১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩০, ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৫ হিজরি
`

আল্পসের খনিতে হাজার হাজার বছরের পুরনো বাড়ি

আল্পসের খনিতে হাজার হাজার বছরের পুরনো বাড়ি - ছবি : সংগৃহীত

সুইজারল্যান্ডের এক নুড়িপাথরের খনিতে খোঁড়াখুঁড়ি চালিয়ে রোমান আমলের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। যা ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রত্নতাত্ত্বিকদের আলোচনা শুরু হয়েছে।

আল্পসের ছায়ায় ওই খনিতে খননকাজ চালাতে গিয়ে একটি পাথরের দেয়াল খুঁজে পায় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। মাটি থেকে কয়েক সেন্টিমিটার নিচে সেটি ছিল। পরীক্ষার পর জানা গেছে, ওই দেয়ালটি দু’হাজার বছরের পুরনো।

দেয়ালের পর ধীরে ধীরে প্রায় পাঁচ হাজার ৩০০ বর্গফুট এলাকা জুড়ে একটি বিশাল রোমান ভবনের ভাঙাচোরা অংশও খুঁজে পায় প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। একই সাথে মিলেছে অসংখ্য্য পেরেক, কাঁচের পাত্র, বাসনকোসন, চোঙার মতো গলার জার-সহ বহু শিল্প নিদর্শন।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা জানিয়েছে, প্রায় ১০০ বছর আগে সুইস আল্পসে একটি রোমান ভবনের অংশবিশেষ খুঁজে পাওয়া যায়। এক শতক পর এই প্রথম এ ধরনের ধ্বংসাবশেষ পেয়েছেন তারা।

খননকাজে সাফল্যের পর একটি বিবৃতি জারি করেছে সুইজারল্যান্ডের প্রিজার্ভেশন অফ মনুমেন্টস অ্যান্ড আর্কিওলজি অফিস। তাতে জানানো হয়েছে, দেশের মধ্যাঞ্চলে জাগ ক্যান্টন এলাকার চাম শহরে রয়েছে ওই খনিটি।

সুইজারল্যান্ডের বার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ববিদ ক্রিস্টা ইবনোথার ওই বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রি-আলপাইন অঞ্চলে রোমান আমলের এ ধরনের মোটে কয়েকটি ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো চাম শহরের খনিতে উদ্ধার হওয়া এই ভাঙাচোরা ভবনটির বিশেষ ক্ষয় হয়নি।’

খননকাজের সময় ওই দেয়ালটির কয়েকটি পাথর মাটির ওপরে দেখা যাচ্ছিল। এরপর আরো খোঁড়াখুঁড়ির পর দেখা যায়, দেয়াল ছাড়াও সেখানে ওই ভবনটি রয়েছে। তবে কী উদ্দেশে সেটি নির্মাণ করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ওই এলাকায় কোনো সুবিশাল ভিলা ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

উদ্ধার হওয়া লোহার পেরেকগুলো যেকোনো কাঠের তৈরি ভিত্তির গায়ে লাগানো ছিল। কালের নিয়মে ওই কাঠের নির্মাণটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় পেরেকগুলো ঝরে পড়েছে।

‘হিস্ট্রি ব্লগ’ নামে ওয়েবসাইটে গবেষকেরা জানিয়েছেন, খনিতে যে সমস্ত শিল্প নিদর্শন পাওয়া গেছে তা দেখে বোঝা যায় যে এখানকার নানা অঞ্চলের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চলত।

ওই নিদর্শনগুলোর মধ্যে অনেকগুলোই বহুমূল্যে। ফলে ভবনটিতে যে এক সময় সমাজের অভিজাত ব্যক্তিরা যাতায়াত করত, তা মনে করছে গবেষকেরা।

ভবনে বিভিন্ন কিছুর মধ্যে অসংখ্য তামা, ব্রোঞ্জ এবং রুপোর মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে। সেগুলোর একটিতে আবার জুলিয়াস সিজারের অবয়ব খোদাই করা হয়েছে। অন্য একটিতে সাপ বা ড্রাগনের ওপর একটি হাতিকে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। গলা উঁচু জারগুলোর বহু অংশবিশেষ উদ্ধার হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, সেগুলোতে সদ্য তৈরি সস, অলিভ অয়েল এবং সুরা রাখা হতো।

প্রিজার্ভেশন অফ মনুমেন্টস অ্যান্ড আর্কিওলজি অফিসের প্রধান কারিন আর্থো বলেন, ‘এ ধরনের প্রত্ননিদর্শন থেকে একটি ধাঁধার উত্তর পাওয়া সম্ভব। এগুলোর মাধ্যমে আমাদের পূর্বপুরুষের জীবনযাপন সম্পর্কে জানা যেতে পারে। একই সাথে ইতিহাসকে ভালোভাবে বোঝার জন্যও এগুলো গুরুত্বপূর্ণ নমুনা।’

সব মিলিয়ে একে প্রত্নতাত্ত্বিক ক্ষেত্রে ‘সাড়া-জাগানো’ খননকাজ বলে উল্লেখ করেছেন কারিন আর্থো।

‘পপুলার সায়েন্স’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের এক পত্রিকার মতে, ‘রোমানরা আসার বহু হাজার বছর আগে খনির আশপাশে পাহাড়ি এলাকায় বসতি ছিল।’

ওই এলাকায় যে অভিজাতদের ঘরবাড়ি ছিল, তা-ও মনে করছে গবেষকেরা।

ভাঙাচোরা ভিলাটি প্রকৃত অর্থে কী কাজে লাগানো হতো? এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গবেষকেরা। তারা লিখেছে, ‘সেটির উত্তর খুঁজতে আরো তদন্তের প্রয়োজন।’

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা


আরো সংবাদ



premium cement