২৪ জুলাই ২০২১
`

‘কিসের মুসলিম, এরা মানুষের কাতারেই পড়ে না’

‘কিসের মুসলিম, এরা মানুষের কাতারেই পড়ে না’ - ছবি- নয়া দিগন্ত

দেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার পর রোজ রাখতে শুরু করেছেন অভিনেত্রী উম্মে হাবিবা এ্যানী খান। মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি পবিত্র এই মাসের প্রথম নয় দিন নফল রোজা রেখেছেন। একইসাথে ‘কিয়ামুল লাইল’ বা রাতে নফল নামাজসহ ফজিলতপূর্ণ জিলহজ মাসের অন্যান্য ধর্মীয় নিয়মকানুন পালতে ব্যস্ত আছেন তিনি। ফলে এ মুহূর্তে বন্ধ রেখেছেন তার ব্যবসায়ী কার্যক্রম। এদিকে দেশের দ্রব্যমূল্য নিয়ে ব্যবসায়ীদের প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে এ্যানী খান বলেছেন, ‘এরা কিসের মুসলমান, এরা তো মানুষের কাতারেই পড়ে না।’ 

মঙ্গলবার দুপুরে নয়া দিগন্তের সাথে আলাপকালে এসব কথা জানিয়েছেন এক সময়ের ছোট পর্দার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেত্রী এ্যানী খান।

ঈদুল আজহার দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে এ্যানী বলেন, পরিবারের সবার সাথে সকাল বেলা গোসল সেরে নতুন পোশাক পরে মসজিদে ঈদের নামাজে যাবেন। এরপর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, কোরবানির পশু জবাই হলে এর গোশত রান্না করে দিনের প্রথম খাবার খাবেন তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা।

তিনি জানান, হজের দিন সোমবার থেকে তিন দিনের জন্য তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ রেখেছেন। এ সময় তিনি শুধু ধর্মীয় ও পারিবারিক কাজে সময় ব্যয় করছেন।

উম্মে হাবিবা এ্যানী খান বর্তমানে রাজধানীর উত্তরায় ভাইয়ের বাসায় আছেন। কোরবানির জন্য এরই মধ্যে এক লাখ ৩২ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছেন তিনি। গরুটিও ওই বাসায় রাখা হয়েছে। বুধবার সেখানেই গরুটি কোরবানি করা হবে।

তিনি জানান, ইসলামের রীতি অনুযায়ী গরুটি কোরবানি করার পর গোশত তিন ভাগ করা হবে। এক ভাগ পরিবারের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়দের জন্য, আরেক ভাগ প্রতিবেশী অসহায় মানুষের মাঝে বন্টন করা হবে। তিনি নিজ হাতেই গোশত ভাগ ও বিতরণের কাজটি করবেন।

অভিনয় জগত ছেড়ে ধর্ম-কর্ম শুরুর পর এবার তার জীবনে চতুর্থ ঈদ। এর আগে গত বছর দু’টি ঈদ ও এবারের ঈদুল ফিতর ছিল তার নতুন জীবনের তৃতীয় ঈদ। এরপর ঈদুল আজহা পালন করতে যাচ্ছেন এই অভিনেত্রী। বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ভালো আছি। আমি হ্যাপি।’

তবে করোনাকালে ঈদে মানুষের গ্রামে ছোটাছুটির খবর ও দৃশ্য দেখে তিনি বেশ বিরক্ত। এ্যানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- একার পক্ষে কি সম্ভব, প্রত্যেককে ঘরে ঘরে গিয়ে বুঝানো যে আপনারা বাসায় থাকুন! এটা সম্ভব নয়। প্রত্যেককেই তার ভালোটা বুঝতে হবে। বিবেককে কাজে লাগাতে হবে। কিন্তু তা কি হচ্ছে, হচ্ছে না। এই যে মানুষগুলো ঈদের আগে গ্রামে যাচ্ছে। আবার ঈদের পরে ঢাকায় বা কর্মস্থলে ফিরবে। এতে করোনা ছড়ানোর ঝুঁকিটা বেড়ে যাচ্ছে। দেখা যাবে, আবার লকডাউন দেয়া হচ্ছে। এভাবে আর কত...?

এ্যানী খানের মতে, আল্লাহ না চাইলে কেউ সংক্রমিত হবে না। ইসলামে সংক্রমণ বলতে কোনো রোগ নেই। কিন্তু আল্লাহ তো সাবধানে ও সতর্ক থাকতে নিষেধ করেননি। আমাদের তো বিবেক আছে। বিবেককে কাজে লাগোনোর জন্য আল্লাহ তো মানুষকে বলেছেন। কিন্তু আমরা তো তা মানছি না।

বর্তমান দ্রব্যমূল্য নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক এই অভিনেত্রী। এ্যানী খান বলেন, ‘এখন বাজারে যান, আদা, রসুন, পেঁয়াজ ধরতে পারবেন না। সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এই ব্যবসায়ী কারা, তারাও তো বেশিরভাগ মুসলমান। নিজেদেরকে মুসলিম দাবি করেন। ...এরা কিসের মুসলিম, এরা মানুষের কাতারেই পড়ে না। মুসলমান তো আরো পরের বিষয়। আগে তো মানুষ হিসেবে আমাদের মধ্যে মানবিক বোধটুকু থাকতে হবে। তখন মানুষ বলা যাবে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তো সেই মানবিকতাই নেই। আমরা কিসের মানুষ। এই ব্যবসায়ীরা রোজার সময়ও সব কিছুর দাম বাড়িয়ে দেন। আবার কোরবানির ঈদের সময়ও একই কাজ করেন। কেন ভাই, দু’মাস ব্যবসা না করলে বা কম করলে কি মারা যাবেন? আসলে এদের চরিত্রটাই এমন হয়ে গেছে।’



আরো সংবাদ