০৯ এপ্রিল ২০২০

একান্ত সাক্ষাৎকারে মাইনুল হোসেন খান নিখিল বঙ্গবন্ধুর সোনার মানুষ খুঁজছি

-

আওয়ামী যুবলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেছেন, দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে বঙ্গবন্ধু যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে যুবলীগ ১৯৭২ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে। আমরাতো শুধু রাজনীতি করি না। আমরাতো কর্মও করি। আমরা যেখানেই কর্ম করি না কেন সেখান থেকেই আমরা মানুষের কাজে লাগতে পারি। যেমন আমি ব্যবসা করি, সেখানে শ্রমিক আছে আমরা তাদের কল্যাণে কাজ করি। আমার উপার্জিত অর্থ থেকে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার জন্য কাজ করি। যুবলীগের কাজটা শুধু রাজনীতিতে নয়, মানুষের কল্যাণেও যুবলীগ কাজ করছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার জন্য সোনার ছেলে খুঁজতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনিকে বলেছিলেন। আমরা সেই সোনার ছেলে খুঁজছি। যাতে দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা কাজ করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীও চাচ্ছেন, সব শ্রেণী পেশার যুবকই সোনার ছেলে হিসেবে গড়ে উঠুক।
রাজধানীর মিরপুরের কাজীপাড়ার কার্যালয়ে সম্প্রতি নয়া দিগন্তের সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাইনুল হোসেন খান নিখিল ১৯৯১ সালে যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। তৎকালীন রাজধানীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০০১ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ২০১২ সালে আওয়ামী যুবলীগের ষষ্ঠ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। গত বছরের ২৩ নভেম্বর ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তার সাথে আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান শুদ্ধি অভিযান, যুবলীগ নিয়ে তার ভাবনা ও পরিকল্পনা এবং চ্যালেঞ্জ, নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাশা, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সিটি নির্বাচনে যুবলীগের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হয়।
যুবলীগের নতুন দায়িত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রতিক্রয়ায় মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, শেখ ফজলে শামস পরশ একজন ভালো ও উদার মনের মানুষ, তিনি খুব মেধাবী। দায়িত্ব পাওয়ার পর মনে হচ্ছে, পরশ ভাইয়ের সাথে যুবলীগের রাজনীতিটা মনোযোগসহকারে করা যাবে। কারণ তিনি রাজনীতিটা ভালো বোঝেন। তার সাথে রাজনীতি করলে অনেক কিছু শিখতে পারব। ইতোমধ্যে আমরা মানব সেবার কাজ শুরু করেছি। রাজধানীর অসহায় দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে নিয়মিত কম্বল বিতরণ করছি।
ঢাকা সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম দিন থেকেই আপনারা দেখেছেন সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছি। সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি কিন্তু যুবলীগের সব সময় ছিল। মহানগরের দুই সিটিতে ইতোমধ্যে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঘরে ঘরে যাওয়া শুরু করেছে। সদাসর্বদা মিছিল করছে। কখনো উত্তর কখনো দক্ষিণে আমরা গণসংযোগ করছি। আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আসলে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা বেড়েছে। একদিকে তিনি দেশেকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, আরেক দিকে উনি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাচ্ছেন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ রেখে যেতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে আগে নিজ দল থেকে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন। এটা বড় ধরনের একটি সাহসী পদক্ষেপ। এই বিষয়টা মানুষ শুধু স্বাগত জানায়নি, প্রধানমন্ত্রীর প্রতি মানুষের অগাধ বিশ্বাস ও আস্থা আরো বেড়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা সিটিতে যদি নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হতে না পারে সে ক্ষেত্রে উন্নয়নের গতিপথ থেমে যেতে পারে। কারণ গত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও সাদেক হোসেন খোকা মেয়র ছিলেন। তখন কিন্তু কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ফাইল একবার উপর থেকে নিচে নামলেই তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। উপর থেকে অনুমোদন না দিয়ে ফাইল নিচে পাঠালে কোনো কাজ হয় না। কোনো টেন্ডার হয় না, উন্নয়নও হয় নাই।
থানা-ওয়ার্ডের কমিটি গঠন প্রসঙ্গে মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, আপাতত সব কমিটি গঠন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সারা দেশের প্রত্যেকটা ইউনিটের কমিটি আমাদের দফতরে জমা দিতে বলেছি। আমরা এই নির্দেশনা দিয়েছি, তারা কোনো ওয়ার্ডের কমিটি গঠন করতে হলে ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জীবন বৃত্তান্ত আমাদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তারা কাকে সভাপতি ও সাধারণ করছে আমরা জানতে চাই। কারণ তারা মাদকসেবী, নাকি অনুপ্রবেশকারী নাকি বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মী। তারপর আপনারা কমিটি গঠন করেন। করার অধিকার তাদের কিন্তু আগে আমাদের জানাতে হবে। ঢাকা মহানগরে মহানগরে থানা কমিটি নাই, আপনারা করবেন কি না- এমন এক প্রশ্নের জবাবে মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, থানা কমিটি মহানগরে আগে ছিল। আগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মহানগরে থানা কমিটি থাকবে না। সেখান থেকে বাতিল হয়ে যায়। আমরা আবার সিদ্ধান্ত নিয়েছি থানা কমিটি আবার চালু করার। সারা দেশে থানা কমিটি আছে। শুধু ঢাকা মহানগরে নাই।
যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে কারা আসছে জানতে চাইলে নিখিল বলেন, ছাত্রলীগ থেকেতো আসবে, আমরা এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আওয়ামী লীগ থেকে অনেকেই যুবলীগ করতে আগ্রহী আছেন। এখানে ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ডাক্তারসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ চাচ্ছে যুবলীগের আসতে। সংগঠনটা আমরা এভাবে সাজাতে চাই, কেউ আন্দোলন সংগ্রামে কাজ করবে, কেউ মিছিল মিটিংয়ে কাজ করবে, কেউ মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চাইলে ভোট বাড়বে, কারো দ্বারা সমাজের সেবামূলক কাজের সূচনা হবে, সব শ্রেণী পেশার মানুষকে নিয়েই আমাদের চিন্তাটা। তিনি বলেন, নির্বাচনে পরে বিভাগওয়ারি আমরা ডাকব। যেখানে যেখানে সম্মেলন করা জরুরি সেখানে সম্মেলন করব। আমাদের একটাই কথা, কোনো কলুষিত, বিপথগামী কোনো যুবককে আমরা যুবলীগের অন্তর্ভুক্ত করব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত, এই কঠিন সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য জীবন বৃত্তান্ত আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখব। আমাদের গঠনতন্ত্রে কিছু সংশোধন, বিয়োজনের বিষয় আছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সিটি নির্বাচনের পরে যাবো। সেই জটিলতা নিরসন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেই সিদ্ধান্ত মাথা পেতে নেব।
নেতাকর্মীদের কাছে প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান ও অনুরোধ, যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে তারা কখনো জাতির অকল্যাণে কাজ করতে পারে না। আমাদের কথাও সেটাই, যারা তোমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করেছ, নেত্রীর আদর্শ ধারণ করেছ তাদের দ্বারা যেন মানুষের অকল্যাণ না হয়। সর্বদা মানুষের সেবাই, দেশের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

 


আরো সংবাদ