১৯ জুন ২০২১
`

নাগরনো-কারাবাখে তুর্কি-রুশ যৌথ মনিটরিং সেন্টারের কার্যক্রম শুরু

তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার ও আজারবাইজানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাকির হাসানভ - ছবি : আনাদোলু এজেন্সি

নাগরনো-কারাবাখে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে তুরস্ক ও রাশিয়ার যৌথ মনিটরিং সেন্টারের কার্যক্রম শনিবার শুরু হচ্ছে। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানান।

যৌথ এই মনিটরিং সেন্টারে একজন তুর্কি জেনারেল ও ৩৮ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন বলে বিবৃতিতে জানান আকার।

গত বছর নভেম্বরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধবিরতির পর তা পর্যবেক্ষণের জন্য তুরস্ক ও রাশিয়ার ঐক্যমতে যৌথ এই মনিটরিং সেন্টার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

হুলুসি আকার বলেন, ‘যৌথ সেন্টার স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। তুর্কি ও রুশ সৈন্যদের যৌথ পরিচালনায় এই সেন্টারের কাজ আগামীকাল (শনিবার) থেকে শুরু হবে।’

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির কাছে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি আজারবাইজানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী জাকির হাসানভের সাথে ফোনালাপে ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে কথা বলেছেন।

নাগরনো-কারাবাখের সর্বশেষ পরিস্থিতির বিষয়ে হাসানভের সাথে আলোচনার কথা জানিয়ে হুলুসি আকার বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এই যৌথ সেন্টার এ অঞ্চলের যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে অবদান রাখবে।’

আজারবাইজানের জনসাধারণের অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘আমরা এক জাতি দুই দেশের ধারণা অনুসারে আমাদের আজারবাইজানি ভাইদের পাশে রয়েছি এবং আমাদের এই অবস্থান আমরা অব্যাহত রাখবো।’

নাগরনো-কারাবাখ নিয়ে বিরোধের জেরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের পর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর করতে একমত হয়।

আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃত নাগরনো-কারাবাখ ও এর নিকটের বিশাল আজারবাইজানি ভূমি তিন দশক আর্মেনিয়ার দখলে ছিল।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় আর্মেনিয়া দখল করা ভূখণ্ড থেকে তার সেনাবাহিনী সরিয়ে নিতে সম্মত হয়। পাশাপাশি আর্মেনিয়া ভূখণ্ড দিয়ে ভাগ হওয়া আজারবাইজানের মূল ভূখণ্ডের সাথে দেশটির নাখচিভান অঞ্চলের নিরাপদ সড়ক সংযোগ স্থাপনে সম্মতি দেয় আর্মেনিয়া।

চুক্তির আওতায় যৌথ এই পর্যবেক্ষণে রাশিয়ার শান্তিরক্ষীরাও অংশ নিচ্ছেন।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ



আরো সংবাদ