৩১ মার্চ ২০২০

জিম্বাবুয়ে বলেই জয়ের আশা টেস্ট শুরু আজ

-

সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে এ পর্যন্ত মোট আটটি সিরিজে মুখোমুখি হয় টাইগাররা। এর মধ্যে দু’টি সিরিজে বাংলাদেশ ও চারটি জিতেছে জিম্বাবুয়ে। বাকি দু’টি সিরিজ ড্র হয়েছে। এই আট সিরিজে মোট ১৬টি ম্যাচের মধ্যে জিম্বাবুয়ের জয় সাতটি। আর বাংলাদেশের ছয়টি। বাকি তিন টেস্ট ড্র। তবে বাংলাদেশের জন্য বড় অনুপ্রেরণা শেষ ৬টি ম্যাচের ৫টিতে জয় পেয়েছে টাইগার বাহিনী। জিম্বাবুয়ে বলেই জয়ের আশা বাংলাদেশের। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ সকাল সাড়ে ৯টায় ৯ নাম্বার সিরিজের একমাত্র টেস্টে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ টেস্টে ২০১৮ সালে মিরপুরে প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক। মুমিনুল খেলেছিলেন দেড় শ’ ছাড়ানো ইনিংস। দ্বিতীয় ইনিংসে মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত সেঞ্চুরি। তিনি এবার দলে নেই। সাকিব না থাকায় টেস্ট ক্রিকেটের ১৩ বছরের অভিজ্ঞতা হারিয়ে বসেছে বাংলাদেশ। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহীম ছাড়া দলে কোনো অভিজ্ঞ টেস্ট প্লেয়ার নেই। মুমিনুল হকের বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে অনভিজ্ঞ টেস্ট দল বলছেন কোচ ডোমিঙ্গো। তার মতে, এ দলের অভিজ্ঞ হতে আরো সময় দরকার।
গতকাল সকালে টিম বাস থেকে নেমে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেছেন অন্যরা। মুশফিকুর রহীম ততক্ষণে পৌঁছে গেছেন শেরেবাংলার সেন্টার উইকেটে। ব্যাট ছাড়াই ব্যাটিং শ্যাডো করলেন। বাংলাদেশ দলের অনুশীলনের মধ্যমণি ছিলেন মুশফিক। মাঠে সবাই গোল হয়ে দাঁড়িয়ে দুই দফায় হয় টিম মিটিং। দ্বিতীয়বার সবাইকে সামনে রেখে মুশফিক কথা বলেন মিনিট তিনেক। নিরাপত্তা শঙ্কায় পাকিস্তান সফরে না যাওয়া মুশফিক দলের বড় ভরসা মুশফিক মাঠে নামবেন আজ। অপর দিকে রয়েছেন জিম্বাবুয়ে দলের সেরা ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর। দুই দলই তাকিয়ে থাকবে দলের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক ও টেইলরের দিকে।
এই সংস্করণে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান মুশফিক। ৮ টেস্টে করেছেন ৬৪৩ রান, গড় ৪৫.৯২। এর চেয়ে বেশি গড় মুশফিকের আছে শুধু ভারতের বিপক্ষে। দুই দলের মধ্যে খেলা টেস্টে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় মুশফিকের ওপরে আছেন শুধু হ্যামিল্টন মাসাকাদজা ও টেইলর। হাজার রান আছে কেবল টেইলরের। মাসাকাদজা ব্যাট-প্যাড তুলে রেখে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের ডিরেক্টর হয়েছেন। ৩৪ বছর বয়সী টেইলরও আছেন ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। তবে বাংলাদেশকে পেলেই গর্জে ওঠেন তিনি। ১০ টেস্টে ৬৪.৯৩ গড়ে করেছেন ১০৩৯ রান। সবশেষ টেস্টে করেন জোড়া সঞ্চুরি। তারপরও অবশ্য জেতেনি তার দল, সেই ম্যাচেই ডাবল সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশকে জয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন মুশফিক। টেইলরের প্রায় ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৩০ টেস্টের ১০টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। আর কোনো দলের বিপক্ষে নেই চারটির বেশি ম্যাচ। ক্যারিয়ারের ৬ সেঞ্চুরির ৫টিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। জোড়া সেঞ্চুরি আছে দুই ম্যাচে। যার প্রথমটা ২০১৩ সালে। ক্যারিয়ার সেরা ১৭১ রানের ইনিংসও বাংলাদেশের বিপক্ষেই।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাশরাফির ফেরাটা আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে বলে জানালেন মুমিনুল হক, ‘একটা দলে সিনিয়র খেলোয়াড় না থাকলে কিন্তু দুশ্চিন্তা থাকে। মুশফিক ভাই এসেছেন, অধিনায়ক হিসেবে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক। আমি আত্মবিশ্বাসী।’
প্রধান কোচ ডোমিঙ্গো জানালেন, ‘আমরা সম্ভবত দুই জন পেসার নিয়ে নামছি। ¯্রফে একজন সিমার নিয়ে মাঠে নামলে দলের খুব উপকার হয় বলে মনে হয় না। তিন জন পেসার খেলাতে পারলে সেটি হতো সবচেয়ে উপযুক্ত, যদি এমন কেউ থাকত যে সাত নম্বরে ব্যাট করতে পারে। কিন্তু সে রকম কেউ তো নেই।’

 


আরো সংবাদ