০২ জুন ২০২০
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের মন্তব্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বড় চ্যালেঞ্জ করোনা

ভারতে চাকরি যেতে পারে ১৩ কোটি মানুষের; করোনা মোকাবেলায় কঠোর আইন রাশিয়ায়; করোনায় সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু ; মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ৭০ নাবিক আক্রান্ত
-

চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর ধরা পড়েছিল নভেল করোনাভাইরাস। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানেই বিশ্বের ২০৩টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা। গত ১ মার্চ করোনায় মৃতের সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯৭৬ জন, তার মধ্যে দুই হাজার ৮৭০ জনই ছিল চীনের; তখন ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল ৫৩টি দেশ ও অঞ্চলে। এক মাসের ব্যবধানেই করোনার ভয়াল থাবায় মৃতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২২০ জনে। আক্রান্ত হয়েছে আট লাখ ৮৫ হাজার ৮৬৪ জন। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন এক লাখ ৮৫ হাজার ২২৬ জন। ছয় লাখ ৫৩ হাজার ৪২৬ জন চিকিৎসাধীন এবং ৩৩ হাজার ৭৪৮ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা, ডেইলি মেইল, ফ্রান্স২৪, এএফপি, আল আরাবিয়া, রয়টার্স, রিয়া, মস্কো টাইমস, দ্য ইস্ট আফ্রিকান, মিডল ইস্ট মনিটর, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ওয়ার্ল্ডওমিটারসের।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জে বিশ্ব : গত মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সদর দফতরে সংস্থাটির মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বর্তমান করোনা মহামারী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ মহামারী কঠিন অর্থনৈতিক মন্দা এনে দিতে পারে, যার সমকক্ষ মন্দা সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেখা যায়নি। এই নতুন করোনা সমাজের কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানছে, হাজার হাজার মানুষের জীবন ও জীবিকা কেড়ে নিচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আমরা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, তার মধ্যে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা কোভিড-১৯। সংক্রমণ কমাতে ও এই মহামারীর শেষ দেখতে জরুরি ভিত্তিতে সমন্বিত স্বাস্থ্য উদ্যোগ নিন। স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সহায়তায় শিল্পোন্নত দেশগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়া রোগটির দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হতে হবে। ‘আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডের ওপর করোনার সম্ভাব্য প্রভাব’ শীর্ষক জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
খুবই বেদনাদায়ক সময় আসছে : হোয়াইট হাউজে গত মঙ্গলবার নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, করোনা মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য আগামী দু’টি সপ্তাহ হবে খুবই কঠিন, খুবই বেদনাদায়ক। আমি চাই খুব খুব কষ্টকর দুটো সপ্তাহের জন্য সবাই প্রস্তুত থাকুক। আশার কথা হচ্ছে যেভাবে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, টানেলের শেষ প্রান্তে হয়তো কিছুটা আশার আলো দেখতে পাবো।
যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ৩৭৭৪ : এক মাস আগে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে রোগী ছিলই না, সেখানে আক্রান্তের সংখ্যায় সবাইকে ছাড়িয়ে এখন করোনার নতুন কেন্দ্রভূমি হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ৮৯ হাজার ৬১৮ জন। এর মধ্যে চার হাজার ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাত হাজার ২৫১ জন। চিকিৎসাধীন এক লাখ ৭৭ হাজার ৩২৯ জন, এর মধ্যে চার হাজার ৫৭৬ রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রতি চারজন নাগরিকের মধ্যে তিনজনই এখন আছেন লকডাউনে।
আশঙ্কার চেয়েও করোনা ভয়ঙ্কর : নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে নিউ ইয়র্কে মৃত্যুর সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় অঙ্গরাজ্যটিতে মারা গেছেন আরো ৩৩২ জন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৫০ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে অন্তত ৯ হাজার ২৯৮ জন। এ নিয়ে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৭৯৫ জন। আমরা যতটা আশা করেছিলাম ভাইরাসটি তার চেয়েও শক্তিশালী, তার চেয়েও ভয়ঙ্কর। আমরা এখনো পাহাড়ে চড়ছি। মূল যুদ্ধ শুরু হবে পর্বতচূড়ায় পৌঁছানোর পরই।’ এ দিকে গভর্নরের ভাই ক্রিস কুয়োমোও করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর ৭০ নাবিক আক্রান্ত : মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের অন্তত ৭০ জন নাবিক নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ওই যুদ্ধজাহাজটির নাবিকদের জীবন রক্ষা করতে জরুরিভিত্তিতে ‘সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ’ নেয়া দরকার বলে মার্কিন নৌবাহিনীদের নেতৃবৃন্দকে সতর্ক করেছেন রণতরীটির কমান্ডার। আমরা যদি এখনই পদক্ষেপ না নেই, আমরা আমাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সম্পদ- আমাদের নাবিকদের সঠিক যতœ নিতে ব্যর্থ হবো,’ রণতরীর কমান্ডার ক্যাপ্টেন ব্রেট ক্রোজিয়ার মার্কিন নৌবাহিনীর প্যাসিফিক ফ্লিটের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এমনটিই লিখেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তিনজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
পাকিস্তানে ২৬ জনের মৃত্যু : পাকিস্তানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২৬ জনে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে দুই হাজার ৪২ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ইরান থেকে আগত, ১৬ শতাংশ অন্যান্য দেশ থেকে এবং ২৯ শতাংশ স্থানীয়।
ভারতে চাকরি যেতে পারে ১৩ কোটি মানুষের : পুরো দেশ লকডাউনের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ক্ষতির মুখে ভারত। এক গবেষণায় জানানো হয়েছে, দেশটিতে প্রায় ১৩ কোটি মানুষের চাকরি যেতে পারে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত জওয়াহেরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সেন্টার ফর ইনফরমাল সেক্টর অ্যান্ড লেবার স্ট্যাডিজ’ বিভাগের অধ্যাপক সন্তোষ মেহ্রোত্রা ও পাঞ্জাব সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক যযাতি কে পরিদার যৌথভাবে ওই গবেষণা করেন। ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৬১৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের।
করোনা আতঙ্কে তাবলিগ জামাত : নয়াদিল্লিতে তাবলিগ জামাতের আয়োজক মাওলানা সাদ কান্দলভির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় মহামারী আইনে পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে। করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যেই দিল্লির নিজামুদ্দিনে এই জমায়েতের আয়োজন করা হয়েছিল। এই জমায়েতে অংশ নেয়া অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাবলিগ জামাতে প্রায় এক হাজার ৭৪৬ জন অংশ নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ভারতীয় হলেন এক হাজার ৫৩০ জন এবং ২১৬ জন বিদেশী নাগরিক।
দুই সপ্তাহের লকডাউনে দুবাই : সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যনগরী দুবাইয়ে দেরা নাইফ, আল রাস গোল্ড সোক, আল দাগাইয়া এলাকা দুই সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া আল মোসাল্লা, আল খালিজ ও বানিয়াস রোড বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি মেট্রোরেলের গ্রিনলাইন তথা আল রাস, পাম দেইরা ও বানিয়াস স্কোয়ার মেট্রোস্টেশন বন্ধ থাকবে। যান চলাচল, দোকানপাট, রেস্টুরেন্টে এমনকি পথচারীদের পর্যন্ত ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সরবরাহ করা হবে। বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সব অফিস আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৪ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ছয়জন। সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬১ জন।
ইতালিতে মৃত্যুর মিছিল : ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এক লাখ পাঁচ হাজার ৭৯২ জন ও মৃত্যু হয়েছে ১২ হাজার ৪২৮ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫ হাজার ৭২৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
মেক্সিকোতে ২৯ জনের মৃত্যু : মেক্সিকোতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ২১৫। এখন পর্যন্ত করোনায় ২৯ জন মারা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩৫ জন।
সৌদিতে ১০ জনের মৃত্যু : সৌদি আরবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ১০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৫৬৩ জন। ১৬৫ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। মক্কার আজইয়াদ, আল মাসাফি, মিসফালাহ, আল হুজুন, নাকাসা ও হোশ বকর জেলায় ২৪ ঘণ্টার কারফিউ চলছে।
অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় যাচ্ছে ব্র্রিটেনের : ব্রিটেনে আক্রান্তের সংখ্যা ২৯ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা গ্রহণের পর সুস্থ হয়ে উঠেছে ১৩৫ জন। শুধু ইংল্যান্ডেই ১৬৫১ জন মারা গেছেন।
সিঙ্গাপুরে আক্রান্ত ৯২৬ জন : সিঙ্গাপুরে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৯২৬ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২৪০ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনা মোকাবেলায় কঠোর আইন রাশিয়ায় : কোভিড-১৯ মোকাবেলায় কঠোর আইন অনুমোদন দিল রাশিয়ার পার্লামেন্ট ডুমা। ‘অ্যান্টি-ভাইরাস’ প্যাকেজটিতে কোয়ারেন্টাইন না মানলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কেউ যদি কোয়ারেন্টিন ভঙ্গ করে এবং তার জন্য অন্যরা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তা হলে কোয়ারেন্টিন লঙ্ঘনকারীর সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড হবে। বাড়িতে অবস্থানরত সুস্থ ব্যক্তিরা বাড়ি থেকে বের হয়ে আদেশ লঙ্ঘন করলে এবং করোনা সম্পর্কিত ভুয়া খবর ছড়িয়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তার পাঁচ বছর কারাদণ্ড হবে। করোনাজনিত পরিস্থিতিতে সরকারকে জরুরি অবস্থা জারির ক্ষমতাও দিয়েছে রুশ আইনপ্রণেতারা।
পুতিনের সাথে হাত মেলানো চিকিৎসক আক্রান্ত : রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনকে এক সপ্তাহ আগে মস্কোর একটি করোনাভাইরাস হাসপাতাল ঘুরিয়ে দেখানো চিকিৎসক ডেনিস প্রোৎসেঙ্কো কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছেন। মস্কোর কমুনারকা হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে গত সপ্তাহের মঙ্গলবার পুতিন এ চিকিৎসকের সাথে কথা বলার পাশাপাশি হাতও মিলিয়ে ছিলেন। সে সময় তারা কেউ সুরক্ষা সরঞ্জাম পরিহিত ছিলেন না। রাশিয়ায় কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৭৭৭ জন, মারা গেছে ২৪ জন আর চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ১৯০ জন।
নিউজিল্যান্ডে আক্রান্ত ৭০৮ জন : দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ৭০৮ জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে একজন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ৮৩ জন।
চীনে ৪৬৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক : চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮২ হাজার ২৯০ জন, মৃতের সংখ্যা তিন হাজার ৩১২ জন। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৬ হাজার ২৩৮ জন। তবে চীনের বিরুদ্ধে প্রকৃত পরিস্থিতি গোপনের অভিযোগ রয়েছে।
মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ফ্রান্স : ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫২ হাজার ৮৩৬ জন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরো বেশি বলে দাবি করেছে বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে ৯ হাজার ৪৪৪ জন। পাঁচ হাজার ৫৬৫ রোগীর অবস্থা সঙ্কটপূর্ণ।
লাশের সারি দীর্ঘ হচ্ছে স্পেনে : দেশটিতে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৯ হাজার ৫৩। আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ দুই হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে ২২ হাজার ৬৪৭ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। চিকিৎসাধীন ৭০ হাজার ৪৩৬ জনের মধ্যে পাঁচ হাজার ৮৭২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মালয়েশিয়ায় আক্রান্ত ২৯০৮ : মালয়েশিয়ায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৯০৮ ছাড়িয়েছে। মারা গেছে ৪৫ জন। এর মধ্যে ৬৪৫ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। চিকিৎসাধীন দুই হাজার ২১৮ জনের মধ্যে ১০২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইরানে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০৩৬ : ইরানে করোনা সংক্রামিত কোভিড-১৯ রোগে মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার ৩৬ জন। আক্রান্ত হয়েছে ৪৭ হাজার ৫৯৩ জন। আক্রান্ত ১৫ হাজার ৪৭৩ ব্যক্তি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছে। চিকিৎসাধীন আছে ২৯ হাজার ৮৪ জন, এর মধ্যে তিন হাজার ৮৭১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জার্মানিতে মৃত বেড়ে ৭৯৩ : জার্মানিতে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৯১৪ জন। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৩ জনে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ৫৬ হাজার ২১ জন। এর মধ্যে দুই হাজার ৬৭৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৬ হাজার ১০০ জন।
তুরস্কে ২১৪ জনের মৃত্যু : তুরস্কে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৫৩১। এর মধ্যে ২১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়েছে উঠেছে ২৪৩ জন। ৮৪৭ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরাইলে ২১ জনের মৃত্যু : ইসরাইলে করোনায় পাঁচ হাজার ৫৯১ জন আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ২১ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৯৭ জনের অবস্থা গুরুতর। ২২৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে ৪৩৩ জনের মৃত্যু : সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত ১৬ হাজার ৬০৫ জন, মৃত্যু হয়েছে ৪৩৩ জনের এবং চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে ২৯৬৭ জন। চিকিৎসাধীন আছে ১৩ হাজার ২০৫ জন, এর মধ্যে ৩০১ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নেদারল্যান্ডসে ১১৭৩ জনের মৃত্যু : নেদারল্যান্ডসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ হাজার ৬১৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ১১৭৩ জনের এবং সুস্থ হয়েছে ২৫০ জন। ১০৫৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসাধীন আছে ১২ হাজার ১৯১ জন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৬৫ জনের মৃত্যু : দক্ষিণ কোরিয়ায় করোনায় আক্রান্ত ৯ হাজার ৮৮৭ জন, মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের এবং সুস্থ হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬৭ জন। ৫৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সিরিয়ায় ২ জনের মৃত্যু : সিরিয়ায় এ পর্যন্ত ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দু’জন মারা গেছে। আটজন চিকিৎসাধীন আছে।
উরুগুয়েতে আক্রান্ত ৩৩৮ জন : দেশটিতে ৩৩৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। মারা গেছে একজন। ৪১ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে।
টোকিওতে এক দিনে আক্রান্ত ৭৮ : জাপানে গত মঙ্গলবার এক দিনেই নতুন করে দুই শতাধিক ব্যক্তির শরীরে করোনা ধরা পড়েছে; শুধু রাজধানী টোকিওতেই এ দিন নতুন করে ৭৮ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জাপানে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ১৭৮ জন। মারা গেছে ৫৭ জন। আক্রান্ত ৬৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ৪৭২ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে।
থাইল্যান্ডে ১২ জনের মৃত্যু : থাইল্যান্ডে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৭৭১ জন। প্রাণ হারিয়েছে ১২ জন। ৪১৬ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে। আক্রান্ত ২৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নাইজেরিয়ায় আক্রান্ত ১৫১ জন : দেশটিতে ১৫১ জন করোনা আক্রান্ত এবং দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৪০ জন চিকিৎসাধীন আছে। ১৪০ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছে।
স্লোভেনিয়ায় আক্রান্ত ৮০৪ জন : স্লোভেনিয়ায় এখন পর্যন্ত ৮০৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ পজিটিভ ধরা পড়েছে। করোনার সংক্রমণে মৃতের সংখ্যা ১৫ জন। সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ১০ জন। গত ১৯ মার্চ স্লোভেনিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়, যা এখনো বলবৎ আছে। সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৬ মার্চ থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের বাস ও ট্রেন সার্ভিস চলাচলও।
করোনায় ওমানে প্রথম মৃত্যু : করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে। গত মঙ্গলবার সেখানে ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি করোনায় মারা গেছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ দিন ওমানে নতুন করে ১৩ জনের শরীরে প্রাণঘাতী করোনা ধরা পড়েছে। এ নিয়ে সেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯২ জন।
তানজানিয়াতে প্রথম মৃত্যু : পূর্ব আফ্রিকার দেশ তানজানিয়াতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১৯ জন।
ফিলিস্তিনে ১১৯ জন আক্রান্ত : ফিলিস্তিনে ১১৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনার সংক্রমণ মোকাবেলায় ফিলিস্তিনকে ১০ হাজার পরীক্ষার কিট ও ভেন্টিলেটর দিয়েছে চীন। ফিলিস্তিনিদের মাত্র ২৯৫টি ভেন্টিলেটর রয়েছে; তন্মধ্যে পশ্চিম তীরে ১৭৫ ও গাজায় ১২০টি রয়েছে।
সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু : কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশ সোমালিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নূর হাসান হুসেইন মারা গেছেন। সম্প্রতি করোনাভাইরাস পজিটিভ হিসেবে নূর হাসান হুসেইনকে শনাক্ত করা হয়। তার পর থেকে তিনি লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। ২০০৭ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নূর হাসান দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সোমালিয়ায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের দেহে করোনার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে।

 


আরো সংবাদ