২৬ মে ২০২০

করোনাভাইরাস : যা আপনাকে করতে হবে

-

যেহেতু করোনাভাইরাসটি সারা দেশ এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, এ ভয়ানক রোগটি সম্পর্কে এবং রোগটির প্রশমিত করার বিষয়ে সচেতন থাকা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। রোগটির সংক্রমণ থেকে কিভাবে সুরক্ষা পাওয়া যাবে সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
করোনভাইরাস : লক্ষণ ও সংক্রমণ
কোভিড-১৯ এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে তার কিছু লক্ষণ চিহ্নিত হয়েছে। যেমন : অনেকে মনে করেন, হজমে সমস্যা হতে পারে। ডায়রিয়া ও অন্যান্য গ্যাস্ট্রেইনটেস্টিনাল সমস্যাগুলো এক্ষেত্রে প্রকট হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভাইরাসের আক্রমণের কারণে মুখের স্বাদ ও গন্ধ নেয়ার ক্ষমতা লোপ পায়। আপনাকে কখন হাসপাতালে যেতে হবে এবং কখন হাসপাতালে না গিয়ে বাড়িতেই থাকতে হবে, এ ক্ষেত্রে আপনাকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জরুরি অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে নিজের এবং অন্যের সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ভাইরাস থেকে কিছুটা হলেও অন্যদেরকে রক্ষা করা যায়।
করোনাভাইরাস কিভাবে আক্রমণ করে : সিডিসির মতে, করোনাভাইরাস উট, গবাদি পশু, বিড়াল এবং বাদুড়ের মধ্যে দেখা যায়। সংক্রামিত ব্যক্তির হাঁচি ও কাশি লেগে গেলে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে সংক্রমিত হতে পারে। যেমন : ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং অন্যান্য শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগগুলো যেভাবে ছড়িয়ে পড়ে, অনুরূপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সার্জন জেনারেল ডা: জেরোম অ্যাডমস বলেন, সংস্পর্শজনিত কারণে করোনার সংক্রমণ ক্ষেত্রে যে ঝুঁকি রয়েছে সেটি খুব একটা ভয়ের কারণ নয়। কারণ তাদের মধ্যে সংস্পর্শ সংক্রান্ত ঘটনা কম ঘটে এবং ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে তীব্রতা কম-বেশি হয়। কারো কোরো ক্ষেত্রে বেশি কারো কারো ক্ষেত্রে এর তীব্রতা কম হয়ে থাকে। চীনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তের গ্রুপের তারতম্যের ওপর করোনার আক্রমণ কম-বেশি হয়ে থাকে। যেমন : যাদের রক্তের গ্রুপ এ, তারা বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছে। অর্থাৎ তাদের করোনাভাইরাস সহজে আক্রমণ করছে। অন্য দিকে যাদের রক্তের গ্রুপ ও তাদের শরীর করোনাভাইরাসের আক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। অর্থাৎ তাদেরকে করোনা সহজে আক্রমণ করতে পারে না। এখন প্রশ্ন হলো, রক্তের গ্রুপ যাই হোক না কেন, এই ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আপনাকে কী কী করতে হবে। এ বিষয়ে কিছু কিছু বিষয় অনুশীলন করতে বলা হয়েছে।
অনুশীলন করতে হবে কয়েকটি মৌলিক বিষয় : কয়েকটি মৌলিক বিষয় এক্ষেত্রে অনুশীলন করতে বলা হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে বাড়ি এবং মেঝে জীবাণু ধ্বংসকারী উপাদান দিয়ে ধৌত করে পরিষ্কার রাখতে হবে। এই ভাইরাস কোনো লৌহ বা ধাতব কোনো কিছুর ওপর, কাঁচের ওপর, প্লাস্টিকের ওপর, বা মানব শরীরের ওপর ৯ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। সঠিক পদ্ধতিতে হাত ধৌত করতে হবে। হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হবে। বেসিনে বা চলন্ত (রানিং ওয়াটার) পানিতে অনেকক্ষণ হাত ডুবিয়ে রেখে ধুতে হবে। নিরাপদ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। পোশাক পরিচ্ছদের বিষয়ে এখনো কিছু বলা হয়নি। যদি সাবান বা পানি না পাওয়া যায় তবে স্যানিটাইজার হলো পরবর্তী সেরা বিকল্প। সেনিটাইজারে অবশ্যই ৬০% অ্যালকোহল থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য ও পরামর্শ : আমেরিকার ন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ফর ইনফেকশাস ডিজিসের ডিরেক্টর এবং ভ্যান্ডারবিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের প্রফেসর ড. উইলিয়াম শ্যাফনর বলেন, আমরা যে সার্জিক্যাল মাস্কগুলো ব্যবহার করি সেগুলো করোনাভাইরাস আটকাবে না। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে যতটা সম্ভব আপনার হাত বারবার মুখে স্পর্শ থেকে দূরে রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, এ কথা বলা যত সহজ করা তত সহজ নয়। কারণ হাত মুখের কাছে নেয়া ঠেকিয়ে রাখা কষ্টকর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে একজন মানুষ ঘণ্টায় ২৩ বার তার মুখে হাত দিয়ে স্পর্শ করে। আরেকটি প্রশ্ন হলো : কোন প্যাকেটের ভেতরে ভরে কি এই ভাইরাস এক স্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠিয়ে দেয়া যায়? সার্জন জেনারেল জেরোম অ্যাডামস বলেন, করোনাভাইরাস মেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া যায় এমন কোন প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এই মহামারীর হাত থেকে চিকিৎসক এবং রোগীদের বিশেষ করে মানবজাতিকে বাঁচাতে কিভাবে সাহায্য করা যেতে পারে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমেরিকার দাতব্য সংস্থা এবং তহবিল সংগ্রহকারীদের সহায়তার উপায় খুঁজে বের করতে হবে। খুঁজে বের করতে হবে নিরাপদে কেনাকাটা বিশেষ করে মুদি দোকানগুলোতে কেনাকাটা করার উপায়গুলো নিয়ে। নিরাপদ দূরত্বে থেকে কেনাকাটা করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সুপারমার্কেটগুলোতে যাতায়াত করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুটের দোকানগুলোর ডাইনিং রুম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সেখানে বসে খাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে খাবার সেখান থেকে কিনে বাসায় নিয়ে আসতে হবে। প্রবীণ নাগরিক এবং যাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ইমিউন সিস্টেম তত শক্তিশালী নয়, তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রচণ্ড ঝুঁকির মধ্যে আছে বলে বলা হয়েছে।
এক শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ বলেন, শিশুদেরকে সিজনাল ডিজিসগুলো থেকে সুরক্ষিত রাখতে পারলে কভিড-১৯ থেকে তাদেও রক্ষা করা যেতে পারে।
সিডিসি বলছে, গর্ভবতী মহিলাদের সংক্রমণ এড়াতে স্বাভাবিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যেমন : ঘন ঘন হাত ধোয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না আসা। আরো একটি প্রশ্ন, করোনাভাইরাস অ্যাজমা রোগীদের কিভাবে প্রভাবিত করে? আমেরিকার অ্যাজমা ও অ্যালার্জি ফাউন্ডেশন অনুসারে, কমন কোল্ড এবং ফ্লু যেমন অ্যাজমা আক্রান্তদের প্রভাবিত করে, করোনা কি সেভাবে তাদের প্রভাবিত করতে পারে?

 


আরো সংবাদ