৩০ মার্চ ২০২০

করোনাভাইরাস সচেতনতায় ফেরদৌস যা বললেন

-

আলমগীর কবির : বিশ^ আজ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। বিশে^র বহু দেশ আজ এই করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত। প্রতিনিয়তই হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে বিশ^ব্যাপী। বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস রোগীর খবর প্রকাশিত হয়ে গেল ৮ মার্চ নারী দিবসে। এরপর থেকে একের পর এক দেশে করোনাভাইরাস রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। সবাই যার যার অবস্থানে থেকে নিজেদের সচেতন রাখার পাশাপাশি পাশেরজনকেও সচেতন করার চেষ্টা করছেন। অনেক তারকাও দেশের মানুষদের সচেতন করতে নানান ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন। সেই ধারাবাহিকতায় ফেরদৌসও এগিয়ে এলেন। দেশের করোনাভাইরাসের খবরে নিজেকে গেল ১৩ মার্চ থেকেই গৃহবন্দী করে রেখেছেন ফেরদৌস। মা, স্ত্রী, সন্তানকে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসের বাসায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে পারিবারিকভাবেই সময় কাটাচ্ছেন। তবে প্রতি মুহূর্তে তিনি দেশবাসীর জন্য ভীষণ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন। দেশের সবার প্রতি বিনীত অনুরোধ করে ফেরদৌস বলেন, ‘সত্যি বলতে কি এই মুহূর্তে শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা বিশ^ এক বিশাল মহামারীতে আক্রান্ত। করোনাভাইরাসের মতো শক্তিশালী এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ করতে হবে। আর সেই যুদ্ধটা করতে হবে আমাদেরকে নিজেদের ঘরের মধ্যে থেকেই। আমরা কেউ কোথাও যাবো না খুব ইমার্জেন্সি কোনো কিছু দরকার না হলে। ঘরের মধ্যে থেকেই নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য পরিবারকেও নিরাপদের মধ্যে রাখতে হবে। আমি বিশেষত তরুণদের বলব, তারা ঘরের মধ্যে থাকতে চায় না। কারণ তারা প্রায়ই বলে, ঘরের মধ্যে এতটা সময় কাটানো যায় না কি। তাদের উদ্দেশে বলব, সত্যি বলতে কি একজন তরুণের কারণে যদি করোনাভাইরাস তার পরিবারের সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সেটা রোধ করা হয়তো আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হয়তো সেই তরুণ ছেলেটি বা মেয়েটি কোনো না কোনোভাবে সেই পরিস্থিতি থেকে সুস্থ হয়ে উঠল। কিন্তু বাসার অন্য বয়স্করা সবাই আর সুস্থ হয়ে উঠতে পারে না। তাই নিজের পরিবারের সবার কথা ভেবে তরুণদের ঘরের মধ্যে নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখাটাই আমি শ্রেয় মনে করি। এভাবে আমরা প্রত্যেকেই যদি নিজেদের অবস্থানে সচেতন হই তাহলেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধে জয়ী হতে পারব। যেখানে উন্নত বিশে^ও দেশগুলো করোনার বিরুদ্ধে হিমশিম খাচ্ছে প্রতিনিয়ত, সেখানে আমাদের জন্য এটা আরো অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন ঘরে বসে কী করা যাবে। ঘরে বসে অনেক কিছুই করা যায়, সবচেয়ে বড় কথা আমরা যারা সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকি তাদেরকে এই মুহূর্তে পরিবার খুব কাছে পাবে। মা-বাবা সন্তানকে কাছে পাবে, দাদা-দাদী নাতি-নাতনীদের কাছে পাবে। গল্পের বই পড়ার প্রচুর সুযোগ, ভালো ভালো সিনেমাও দেখা যেতে পারে। অনেকেই পেশাগত কাজের ফাঁকে ফাঁকে ফেসবুকে বুঁদ হয়ে থাকেন। এখন তো অনেক অবসর , এখন ফেসবুকে বুঁদ হয়ে থেকে বিশে^র কোথায় কী হচ্ছে করোনাভাইরাসে, তা জেনে নিজেকে আরো সচেতন করা যেতে পারে। আমার আম্মা প্রায়ই বলেন, বাবা নামাজ পড়বেন পাঁচ ওয়াক্ত। এখন অনুধাবন করছি আম্মা কেন এ কথা বলতেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছনতা যে ঈমানের অঙ্গ, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে পাঁচবার অজু করা হয়। নিজেও পরিষ্কার থাকা যায়। আর এখন তো সবাই বলছেন কিছুক্ষণ পর পর সাবান দিয়ে হাত ধুতে। যাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত না হতে হয়। মূলকথা আমরা এখন নিজেদের পরিবারকে সময় দেই, নিজেরা সচেতন থাকি, দেশকে , দেশের মানুষকে সুরক্ষা করি। সবাই সম্মিলিতভাবে এই মুহূর্তে দেশের আইন কঠোরভাবে মেনে চলি, বেঁচে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমাদের সুন্দর আগামী আমরা উপভোগ করতে পারব।’
ছবি : গোলাম সাব্বির


আরো সংবাদ

বৃদ্ধকে কান ধরে উঠবস করানো এসিল্যান্ডকে একহাত নিলেন আসিফ নজরুল (২৫১২৪)করোনার বিরুদ্ধে লড়াকু ‘বীর’ চিকিৎসক যে ভয়াবহ বার্তা দিয়েই মারা গেলেন (২৪৫০৫)ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর করোনার খবরে পেছনের দরজা দিয়ে পালালেন উপদেষ্টা (ভিডিও) (১৪৩৬৩)অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া আর নেই (১২১৬৯)মুক্ত খালেদা জিয়ার সাথে দেখা হলো না সানাউল্লাহর (৯৭৮৪)কান ধরে উঠবস করানো সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার (৯৭০৮)করোনার ওষুধ আবিষ্কারের দাবি ডুয়েটের ৩ গবেষকের (৯১৭৪)প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়ার বলি মেয়ে (৮৯০১)করোনার আক্রমণে করুণ অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের (৮৭৮৩)মোদি-যোগির রাজ্যে ক্ষুধার জ্বালায় ঘাস খাচ্ছে শিশুরা (৮৫৯৭)