১৩ আগস্ট ২০২২
`

সেনাবাহিনী ইস্যুতে গানে বিরতি বিটিএসের

সেনাবাহিনী ইস্যুতে গানে বিরতি বিটিএসের -

জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে কোরিয়ার সব নাগরিককে বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়। তবে দু-একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম উদাহরণ আছে। সেই ব্যতিক্রম কিছু ঘটবে বিশ্ববিখ্যাত ব্যান্ড ‘বিটিএস’-সদস্যদের বেলায় সেটিই ভেবেছিলেন অনেকে। কিন্তু সবার ভাবনা ভুল। বিটিএস তারকাদের সেনাবাহিনীতে যোগ দিতেই হচ্ছে। এ জন্য বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মতো তারা নিজেরাও কষ্ট পেয়েছেন। অভিমান থেকে তারা বলেছেন, হয়তো ব্যান্ড ভেঙে দিতে। গত ২৫ জুন বার্ষিক নৈশভোজে তারা জানিয়েছেন, এখন থেকে সলো অ্যালবামে মনোযোগ দেবেন তারা। যদিও ব্যান্ডের এজেন্সি ‘হাইব’ জানিয়েছিল সদস্যরা ব্যান্ডের কাজের পাশাপাশি সলো অ্যালবাম করবেন।
দক্ষিণ কোরিয়ার তরুণদের নির্দিষ্ট সময় সেনাবাহিনীতে কাজ করতে হয়। বিটিএস সদস্যদের সিদ্ধান্তের সাথে মিলিটারি সার্ভিসে সময় দেয়ার বিষয়টি জড়িত বলে অনেকেই ধারণা করেছেন। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে দেশটিতে কয়েক দফা বিতর্ক হয়ে গেছে। অনেকে মনে করেন, সেনাবাহিনীতে বিটিএস সদস্যদের বাধ্যতামূলক কাজ করার প্রয়োজন নেই। তাদের এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া উচিত। কিন্তু দেশটির রীতি অনুসারে কেবল স্বাস্থ্যগত কারণেই অব্যাহতি দেয়া হয়। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিখ্যাত হওয়া ব্যক্তিদের অন্যান্য সামাজিক কাজের জন্য সেনাবাহিনীতে কাজ করা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। টটেনহ্যামের খেলোয়াড় সান হিউং-মিন তা পেয়েছিলেন।
ধারণা করা হয়েছিল, ২০২২ সালে গ্র্যামি জয়ের কারণে সেনাবাহিনীতে কাজের ক্ষেত্রে বিটিএস সদস্যদের অব্যাহতি দেয়া হবে। কিন্তু সেটি করা হয়নি। অন্যদিকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক কাজের বিষয়টি কেবল বিটিএস প্রসঙ্গেই বিতর্কিত নয়। এ নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বক্ষেত্রে বিতর্ক চলছে। দেশটির তরুণ সমাজ এ রীতি নিয়ে যথেষ্ট বিরক্ত। উত্তর কোরিয়ার সাথে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে নিয়মটি বলবৎ রাখা হয়েছে বলে তারা মনে করেন, কিন্তু তা মানতে গিয়ে নিজেদের কাজ ও পড়াশোনার মাঝে এক ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় এ ব্যবস্থাটি ১৯৪৮ সালে শুরু করা হয়। ১৯৫০-৫৩ সালের মধ্যবর্তী সময়ে চলমান কোরিয়ান যুদ্ধের সময় এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ সময় শিল্পায়নে গতি এসেছিল। গতি ধরে রাখতে সেনাবাহিনীর সহায়তা প্রাসঙ্গিক ছিল। ১৯৬০ সালে শুরু হওয়া সেনাশাসন থেকে শুরু করে ১৯৮০ সালে গণতন্ত্র আসা পর্যন্ত এ ব্যবস্থার বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। রীতিটি এক সময় ‘ঐতিহ্য’ হয়ে ওঠে। ১৯৯৩ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় অসামরিক প্রেসিডেন্ট থাকলেও তরুণদের জন্য মিলিটারি সার্ভিস অবশ্য কর্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। পাশাপাশি পুরুষদের জন্য এটিকে বিশেষ ‘যোগ্যতা’ হিসেবে ধরা হয়। এখনো দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকদের একটি প্রধান যোগ্যতা দেশের সেনাবাহিনীতে কার্যক্রম। দেশটির সিভিল সার্ভিস ও করপোরেট চাকরির বহু পদের ক্ষেত্রে মিলিটারি সার্ভিস রেকর্ড অন্যতম পূর্বশর্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার রীতি অনুসারে ২৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাধ্যতামূলক মিলিটারি সার্ভিস নিয়ে দেশটির তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে জোসেন সাম্রাজ্যের (১৩৯২-১৮৯৭ খ্রি.) মতো এখানে সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চরম পর্যায়ের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিভক্তিকরণ করা হচ্ছে। দেশটির পুরুষরা এরই মধ্যে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকেন। তার ওপর শিক্ষা, একটি ভালো চাকরি ও বিয়ের ক্ষেত্রেও মিলিটারি সার্ভিসের প্রভাব তাদের জীবন আরো কঠিন করে তুলছে।
বিটিএসের বৈশ্বিক সাফল্য এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম সৃষ্টি করতে পারে। হতে পারে তারা সেনাবাহিনীর কাজ শেষ করে আলাদাভাবে বা এক সাথেই কে-ওয়েভে ফিরবেন। ভক্তদের বর্তমান ভালোবাসা দেখে মনে হয়- বিটিএস যে সময়ই ফিরবে, ভক্তরা তাদের সাদরে বরণ করবে।

 


আরো সংবাদ


premium cement