০৬ জুন ২০২০

দাম বাড়ছে শহরে : নষ্টের আশঙ্কা ক্ষেতে

করোনার প্রভাব কৃষিপণ্যে
-

করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে দেশজুড়ে চলছে কার্যত ‘লকডাউন’। প্রায় সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সারাদেশ। এর প্রভাব পড়ছে কৃষিপণ্যেও। ঢাকাসহ সারা দেশের বাজারে যেসব কাঁচা তরকারি ও সবজির সরবরাহ হয়, এর বেশির ভাগ আসে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলো থেকে। একটি অংশ আসে বৃহত্তর ময়মনসিংহ ও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে। কিন্তু সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার বাজারে যেমন এসবের দাম বাড়তে শুরু করেছে, তেমনি ক্ষেতেও বাড়তি পণ্য মজুদ হচ্ছে। কৃষক তা ক্ষেত থেকে তুলতে পারছেন না। কিছু এলাকায় সবজি উঠালেও তার দাম মিলছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং সাপ্লাই চেইন ঠিক না হলে এসব পণ্যে পচনধরাসহ নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ মুহূর্তে সারা দেশের কৃষক মূলত ইরি-বোরো ফসল নিয়েই ব্যস্ত। সবুজ ধানে এখন মাঠ ছেয়ে গেছে। এর পাশাপাশি রবি মওসুমের ফসল যেমন ছোলা, মসুরি ও অন্যান্য সবজি উঠছে। ছোলা মসুরি শুকনো ফসল হওয়ায় এতে ক্ষতির আশঙ্কা তেমন নেই। কিন্তু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পাইকাররা মফস্বলের মোকামগুলো থেকে তা কিনতে পারছেন না। ফলে এসব ফসল বাজারে নিয়েও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষক। আবার গ্রামের হাটবাজারগুলোতেও করোনার প্রভাব। গ্রামেও লোকজন ঘর থেকে বাইরে খুব বেশি বের হচ্ছেন না। প্রত্যন্ত এলাকায় ধানের ক্ষেতেই কৃষক কাজ করছেন। এখন পেঁয়াজ-রসুনও ওঠার মওসুম। এসব ফসল বাজারে না তুলতে পারলে দাম একেবারেই পড়ে যাবে। ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় নেমে গেছে। এবার পেঁয়াজে কৃষকের উৎপাদন খরচ বেশি পড়েছে। দাম কমে যাওয়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। ধান চাষের প্রধান উপকরণ সেচের পানি সার ও কীটনাশক। এর সাথে যোগ হয় কৃষি শ্রমিকের বাড়তি মজুরি। রবি ফসল পেঁয়াজ-রসুন বিক্রি করেই কৃষক ধানে জোগান দেন। অনেকে ধারদেনা করে এবং এনজিওগুলো থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ফসলের পেছনে ব্যয় করেন। কিন্তু ফসলের ন্যায্য দাম না পেলে পুরোটাই লোকসান গুনতে হয়।
কৃষি বিভাগের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট আবাদযোগ্য জমি ৮৫ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে সেচকৃত জমি ৭৪ লাখ ৪৮ হাজার হেক্টর। ৯ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমিতে আউশ, ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন এবং ৪৪ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদন হয়। প্রায় ৮ লাখ হেক্টর জমিতে গম ও ভুট্টা উৎপাদন হয়। দেশে কৃষক ধান উৎপাদনের দিকেই বেশি মনোযোগী হওয়ায় চাল উৎপাদন বেড়েছে। এক দশক আগেও যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে ডাল উৎপাদন হতো এখন তা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। যে ৩ লাখ ৬ হাজার মে.টন ডাল এখনো উৎপাদিত হয় তার এখন পুরো মওসুম।
পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর সবজি উৎপাদন প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে। আগে সবজি বলতে শীতকালীন সবজিকেই বুঝানো হতো। কিন্তু এখন সেখানে পরিবর্তন এসেছে। এখন বারো মাসই সবজি উৎপাদন হয়। ঢাকা শহরের সবজি চাহিদার শতকরা ৬০ ভাগই এক সময় বৃহত্তর যশোর অঞ্চল থেকে সরবরাহ হতো। কিন্তু এখন এর বাইরে উত্তরের কয়েকটি জেলা এবং ময়মনসিংহ ও বৃহত্তর ঢাকার পাশের জেলাগুলো থেকেও ঢাকায় সবজি সরবরাহ হয়। ৬০ থেকে প্রায় ২০০ জাতের সবজির মধ্যে প্রধান সবজি হয় প্রায় ২৫টি জাতের। বিপুল পরিমাণ এই সবজি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি হয়। বাংলাদেশের সবজি প্রধানত যায় মধ্যপ্রাচ্যের আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ কয়েকটি দেশে। করোনার প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরে ছাড়াও বিদেশে রফতানির ক্ষেত্রেও মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।
বাংলাদেশে কৃষি ফসল উৎপাদনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। কৃষিতে যান্ত্রিকতার কারণে সময় সাশ্রয় হলেও উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় পণ্য বিপণন ব্যবস্থায় কোনো আধুনিকায়ন হয়নি। আলুর মতো প্রয়োজনীয় ফসল সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ থাকলেও ব্যবসায়ীদের সমস্যার অন্ত নেই। কাঁচা সবজি ও তরকারি সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা আজো গড়ে ওঠেনি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে সব ক্ষতিই কৃষককেই বহন করতে হয়। চলমান করোনা সঙ্কটে তাই সবচেয়ে বেশি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।


আরো সংবাদ

প্রতিষ্ঠান খুলে শিক্ষার্থীদের বিপদে ফেলতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী (২৩৯৮২)নুতন মেসি লুকা রোমেরো (১৩০৬৪)ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর স্বাস্থ্যের অবনতি (১৩০৬২)গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র উদ্ভাবিত করোনা টেস্ট কিট অনুমোদনে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে লিগ্যাল নোটিশ (১১০৭৩)শরীরে করোনা উপসর্গ, ভর্তি নিল না কেউ, স্ত্রীর কোলে ছটফট করে স্বামীর মৃত্যু (৭৪০৭)মোহাম্মদ নাসিমের অবস্থার অবনতি, জরুরি অস্ত্রোপচার চলছে (৭৩৪৫)সাবধান! ভুলেও এই ছবিটি স্মার্টফোনের ওয়ালপেপার করবেন না (৬৩৮৪)যে কারণে 'এ পজিটিভ' রক্তে করোনা আক্রান্তের ঝুঁকি বেশি (৬২৮৭)বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ৬০ হাজার ছাড়ালো, নতুন মৃত্যু ৩০ (৬২১১)কেরালায় আনারস খেয়ে গর্ভবতী হাতির মৃত্যু নিয়ে সবশেষ যা জানা গেছে (৬০৬১)




justin tv