২৫ নভেম্বর ২০২০

আগামী অধিবেশনে উঠছে সামুদ্রিক মৎস্য আইন লক্ষ্য সামুদ্রিক মৎস্য এলাকা সুনির্দিষ্ট করা

-

সামুদ্রিক মৎস্য আইন নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সামুদ্রিক মৎস্য এলাকা সুনির্দিষ্ট করার লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়ন করছে সরকার। আইনটি মন্ত্রিপরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদন শেষে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে পাসের জন্য উত্থাপিত হতে পারে বলে জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।
আইনটির খসড়া তৈরির আগে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্মসচিব পর্যায়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ প্রসঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র একজন কর্মকর্তা এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, সামুদ্রিক মৎস্য আইনটি আগামী শীতকালীন অধিবেশনে পাসের জন্য উঠতে পারে। মাস দুয়েক আগে আইনটির প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করে মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ দিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এ আইনের খসড়ায় ২০০ নটিক্যাল মাইল এবং এর বাইরে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ আইনটিতে মূলত সমুদ্রবিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ১৯৮২ এর বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো কয়েকটি দেশের আইন, বিধি পরীক্ষা করা হয়েছে আইনটির খসড়া তৈরির আগে।
এ ছাড়া নতুন এই আইনে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় লাইসেন্স ছাড়া মৎস্য আহরণ করলে কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আইনে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় লাইসেন্স ছাড়া কেউ মৎস্য আহরণ করলে এক কোটি টাকা জরিমানা এবং তিন বছরের জেলসহ উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। নতুন এই খসড়া আইনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো মেরিকালচারের বিধান এবং ‘লো ইকোনমি’ প্রতিষ্ঠারও বিধান রাখা হয়েছে।
সমুদ্রে মৎস্য আহরণের জন্য মৎস্য অধিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত নকশা ও ডিজাইনের নৌকা বা ট্রলার ছাড়া অন্য কোনো নৌকা বা ট্রলারকে লাইসেন্স দেয়া হবে না। লাইসেন্স ছাড়া মৎস্য আহরণকারী, বহনকারী এবং বিক্রয়কারীকেও শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে এই আইনে।
আইনে লাইসেন্স ছাড়া মৎস্য আহরণের জন্য বাংলাদেশের নৌসীমায় বিদেশী জাহাজের প্রবেশ বা মৎস্য আহরণকে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এমনকি লাইসেন্স ছাড়া কোনো বিদেশী জাহাজ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় মৎস্য আহরণ করলে ওই জাহাজ বা ট্রলারকে বাজেয়াপ্ত করার বিধানও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় বেআইনিভাবে সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ বন্ধের জন্য নৌ বাহিনী, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তাদেরকে গ্রেফতার করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নৌসীমায় কোনো অপরাধ সংগঠিত করে কোনো দেশী বা বিদেশী জাহাজ পালানোর চেষ্টা করলে ওই জাহাজকে গুলি করে আটকের বিধানও রাখা হয়েছে।


আরো সংবাদ