০৬ এপ্রিল ২০২০

আরভিনের সেঞ্চুরির পরও বাংলাদেশের স্বস্তি

-

বহু দিন পর স্পিননির্ভর নয়, বরং পেস ও স্পিন মিলিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল নতুন বল ভাগাভাগি করার জন্য আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেন ছিলেন একাদশে। স্পিনের দায়িত্ব ছিল তাইজুল ইসলাম ও নাইম হাসানের কাঁধে। দুই বিভাগ থেকে দুইজন দায়িত্ব নিয়ে বেশি দূর এগোতে দেননি জিম্বাবুয়েকে। স্পিনে নাঈম নিয়েছেন চার উইকেট আর পেসার রাহী নিয়েছেন দুই উইকেট। গতকাল জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে ২২৮ রানে দিন শেষ করে। ৯ রান নিয়ে ক্রিজে আছেন চাকাভা ও শূন্য রানে ডোনাল্ড ত্রিপানো। তাই প্রথম দিন শেষে কিছুটা স্বস্তিতে বাংলাদেশ।
আরভিনকে ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নাঈম হাসানের বলে সুইপ করতে চেয়েছিলেন। ব্যাটে খেলতে পারেননি, একটুর জন্য বল লাগেনি লেগ স্ট্যাম্পে। বল আঘাত হানে কিপারের প্যাডে। গ্লাভসে জমাতে পারলে স্ট্যাম্পড করার একটা সুযোগ পেতে পারতেন কিপার। তখন ৫৫ ওভারে জিম্বাবুয়ের স্কোর ৩ উইকেটে ১৩৮। আরভিনের রান ছিল ৫৫। সেখান থেকে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন আরভিন। শেষ পর্যন্ত ১০৭ রানে নাঈমের চর্তুথ শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক। ২২৭ বলে ইনিংসটি সাজিয়েছেন ১৩ বাউন্ডারিতে।
মাহমুদুল্লাহ বাদ পড়ায় ব্যাটিং লাইনআপ নিয়েও খুব একটা ভাবতে হয়নি। পাকিস্তান সফর না করা মুশফিক সে জায়গা নিয়েছেন। মূলত মেহেদী হাসান মিরাজের বদলেই সুযোগ হয়েছে নাঈম হাসানের। ২০১৮ সালে ঘরের মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সবার নজরে আসেন মিরাজ; কিন্তু গত বছর চার টেস্টে নেন মাত্র ছয় উইকেট। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ইনজুরির কারণে ছিলেন না দলে। ফলে বিসিএলে ৮ উইকেট নেয়ায় নাঈমের সুযোগ হয়। সুযোগ কাজে লাগান চার উইকেট নিয়ে। জিম্বাবুয়ের হয়ে এই ম্যাচে ডেবু হয় চার্লটন টিসুমার।
টসে জিতে ব্যাটিং নেয়ার ইচ্ছা ছিল মুমিনুল ও আরভিনের; কিন্তু সুযোগটি পেয়েছেন সফরকারী অধিনায়ক। ক্রেইগ আরভিন টসে জিতে ব্যাটিং বেছে নিয়েছেন। সাত ব্যাটসম্যানের বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়েই মনোযোগ দিয়েছিল। প্রথম আধা ঘণ্টা ভিন্ন কিছুরই জানান দিয়েছিল মুমিনুল বাহিনীর দুই পেসার আবু জায়েদ রাহী ও এবাদত হোসেন। মনে হয়েছে রান না দেয়ার পণ করে নেমেছিলেন। প্রথম চার ওভারে কোনো রান হয়নি। পরে একটি ওয়াইড। ৮ ওভারে মাত্র ১ রান করেছে সফরকারীরা। এর মাঝেই কেভিন কাসুজাকে (২) গালি অঞ্চলে নাঈমকে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন আবু জায়েদ। মাত্র ৭ রানেই ভেঙেছে উদ্বোধনী জুটি।
পরে বাংলাদেশী বোলারদের রীতিমতো টেনশনে ফেলে দিয়েছিলেন আরভিন ও মাসভাউরে। শুরুর ধাক্কা সামলে ১১১ রানের বড় জুটি গড়েন তারা। শেষতক চোখ রাঙানো এই শতরানের জুটিটি ভাঙেন নাঈম হাসান। ইনিংসের ৪৯তম ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাসভাউরকে ফিরতি ক্যাচ বানিয়েছেন এই অফস্পিনার। ১৫২ বলে ৯ বাউন্ডারিতে ৬৪ রান করেন তিনি। নিজের পরের ওভারে আবার জিম্বাবুয়ে দুর্গে আঘাত হানেন নাঈম। রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ধরা পড়েন ব্রেন্ডন টেলর। কপাল খারাপই বলতে হবে এই ব্যাটসম্যানের। বল ব্যাটে লাগার পর দুই-তিন ড্রপে স্ট্যাম্পে গিয়ে আঘাত হানে। ১১ বলে এক বাউন্ডারিতে ১০ রান করেন টেলর।
সম্ভাবনাময় এক জুটি ভাঙার পর আবার বাংলাদেশকে খানিকটা স্বস্তি দিলেন নাঈম হাসান। তার তৃতীয় শিকার সিকান্দার রাজা। রাউন্ড দা উইকেটে করা ডেলিভারি টার্ন করবে ভেবে খেলেছিলেন রাজা। কিন্তু নাঈমের বল টার্ন না করে বেরিয়ে যায় সোজা হয়ে। রাজার ব্যাটের কানায় লেগে বল জমা পড়ে কিপার লিটনের গ্লাভসে। ৬২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৮ করে বিদায় নিলেন রাজা। নাঈমের সর্বশেষ শিকার সেঞ্চুরি করা আরভিন। ৮৮.২ ওভারে আরভিন ফ্রন্টফুটে খেলতে গিয়েছিলেন। ব্যাট-প্যাড হয়ে স্ট্যাম্পে আঘাত করে বল। যাওয়ার আগে করে যান ১০৭ রান। এর আগে মারুমাকে (৭) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন রাহী।
জিম্বাবুয়ে প্রথম ৫০ করেছে ২২.২ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে। ১০০ করেছে ৪২.৩ ওভারে ওই এক উইকেটে। ১৫০ করেছে ৫৯.৫ ওভারে তিন উইকেট হারিয়ে। ৮০.২ ওভারে ২০০ রানে পৌঁছে জিম্বাবুয়ে।

 


আরো সংবাদ