৩০ মার্চ ২০২০

বিএনপির মিছিলে হামলা রিজভীসহ আহত ১৫

-

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীর মিরপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে পুলিশের অতর্কিত লাঠিচার্জে মিছিলের নেতৃত্বে থাকা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অন্ততপক্ষে ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে মিরপুর ৬ নম্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের তিন থেকে চার শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মিছিলে নেতৃত্বদানকারী রুহুল কবির রিজভী জানান, মিরপুর ৬ নম্বর থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি কাঁচাবাজারের সামনে দিয়ে মেইন রোডের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে পুলিশ অতর্কিত তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। ফলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এতে রিজভী নিজে এবং ছাত্রদল-যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। লাঠিচার্জে আহত রিজভী একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ডান হাত এবং শরীরের অন্যান্য স্থানে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন বলে জানা গেছে। বিএনপির সিনিয়র নেতারা তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। এ ছাড়া আহতরা হলেনÑ বিএনপির ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুল হক, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, সহসভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নাসির উদ্দিন শাওন, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম তুহিন প্রমুখ। আহতরা সবাই বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে আয়োজিত একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের এমন হামলায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। আমাদের নেত্রী গুরুতর অসুস্থ। তার মুক্তির জন্য এই মিছিল। এটা সরকার পতনের কোনো মিছিল নয়। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হঠাৎ করেই পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। আমিসহ অনেকে আহত হয়েছেন। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি। পুলিশের এই হামলা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের এক নগ্ন উদাহরণ। এতে প্রমাণিত যে, দেশকে পুলিশি রাষ্ট্র বানানো হয়েছে। তিনি বলেন, হামলা মামলা দিয়ে বিএনপির গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমানো যাবে না। দেশের মানুষ বর্তমান অবৈধ সরকারের নিপীড়নে অতিষ্ঠ। কিন্তু সেদিন আর বেশি দূরে নয়; ইনশাআল্লাহ জনগণের আন্দোলনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হবেন। আর তখনই দেশের হারানো গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে, দেশের মানুষ মুক্তি ও নিরাপত্তা পাবেন। পুলিশি হামলায় আহতদের সুস্থতা কামনা এবং মনোবল না হারিয়ে আরো শক্তি নিয়ে বর্তমান ফ্যাসিস্ট শাসকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহবান জানান রিজভী।
মির্জা ফখরুলের নিন্দা : শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুলিশের এই বর্বরোচিত হামলায় নেতাকর্মী আহতের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমান বিনা ভোটের সরকার মানুষের কল্যাণে কাজ না করে ক্ষমতার দাম্ভিকতায় ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে গোটা দেশকে দখলে নিতে চায়। সরকার এখন আরো বেশি মাত্রায় দানবীয় রূপ ধারণ করেছে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে নিরবচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতার স্বাদ পেতে বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্যই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে মিরপুরে শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশি হামলা আবারো প্রমাণ করল দেশে এখন পুলিশি শাসন চলছে। রিজভীসহ আহত নেতাকর্মীদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন মির্জা ফখরুল।
ড্যাবের নিন্দা : মিছিলে পুলিশের হামলায় নেতাকর্মী আহতের ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি অধ্যাপক ডা: হারুন আল রশিদ ও মহাসচিব অধ্যাপক মো: আব্দুস সালাম। গতকাল সংগঠনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় গৃহীত এক প্রস্তাবে এই নিন্দা জানানো হয়।
ইউট্যাবের নিন্দা : পুলিশি হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। সংগঠনের বিবৃতিদাতা শিক্ষকদের অন্যতম হলেনÑ সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন খান প্রমুখ।
স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি : এ দিকে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার ঢাকা মহানরগরসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। বিক্ষোভ কর্মসূচি সফলের আহবান জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।


আরো সংবাদ