২৩ অক্টোবর ২০২০

হল খোলার সিদ্ধান্তে মালিক-প্রযোজকদের ভিন্নসুর

-

করোনার কারণে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর সিনেমা হল খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চালু হবে। তবে সরকারের এমন সিদ্ধান্তে স্বস্তি ফেরেনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে। হল মালিকরা চাচ্ছেন নতুন ছবি; আর প্রযোজকরা বলছেন পুরনো ছবি চালিয়ে মার্কেট যাচাই করতে। মালিকরা বলছেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুরনো ছবি দিয়ে পেক্ষাগৃহের চাঙাভাব ফেরানো সম্ভব নয়। আর নামমাত্র দর্শক নিয়ে হল চালু করে আর্থিক লোকসান গুনতে চান না তারা।
এ বিষয়ে মধুমিতা সিনেমা হলের কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রেক্ষাগৃহ খুললেই চলবে না; ভালো সিনেমাও লাগবে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে না আসার একটি প্রাকটিস হয়ে গেছে দর্শকদের। এমন সময় যদি পুরনো সিনেমা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহ খোলা হয় তাহলে দর্শকদের ফেরানো যাবে না। আর নতুন সিনেমা রিলিজ হলেও এখানে সরকারের একটা ভর্তুকি দিতেই হবে। কারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে যদি হল খোলা হয় তাহলে অনেক সিট ফাঁকা রাখতে হবে। নতুন ছবি চালালেও খরচ উঠবে না।
ঠিক আর্থিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই মুহূর্তে প্রযোজকরাও নতুন ছবি মুক্তির চ্যালেঞ্জ নিতে চান না। তারা বলেছেন, একটি সিনেমা হাতে থাকা মানে লগ্নির টাকাটাও হাতে থাকা। সিনেমা হলের অবস্থা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নতুন ছবি মুক্তি দিয়ে কোনো প্রকার রিস্ক নিতে চাই না। এ বিষয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার সিইও আলিমুল্লøাহ খোকন বলেন, প্রেক্ষাগৃহ খুলছে এটা অবশ্যই ইন্ডাস্ট্রির জন্য ইতিবাচক দিক। তবে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের কথা মতে নতুন সিনেমা রিলিজ দেয়ার সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই সাপোর্ট করতে পারছি না। করবও না। কারণ মুক্তির অপেক্ষায় থাকা প্রতিটি সিনেমার প্রযোজক যে অর্থ ব্যয় করে তার সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন সেটা এখনো তার ঘরেই আছে। কিন্তু এই মুহূর্তে যদি সিনেমাটি মুক্তি দেয়া হয় আর দর্শক প্রেক্ষাগৃহে না যায় তাহলে সেই প্রযোজক তো ফকির হয়ে যাবে। আর আমাদের ‘জ্বীন’ মুক্তির অপেক্ষায় আছে। আমরাও এই মুহূর্তে সিনেমাটি রিলিজের কোনো পরিকল্পনা করছি না। আগে দর্শক প্রেক্ষাগৃহে ফিরুক তখন ‘জ্বীন’ রিলিজের সিদ্ধান্ত নেবো।
প্রায় একই সুরে কথা বলেছেন, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘ক্যাসিনো’ ছবির পরিচালক সৈকত নাসির। তিনি বলেন, আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ছোট বাজেটের ছবি রিলিজ করে বা পুরনো সিনেমা রিলিজ করে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফেরার বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত। নাসির বলেন, ক্যাসিনো বিগ বাজেটের ছবি। বিগ অ্যারেজমেন্ট। তাই এই মুহূর্তে রিলিজ দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ ছবিটি নিয়ে শুধু আমারই নয়, ইন্ডাস্ট্রির অনেকেরই প্রত্যাশার জায়গা অনেক উপরে। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ছোট বাজেটের ছবি রিলিজ করে বা পুরনো সিনেমা রিলিজ করে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফেরার বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত। ‘ক্যাসিনো’ নিয়ে প্রযোজকের পরিকল্পনা রয়েছে সব কিছু ঠিক হলে আগামী ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চে মুক্তি দেয়ার।
সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ দ্বৈতভাবে পরিচালনা করেছেন তারকাবহুল ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর দুই কিস্তি। পরিচালক সানী সানোয়ার বলেন, আগে অবজার্ভ করতে চাই এ পরিস্থিতিতে দর্শক হলে গিয়ে ছবি দেখাটা কিভাবে গ্রহণ করছে। দর্শকদের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে ছবি মুক্তির তারিখ ঘোষণা দেবো। তবে কমপক্ষে এক মাস প্রচারণার জন্য সময় নেবো। নিরব-বুবলীকে নিয়ে ‘ক্যাসিনো’ নির্মাণ করেন পরিচালক সৈকত নাসির। ছবির প্রযোজক রাজীব সারোয়ার বলেন, এ অবস্থায় মুক্তি দিলে লগ্নির অর্ধেকও পাবো কি না সন্দেহ! এ ছাড়া অনেক হল এর মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই ছবি মুক্তির পক্ষে নই। ‘ক্যাসিনো’ আমার প্রথম প্রযোজিত ছবি। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মুক্তি দিতে চাই না।

যদি পুরনো সিনেমা দিয়ে প্রেক্ষাগৃহ খোলা হয় তাহলে দর্শকদের ফেরানো যাবে না। আর নতুন সিনেমা রিলিজ হলেও এখানে সরকারের একটা ভর্তুকি দিতেই হবে : ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ, কর্ণধার, মধুমিতা সিনেমা হল

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের কথা মতে নতুন সিনেমা রিলিজ দেয়ার সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই সাপোর্ট করতে পারছি না। করবও না : আলিমুল্লøাহ খোকন
সিইও, জাজ মাল্টিমিডিয়া

আমার মনে হয় এই মুহূর্তে ছোট বাজেটের ছবি রিলিজ করে বা পুরনো সিনেমা রিলিজ করে দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে ফেরার বিষয়টি পরীক্ষা করা উচিত : সৈকত নাসির, পরিচালক

 


আরো সংবাদ