০৬ এপ্রিল ২০২০

টাকা না থাকলে এতগুলো উন্নয়নকাজ কিভাবে করছি

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে সমাপনী বক্তব্য রাখছেন হপিআইডি -

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমাদের ব্যাংকে টাকা নেইÑ এ কথা সত্য নয়। টাকা না থাকলে আমরা এতগুলো উন্নয়ন কাজ কিভাবে করছি। আমাদের ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ রয়েছে, যা দিয়ে আমাদের ৬ মাসের খাদ্য কেনা যাবে।
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা ও ষষ্ঠ অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গত ৯ জানুয়ারি শুরু হওয়া অধিবেশনটি ২৮ কার্যদিবসে গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী ৩০ মিনিটের বক্তব্যে সংসদে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সাথে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের বিষয়টি আজ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
টাকার সঙ্কট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই আমাদের ১৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। টাকা আছে বলেই আমরা অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে তিনি ৬৮৫টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে ২০ দশমিক ৫ ভাগে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছি। এটাও দেশের জন্য একটা বড় অর্জন।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটি আজ কারো কাছে লুকায়িত নেই। এক সময় দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব ছিল। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না। আমরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম। এক দশকে আমরা বাংলাদেশের অবস্থার পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, কেউ আমাদের উন্নয়ন না দেখলে তা তাদের দেখার ভুল। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দেশের মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল ভোগ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে মাঝে মধ্যে কিছু সমস্যা দেখা দেয়। আমরা সেগুলো মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিই। যেমন করোনাভাইরাসের বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি যাতে চীনে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস বাংলাদেশে বিস্তার লাভ করতে না পারে। ডেঙ্গু নিয়ে একটা সমস্যা দেখা দিয়েছিল। মশার ব্যাপারে আমাদের নিজেদের সচেতন থাকতে হবে। নিজেদের বাড়িঘর আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে যাতে মশা জন্মাতে না পারে। মশা যদি জন্মাতেই থাকে তাহলে তাতো মুখে ডুকবেই।
ধর্ষকরা পশুরও অধম উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা শিশু-কিশোরীদের ধর্ষণ করে তারা মানুষ নামের পশু, তারা পশুরও অধম। তাদেরও তো মা-বোন-মেয়ে আছে। এমন জঘন্য চরিত্রের মানুষ কিভাবে হতে পারে? জঙ্গিবাদ-মাদক-ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি। দেশবাসীও তাদের ধরিয়ে দিতে সহযোগিতা করবেন বলে আশা করি।
বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু রাষ্ট্রপতির ভাষণ যদি উনি ভালো করে পড়েন, তবে হতাশ না হয়ে উজ্জীবিত হবেন।
বিএনপি-জামায়াত-জাতীয় পার্টি সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখনই যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা আওয়ামী লীগকে নির্যাতন করেছে। জেনারেল এরশাদ ক্ষমতায় থাকতে ’৮৮ সালে আমাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মুজিববর্ষ উদযাপন করব। জাতির পিতার নাম এক সময় ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছিল।


আরো সংবাদ