০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`

রাশিয়ার তেল : নিষেধাজ্ঞা জারির ভাবনা ইইউর

রাশিয়ার তেল : নিষেধাজ্ঞা জারির ভাবনা ইইউর - ছবি : সংগৃহীত

কয়েক দিনের মধ্যে রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হতে পারে বলে জানিয়েছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী।

সোমবার একটি জার্মান টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হ্যাবেক। সেখানে তিনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ বিষয়ে সহমত হয়েছে। ২৭ দেশের ব্লক স্থির করেছে কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।

বস্তুত, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির আলোচনা চলছিল। অ্যামেরিকা দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেও ইইউ তা নিতে পারছিল না। কারণ, অধিকাংশ ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল। হাঙ্গেরি, পর্তুগাল ও জার্মানি প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারির বিরোধী ছিল। কিন্তু ইউক্রেনের যুদ্ধ চার মাস গড়িয়ে যাওয়ার পর জার্মানিও নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়ে বার্লিনের উপর সহযোগী দলগুলোর চাপও ছিল যথেষ্ট।

তবে হাঙ্গেরি এখনো নিষেধাজ্ঞা জারির পক্ষে নয়। জার্মান অর্থমন্ত্রী বলেছেন, হাঙ্গেরি এবং পর্তুগাল একটু বেশিমাত্রায় রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে। তবে হাঙ্গেরির বিরোধিতা সত্ত্বেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিষেধাজ্ঞার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পেরেছে বলে জার্মান অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন।

পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোর জন্য সর্বোচ্চ দুই বিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছে। কারণ, তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। গ্যাস ও তেলের বিষয়ে তারা সম্পূর্ণভাবে রাশিয়ার উপর নির্ভরশীল।

কিন্তু এরপরেও কী ক্রেমলিনকে যথেষ্ট চাপে ফেলা যাবে? রবার্টের ধারণা, যাবে না। কারণ, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে অ্যামেরিকা রাশিয়ার উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। তাতে রাশিয়ার গ্যাস এবং তেলের রফতানি খানিকটা কমেও ছিল। কিন্তু কম তেল বিক্রি করেও বেশি লাভের রাস্তা বের করে ফেলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী লাভরভ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘রাশিয়াফোবিয়া’য় ভুগছে। রাশিয়া তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে চিন্তিত নয়। কারণ ক্রেমলিন স্থির করেছে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক কমিয়ে বেজিংয়ের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটাবে। বস্তুত, চীনের সাথে বন্ধুত্ব করে একটি অ্যামেরিকা এবং ইউরোপ বিরোধী ব্লক তৈরি করতে চাইছে রাশিয়া।

লাভরভ জানিয়েছেন, পশ্চিম যদি নতুন করে বন্ধুত্বের কথা ভাবে, তাহলেই একমাত্র রাশিয়া বিষয়টি বিবেচনা করবে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ


premium cement