০১ জুন ২০২০

ঢাকার হাসপাতাল ফাঁকা আতঙ্কিত চিকিৎসকরা

ইন্টারনেটভিত্তিক চিকিৎসা সেবার উদ্যোগ নেয়ার দাবি
-

নোবেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের চিকিৎসকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সরকার ঘোষিত কোয়ারেন্টিন শুরু হলে চিকিৎসকদের অধিকাংশই আর হাসপাতাল কিংবা চেম্বারের মুখোমুখি হননি। অনেক ডাক্তার এখন স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টিনে আছেন।
তাদের অভিযোগ- পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট বা পিপিই না থাকায় তারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা কাজে অংশ নিতে পারছেন না। শুধু ডাক্তার নয়- হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে কর্মরত নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সহযোগী ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরাও ঝুঁকির মধ্যে থাকায় এ মুহূর্তে ঢাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো ফাঁকা হয়ে পড়েছে। করোনা ছাড়াও অন্যান্য উপসর্গ নিয়ে যেসব রোগী হাসপাতালে আসছে তাদের চিকিৎসা কার্যক্রমও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। তারা কোনো চিকিৎসা সহায়তা পাচ্ছে না। ইতোমধ্যে একাধিক মানুষের চিকিৎসা না পেয়ে মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে ডাক্তারদের চেম্বারে না গিয়ে অন লাইনে কিংবা টেলি মেডিসিনের মত পদ্ধতি অবলম্বনের দাবি উঠেছে। স্কাইপ, ভাইবার, মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটস আপে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডাক্তার রোগের বিবরণ শুনে চিকিৎসাপত্র দিতে পারেন। একই পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নিরীক্ষার রিপোর্টও দেয়া যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের বহু খ্যাতনামা চিকিৎসক অন লাইনে এখন চিকিৎসা প্রদান করেন। বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে রোগী চিকিৎসায় এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হলে রোগীর ভিড় কমিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা সম্ভব বলেই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ঢাকার বাইরের রোগীরাও এখানকার চিকিৎসকদের কাছ থেকে এভাবে সেবা পেতে পারেন।
প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ঢাকায় সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে সাড়ে ৪০০ এর মতো হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ লোক কর্মরত আছে। প্রতিদিন এসব হাসপাতালে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলে হাসপাতালের চিকিৎসক নার্সরাই প্রথমে হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করে। প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া চিকিৎসকরা চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আস্তে আস্তে হাসপাতালগুলো ফাঁকা হয়ে যায়। গত সপ্তাহের অধিককাল এসব জায়গায় আর রোগী যাচ্ছে না বললেই চলে। নামকরা বেশ কয়েকটি হাসপাতাল থেকে রোগী ভর্তি না করে ফেরত দেয়ার ঘটনাও ঘটে। পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থায় অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় সরকারি-বেসরকারী উদ্যোগে ডাক্তার-নার্সদের মধ্যে মেডিক্যাল সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ শুরু হয়। কিন্তু এরপরও কয়েকটি বড় মেডিক্যাল কলেজ ও বিখ্যাত হাসপাতাল ছাড়া এখনো হাসপাতালগুলো অনেকটাই ফাঁকা। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান প্রযুক্তির প্রসারের যুগে ইন্টারনেটভিত্তিক চিকিৎসা সেবা প্রদানের জোর দাবি উঠেছে। সীমিত পরিসরে কিছু চিকিৎসক মোবাইলে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সহায়তা দিলেও একে আরো বৃহৎভাবে চালু করার সুযোগ রয়েছে বলে চিকিৎসক ও রোগীসহ অনেকেরই ধারণা।
জানতে চাইলে জাতীয় বক্ষব্যাধি হাসপাতালের বিশিষ্ট পালমনোলজিস্ট ও বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের যুগ্ম সম্পাদক ডা: কাজী সাইফউদ্দীন বেননূর বলেন, আসলে প্রথমেই দৃষ্টিভঙ্গিগত একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার যে, চিকিৎসকরা ভয় পেয়ে চিকিৎসা দেয়া বন্ধ করেছে বিষয়টি এমন নয়। আমাদেরকে হাসপাতাল কিংবা চেম্বারে যেভাবে রোগী দেখতে হয় রোগীদের যে ভিড়ের মধ্যে বসে থাকতে হয় করোনা রোগ তো ওই পরিবেশেই ছড়ায়। চেম্বারে একজন চিকিৎসক বসে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রেখে রোগী দেখবেন সেই পরিবেশ কোথাও নেই। ব্যাপারটা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ওই পরিবেশে রোগী দেখতে গেলে ডাক্তারের চেম্বারই রোগ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠতে পারে। আর যেকোনো সংক্রামক মহামারী ঠেকানোর বড় উপায়ই হচ্ছে রোগ ছড়ানোর পরিবেশ তৈরি না করা। এখন একজন ডাক্তার এসব জেনে কিভাবে রোগী দেখবেন?
আরেকটি বিষয় দেশে লকডাউন শুরু হওয়ায় ট্রান্সপোর্ট কমে গেছে। এখন স্বাভাবিকভাবেও রোগী আসছে না। ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এখন টেলিমেডিসিনের যে ধারণা এটা খুবই কার্যকর হতে পারে। চিকিৎসক-রোগী সবার বাসায়ই এখন নেট আছে। চিকিৎসকদের একটি নির্দিষ্ট অ্যাপ তৈরি করে ইন্টারনেট কানেকশন দিয়ে রোগী-চিকিৎসক যোগাযোগ হতে পারে। রোগীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন। এই সঙ্কটকালে সরকারিভাবে এই উদ্যোগ নিলে ভালো হবে। ডা: বেননূর বলেন, সব কাজে আইইডিসিআরকে ফোন করতে হবে কেন? দেশে আরো বহু চিকিৎসক রয়েছেন। একটি গাইডলাইন থাকলে এবং সবাই সেটি ফলো করলে বিনা চিকিৎসায় মানুষের কষ্ট পাওয়ার অভিযোগ থাকবে না। তিনি বলেন, আমাদের দেশে আইটিতে মেধাসম্পন্ন ছেলেদের অভাব নেই। ওদের দায়িত্ব দিলে এর সহজ সমাধান ওরাই বের করে দেবে।
জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ও শিশু বিভাগের প্রধান আবদুল্লাহ শাহরিয়ার টেলিমেডিসিন ধারণার সাথে একমত পোষণ করে বলেন, ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসকই মোবাইল ফোনে নিজের রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিচ্ছেন। এখন এটিকে বৃহৎ পরিসরে নেয়ার উদ্যোগ নিলে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় তা অবশ্যই ভালো হবে। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি এখনো ঠিক কোন পর্যায়ে আছে সেটি নিরূপণ করা কঠিন। একটি সঙ্কট দেখা দিলে সেখানে নানান রকম সমস্যাও তৈরি হয়। চিকিৎসকরা কিন্তু কখনোই বলেননি আমরা চিকিৎসা করতে পারব না। তারা তাদের সুরক্ষার কথা বলেছেন। এখন আপনি যদি সে সুরক্ষাসামগ্রী না দেন তাহলে তো চিকিৎসকই রোগ ছড়ানোর উৎস হয়ে উঠবেন। প্রফেসর শাহরিয়ার জানান, একজন চিকিৎসক দুর্যোগকালীন কাজ করবেন এটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু তার সুরক্ষার বিষয়টিই আগে ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে একজন চিকিৎসক রোগীর কাছ থেকে ফি নিবেন কি না সেটি তার ব্যক্তিগত ইচ্ছার ব্যাপার। আপনাকে আগে তার সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি বলেন, ইন্টারনেট-ভিত্তিক চিকিৎসাসেবা প্রদান কিংবা টেলিমেডিসিনÑ সবটাই এখন সময়ের দাবি। এমনকি এর মাধ্যমে রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টও একজন চিকিৎসক দেখতে পারেন। একই সাথে তিনি হাসপাতালগুলোতে ক্রিটিক্যাল রোগী চিকিৎসার সামর্থ্য বাড়ানোর কথা উল্লেøখ করেন।


আরো সংবাদ





justin tv maltepe evden eve nakliyat knight online indir hatay web tasarım ko cuce Friv buy Instagram likes www.catunited.com buy Instagram likes cheap Adiyaman tutunu