা : বারবার নিজেকে পরিবর্তন করা নোভেল করোনাভাইরাসের কিছু উপসর্গ অবাক করেছে চিকিৎসকদেরও। এটি শুধুই ভাইরাল নিউমোনিয়া নয়, তার চেয়েও ভয়ঙ্কর জিনিস। এ রোগে যারা সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় চলে যান তাদের ফুসফুসে এত তীব্র প্রদাহ এবং রক্ত জমাট বাঁধা শুরু হয়ে যায় যে তাতে অন্যান্য প্রত্যঙ্গগুলোও আক্রান্ত হয়, এবং রোগীর সারা দেহে জীবন বিপন্ন করার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অক্সিজেন কমে যায়। কোনো কোনো কোভিড-১৯ রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ ৮০ শতাংশ বা তারও নিচে নেমে যায়। ফুসফুস বা রক্তনালীর নজিরবিহীন প্রদাহ হয়। রক্ত জমাট বেঁধে যায়। আর গুরুতর রোগীদের ২৫ শতাংশের দেহেই কোভিড-১৯ অবিশ্বাস্য রকমের ঘন এবং আঠালো রক্ত তৈরি করে ফুসফুসে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। জমাট বাঁধা রক্ত মস্তিষ্ক বা হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দিলে রোগীর হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে দেহের রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা বা ইমিউন সিস্টেমে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। রোগীর ফুুসফুস, কিডনি, হৃদপিণ্ড, লিভার এমনকি মস্তিষ্ক আক্রান্ত হতে পারে। আইসিইউর ডাক্তাররা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের আগেকার জ্ঞানের ভিত্তিতে কোভিড-১৯ রোগীদের ওষুধ দিতে পারছেন না। তাদেরকে বরং একেকজন রোগীর অবস্থা দেখে ঠিক করতে হচ্ছে, কী করবেন।
এপ্রিলেই কর্মহীন সোয়া ১২ কোটি ভারতীয় : প্রাণঘাতী নতুন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে ভারতজুড়ে কয়েক সপ্তাহের লকডাউনের কারণে কেবল গত মাসেই দেশটির ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন বলে বেসরকারি খাত নিয়ে কাজ করা থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকোনমির মূল্যায়নে উঠে এসেছে। দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিদারুণ অভাবে পড়েছেন হকার, রাস্তার পাশের অস্থায়ী দোকানদার, নির্মাণ খাতের শ্রমিক, তাঁতি ও রিকশাচালকরা।
শিশুদের জন্য মাস্ক খুবই বিপজ্জনক : দুই বছরের নিচে শিশুদের যাতে পরানো না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করেছে জাপানের প্যাডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন। চিকিৎসকদের এ সংগঠনটি বলছে, মাস্ক শিশুদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাস্ক পরার পর শিশুরা সহজে শ্বাস নিতে পারে না, কারণ তাদের নাকের ছিদ্র অনেক ছোট। এতে তাদের বুকে চাপ তৈরি হয়। এমনকি মাস্ক তাদের মধ্যে স্ট্রোকেরও ঝুঁকি তৈরি করে। শিশুদের মাস্ক পরানো বন্ধ করুন। শুধু তাদের সবধানে রাখলেই হবে। কারণ শিশুদের মধ্যে করোনা ছড়ায় পরিবার থেকেই। ইতঃপূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) ও আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব প্যাডিয়াট্রিকসও দাবি করেছিল, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ফেসমাস্ক পরানো যাবে না।
করোনারোগী ১১ দিন পর কাউকে আক্রান্ত করে না : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ১১ দিন পর রোগীরা আর অন্য কাউকে আক্রান্ত করতে পারে না। এমনকি নিজেরা পজিটিভ থাকলেও তখন আর অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকে না। সিঙ্গাপুরের সংক্রমণ বিশেষজ্ঞরা নতুন এ গবেষণায় এ ফল পেয়েছেন। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকটিয়াস ডিজিস এবং অ্যাকাডেমি অব মেডিসিন যৌথ ওই গবেষণা করেছে। গবেষকরা বলছেন, অসুস্থ হওয়ার ১১ দিন পর আর কেউ অন্যদের আক্রান্ত করতে পারে না। সিঙ্গাপুরে ৭৩ জন করোনারোগীর ওপর পর্যবেক্ষণের পর এ ফল পেয়েছেন গবেষকরা।
যেকোনো সময় করোনার মতো আরো ভাইরাসের হানা : চীনা বিজ্ঞানী উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির উপপরিচালক শিন ঝেংগলি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সিজিটিএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, করোনা মারণ ভাইরাস আক্রমণের ক্ষুদ্রতম এক অংশ মাত্র। মানবসভ্যতা বারবার এ ধরনের ভাইরাসের আক্রমণের মুখে পড়তে পারে। মানবসভ্যতাকে যদি পরের ধাপে ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হয়, তাহলে ছোঁয়াচে রোগ নিয়ে আরো বৃহত্তর গবেষণার প্রয়োজন। কেবল গবেষণা করলেই মানুষকে বিপদের কথা আগে থেকে জানিয়ে দেয়া যাবে। অজান্তেই করোনাভাইরাসের মতো একাধিক মারণভাইরাস আক্রমণ করে বসবে মানব শরীরে। গবেষণা না করলে মানব সভ্যতা নতুন কোনো ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, আমার জীবনের শপথ করে বলছি, উহানের ল্যাবের সাথে এ মহামারীর কোনো সম্পর্ক নেই।
ট্রাম্পের গেমচেঞ্জার ওষুধ নিষিদ্ধ : কোভিড-১৯ চিকিৎসার পরীক্ষামূলক ওষুধ হিসেবে হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় গত সোমবার একই সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আর এর জেরেই বুধবার ফ্রান্স, ইতালি ও বেলজিয়ামের সরকার করোনাভাইরাস চিকিৎসায় ওষুধটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। একই দিন ওষুধটির আলাদা একটি পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে যুক্তরাজ্যের একটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা। এ দিকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখতে বলেছে ডব্লিউএইচও। ফলে করোনা আক্রান্তদের হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন দেয়া বন্ধ রয়েছে।
মহামারীর নতুন কেন্দ্রভূমি দক্ষিণ আমেরিকা : কোভিড-১৯ মহামারী সারা বিশ্বেই দাপট দেখাচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকার পর এখন লাতিন আমেরিকাকে গ্রাস করেছে এ ভাইরাস। আক্রান্তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই এখন ব্রাজিলের স্থান। এরই মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকাকে করোনাভাইরাসের নতুন ‘এপিসেন্টার’ বা কেন্দ্রে হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মাইক রায়ান বলেন, দক্ষিণ আমেরিকা করোনা মহামারীর নতুন এপিসেন্টার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকার বহু দেশে হঠাৎ করেই আমরা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখতে পাচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে চিন্তিত। এর মধ্যে ব্রাজিলের অবস্থা খুবই খারাপ। নতুন শনাক্তের এক-তৃতীয়াংশ দক্ষিণ আমেরিকায়।
করোনার টিকায় বিশ্বে ১২৫ উদ্যোগ : ডব্লিউএইচওর তালিকা অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য এখন বিশ্বব্যাপী ১২৫টি উদ্যোগ চালু আছে। এর মধ্যে ১০টি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বা মানবদেহে পরীক্ষা চলছে। প্রতিদিন কোনো না কোনো টিকার নতুন অগ্রগতির কথা আসছে বৈশ্বিক গণমাধ্যমে। ডব্লিউএইচওর তালিকায় থাকা ১০টি টিকার মধ্যে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা তৃতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপের প্রধান এন্ড্রু পোলার্ড বলেন, দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের এ কর্মসূচিতে আরো ১০ হাজার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
লাতিন আমেরিকানদের অন্ন কেড়ে নিচ্ছে করোনা : ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে। ব্রাজিল ছাড়াও লাতিন আমেরিকার দেশ মেক্সিকো, পেরু, চিলি, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও নিকারাগুয়ায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা এখনো বাড়ছে। ইকোনমিক কমিশন ফর লাতিন আমেরিকা জানিয়েছে, তারা আশঙ্কা করছে, লাতিন আমেরিকার প্রায় ৩ কোটি মানুষ করোনার কারণে অর্থনৈতিক স্থবিরতার দরুন দরিদ্র হয়ে যাবে চলতি বছরের শেষ দিকে। আর ক্যারিবীয় ও লাতিন আমেরিকায় এ সংখ্যা হবে সাড়ে ২১ কোটি। ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে এ ভাইরাস।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বেকারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে চার কোটি : করোনা মহামারীতে লকডাউনে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহভাবে বাড়ছে বেকারসংখ্যা। দেশটিতে নতুন বেকারত্বের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪ কোটি। এপ্রিলে দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ, বিগত ৯০ বছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অর্থনীতিবিদদের শঙ্কা, ৩০-এর দশকে মহামন্দার পর প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ২০ শতাংশ ছুঁতে পারে এ মাসেই। মার্কিন শ্রমবিভাগ জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই দেশটিতে বেকারভাতার আবেদন করেছেন প্রায় ২১ লাখ মানুষ।


আরো সংবাদ

এবার আল-আকসা উদ্ধারের ঘোষণা এরদোগানের(ভিডিও) (৬৮৫০)ডিজির অনুরোধে রিজেন্টের সাথে চুক্তির অনুষ্ঠানে গিয়ে ছিলাম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী (৪৭৩৩)তুরস্ক-মিশরের পাল্টাপাল্টি হুঙ্কারে ভয়াবহ সংঘাতের পথে লিবিয়া (৪৭৩৩)ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সেব্রেনিৎসা স্টাইলে গণহত্যার আশঙ্কা! (৪৪৬৯)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্যা নেপালে (৪৪১২)বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ছাড়ালো (৪১৭২)রামকে নিয়ে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দাবিতে ভারতীয়দের প্রতিক্রিয়া (৩৭৩৮)রাম ভারতীয়ই নন, অযোধ্য নেপালে (৩৬৬০)মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ আর নেই (৩৬০২)ইরানের চাবাহার রেলপ্রকল্প : ভারত আউট, চীন ইন (৩৫৩৪)