২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

সংসদে ঋণখেলাপি ৮২৩৮ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ

খেলাপি ঋণ ৯৬ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা
-

ঋণখেলাপি আট হাজার ২৩৮ প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল গতকাল সংসদকে জানিয়েছেন, এদের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৯৮৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশে কার্যরত সকল ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসভিত্তিক হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ১০৭ পৃষ্ঠাবিশিষ্ট তলিকা দেন মন্ত্রী। তিনি আরো জানান, এই সময়ে পরিশোধিত ঋণের পরিমাণ ২৫ হাজার ৮৩৬ কোটি চার লাখ টাকা। সংসদে প্রশ্নোত্তরে আহসানুল ইসলাম টিটুর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।
বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রশ্নোত্তর টেবিএল উপস্থাপিত হয়।
মন্ত্রীর দেয়া তালিকার শুরুতে স্থান পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেড, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড, রূপালী কম্পোজিট লেদার ওয়্যার লিমিটেড, রাইজিং স্টিল লিমিটেড, মোহাম্মদ ইলিয়াস ব্রাদাস প্রা: লিমিটেড, এস এ অয়েল রিফাইনারি লিডিটেড, সামান্নাজ সুপারওয়েল লিমিটেড, কোয়ান্টাম পাওয়ার সিস্টেমস লিমিটেড, এ্যালোয় কোট লিমিটেড, গ্লাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড, বিল্ড ট্রেড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, বেনেটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, কম্পিউটার সোর্স লিমিটেড, রুবাইয়া ভেজিটেবল অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, বাংলা লাইন কমিউনিকেশনস লিমিটেড, লেক্সকো লিমিটেড, আলপা কম্পোজিট টাওয়েলস লিমিটেড, সুপ্লোভ রোটোর স্পিনিং লিমিটেড, বেল কনস্ট্রাকশন সান বিএইচডি লিমিটেড, চৌধুরী নিটওয়্যারস লিমিটেড, জেকোয়ার্ড নিটেক্স লিমিটেড, ইব্রাহীম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, সুপ্রোভ কম্পোজিট নিট লিমিটেড, হলমার্ক ফ্যাশন লিমিটেড, ফেয়ার ইয়ার্ন প্রসেসিং লিমিটেড, ফেয়ার ট্রেড ফেব্রিকস লিমিটেড, বাংলাদেশ সুপার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, শাহরিস কস্পোজিট টাওয়েল লিমিটেড, লিটোন ফেব্রিকস লিমিটেড, সুরোজ মিয়া জুট স্পিনিং মিলস লিমিটেড, পদ্মা পলি কটন নিট ফেব্রিকস লিমিটেড, আয়মান টেক্সটাইল অ্যান্ড হোসিয়ারি লিমিটেড, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড, এস কে স্টিল, হ্যালপ লাইন রিসোর্সেস লিমিটেড, নূরানী ডায়িং অ্যান্ড স্যুয়েটার লিমিটেড, ভারগো মিডিয়া, বিসমিল্লাহ টাওয়েল লিমিটেড, আনোয়ারা মান্নান টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, লাইট হাউজ ইনফ্রাস্টাকচার লিমিটেড, ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেড, সালেহ কার্পেট মিলস লিমিটেড, ইউনাইটেড এ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, টি অ্যান্ড ব্রাদার নিট কম্পোজিট লিমিটেড, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড, করোলা করপোরেশন বিডি লিমিটেড, রহমান স্পিনিং মিলস লিমিটেড, ইসলাম ট্রেডিং কনসোর্টিয়াম লিমিটেড, দি ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফাকচারিং কোম্পানি লিমিটেড, ড্রিম স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেড, মাদারীপুর স্পিনিং মিলস লিমিটেড, হাবীব স্টিলস লিমিটেড, এম এইচ গোল্ডেন জুট মিলস লিমিটেড, সেমারসিটি জেনারেল ট্রেডিং লিমিটেড, ইব্রাহিম কনসোর্টিয়াম লিমিটেড, লামিসা স্পিনিং লিমিটেড, সোনালী জুট মিলস লিমিটেড, চৈতি কম্পোজিট লিমিটেড, এম শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড স্টিল লিমিটেড, এডভান্স ডেভেলপমেন্ট টেকনোলজিজ লিমিটেড, এমবিএ গার্মেন্টস অ্যান্ড টেক্সাইট লিমিটেড, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এয়াওয়েজ (বিডি) লিমিটেড, দি এরিস্ট্রোক্রেট এগ্রো লিমিটেড, উবার্টি ফ্যাশন ওয়্যারস লিমিটেড, এক্সপার টেক্স লিমিটেড, সাদ মূসা ফেব্রিকস লিমিটেড, ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল লিমিটেড, ওয়াল মার্ট ফ্যাশন লিমিটেড, আমাদের বাড়ী লিমিটেড, এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রা:) লিমিটেড, সুপ্রোভ ম্যালেঞ্জ স্পিনিং ল, এটলাস গ্রীনপ্যাক লিমিটেড, হিমালয়া পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেড, এইচআরসি শিপিং লিমিটেড, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেড।
১০ বছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ১১ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা : নিজাম উদ্দিন হাজারীর (ফেনী-২) এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার জানুয়ারি ২০০৯ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক ও তফসিলি ব্যাংক থেকে মোট ১১ লাখ ৪২ হাজার ৯৬৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে এবং ৯ লাখ ৯৮ হাজার ৪৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে। অর্থাৎ এই সময়কালে সরকার মোট এক লাখ ৪৪ হাজার ৫০৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা নিট ঋণ গ্রহণ করেছে।
ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে : মো: শাহে আলমের (বরিশাল-২) এক প্রশ্নের জববে আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। নগদ জমা সংরক্ষণ ও সহজ বিনিয়োগযোগ্য সম্পদ সংরক্ষণের পরও ব্যাংকগুলোর কাছে পর্যাপ্ত অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে। এরূপ তারল্যের পরিমাণ জানুয়ারি ২০১৯ মাসের ৬৭ হাজার ৬০১ কোটি টাকা থেকে ৪৮.৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে নভেম্বর ২০১৯ মাসে এক লাখ ৪৯২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
ব্যাংক পরিচালকদের অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ এক লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা : আহসানুল ইসলাম টিটুর তারকাচিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রৈমাসিকের তথ্য অনুযায়ী ২৫টি ব্যাংকের পরিচালকবৃন্দ নিজ ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করেছেন। তাদের গৃহীত ঋণের বকেয়া স্থিতির পরিমাণ এক হাজার ৬১৪ কোটি ৭৭ লাখ ১৭ হাজার টাকা, যা মোট ঋণের ০.১৬৬৬ শতাংশ। এ ছাড়া ব্যাংকের পরিচালকবৃন্দ নিজ ব্যাংক ছাড়া অন্য ৫৫টি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন তাদের গৃহীত ঋণের বকেয়া স্থিতির পরিমাণ এক লাখ ৭১ হাজার ৬১৬ কোটি ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, যা ব্যাংকগুলোর মোট প্রদেয় ঋণের ১১.২১ শতাংশ।

 


আরো সংবাদ