১২ জুন ২০২১
`

জার্মানিতে পিছিয়ে পড়লো সবুজ দল

জার্মানিতে পিছিয়ে পড়লো সবুজ দল -

তরুণ ও অনভিজ্ঞ হলেও জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর হিসেবে সবুজ দলের প্রার্থী বেয়ারবকের সম্ভাবনা এত দিন উজ্জ্বল ছিল। জনমত সমীক্ষায় দলের খারাপ ফলের কারণে মার্কেলের শিবিরের লাভ হচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের তিন মাস আগে জার্মানির রাজনীতি জগতে আবার নতুন মোড়। কিছু দিন আগে পর্যন্ত সবুজ দলের বিস্ময়কর উত্থান বাকি দলগুলোকে ম্লান করে দিচ্ছিল। এমনকি অ্যাঞ্জেলা মার্কেলের বিদায়ের পর জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর হিসেবে সবুজ দলের নেতা আনালেনা বেয়ারবকের নাম উঠে আসছিল। তার নেতৃত্বে কোন জোট সরকার গঠন করা হতে পারে, সে বিষয়ে জল্পনাকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছিল। অথচ এই মুহূর্তে জনমত সমীক্ষায় এক ধাক্কায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে সবুজ দল। তিন মাসের মধ্যে ভাবমূর্তির উন্নতি না হলে প্রথম বার সরকার গড়ার স্বপ্ন ত্যাগ করতে হবে সবুজ দলকে।

সবুজ দলের প্রতি পড়ন্ত জনসমর্থনের পাশাপাশি মার্কেলের ইউনিয়ন শিবিরের পুনরুত্থানও নজর কাড়ার মতো। চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী আরমিন লাশেট নিজের প্রাথমিক দুর্বলতা কাটিয়ে তুলে দলের মধ্যে ঐক্য ও ভোটারদের সমর্থন আনতে অনেকটাই সফল হয়েছেন। যদিও সব কৃতিত্ব তার একার নয়। পূবের স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে নির্বাচনি জয়ের জন্য ওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। তবে ওই জয় গোটা দেশে দলকে অনেকটা চাঙ্গা করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের নির্বাচনের পর আবার সরকারের নেতৃত্বের আশা বাড়ছে।

নিজস্ব দুর্বলতা ও কিছু বিতর্কিত নীতি সবুজ দলের লাগাতার জনপ্রিয়তা কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। যদিও জনপ্রিয়তার বিচারে দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে দলটি। মূলত দেশের পশ্চিমে শহরাঞ্চলে সবুজ দলের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। দলের পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের নীতি পূবে তেমন সাড়া জাগায়নি। ফলে সাধারণ নির্বাচনের আগে স্যাক্সনি-আনহাল্টের রাজ্য নির্বাচনে সবচেয়ে কম আসন পেয়েছে সবুজ দল।

পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে কিছু ‘সাহসি' ও অর্জনপ্রিয় নীতিও সবুজ দলের সমর্থনে চিড় ধরাচ্ছে। করোনা সঙ্কট ধীরে ধীরে কেটে যাবার কারণে এমনিতেই পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ছে। সবুজ দল পেট্রোলিয়ামের উপর আরো কর চাপিয়ে সেই অর্থ দিয়ে পরিবেশ উন্নয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। ফলে অনেক মানুষ বিষয়টি ভালো চোখে দেখছেন না। হাইওয়ে ও শহরের মধ্যে গাড়ির গতি কমানোর প্রস্তাবও মোটেই জনপ্রিয় নয়।

সবুজ দলের নেতা বেয়ারবক জনমত সমীক্ষার এমন ফল সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো ভোটারদের কাছে ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে না। পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি আরো মনোযোগ দেয়া উচিত বলে দলের একটা বড় অংশ মনে করছে। যেমন গ্রামাঞ্চলের দৈন্যদশার সাথে শহরাঞ্চলের সমৃদ্ধির ফারাক মেটাতে আরো উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে কিছু নেতা মনে করছেন।

গ্রামাঞ্চলে কর্মসংস্থানও আরো উন্নত গণপরিবহণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করা উচিত বলে মনে করেন তারা। চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী হিসেবে বেয়ারবকের ব্যক্তিগত কিছু ‘গাফিলতি' কিছু ভোটারদের মনে বিরক্তি সৃষ্টি করছে বলেও অনেকে মনে করছে। বাড়তি আয়ের হিসাব দিতে এবং নিজের অতীত জীবনের কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা দূর করতে বিলম্বের কারণে তাকে ঘিরে কিছুটা অস্বস্তি সৃষ্টি হয়েছিল।

শুক্রবার দলীয় সম্মেলনে সাধারণ নির্বাচনের আগে দলকে আরো চাঙ্গা করার লক্ষ্যে তর্কবিতর্ক হবে বলে ধরে নেয়া হচ্ছে।
সূত্র : ডয়চে ভেলে



আরো সংবাদ


মাদারীপুরে শাজাহান খান ও আ’লীগ সভাপতি সমর্থকদের সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ১৫ ইউরোপ কী চীন-বিরোধী নতুন জোটের ডাকে সাড়া দেবে? লাক্ষাদ্বীপের পরিচালক ‘দেশদ্রোহী’ নন, দাবি তুলে দল ছাড়ল একাধিক বিজেপি নেতা সামরিক শক্তি বাড়ানোর নির্দেশ দিলেন কিম জং উন শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বগুড়ায় বিএনপির ৬ নেতাকে অব্যাহতি স্ত্রী হাতির মৃতদেহ আগলে ছিল হাতির দল, অতঃপর... ড্রয়ে শুরু ওয়েলস-সুইজারল্যান্ডের পরিবেশ : মানুষ টানেলের প্রান্তে আলো দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ক তলানিতে এসে পৌঁছেছে : পুতিন যখন ফাঁপা পরাশক্তির ভান করাতেই সুখ ইউপি নির্বাচন : নলছিটিতে মেম্বার প্রার্থীর বাড়িতে হামলা

সকল