২৬ মে ২০২০

করোনায় আরো একজনের মৃত্যু উপসর্গ নিয়ে প্রাণহানি ১০

নতুন ৩ জনসহ মোট আক্রান্ত ৫৪, মৃত্যু ৬; ঢাকা মেডিক্যালে ২ জনের মৃত্যু; প্রাইভেট চেম্বারে চিকিৎসা দেয়ার আহ্বান; নড়াইলে গোসল ও জানাজা ছাড়াই গোপনে দাফন
-

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত পাওয়া গেছে তিনজন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন আরো ছয়জন। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৪ এবং মৃতের সংখ্যা ছয়জন। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ দিকে গতকালও করোনা উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা গেছেন। নড়াইলে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে গোছল ও জানাজা ছাড়াই গোপনে দাফন করা হয়েছে। এ ছাড়া রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রতিদিন এখানে সর্বোচ্চ আটজনের পরীক্ষা করা যাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করে আক্রান্ত পাওয়া গেছে তিনজন। আবার একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন আরো ছয়জন। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক অনলাইন প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য দেন। তিনি জানান, এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ৫৪ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সবাইকে টেস্ট করে নেয়ার আহবান জানান।
তিনি সব হাসপাতাল, প্রাইভেট চেম্বারের চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, ইতোধ্যেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় কিছুটা স্থবিরতা এসেছে। স্থিমিত হয়ে গেছে চিকিৎসা। আপনারা জনগণের চিকিৎসাসেবায় এগিয়ে আসুন, চিকিৎসা শুরু করুন। আমি আশা করছি আপনারা দেশবাসীর পাশে থাকবেন। তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ভালো থাকার জন্য, নিরাপদ থাকার জন্য আপনারা ঘরে থাকুন। সাবান পানি দিয়ে হাত ধুবেন, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে ভিটাসিন ‘সি’ জাতীয় খাবার খান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আইইডিসিআর ছাড়া বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে করোনাভাইরাস পরীক্ষা শুরু হয়েছে। শুধু টেস্টিং ফ্যাসিলিটি থাকলেই চলবে না, জনগণ পরীক্ষা করুক, এগুলো জনগণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। জনগণ এগিয়ে আসুক, টেস্ট করুক। আমি চাচ্ছি না যে কেউ টেস্টের বাইরে থাকুক। যারা সন্দেহজনক অবস্থায় আছেন তারা টেস্ট করিয়ে নিন, নিজেরা ভালো থাকুন, পরিবারকে সুরক্ষিত রাখুন। কারণ টেস্ট ছাড়া আমরা বুঝতে পারব না। আমি আবারো আহ্বান করছি যে, আপনারা টেস্ট করুন। বেশি বেশি করে টেস্ট করুন এবং নিজেরা সুরক্ষিত থাকুন।
তিনি আরো বলেন, আমরা ইতোমধ্যে পিপিই, মাস্কের মজুদ বৃদ্ধি করেছি। অতি প্রয়োজনীয় এই সুরক্ষা সামগ্রীগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করুন।
ঢাকা থেকে যারা গ্রামের বাড়িতে গেছেন তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের তথ্য রয়েছে যে আপনারা গ্রামে গিয়ে সরকারি নির্দেশনা মানছেন না। অবাধে বাইরে চলাফেরা করছেন। আমি আবারো আপনাদের উদ্দেশে বলতে চাই, নির্দেশনা মেনে ঘরের মধ্যে সুরক্ষিত থাকুন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।
অনলাইন ব্রিফিংয়ে এবার আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক সেব্রিনা ফ্লোরা ছিলেন না। এমআইএসের পরিচালক ডা: হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হটলাইন নম্বরে কল করে অশালীন বক্তব্য রাখা হয় এ ব্যাপারে বলেন, আপনারা হটলাইনে কল করে অশালীন বক্তব্য রাখবেন না। এর পর থেকে যারা এ ধরনের বক্তব্য রাখবেন তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য, হটলাইনে নারী ডাক্তারের কণ্ঠ শুনলেই অনেকে করোনা সম্পর্কে কথা না বলে আজে-বাজে কথা বলছেন। কেউ নারী ডাক্তারকে বিয়ে করার প্রস্তাব দিচ্ছেন, কেউ জিজ্ঞাসা করছেন ওই ডাক্তারের বিয়ে হয়েছে কি না। আবার অশ্রাব্য কথা বলছেন। এটা নিয়ে একজন ডাক্তার ফেসবুকে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
ঢামেকের আইসোলেশন ওয়ার্ডের দুই ব্যক্তির মৃত্যু : ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকা দুই ব্যক্তি মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজনের বয়স ৬৫ বছর ও আরেকজনের ৩২ বছর। তারা করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গতকাল বুধবার ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ডা: আলাউদ্দিন আল আজাদ ও জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডাক্তার মো: আলাউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চত করে জানান।
সহকারী পরিচালক বলেন, গত মঙ্গলবার তারা হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের নতুন ভবনের নিচে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে একজনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গতকাল ভোর ৫টার দিকে আরেকজন মারা যান। নতুন ভবনের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল হোসেন জানান, মৃত দুই ব্যক্তি জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত, সর্দি ও কাশির সমস্যা নিয়ে ভর্তি ছিলেন। তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা দেয়া হচ্ছিল। তিনি আরো বলেন, তাদের দুইজনের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। রক্তের নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলেই তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। করোনাভাইরাস পজিটিভ এলে যথাযথ পদ্ধতিতে দাফন করা হবে। আর নেগেটিভ এলে স্বজনদের কাছে দিয়ে দেয়া হবে লাশ।
ঝালকাঠিতে জ্বর-ডায়রিয়ায় শিশুর মৃত্যু, ৬ পরিবার কোয়ারেন্টিনে
ঝালকাঠি সংবাদদাতা জানান, ঝালকাঠিতে জ্বর ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আলভী (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টায় জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার আমুয়া এলাকার পূর্বপাড় সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আলভীর গত কয়েক দিন পর্যন্ত জ্বর, পাতলা পায়খানা ছিল। গতকাল রাতে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন কাঁঠালিয়া আমুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে এলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আলভী একই গ্রামের শহীদ উদ্দিন সরদারের ছেলে। এ ঘটনায় ওই বাড়ির ছয়টি পরিবারকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
কাঁঠালিয়া আমুয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাপস কুমার তালুকদার বলেন, গত সাত দিন ধরে আলভীর প্রথমে পাতলা পায়খানা ও পরে আমাশয় ছিল। পায়খানার সাথে রক্ত যেত, সাথে জ্বরও ছিল। এ জন্য ফার্মেসি থেকে কিছু জ্বর ও আমাশয়ের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিল আলভীকে। গতকাল দুপুরে ছোট একটা তরমুজ ও একাই খেয়েছে। পরে পেট ফেঁপে বেশি অসুস্থ হওয়ার কিছুক্ষণ পর ওর মৃত্যু হয়েছে। ডা: তাপস আরো বলেন, আমাশয় হলে তার সাথে একটু জ্বরও থাকে, এটা করোনার কোনো লক্ষণ না। যেহেতু সরদারপাড়া ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা। এ ছাড়া ওই বাড়ির পরিবারগুলোর মধ্যে কারো কারো স্বাভাবিক জ্বর ও সর্দি রয়েছে। তাই ওই বাড়ির ছয়টি পরিবারের ৩০ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছি।
শরীয়তপুরে আইসোলেশনে থাকা রোগীর মৃত্যু, ৫ বাড়ি লকডাউন
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে করোনা সন্দেহে ভর্তি হওয়া এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়। পরে জেলা প্রশাসন নড়িয়া উপজেলার পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করাসহ রোগীর সংস্পর্শে আসা ২৩ ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। শরীয়তপুর সদর হাসাপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনির আহমেদ খান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নড়িয়া উপজেলার ৩৪ বছরের ওই রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও হাঁচি-কাশি নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনা উপসর্গ সন্দেহ হওয়ায় তাকে আইসোলেশন ইউনিটে রাখি। রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি আরো জানান, ওই ব্যক্তি গত ১৯ মার্চ জ্বর, হাঁচি-কাশি নিয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে পরীক্ষায় তার যক্ষ্মা রোগ ধরা পড়ে। ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ২৩ মার্চ সদর হাসপাতাল থেকে ফিরে গিয়ে বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। মৃত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।
নড়াইলে যুবকের মৃত্যু, গোসল ও জানাজা ছাড়াই দাফন
নড়াইল সংবাদদাতা জানান, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, পাতলা পায়খানা, গা ব্যথা ও বমিতে আক্রান্ত হয়ে নড়াইলে শওকত আলী (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় নড়াইল সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। শওকত শহরের দক্ষিণ নড়াইলের ওমর আলীর ছেলে এবং তিনি রূপগঞ্জ বাজারে সুপারির ব্যবসা করতেন। এ দিকে শওকত আলীর লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের পর মঙ্গলবার রাতেই গোসল ও জানাজা ছাড়াই কবর দেয়া হয়েছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। অন্য দিকে গতকাল বুধবার সকাল থেকে তাদের বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। বাড়ির লোকজন কোথায় আছেন, তা জানাতে পারেননি স্থানীয়রা। মৃত শওকত আলীর স্বজন বাবু মোল্যা জানান, শওকতের শরীরে এক সপ্তাহ ধরে জ্বর, হাঁচি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, গা-ব্যথাসহ নানা উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর ঢাকায় করোনাসংক্রান্ত হটলাইনে ফোন দেয়া হলেও কোনো কাজ হয়নি। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ সেবন করানো হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। একপর্যায়ে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতে নড়াইল সদর হাসপাতালে আনা হলে শওকত মারা যান।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, এলাকায় বাড়তি সর্তকতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে মৃত শওকত আলীর নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন নেই বলে সিভিল সার্জন আমাকে জানিয়েছেন। এ ছাড়া এই মুহূর্তে ওই এলাকা (দক্ষিণ নড়াইল) লকডাউন করারও প্রয়োজন নেই। সবাইকে অনুরোধ করব কেউ আতঙ্কিত না হয়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন হবেন।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে রোগী ভর্তি, আতঙ্কে গাংনী হাসপাতাল ছাড়লেন অন্যরা
ইউএনবি জানায়, শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-জ্বর নিয়ে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মধ্য বয়সী ভর্তি হওয়ায় করোনা আতঙ্কে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা বেশকয়েকজন রোগী সেখান থেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে ওই রোগীকে সেবা দিতে গড়িমসি করেছে বলে অভিযোগ করেন গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়ন থেকে আসা ওই রোগীর ছেলে আবদুর রকিব। তিনি জানান, গত রোববার তার বাবাকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে ভর্তি না নিয়ে জরুরি বিভাগ থেকে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা নিতে বলে। বাড়িতে নিয়ে আসার পর কোনোভাবেই শ্বাসকষ্ট ও কাশি না কমায় মঙ্গলবার রাত ৯টায় গাংনী হাসপাতলে নেয়া হয়। প্রথমে তাকে ভর্তি করতে অপারগতা দেখালেও নানা দেন-দরবার ও তদবিরের পরে তাকে রাত সাড়ে ১২টায় ভর্তি নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ওই রোগী ভর্তি হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে করোনা আতঙ্কে সেখানে আগে থেকে চিকিৎসাধীন বেশকয়েকজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে গেছেন। মেহেরপুরের সিভিল সার্জন নাসির উদ্দীন জানান, মধ্য বয়সী ওই রোগীর বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) যোগাযোগ করে সার্বিক বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। এখন তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোগীর নমুনা পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ফৌজদারহাট আইসোলেশনে থাকা রোগীর মৃত্যু
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজের (বিআইটিআইডি) করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগী মারা গেছেন। গত মঙ্গলবার রাত ৯টায় মারা যাওয়া ওই রোগীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ এসেছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিআইটিআইডির পরিচালক ডা: এম এ হাসান চৌধুরী নয়া দিগন্তকে জানান, ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীর ওই নারীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ থেকে মঙ্গলবার সকালে বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়। ওই রোগীর জ্বর বা কাশির কোনো লক্ষণ ছিল না। সামান্য শ্বাসকষ্ট ছিল। এ ছাড়া তিনি ডায়বেটিস ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছিলেন। ইতোমধ্যে মারা যাওয়া ওই রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন কি না, তা পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলে করোনা নেগেটিভ এসেছে বলেও তিনি জানান। গতকাল বুধবার পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে মোট ৪২ জনের নমুনা পরীক্ষা হলেও তাদের কারো মধ্যেই করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
নবাবগঞ্জে প্রবাসী করোনায় আক্রান্ত, ১২ পরিবার কোয়ারান্টিনে
দোহার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সৌদি প্রবাসী এক ব্যক্তি (৪৮) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উপজেলা প্রশাসন আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারসহ আরো ১২ পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্র্দেশ দিয়েছে। ওই প্রবাসী ১৭ মার্চ সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন। ডা: শহিদুল ইসলাম জানান, ২৯ মার্চ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশনে ভর্তি থাকা একজন বৃদ্ধ এবং তিনজন প্রবাসীসহ চার ব্যক্তির শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে রিপোর্টে তিনজনের নেগেটিভ ও একজন সৌদি প্রবাসীর পজেটিভ পাওয়া যায়। আক্রান্ত ওই প্রবাসীকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু।
ঘোড়াশালে দুই বাড়ি লকডাউন
পলাশ (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, করোনাভাইরাসের লক্ষণ ধরা পরায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ৭ ওয়ার্ডের পিরিন্দার টেক গ্রামে দু’টি বাড়ি লকডাউন করেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল বুধবার দুপুরে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই বাড়িগুলোসহ এর আশপাশে চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ওই ব্যক্তি গত কয়েকদিন আগে নরসিংদী শহরে ইতালিফেরত তার এক বোনের বাড়ি বেড়াতে যান। ধারণা করা হচ্ছে সেখান থেকে সংস্পর্শে এসে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন। আক্রান্ত ব্যক্তি দুই শিশু কন্যা ও স্ত্রী নিয়ে পিরিন্দার টেক গ্রামে বসবাস করে আসছেন। তার নমুনা সংগ্রহের জন্য আইসিডিআরে খবর পাঠানো হয়েছে। লকডাউনের পর ওই বাড়ির পাশে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাড়িগুলোতে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ পুলিশের ব্যবস্থায় করা হবে।
বগুড়ায় ৪ জনের নমুনা রাজশাহীতে প্রেরণ
বগুড়া অফিস জানায়, করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চারজনের নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস শনাক্তে বুধবার রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যাবে আজ। বর্তমানে এই হাসপাতালে একজন শিশুসহ পাঁচজন সর্দি, কাশি, শ^াসকষ্টের রোগী ভর্তি রয়েছে। যদিও বগুড়ার চিকিৎসকরা বলছেন, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নয়। তবে সঠিক চিকিৎসা প্রদানে তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরের পর বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া এলাকার এক নারী (২৬) শ^াসকষ্টের সাথে সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। একই দিনে জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান গ্রামের ১৩ বছরের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে শিশুটির নিউমোনিয়া রয়েছে। তারপরও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা শিশুটির চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিশুটির নমুনা সংগ্রহ করে কাল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এর আগে গত ২৯ মার্চ দুপুরে দুইজন ভর্তি হন এই আইসোলেশন কেন্দ্রে। তাদের একজন কুমিল্লা থেকে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় এসে শ^াসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে স্থানীয়রা দ্রুত এই ইউনিটে ভর্তি করে দেয়। চিকিৎসা পেয়ে তিনি এখন পর্যন্ত সুস্থ রয়েছেন। একই দিনে বগুড়ার ধুনট উপজেলার এক ব্যক্তি সর্দি, জ¦র ও শ^াসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হন। তিনি চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন। সর্বশেষ পুলিশ সদস্যরা ৩০ মার্চ বগুড়ার মোকামতলা থেকে ৪৫ বছর বয়সী এক শ্রমজীবীকে উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে নেন। পরে তার হৃদরোগের সমস্যার সাথে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট থাকায় তাকে আইসোলেশন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। ওই ব্যক্তি শনিবার রাতে ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
রাজশাহীতে করোনা পরীক্ষা শুরু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে বগুড়া থেকে আসা তিনজন এবং রাজশাহীর একজন রোগীর নমুনা পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রামেকের অধ্যক্ষ ডা: নওশাদ আলী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, শনাক্তসহ বিভিন্ন জটিল রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য গত ২৬ মার্চ রাজশাহীতে পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন (পিসিআর) মেশিন আসে। এরপর রামেকের ভাইরোলজি বিভাগের পাঁচটি কক্ষে ল্যাব স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ল্যাব প্রস্তুতের পর ৩১ মার্চ পিসিআর মেশিন স্থাপন করা হয়। আর বুধবার দুপুর থেকে শুরু হয় নমুনা পরীক্ষা।
ল্যাবের ইনচার্জ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান ডা: সাবেরা গুলনাহার সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে টেকনিশিয়ানদের দু’টি দল নিরলসভাবে পাঁচ দিন কাজ করে ল্যাবটি প্রস্তুত করেছে। এরই মধ্যে তারা ২৪০টি কিটও পেয়েছেন। ল্যাবে একদিনে সর্বোচ্চ আটজনের নমুনা পরীক্ষা করা যাবে। ফলাফল প্রকাশ করতে সময় লাগবে আট থেকে ১২ ঘণ্টা। আর রামেকেই রাজশাহীর আটটি জেলার করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হবে।
রাজশাহীতে গুজব ছড়ানোয় ২৩ জনের জরিমানা : রাজশাহীতে গুজব ছড়ানোয় ২৩ জনকে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে গত মঙ্গলবার দিনব্যাপী এ অভিযান চালানো হয়। এতে ২৩ জনের কাছ থেকে মোট ৪২ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, সংক্রমণ রোগ প্রতিরোধ আইন ২০১৮-এর ধারা অনুযায়ী জেলার পুঠিয়ায় একজনের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং গোদাগাড়ীতে অভিযান চালিয়ে ২২ জনের কাছ থেকে ৩২ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলাম সাংবাদিকদের জানান, জরিমানা প্রদানকারী ব্যক্তিরা করোনাভাইরাস নিয়ে ফেসবুকসহ বিভিন্নভাবে গুজব ছড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
গৌরনদীতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ছয়জন আটক
বরিশাল ব্যুরো জানায়, করোনাভাইরাস নিয়ে মসজিদের মাইকে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ মসজিদের দুই ইমাম ও দুই শিক্ষকসহ ছয়জনকে আটক করেছে। বুধবার দুপুরে আটককৃতদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের করে কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন গৌরনদী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, বার্থী কলেজের শিক্ষক সালমা আক্তার, বানীয়াশুরি মসজিদের ইমাম আব্দুল কাদের মোল্লা, উত্তর বিজয়পুর মসজিদের ইমাম হাসান আল মামুন, অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট সিরাজুল ইসলাম ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা দীপালি দেবনাথ। তাদের মধ্যে দুই ইমাম এবং অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্টকে মসজিদের মাইকে এবং অপর তিনজনকে ফেসবুকে করোনা সম্পর্কে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আটক করা হয়। গৌরনদী থানার ওসি গোলাম ছরোয়ার জানান, আটককৃতরা মানুষের মধ্যে করোনা সম্পর্কে নেতিবাচক খবর ছড়াচ্ছিল। এ অভিযোগে তাদের আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেউ যেন মিথ্যে তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে মানুষের মধ্যে ভীতি তৈরি করতে না পারে সেজন্য জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বরিশালে হোম কোয়ারেন্টিন শেষে ২০৪৩ জনকে ছাড়পত্র : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা দুই হাজার ৪৩ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। ১৪ দিন শেষে তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের কোনো উপসর্গ না পাওয়ায় ছাড়পত্র দেয়া হয়। এর মধ্যে বরগুনা জেলা হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকা তিনজনকেও ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশেই বিদেশফেরত বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
বরগুনার চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত নন
বরগুনা সংবাদদাতা জানান, বরগুনার সেই চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। ঢাকার আইইডিসিআরে ওই চিকৎসকের নমুনা পরীক্ষা শেষে বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান। ওই চিকিৎসক করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে আইসোলেশনে ভর্তি হন গত সোমবার। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। ওই চিকৎসকের নমুনা পরীক্ষা শেষে বুধবার সকালে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে স্বেচ্ছায় ভর্তি হওয়া ওই চিকিৎসকের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তিনি করোনায় নয়, অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
ভোলাহাটের তুহিন করোনায় আক্রান্ত হননি
ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, ভোলাহাট উপজেলার ইসলামপুরের নিমগাছী গ্রামের আব্দুল সাদেকের ছেলে তুহিন (২৬) করোনায় আক্রান্ত হননি বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তিনি জানান, নওগাঁ সান্তাহারে এক ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করা অবস্থায় গায়ে জ্বর ও সর্দি হলে ২৯ মার্চ বাড়ি চলে আসেন তুহিন। গত মঙ্গলবার সকালে ভোলাহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। কিছু লোক ঘটনাটি ভিন্নঘাতে নিতে তুহিন করোনভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে তার বাড়ি আর্মি ও পুলিশ ঘিরে রেখেছে আবার কেউ ওই বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে বলে অপপ্রচার চালাতে থাকে। ফলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ নিয়মানুযায়ী তুহিনকে নজরদারিতে রাখে। তুহিন জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েছে। গতকাল জানা যায় তিনি সুস্থ রয়েছেন।
কোম্পানিগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে বসুরহাট পৌর ভবনে স্থাপিত কোয়ারেন্টাইন থেকে আরো চার প্রবাসীকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে পৌরসভার কোয়ারেন্টিনে থাকা ৩৫ জনের মধ্যে ২৮ জনকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। প্রবাস থেকেফেরতের ১৪ দিন পূর্ণ হওয়ায় এবং তাদের মধ্যে কোনো অসুস্থতার লক্ষণ না থাকায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন সাতজন।
কালিগঞ্জে গৃহবধূর মৃত্যু, এলাকায় আতঙ্ক
কালিগঞ্জ (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, কালিগঞ্জে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাশিদা খাতুন শিল্পী (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বন্দকাটি গ্রামে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও পাশের বন্দকাটি গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে। এ দিকে করোনা উপসর্গ নিয়ে এই মৃত্যু হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বলেছেন করোনা নয়, হৃদরোগে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
বিষ্ণুপুর ইউপি’র ৮ নম্বর ওয়ার্ডের (বন্দকাটি) সদস্য মনিরুজ্জামান মনি জানান, গত ২৭ মার্চ রাশিদা খাতুন অসুস্থ অবস্থায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বন্দকাটি গ্রামে পিতার বাড়িতে আসেন। এর মধ্যে একদিন তার জ্বর হয়। স্থানীয় চিকিৎসক রুহুল আমিনের চিকিৎসায় জ্বর সেরে যায়। এরপর মঙ্গলবার রাতে রাশিদা খাতুন অসুস্থ বোধ করতে থাকেন এবং ফজরের নামাজের পর তার মৃত্যু হয়। গ্রাম্য চিকিৎসক রুহুল আমিন বলেন, রাশিদা খাতুনের শরীরে জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। তাকে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শেখ তৈয়েবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ১২ জনের একটি চিকিৎসক টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি যাচাই করেছি। হার্ট অ্যাটাকে ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। করোনার উপসর্গ না থাকায় নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তিনি।
নরসিংদী সংবাদদাতা জানান, নরসিংদীতে গতকাল বুধবার পর্যন্ত ৩০১ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা: ইব্রাহিম টিটন। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসের কোনো আলামত না পাওয়ায় ১৯৩ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
নোয়াখালীতে ৬ জন আইসোলেশনে, দু’টি বাড়ি লকডাউন
নোয়াখালী সংবাদদাতা জানান, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের দু’টি পরিবারের ছয়জন সদস্যকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রসাশন থেকে আইসোলেশনে থাকা রোগীদের বাড়ি দু’টি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা টিনা পাল বুধবার সকালে বাড়ি দু’টি লকডাউন ঘোষণা করেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে সর্দি ও জ্বর নিয়ে শিশুসহ ছয়জন রোগীর উপসর্গগুলো দেখে তাদের সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেøক্সের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে আড়াই বছর বয়সী এক শিশু, আট মাস বয়সী এক শিশু, তের বছর বয়সী এক শিশু, ত্রিশ বছর বয়সী একজন পুরুষ, তেইশ বছর বয়সী এক তরুণী ও পঞ্চাশ বছর বয়সী এক মহিলা। সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মাইনুল ইসলাম জানান, বর্তমানে শিশুরা ছাড়া বাকিদের অবস্থা ভালো। গত কয়েক দিন আগে অসুস্থরা একজন দুবাই প্রবাসী আত্মীয়ের সংস্পর্শে এসেছিলেন। এরপর থেকে জ্বরে ভুগলেও তারা তথ্য গোপন করে সুস্থ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সবার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হবে।
নালিতাবাড়ীর আব্দুল আওয়াল করোনায় মারা যাননি
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা জানান, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রামের আব্দুল আওয়াল (৫৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। গত রোববার রাতে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। এতে গ্রামবাসী লক্ষণ দেখে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আওয়াল মারা গিয়ে থাকতে পারেন বলে সন্দেহ করেন। মারা যাওয়ার চার-পাঁচ দিন আগে ছুটি পেয়ে তিনি বাড়িতে আসেন। তিনি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় একটি পাইলিং কনস্ট্রাকশনের নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। শেরপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার আনোয়ারুর রউফ জানান, সোমবার সকালে মৃতের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো। নমুনা পরীক্ষায় ফলাফল নেগেটিভ আসে।
রামেক হাসপাতালে জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে যুবকের মৃত্যু
রাজশাহী ব্যুরো জানায়, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি হওয়া বুলবুল নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে হাসপাতালের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে আটটার দিকে তার মৃত্যু হয়। ওই যুবকের বাড়ি নাটোরের লালপুর উপজেলার নবীনগর গ্রামে। রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্বজনরা বুলবুলকে হাসপাতালে আনেন। তবে বুলবুল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। তিনি হাঁপানির রোগী ছিলেন। সাথে জ্বর হয়েছিল। তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ফেনীতে যুবকের মৃত্যু, পরিবার লকডাউন
ফেনী সংবাদদাতা জানান, ফেনী সদর উপজেলার ছনুয়ায় করোনা উপসর্গ নিয়ে গতকাল বুধবার এক যুবকের (৩০) মৃত্যু হয়েছে। এতে ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ওই যুবকের জ্বর ও শ্বাসকষ্ট ছিল। জেলা সিভিল সার্জন ডা: সাজ্জাদ হোসেন জানান, ওই যুবকের লাশ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান করিম উল্যাহ জানান, ওই যুবকের মৃত্যুর পর তার বসতঘর লকডাউন করে দেয়া হয়। সন্ধ্যায় স্বজনরা নামাজে জানাজা শেষে বিশেষ কায়দায় তার লাশ দাফন করেন।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার পাইকশায় করোনা সচেতনতায় কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পাইকশা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’। উপজেলার পাইকশা বাজারে অবস্থিত এ সংগঠনটি এরই মধ্যে সমাজসেবামূলক নানা কাজ করে সাধারণ মানুষের প্রশংসা পেয়েছে।
নবাবগঞ্জে প্রবাসী করোনা আক্রান্ত, ১২ পরিবার কোয়ারেন্টিনে
ঢাকা জেলা সংবাদদাতা জানান, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সৌদি আরব থেকে আসা ৪৭ বছর বয়সী এক প্রবাসীর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। এজন্য তার পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের ১২টি পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টিনে রেখেছে উপজেলা প্রশাসন। নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আইইডিসিআরের একটি টিম চিকিৎসার জন্য ওই রোগীকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
নবাবগঞ্জে মৃত রিকশাচালক করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না : এ দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলায় সর্দি-জ্বর ও কাশি নিয়ে মারা যাওয়া রিকশাচালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। আইইডিসিআর তার নমুনা পরীক্ষা করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে তাকে দাফন করা হয়েছে সরকারের নির্ধারিত রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনাভাইরাসে মারা যাওয়া হওয়া লাশের পাশে। নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই রিকশাচালকের নিউমোনিয়া হয়েছিল এবং তার ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফরিদপুরে স্বামী-স্ত্রীর নমুনা আইসিডিইআরে প্রেরণ
ফরিদপুর সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক দম্পতির কফ, থুথু ও লালা পরীক্ষার করার জন্য আইসিডিইআরে পাঠানো হয়েছে। ওই দম্পতিসহ মোট তিনজন বর্তমানে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অপরজনের নমুনাও আইসিডিইআরে পাঠানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের একটি গ্রাম থেকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ওই দম্পতিকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা জানান, চুয়াডাঙ্গায় করোনা আক্রান্ত ইতালিফেরত এক যুবক ১৫ দিন আইসোলেশন থাকার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে সদর হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। বিকেলে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গার সিভিল সার্জন ডা: এ এস এম মারুফ হাসান। ছাড়পত্র দেয়ার আগে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। সেখান থেকে নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তাকে ছাড়পত্র দেয়া হয়।
বগুড়া আইসোলেশন ইউনিটে শিশুর মৃত্যু
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ার করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র সরকারি মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বগুড়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার গওসুল আজিম চৌধুরী জানান, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ১৩ বছরের এক শিশুকে বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় মারা যায়। আইসোলেশন কেন্দ্রের চিকিৎসক ডা: শফিক আমিন কাজল জানান, সর্দি, জ্বর কাশি নিয়ে বুধবার দুপুরে ১৩ বছরের এক শিশুকে ভর্তি করা হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কি না তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট জানতে রাজশাহী পাঠানো হবে।
শিবচরের সেই ইতালি প্রবাসীসহ সাতজন বাড়ি ফিরেছেন
শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা জানান, মাদারীপুরের শিবচরের এক ইতালি প্রবাসীর মাধ্যমে তার পরিবারের আরো সাত সদস্যের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। এর মধ্যে তার বাবা মারা গেলেও ওই প্রবাসীসহ বাকি সদস্যরা সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ইতালি প্রবাসী ওই ব্যক্তি ও তার মাধ্যমে সংক্রমিত পরিবারের বাকি সদস্যরা একে একে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এর ফলে শিবচরের আর কোনো আক্রান্ত রোগী নেই। এর মধ্যে তার বাবা গত ২৪ মার্চ বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের মত তিনিও কোভিড-১৯ পজিটিভ ছিলেন।
গাজীপুরে ছাড়পত্র পেলেন ইতালিফেরত আরো সাতজন
গাজীপুর সংবাদদাতা জানান, গাজীপুরের কোয়ারেন্টিন কেন্দ্র থেকে ইতালিফেরত আরো সাতজনকে দ্বিতীয় দফায় ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস শনাক্ত না হওয়ায় বুধবার সকালে তারা কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর মা ও শিশু কল্যাণ স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে মুক্ত হয়ে নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। এর আগে গত সোমবার গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকার মেঘডুবি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে ইতালিফেরত অপর ৩৬ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এই কেন্দ্রের একজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়।
টাঙ্গাইল সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইলে বিভিন্ন উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় বুধবার সকাল পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনের আওতায় আনা হলো মোট এক হাজার ৭৩৪ জন প্রবসীকে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ায় এক হাজার ২৯৬ জনকে হোম কোয়ারেন্টিন থেকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৪৩৮ জন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
চাঁদপুর সংবাদদাতা জানান, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর থেকে এ পর্যন্ত চাঁদপুর জেলায় করোনা সন্দেহজনক রোগীদের মধ্যে টেস্ট হয়েছে মাত্র দুইজনের। তাদের কেউই করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না। তাদের একজন কিছু দিন চাঁদপুর আইসোলেশন ইউনিটি ভর্তি ছিলেন। এ ছাড়া সন্দেহভাজন বহু রোগীর সন্ধান মিললেও আর টেস্ট করা হয়নি। এর ফলে চাঁদপুরে জেলায় প্রকৃতপক্ষে কতজন করোনায় আক্রান্ত তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আশার কথা হচ্ছেÑ চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালেও করোনা টেস্ট করার জন্য একটি নতুন পরীক্ষাগার চালু হয়েছে। এর ফলে করোনা টেস্ট আগের চেয়ে অনেক সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
যশোরে একই পরিবারের ৩ সদস্য আইসোলেশনে
ইউএনবি জানায়, জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হওয়ায় যশোরের কেশবপুরে একই পরিবারের তিন সদস্যকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইসোলেশন ইউনিটে রাখা হয়েছে এবং পরিবারের গৃহকর্তার শরীর থেকে নমুনা নিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের মিলন সিংহ নামের এক ব্যক্তিকে জ্বর, সর্দি-কাশিজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই সময় তার ছেলে চন্দন সিংহকেও ভর্তি করা হয়। পরের দিন মঙ্গলবার মিলন সিংহের স্ত্রী শিখা সিংহকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে এলাকায় করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার মিলন সিংহের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার আইইডিসিআরে পাঠানো হয়েছে।
ভোলায় আইসোলেশনের রোগী পালিয়েছে : ভোলা সদর হাসপাতালে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে দুইজন ভর্তি থাকা রোগীর মধ্যে একজন বুধবার পালিয়ে গেছেন। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় শেলটেক টাইলস ইন্ডাস্ট্রিজে চাকরি করেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি জ্বর-কাশি নিয়ে ভর্তি হন। বুধবার বেলা ১টা পর থেকে তাকে হাসপাতালে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ভোলার সিভিল সার্জন রতন কুমার ঢালী জানান, বুধবার তার নমুনা ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানোর কথা ছিল। তাকে খোঁজার জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে।


আরো সংবাদ