১৫ জুলাই ২০২০

করোনাভাইরাসের ছোবল ঢালিউডেও

-

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের শিল্পী ও কলাকুশলীদের কারো করোনাভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাদের প্রতিদিনের রুটি-রোজির সম্বল শুটিং থেমে গেছে, বন্ধ হচ্ছে প্রেক্ষাগৃহ। পিছিয়ে যাচ্ছে ছবি মুক্তির দিন-তারিখ। লগ্নি নিয়ে চিন্তায় প্রযোজকরা। নির্মাতা-শিল্পীদেরও কমছে কাজ। প্রোডাকশন বয় থেকে হল মালিক, সবারই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস।
করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি ও বাণিজ্য ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। হলিউড ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে বেশ আগেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত ছবির মুক্তি একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে। বাতিল হয়েছে অনেক আলোচিত নির্মাতার ছবির শুটিং। বেশ কিছু দিন হলো দেশের বিনোদন শিল্পেও পড়েছে করোনার নেতিবাচক প্রভাব। যার ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে এ শিল্প। একের পর এক পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে ছবি মুক্তির তারিখ। নির্মাতা মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের প্রথম ফিচার ফিল্ম ঊনপঞ্চাশ বাতাস। ছবিটি ১৩ মার্চ মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা মুক্তি দেয়া হয়নি। কামার আহমাদ সাইমনের নতুন চলচ্চিত্র নীল মুকুট। ২৭ মার্চ মুক্তির কথা থাকলেও সে সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছেন নির্মাতা। এ তালিকায় রয়েছে দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালিত শ্বশুরবাড়ি জিন্দাবাদ টু ছবিটিও। এ দিকে ক্ষতিকর এ ভাইরাস যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তাই জনসমাগম এড়াতে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহগুলো বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। ১৬ মার্চ এফডিসিতে এক বৈঠকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্য দিকে প্রেক্ষাগৃহের পাশাপাশি ১৯ মার্চ সিনেপ্লেক্সগুলোও বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত স্টার সিনেপ্লেক্সের সব শাখায় ছবি দেখানো বন্ধ থাকবে। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিবেশক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ‘জনসচেতনতার কথা ভেবে আমরা হল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কারণ প্রেক্ষাগৃহ সাধারণ মানুষের জনসমাগমের একটি জায়গা। সব দিক বিবেচনা করে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার বলেন, ‘এই সময় অনেক ছবি মুক্তির কথা ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় ছবিগুলোর মুক্তি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়বে চলচ্চিত্র শিল্প।’ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সাবেক সদস্য ও প্রযোজক নাসির উদ্দিন দিলু বলেন, ‘করোনাভাইরাসের কারণে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা এখনই বোঝা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রবীণ এ প্রযোজক।’
মধুমিতা প্রেক্ষাগৃহের স্বত্বাধিকারী ও প্রদর্শক সমিতির সাবেক নেতা ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে এমনিতেই আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প খারাপ অবস্থায় আছে। প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ রাখলে এর সাথে সংশ্লিষ্টরা কোথায় যাবে? এই সঙ্কট মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে এক সাথে কাজ করতে হবে।’


আরো সংবাদ