১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

পশ্চিম ইউরোপে নজিরবিহীন বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তনই কি দায়ী?

পশ্চিম ইউরোপে নজিরবিহীন বন্যা, জলবায়ু পরিবর্তনই কি দায়ী? - ছবি- সংগৃহীত

জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতজনিত বন্যায় মৃত্যুর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে। এখনো শত শত লোক নিখোঁজ রয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে জার্মানির বহু নদী পানিতে সম্পূর্ণ ভরে গিয়ে দু'পারের গ্রাম ও ছোট শহরগুলো প্লাবিত হয়েছে। অনেক ছোট শহর ও গ্রামের বহু ঘরবাড়ি পানির তোড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

জরুরি ত্রাণ দলগুলো পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারের কাজ চালাচ্ছে। নিখোঁজ লোকদের সন্ধান করছে।

উত্তর পশ্চিম ইউরোপজুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জার্মানি ছাড়াও বেলজিয়াম, লাক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস ও সুইৎজারল্যান্ডের মতো কয়েকটি দেশে এই বন্যা দেখা দিয়েছে। বেলজিয়াম থেকে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বলা হচ্ছে, ইউরোপে গত কয়েক দশকের মধ্যে এটিই দেশটিতে সবচাইতে ভয়াবহ বন্যা। জার্মানিতে সবাচেয়ে গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট ও নর্থ রাইন-ওয়েস্টফ্যালিয়া নামে দু’টি রাজ্য।

জার্মানিতে উদ্ধার ও সন্ধানকাজে সাহায্য করার জন্য ১৫ হাজার পুলিশ, সেনা বাহিনীর সদস্য ও জরুরি সংস্থার কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। জার্মানির পশ্চিমাঞ্চলীয় আরভাইলার জেলার কর্মকর্তারা বলছেন, প্রায় ১৩০০ লোকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। শুল্ড নামে একটি গ্রাম প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেটে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

কোলোনের কাছে এরফস্টাট-ব্লেজেম শহরে একসাথে অনেকগুলো বাড়ি ধসে পড়েছে। বেলজিয়ামের লিয়েজ ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাস্ট্রিখটের মতো বেশ কিছু শহর ও গ্রামে বন্যার ঝুঁকির কারণে হাজার হাজার লোককে বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনই কি কারণ?
বিজ্ঞানীরা অনেকদিন ধরেই সতর্ক করছিলেন যে মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য জলবায়ুতে যে পরিবর্তন হচ্ছে তার পরিণামে ঠিক এই রকম অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাতের মতো অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটবে। শিল্প যুগের শুরুর পর থেকে বিশ্বের তাপমাত্রা ১.২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, বিশ্বের বিশেষ করে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সরকার কার্বন নির্গমন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় না কমালে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

এখন জার্মানির এই বন্যার পর দেশটির চ্যান্সেলার এঙ্গেলা মের্কেল জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধের লড়াইয়ে সবাইকে সংকল্পবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই রকম কথা বলেছেন জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাংক-ওয়াল্টার স্টাইনমেয়ার।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লাইন সতর্ক করেছেন যে এই বন্যায় জলবায়ুর পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তা প্রতিরোধে সবার সক্রিয় হওয়া এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ