৩১ মার্চ ২০২০

ভাষাশহীদদের স্মরণ শ্রদ্ধা ভালোবাসায়

ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে এক শিশু হ আবদুল্লাহ আল বাপ্পী -

যথাযোগ্য মর্যাদায় ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মাইকে বেজে ওঠে অমর একুশের কালজয়ী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিবর্গ, সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টের বিচারপতিরা, ঢাকার দুই মেয়র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভিসিসহ সরকারি ও বেসরকারি পদস্থ কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের সদস্যরা একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একুশের প্রথম প্রহর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের ঢল নামে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে সাথে সাধারণ মানুষের ঢল নামে শহীদ মিনারে। সবাই খালি পায়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে যান ভাষাশহীদদের প্রতি। শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া মানুষদের সাদা-কালো পাঞ্জাবি-শাড়িসহ পোশাকেও ছিল একুশের ছোঁয়া। বেশির ভাগের বুকেই ছিল কালো ব্যাজ, হাতে ফুল ও সাথে কালো ব্যানার-ফেস্টুন। ব্যানারগুলোতে লেখা একুশ মানে মাথা নত না করা, ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা, একুশে ফেব্রুয়ারি অমর হোক প্রভৃতি, ফেস্টুনে স্থান পেয়েছে অ আ ক খ বর্ণমালাÑ সব মিলিয়ে শোকাবহ পরিবেশ। সেই পরিবেশকে আরো গুরুগম্ভীর করে দেয় মাইকে বাজানো ভাই হারানোর গান।
গতকাল ছিল সরকারি ছুটির দিন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোকসজ্জা করা হয়। সকালে প্রভাতফেরিসহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি। এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আফজাল হোসেন, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়–য়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
একুশের প্রথম প্রহরে ভাষাশহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সেক্টরস কমান্ডার্স ফোরাম, গণফোরাম, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী যুবলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, বাংলা একাডেমি, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ গ্লোবাল অ্যাসোসিয়েশন, শিল্পকলা অ্যাকাডেমি, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, গণতন্ত্রী পার্টি, আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নির্মল রঞ্জন গুহ ও আফজালুর রহমান বাবুর নেতৃত্বে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কামরুল হাসান রিপনের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, জাতীয়তাবাদী নাগরিক দল, জাগপা, বাংলাদেশ ন্যাপ, ইউজিসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, আইডিইবি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়াও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, রয়্যাল ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ আর্মি ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি, বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, সাভার মডেল কলেজ, জিটিএফসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ-কলমা, জাতীয় নাগিরক সমাজ, সিটিজেন এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি, ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুল চিটাগাং, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন দল, সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে।
১৯৫২ সালের এই দিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে তরুণ ছাত্র-যুবকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল ঢাকার রাজপথ। তাদের সেই সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ জাতি হিসেবে আমাদেরকে আজ পৃথিবীর ইতিহাসে অবিস্মরণীয় করেছে। বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ২০০০ সাল থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে সারা বিশ্বে। আমাদের দেশে এটি ভাষাশহীদ দিবস হিসেবেও পরিচিত।
বাংলাদেশ ন্যাপ : বাঙালি যখনই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তখনই তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেছেন, বায়ান্নর একুশের চেতনায় সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এখনই প্রয়োজন। বায়ান্নর চেতনাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, লুটপাটের বিরুদ্ধে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়ে নতুনভাবে স্বপ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে অবশ্যই সরকারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে সেই স্বপ্নের অপমৃত্যু কোনোভাবেই না ঘটে। গতকাল মহান ভাষাশহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনডিপি মহাসচিব মো: মঞ্জুর হোসেন ঈসা, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: শহীদুননবী ডাবলু, মো: কামাল ভূঁইয়া, মহানগর সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো: নজরুল ইসলাম, যুব ন্যাপ সমন্বয়কারী বাহাদুর শামিম আহমেদ পিন্টু প্রমুখ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী বলেছেন, রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিনিময়ে অর্জিত সেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য স্বৈরাচারী সরকারের পুলিশের গুলিতে শহীদ হন সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, অলিউল্লাহ ও শফিক প্রমুখ। আজো দেশ, জাতি এবং দেশের মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিদেশী ভাষার আগ্রাসনে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা হয়নি। তাই সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু এবং মহান ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের চেতনায় জালিম সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
গতকাল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইসলামে মাতৃভাষার গুরুত্ব’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর কে এম গোলাম মহিউদ্দীন বলেছেন, বায়ান্নোর ভাষা আন্দোলনে আমাদের দেশপ্রেম চেতনার ভিত্তি রচিত হয়েছিল। এই দেশপ্রেম চেতনা অটুট থাকলে দেশ অনেক এগিয়ে যাবে। এই দেশ আমাদের, আর এই দেশকেই আমাদের সবাইকে অকৃত্রিম ভালোভাসতে হবে।
গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) দিনব্যাপী অমর একুশের আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর কে. এম গোলাম মহিউদ্দীন এসব কথা বলেন। আইআইইউসির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী আজাদীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ রিয়াজ মাহমুদ, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো: মাশরুরুল মওলা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইআইইউসির রেজিস্ট্রার কর্নেল (অব:) মোহাম্মদ কাসেম, পিএসসি। অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে আইআইইউসির ট্রেজারার, ডিনগণ, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, অ্যাডিশনাল এসপি (নর্থ) এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইআইইউসির ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর কে. এম গোলাম মহিউদ্দীন বলেন, ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের কৃতী সন্তান প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম ‘তমদ্দুন মজলিস’-এর মাধ্যমে প্রথম বাংলা ভাষার আন্দোলনের সূচনা করেন। বঙ্গবন্ধুসহ আরো অনেকেই বাংলা ভাষার জন্য সংগ্রাম করে কারাবন্দী হয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় আবেগের চেয়ে আন্তরিকতা বেশি প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেছেন, বাংলা ভাষার ইতিহাস রক্তিম ইতিহাস, এই ইতিহাসকে কেন্দ্র করে বাংলা ভাষা দুনিয়াব্যাপী ছড়িয়ে গেছে। ভাষা আন্দোলন আমাদের স্বাধীনতার স্বাদ দিয়ে পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের দেশ হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, মনীষী মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী চট্টগ্রামে একটি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় করার পরিকল্পনা করেন যার স্থান ছিল আনোয়ারায়, কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের প্রথিতযশা লোকদের নিয়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়। তখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তহবিল এনে এই আধুনিক অডিটোরিয়াম, কেন্দ্রীয় মসজিদ ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিসহ আরো অনেক ভবন নির্মাণ করা হয়।
বগুড়া অফিস জানায়, বগুড়ায় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, প্রভাতফেরি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে সরকারি বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান।
শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা বিএনপি, বগুড়া প্রেস ক্লাব, জাতীয় পার্টি, জাসদ, বাসদ, জেএসডি, সিপিবি, চেম্বার অব কমার্স, পিবিআই, এপিবিএন, সিআইডি, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন, সিভিল সার্জন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, কর কমিশনার বগুড়া কর অঞ্চল, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সরকারি ও বেসরকারি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। শহীদের স্মরণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম প্রহরে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে খুলনা মহানগর ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, খুলনার মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জেপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও কেএমপি কমিশনার, জেলা প্রশাসন, চেম্বার অব কমার্স, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, খুলনা প্রেস ক্লাব, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ পেশাজীবী সংগঠন এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ভবন এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। সকালে নগরভবনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা জানান, সিরাজগঞ্জে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা: হাবিবে মিল্লাত মুন্না, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ড. ফারুখ আহম্মেদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পুলিশ প্রশাসন হাসিবুল আলম, পৌরসভার পক্ষ থেকে আব্দুর রউফ মুক্তা শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাব, আনসার বাহিনী, এলজিইডিসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শরীয়তপুর সংবাদদাতা জানান, শরীয়তপুরে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুজ্জামান, শরীয়তপুর প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সহযোগী সংগঠন, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষসহ সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহেরের নেতৃত্বে একটি র্যালি বের হয়।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার সাভার মডেল কলেজে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা, দেশাত্মবোধক গান প্রতিযোগিতা, বিভাগভিত্তিক দেয়ালিকা প্রকাশ ও শহীদদের জন্য দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলেজ অধ্যক্ষ মো: তৌহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সহকারী অধ্যাপক মিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক দিলারা খানম, আমিনুল ইসলাম, সৈয়দ আব্দুল আউয়াল মাসুম ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে নুসরাত জাহান জ্যোতি, অনয় বিশ্বাস প্রমুখ।
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা জানান, ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজের শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। শহরের থানা রোডের দলীয় কার্যালয় থেকে বিপুল নেতাকর্মী সাথে নিয়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজের নেতৃত্বে র্যালিটি বের হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ডা: নুরুল ইসলাম, তবিবুর রহমান মিনি, পৌর বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম তোতা, সদস্য শামছুল ইসলাম, মো: আলী জিন্নাহ, শহিদুল ইসলাম সাইদুল, ইলিয়াস রহমান মিঠু, জবেদ আলী, মোস্তফা কামাল টিটো, মারুফ বিল্লাহ, মৌসুম উদ্দিন শোভন।
সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে ও গতকাল শুক্রবার সকালে ভাষা শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে সোনারগাঁও উপজেলা চত্বরে শহীদ বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সোনারগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, স্বাচিপের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ডা: আবু জাফর চৌধুরী বিরু, সোনারগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল মামুন, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের জনসাধারণ।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে কবিতা পাঠের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার ভুলতা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি কবি সাংবাদিক আলম হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলামিস্ট ও গবেষক লায়ন মীর আব্দুল আলীম, অধ্যক্ষ ড. আব্দুল আউয়াল মোল্লা, পিয়ারা বেগম, সাংবাদিক আশিকুর রহমান হান্নান, সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক মাহবুব আলম প্রিয় কবিতা পাঠে অংশ নেন।
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানান, মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রাম শহীদ মিনারে নামে মানুষের ঢল নামে।
রাত ১২টা এক মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বিউগলের সুর ও সশস্ত্র সালামের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন শহীদ বেদিতে পু®পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর ফুল দেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও কাউন্সিলররা। এ সময় আসন্ন চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। পরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ, ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, পুলিশ কমিশনার মো: মাহাবুবর রহমান, জেলা প্রশাসক মো: ইলিয়াস হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
জয়পুরহাট সংবাদদাতা জানান, একুশের প্রথম প্রহরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবীর পিপিএম। জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জয়পুরহাট প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজশাহী ব্যুরো জানান, রাজশাহীতে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন রাজশাহী সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনসহ সর্বস্তরের জনগণ। এ সময় রাজশাহী কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক হবিবুর রহমানসহ অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী কলেজ শহীদ মিনারে পুষ্পস্তর্বক অর্পণ করে মহানগর আওয়ামী লীগ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা। পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, জেলা প্রশাসক মো: হামিদুল হক, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) এ কে এম হাফিজ আক্তার ও রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) মো: শহিদুল্লাহ।
ছালেহ নূর ডিগ্রি কলেজ : চট্টগ্রামের পটিয়া লাইন ছালেহ নূর ডিগ্রি কলেজের উদ্যোগে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে একুশে দিবস উদযাপন করা হয়। কলেজের অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভাপতির ভাষণে তিনি বলেন, বাঙালি চিরকালই সংগ্রামী জাতি। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের মাধ্যমে বাঙালি প্রমাণ করেছে বাঙালি বীরের জাতি। বাঙালি হারতে জানে না, পরাজিত হতে জানে না। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক সত্যানন্দ বড়–য়া, অধ্যাপক মাহমুদ নূর আনোয়ারী, অধ্যাপক আযম খান, অধ্যাপিকা এ পি সাহা, অধ্যাপিকা সুস্মিতা মজুমদার, অধ্যাপিকা কাশফিয়া নওশীন, প্রদর্শক অশোক চৌধুরী, ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাসিফা, ধ্রুব মিত্র, লিপিকা, নুসরাত বষব্য রাখেন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন লিপিকা, কারিশমা, তারিন, পূজা, আঁখি ধর, রুমি সরকার।


আরো সংবাদ