০১ জুন ২০২০

করোনা : ইতালি কেন এত বিপর্যস্ত?

করোনা : ইতালি কেন এত বিপর্যস্ত? - সংগৃহীত

জনসংখ্যার দিক থেকে বয়স্কদের সংখ্যা অনেক বেশি। তার জন্যই কি করোনা-যুদ্ধে এ ভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে ইতালি?

মৃতের সংখ্যা সাড়ে ১১ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পরে উঠছে এমন প্রশ্ন। কোনো দেশের নিরিখে করোনায় মৃত্যুতে এখন সবচেয়ে এগিয়ে ইতালিই। এখানে ৬১ জন চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইতালির অ্যাসোসিয়েশন অব ডক্টর্স। এদের মধ্যে ৪০ জন কাজ করছিলেন লম্বার্ডিতে। আক্রান্ত ৮ হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী। মোট আক্রান্ত এখন এক লাখ পেরিয়ে গেছে।

এর পরই রয়েছে স্পেন। সেখানে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৭৩৪০। তবে দৈনিক মৃত্যুর হার সামান্য কমেছে। ২৪ ঘণ্টায় এ দেশে মৃত্যু হয়েছে ৫৩৭ জনের। আক্রান্ত ৮৫ হাজারের উপরে।

ইউরোপে বাকি দেশগুলোর করোনায় মৃত্যু সব মিলিয়ে এখন ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে একটি সূত্রের দাবি। নেদারল্যান্ডসে গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৩ জন মারা গেছে করোনার প্রকোপে। সেখানে মৃতের সংখ্যা ৮৬৪।

লক ডাউনের মেয়াদ আরো ৬ মাস বাড়াতে পারে ব্রিটেন। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন ইংল্যান্ডের ডেপুটি চিফ মেডিক্যাল অফিসার জেনি হ্যারিস। তিনি জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে লকডাউন তুলে নিলে দেশজুড়ে ফের করোনা-প্রকোপ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ দিকে, সাত দিন আলাদা থাকার পরে আপাতত সুস্থ ব্রিটেনের যুবরাজ চার্লস। গত সপ্তাহে করোনাভাইরাসের উপসর্গ ধরা পড়েছিল তার। স্কটল্যান্ডে নিজের বাড়িতে রয়েছেন। তবে তার স্ত্রী, ডাচেস অব কর্নওয়াল এখনো আলাদা থাকছেন। আলাদা থাকছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের শীর্ষ উপদেষ্টা ডমিনিক কামিংসও। তারও করোনা-উপসর্গ দেখা গিয়েছে বলে জানানো হয়েছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে।

আমেরিকায় নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরো ১৩৩২৭ জন। মোট আক্রান্ত ১ লাখ ৫৬ হাজারের উপরে। মৃতের মোট সংখ্যা ২৮৭১। আক্রান্তের দিক থেকে দিন দুয়েক আগেই ইতালি ও স্পেনকে অতিক্রম করে গেছে আমেরিকা। নিউ ইয়র্কে রোববারই মারা যান ৯৮ জন। শহরে মৃতের মোট সংখ্যা এখন ৮০০-র কাছাকাছি। অতিরিক্ত রোগীদের ঠাঁই দিতে নিউ ইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে তৈরি হচ্ছে ৬৮ শয্যার হাসপাতাল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, করোনার প্রকোপ কমলেই এ শহর দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে। সামাজিক দূরত্ব বহাল রাখার সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত করার কথা বলেছেন তিনি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্‍ড ইনফেকশাস ডিজিজ-এর ডিরেক্টর অ্যান্টনি ফসির মতে, কোভিড-১৯-এ এ দেশে মৃত্যু ১ লক্ষ ছুঁলে তিনি আশ্চর্য হবেন না।

চীনে ফের নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১ জন। এর মধ্যে ৩০ জন বাইরে থেকে কোভিড-১৯-এর উপসর্গ নিয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছে দেশের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশন। স্থানীয়ভাবে আক্রান্তের একজন খোঁজ মিলেছে গানসু প্রদেশ থেকে। চীনে ভাইরাসের ভরকেন্দ্র হুবেই প্রদেশ থেকে চারজনের মৃত্যুর খবরও মিলেছে। চীনে সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা এখন ৮১ হাজার পেরিয়ে গেছে।


আরো সংবাদ