০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯, ৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

প্রার্থীরা সহনশীল না হলে সঙ্কট রয়ে যাবে : সিইসি


প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মাঝে যদি সহনশীলতা জাগ্রত করা না যায়, তাহলে সঙ্কট থেকে যাবে। নির্বাচন যখন হাড্ডাহাড্ডি হয় তখন ভোটের শেষে একটা মারামারি হয়। কালকেও হয়েছে। একটা বাচ্চা মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংলাপের দশম দিনে এসে গণফোরামের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে বুধবার সারাদেশে পৌরসভা উপজেলা পরিষদ সহ ৬৮টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই ভোটকে সুষ্ঠু দাবি করলেও ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে ইউনিয়নের ভোটের ফল ঘোষণার পর পুলিশের গুলিতে এক শিশুর মৃত্যু হয়। শিশুর বাবা-চাচা ও স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ গুলি চালালে শিশুটি গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলন, ‘আমি রাত ১০টায় ফোন করেছি ডিসি-এসপিকে। ঘটনাটা কী হলো। ইলেকশনটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পরই মেম্বার প্রার্থীরা একজনের ওপর হামলা করে বসেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের এক সহকর্মী প্রায়ই বলে থাকেন আমাদের মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা আছে। আমি ইলেকশন করব। কিন্তু আমাকে জিততেই হবে। মানে হারতে যে হতে পারে এটা কেউ মেনে নিচ্ছে না। এই মনস্তাত্ত্বিক একটা দৈন্যতা আমাদের মধ্যে আছে। যে কারণে এই সহনশীলতা যদি জাগ্রত করা না যায় তাহলে একটা সঙ্কট থেকে যাবে।’

হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘রাজনীতি আপনারা নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজনীতির সংস্কৃতি ধারণ করা, লালন করা আপনাদের দায়িত্ব। আপনাদের দায়িত্ব অনেক বড়। আপনাদের কাছে ছোট। কিন্তু আমাদের কাছে অনেক বড়। আপনাদের বক্তব্য শুনেছি। চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেবো।’

তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু, সঠিক, সুস্থ, অংশগ্রহণমূলক এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। আমরা আমাদের দায়িত্ব বলতে চাচ্ছি না। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বে নেই এবং প্রশাসনিক সংগঠন। আমাদের কাজ হবে নির্বাচনে যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে হবে, এই ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করবো সর্বাত্মক। আপনাদেরও সহযোগিতা চাইবো। আপনাদের আমাদের সঙ্গে থাকতে হবে। নির্বাচনের মাঠে যদি আপনারাও থাকেন, আমরাও যদি থাকি, তাহলে অপশক্তিকে প্রতিহত, প্রতিরোধ করা সহজ হবে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কর্মপদ্ধতি ঠিক করতে ভোটের দেড় বছর আগেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে ইসি। এ লক্ষ্যে ৩৯টি রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে অনড় থাকা বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি সমমনা দল ইসির এ সংলাপ বর্জন করেছে।

দশম দিনে এসে ৩৬টি দলের সঙ্গে সংলাপ হওয়ার কথা থাকলেও সর্বশেষ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ‘না’ করে দেয়ায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেয়া দলের সংখ্যা দাঁড়াবে ২৬টি।

সংলাপ বর্জন করেছে নয়টি রাজনৈতিক দল। এছাড়া দুটি দল সময় বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করছে। এরপর আরো দুটি দলের সঙ্গে ইসির সংলাপে বসার কথা রয়েছে, যা চলবে এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত।


আরো সংবাদ


premium cement