৩১ মার্চ ২০২০

অবৈধ ঘোষণার রায় প্রকাশ জুয়া দক্ষতার পরিবর্তে ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল হাইকোর্ট

-

অর্থের বিনিময়ে রাজধানীর ১৩ অভিজাত ক্লাবে হাউজি, ডাইস ও তাস খেলা অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, যেসব খেলার ফলাফল দক্ষতার বদলে ‘চান্স’ বা ভাগ্য দিয়ে নির্ধারিত হয়, সেগুলোই জুয়া খেলা। হাউজি, ডাইস, থ্রি-কার্ড, ফ্লাস, ওয়ান টেনসহ এ জাতীয় অন্যান্য খেলা দক্ষতার পরিবর্তে ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। আইনে এসব খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব খেলার আয়োজন করা অপরাধ। যারা এই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তারা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধী। বৃহস্পতিবার রায় প্রদানকারী হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো: মাহমুদ হাসান তালুকদারের স্বাক্ষরের পর ২৫ পৃষ্ঠার এ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
রায়ে জুয়া খেলা নিয়ে মহাগ্রন্থ আল কুরআনে যে বিধিনিষেধ আলোচিত হয়েছে তা রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আল বাকারার ২১৯ এবং সূরা মায়েদার ৯০ ও ৯১ নম্বর আয়াত রেফারেন্স হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রায়ে বলা হয়েছে, আইনের চোখে সবাই সমান। যদিও ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সদস্যরা চিত্ত-বিনোদনের উদ্দেশ্যে এই খেলা খেলেন। তাদের সদস্যদের পর্যাপ্ত পরিমাণ আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও তারা সমাজের দরিদ্র শ্রেণী থেকে ভিন্ন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, ক্লাবগুলোতে টাকা বা কোনো অর্থ ছাড়া যদি ওইসব খেলা পরিচালনা করা হয়, আর তাতে যদি অংশগ্রহণকারীরা পরিতৃপ্তি পান তবে তা খেলা যাবে।
ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে হাউজি, ডাইস ও তাস খেলার বিরুদ্ধে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি রায় দেন আদালত।
২০১৬ সালে ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবে টাকার বিনিময়ে হাউজি, ডাইস ও তাস খেলা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সামীউল হক ও রোকন উদ্দিন মো: ফারুক। রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ৪ ডিসেম্বর ঢাকা ক্লাবসহ দেশের ১৩টি অভিজাত ক্লাবকে টাকার বিনিময়ে হাউজি, ডাইস ও তাস খেলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ ছাড়াও এ ব্যাপারে রুল জারি করা হয়।
রুলে অভ্যন্তরীণ খেলার নামে কার্ড, ডাইস ও হাউজি খেলার বেআইনি ব্যবসা আয়োজনকারীদের বিরুদ্ধে কেন যথাযথ পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা ক্লাবের আবেদনের পর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন এবং রুল নিষ্পত্তিতে আদেশ দেন।
ক্লাবগুলো হলো- ঢাকা ক্লাব, উত্তরা ক্লাব, গুলশান ক্লাব, ধানমন্ডি ক্লাব, বনানী ক্লাব, অফিসার্স ক্লাব ঢাকা, ঢাকা লেডিস ক্লাব, ক্যাডেট কলেজ ক্লাব, চিটাগাং ক্লাব, চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাব, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব, সিলেট ক্লাব ও খুলনা ক্লাব।
হাইকোর্টের রায়ের পর ওই রায় স্থগিত চেয়ে ঢাকা ক্লাব ও গুলশান ক্লাব আপিল বিভাগে আবেদন করেছে।


আরো সংবাদ