১১ এপ্রিল ২০২০

জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি, বিপদও বেশি আমাদের

-

বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। ঘনত্ব বেশি বলে আমাদের বিপদও বেশি। ফলে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিপদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সতর্কতায় শিথিলতা প্রদর্শন করলে বেড়ে যাবে ঝুঁকি। ইতালি, স্পেন অথবা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নত হওয়া সত্ত্বেও তারা ভাইরাসটিকে শুরুতেই সামাল দিতে না পারায় কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়েছে। উন্নত প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা কনটেইন করতে পারেনি। তাদের সাথে আমাদের তুলনা করা চলে না। অতএব সাবধানতা অবলম্বন করা ছাড়া আমাদের খুব বেশি উপায় থাকবে না যদি আমাদের কমিউনিটি লেভেলে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘনবসতির দেশ হিসেবে সরকারের উচিত সার্ভিল্যান্স (নজরদারি) জোরদার করা। আইইডিসিআরের একটি সার্ভিল্যান্স সিস্টেম আছে। এটাকে আরো বেশি জোরদার করতে হবে। সাসপেক্টেড (সন্দেহজনক) কেস দেখামাত্রই তার নমুনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে করোনাভাইরাস আছে কি না। দক্ষিণ কোরিয়া খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ভাইরাসটিকে কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কারণ তারা শুরুতেই কঠোর পদক্ষেপগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। তারা লকডাউনে চলে যায় শুরুতেই। কমিউনিটি লেভেলে সন্দেহজনক কেস হলেই পরীক্ষা করে দেখেছে তারা। তা ছাড়া সন্দেহজনক কেস না হলেও পরীক্ষা করেছে তারা। ফলে দক্ষিণ কোরিয়া ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সম্ভব সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে ওয়ার্স্ট সিনারিও (সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি) বিবেচনা করেই। যদিও আমাদের অনেক সমস্যা রয়েছে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অনেক ঘাটতি রয়েছে। ‘সরকার উন্নত দেশের মতো সেবা দিতে পারবে’ এমন আশা করা ঠিক হবে না। সবচেয়ে বড় কথা আমাদের অবকাঠামো কী আছে এটা সম্বন্ধে সরকার অবগত; কিন্তু সরকারের উচিত এখনই একটি স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা করে এখন থেকেই যেন বাস্তবায়ন করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া। তত্ত্বাবধায়ক আমলে সোয়াইন ফ্লু বাংলাদেশে তেমনভাবে ছড়িয়ে না পড়লেও সে সময় দেশে ৬৪টি আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং একই সাথে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
উন্নত দেশগুলোতে বড় বড় হাসপাতালের অ্যানেক্স বিল্ডিং ব্যবহার হতো শুধু সংক্রামক রোগে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসার জন্য। আমাদের তেমন সামর্থ্য নেই; তবে আমরা আপৎকালীন ব্যবস্থা নিতে পারি। করোনাভাইরাসই হয়তো শেষ নয়। ভবিষ্যতে এমন প্রকৃতির এবং বিপজ্জনক আরো সংক্রামক রোগের আবির্ভাব হতে পারে। তার জন্য আগে-ভাগেই আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। করোনা থেকে হয়তো একসময় আমরা বেরিয়ে আসব; কিন্তু সামনে জিকার মতো বিপদ ওঁৎ পেতে আছে। সে জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। এ জন্য হাসপাতালে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে।
সবচেয়ে বড় বিষয় সচেতনতা। এটা সবার জন্য প্রযোজ্য। জনসাধারণের সচেতনতা হলো হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা। ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর হলে ঘরে থাকা। যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা যাবে না। কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। সাবান ভাইরাসটিকে ২০ সেকেন্ডের মধ্যে মেরে ফেলতে পারে। দামি স্যানিটাইজার না হলেও চলবে। ১ থেকে ২ মিটার দূর থেকে অপরের সাথে কথা বলতে হবে। কাছাকাছি ঘেঁষে কথা বলা যাবে না। এ মুহূর্তে পশু-পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। পশু-পাখির মধ্যে নানা ধরনের ভাইরাস থাকে। এসব ভাইরাস এদের ক্ষতি করে না; কিন্তু মানুষের জন্য খুব ক্ষতিকর। সে কারণে এসব থেকে দূরে থাকতে হবে, পোষা হলেও।


আরো সংবাদ