১৪ এপ্রিল ২০২১
`

ডিজিটাল যুগ এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ

ডিজিটাল যুগ এবং টেলিভিশন সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ -

সময় দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে, ২০০৪ সালে যখন মার্ক জাকারবার্গ ফেসবুক প্রতিষ্ঠা করেন, তখন ফেসবুক সাধারণের কাছে ছিল, শুধু বন্ধুদের সাথে সংযুক্ত থাকার একটি মাধ্যম। কিন্তু এখন ফেসবুক একটা ভিন্ন জগৎ। শুধু মানুষে মানুষে সংযুক্তিই না, এই প্লাটফর্মে এখন যুক্ত হয়েছে বিনোদন, খবর। যে যেখান থেকে যেভাবে চাইছেন তাদের তথ্য ও শৈল্পিক কাজকে তুলে ধরছেন। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ইউটিউব, ২০০৫ এ ইউটিউবের যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশে এর ব্যবহার শুরু হয় আরো বেশ কয়েক বছর পর। প্রথমে শুধুই শখের বসে ভিডিও কন্টেন্ট আপলোড করলেও, ধীরে ধীরে এর ব্যবহার বেড়ে এখন তা অনেকের কাছে পুরোদস্তুর বাণিজ্যিক প্লাটফর্ম। বাংলাদেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের যাত্রা শুরুর প্রায় দেড় যুগের মাথায় এসেই নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে প্রাইভেট টেলিভিশান ইন্ডাস্ট্রিকে।
সাধারণ মানুষ বেশির ভাগ সময় সামাজিক মাধ্যমে ডুবে থাকায় কমে যাচ্ছে টিভি দর্শক। টিভিতে প্রচারিত নাটক, গান বিজ্ঞাপন এড়িয়ে নিজের অবসরে দর্শক এখন দেখে নিতে পারছেন ইউটিউবে। আর ইউটিউবের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে টিভি ব্যবস্থাপকরাও এখন চ্যানেলের কন্টেন্ট আপলোড করছেন ইউটিউবে। ড্রয়িং রুমের বিনোদন মাধ্যম পরিণত হচ্ছে এখন মোবাইলের বিনোদনে; যা বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে আপামর টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে।
দীর্ঘ দিন পার হয়ে গেলেও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির সাংবাদিক ও কলাকুশলীদের জন্যও একটি ওয়েজবোর্ড গঠন করা হয়নি। অনেক সাংবাদিক তাদের যোগ্যতার চেয়ে কম বেতনে কাজ করে চলেছেন দীর্ঘ দিন। টেলিভিশনে একজন নিউজ এডিটর ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা বেতনে কাজ করে থাকেন, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা সামান্য বেশি। অথচ সমপরিমাণ শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টর বা অন্য কোনো প্রাইভেট ফার্মে তাদের সহপাঠীরা দ্বিগুণ বা তিন গুণ বেতনে কাজ করেন। তবে টিভি মালিকরা যে খুব মুনাফার মুখ দেখছেন, তাও না। গত ১০ বছরে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে টেলিভিশনের সংখ্যা, আগে যেখানে বিজ্ঞাপনের বাজার সীমাবদ্ধ ছিল ৫ থেকে ৬টি চ্যানেলের মধ্যে, এখন সেখানে ৩৪টি চ্যানেল। শুধু তা-ই নয়, ভোক্তাদের টার্গেট করে বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো নিয়মিত বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে বিদেশী চ্যানেলগুলোতেও। ‘ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন ২০০৬’ অনুযায়ী বিদেশী চ্যানেলে বিজ্ঞাপন দেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও এ বিষয়ে কখনোই কাউকে আইনের আওতায় আনার নজির নেই। নতুন মিডিয়ার কারণে বিজ্ঞাপনের বাজার ধীরে ধীরে আরো সঙ্কুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে সব চ্যানেলকেও খুঁজতে হচ্ছে ব্যয় কমানোর পথ। একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা তথ্যমতে সাংবাদিক হিসেবে যাদের খ্যাতি আছে, যারা চ্যানেল বা অনুষ্ঠান জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিকভাবে সফল করার ক্ষেত্রে সফলভাবে কাজ করছেন শুধুস্বল্প সংখ্যক সেসব সাংবাদিকই তুলনামূলক বেশি আয় করেন আর এর পরিমাণ সর্বোচ্চ দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা, যা পেয়ে থাকেন ৬ থেকে ৭ জন টেলিভিশন সাংবাদিক। একজন মুন্নি সাহা, জ. ই. মামুন, নাজমুল আশরাফ, কাজী জেসিন বা নবনীতা চৌধুরীর মতো টেলিভিশন সাংবাদিকরাই শুধু এরকম বেতনে কাজ করতে পারেন।
দেশের পেশাদার সাংবাদিকরা চাকরি নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট তা নিয়ে গবেষণা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইফুল আলম চৌধুরী। বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের অর্থায়নে করা এ গবেষণা তথ্যানুযায়ী ৩১ শতাংশ সাংবাদিক জানিয়েছেন তারা যে বেতন পান তা তাদের যোগ্যতার চেয়ে কম। বিভিন্ন টেলিভিশনে কাজ করা রিপোর্টারদের সাথে কথা বলে জানা যায় একজন রিপোর্টার পেয়ে থাকেন ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা, খুব ভালো মানের একজন রিপোর্টার আয় করেন আরেকটু বেশি। সাংবাদিকদের বেতন যেখানে বাড়ছে না, সেখানে আরো চ্যানেল এলে বিজ্ঞাপনের বাজার চ্যানেলগুলোর জন্যও আরো সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে। নতুন মিডিয়ায় এই যুগে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সময়োপযোগী নীতিমালার।
দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কর পরিশোধ না করেই বিদেশী কোম্পানিগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রচার করছে- বাংলাদেশ টেলিভিশন নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি মোবাইল ফোন কোম্পানি বিজ্ঞাপন বাবদ বিদেশী কোম্পানিগুলোকে বিজ্ঞাপন দিয়েছে ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকারও বেশি।
এক দিকে বিদেশী চ্যানেলে দেয়া হচ্ছে অবাধে বিজ্ঞাপন, অন্য দিকে বিদেশী অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশাল অঙ্কের বিজ্ঞাপন, সব মিলিয়ে প্রাইভেট টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের বাজার ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য এখন সময় এসেছে সরকারি সহযোগিতার। সর্বোপরি এ টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি কর্মসংস্থান করছে ১৪ হাজার থেকে ১৫ হাজার মিডিয়া কর্মীর।
টেলিভিশনব্যক্তিত্ব ম. হামিদ বলেন, অনেক টেলিভিশন চ্যানেল হওয়ায় টিভির বাজার কমে গেছে। হাতেগোনা দুই একটি চ্যানেল লাভজনক জায়গায় আছে। বাজার পড়ে যাওয়ায় আসলে সাংবাদিকদের সঠিক মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না। এর জন্য একটি পে-স্কেল থাকা উচিত, যেমন সংবাদপত্রে আছে। যদি এ নীতিমালা করা হয় তা হলে সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব বাড়বে এবং নতুন প্রজন্ম সাংবাদিকতায় উৎসাহিত হবে। আমি মনে করি টেলিভিশনে বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য একটা নীতিমালা জরুরি। এটি সময়ের দাবি।



আরো সংবাদ


১৫ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ মহারাষ্ট্রে সারা বিশ্বে একইসাথে রোজা শুরু হয় না যে কারণে বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে যা‌বেন না : আইজিপি রংপুরে যানবহান ও মানুষের ভিড়, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে দুর্দান্ত কোনো ফলাফলের বিষয়ে সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা করোনা মহামারীর মধ্যে কুম্ভমেলায় লাখো মানুষ লকডাউনে বন্ধ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সেবা পাটুরিয়ায় পারাপার হচ্ছে শুধু জরুরি সেবাদানকারী গাড়ি সালথার নির্যাতিত পরিবারের মাঝে বিএনপি নেতার সহায়তা প্রদান আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধের জেরে প্রাণ গেল ইতালী প্রবাসীর

সকল