০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯, ৫ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাঞ্চল থেকে বন্য প্রাণীদের উদ্ধার করেন এক ইউক্রেনীয়

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধাঞ্চল থেকে বন্য প্রাণীদের উদ্ধার করেন এক ইউক্রেনীয় - ছবি : সংগৃহীত

নাতালিয়া পোপোভা তার জীবনের একটি নতুন লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছেন : ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বন্য প্রাণী এবং পোষা প্রাণীদের উদ্ধার করা।

তারা আমার জীবন, একটি বিড়ালছানার মতো হালকা-লোম বিশিষ্ট সিংহীকে হাল্কা চাপড় দিতে দিতে ৫০ বছর বয়সী পোপোভা বলেন। সেসময় একটি ঘরের ভেতর থাকা প্রাণীটি পিঠ উল্টে শুয়ে থাকে এবং তার পাগুলো তার দিকে ছড়িয়ে দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করতে থাকে।

পোপোভা, প্রাণী সুরক্ষা গ্রুপ ইউএ অ্যানিমেলসের সহযোগিতায়, ইতোমধ্যে ৩০০টির বেশি প্রাণীকে যুদ্ধকালীন অবস্থা থেকে রক্ষা করে। তাদের মধ্যে ২০০টি বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ১০০টি পশ্চিম ইউক্রেনের নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে। এগুলো বেশিরভাগই বন্য প্রাণী, যাদের মালিকরা রাশিয়ার গোলাবর্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র থেকে পালিয়ে যাওয়ার আগে তাদের বাড়িতে ব্যক্তিগত পোষা প্রাণী হিসেবে রেখেছিল।

কিয়েভ অঞ্চলের চুবিনস্ক গ্রামে পোপোভার আশ্রয়ে এখন ১৩৩টি প্রাণী রয়েছে। তার বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে থাকা প্রদর্শন স্থলে/ মেনাজেরিতে রয়েছে ১৩টি সিংহ, একটি চিতাবাঘ, একটি বাঘ, তিনটি হরিণ, নেকড়ে, শিয়াল, শকুন ও রো হরিণ। সেইসাথে এখানে গৃহপালিত প্রাণীও আছে।

পোল্যান্ডে সরিয়ে নেয়ার অপেক্ষায় থাকা প্রাণীগুলোকে পূর্ব ইউক্রেনের খারকিভ এবং ডনেটস্ক থেকে উদ্ধার করা হয়, যেখানে প্রায় প্রতিদিনই বোমাবর্ষণ এবং লড়াইয়ের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলেন, ‘কেউ সেখানে যেতে চায় না। সবাই ভয় পায়। আমিও ভয় পাই কিন্তু যাই হোক না কেন, আমি যাই।’

পোপোভা জানান, তিনি সবসময়ই প্রাণীদের প্রতি আসক্ত ছিলেন। এমনকি দু’সপ্তাহে আগেও মারা যাবার আগ পর্যন্ত ইয়ানা নামের একটা সিংহীকেও দেখাশোনা করেন। সেটি তার পরিবারের অংশ হয়ে গিয়েছিল।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেন আক্রমণ করার পর থেকে প্রাণীদের দেখাশোনার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের যোগান না থাকার উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে আমার লক্ষ্য বন্য প্রাণীদের রক্ষা করা।’

সূত্র : ভয়েস অফ আমেরিকা


আরো সংবাদ


premium cement